📘 সালাফদের চোখে কবর > 📄 কবরের প্রথম প্রহর

📄 কবরের প্রথম প্রহর


দুজন ফিরিশতা, তিনটি প্রশ্ন। মুমিন ও কাফিরের অবস্থা হবে ভিন্ন।
বারা বিন আযিব বলেন,
خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فِي جَنَازَةِ رَجُلٍ مِنَ الأَنْصَارِ، فَانْتَهَيْنَا إِلَى الْقَبْرِ وَلَمَّا يُلْحَدْ، فَجَلَسَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَجَلَسْنَا حَوْلَهُ كَأَنَّمَا عَلَى رُءُوسِنَا الطَّيْرُ، وَفِي يَدِهِ عُودُ يَنْكُتُ بِهِ فِي الْأَرْضِ، فَرَفَعَ رَأْسَهُ فَقَالَ : اسْتَعِيذُوا بِاللَّهِ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ. مَرَّتَيْنِ أَوْ ثَلَاثًا - زَادَ فِي حَدِيثٍ جَرِيرٍ هَا هُنَا - وَقَالَ : وَإِنَّهُ لَيَسْمَعُ خَفْقَ نِعَالِهِمْ إِذَا وَلَّوْا مُدْبِرِينَ حِينَ يُقَالُ لَهُ : يَا هَذَا مَنْ رَبُّكَ وَمَا دِينُكَ وَمَنْ نَبِيُّكَ . قَالَ هَنَّادٌ قَالَ : وَيَأْتِيهِ مَلَكَانِ فَيُجْلِسَانِهِ فَيَقُولَانِ لَهُ : مَنْ رَبُّكَ فَيَقُولُ : رَبِّيَ اللَّهُ . فَيَقُولَانِ لَهُ : مَا دِينُكَ فَيَقُولُ : دِينِي الإِسْلامُ . فَيَقُولَانِ لَهُ : مَا هَذَا الرَّجُلُ الَّذِي بُعِثَ فِيكُمْ قَالَ فَيَقُولُ : هُوَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم . فَيَقُولَانِ : وَمَا يُدْرِيكَ فَيَقُولُ : قَرَأْتُ كِتَابَ اللَّهِ فَآمَنْتُ بِهِ وَصَدَّقْتُ . زَادَ فِي حَدِيثِ جَرِيرٍ : فَذَلِكَ قَوْلُ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ { يُثَبِّتُ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا } . الآيَةَ . ثُمَّ اتَّفَقَا قَالَ : فَيُنَادِي مُنَادٍ مِنَ السَّمَاءِ : أَنْ قَدْ صَدَقَ عَبْدِي فَأَفْرِشُوهُ مِنَ الْجَنَّةِ، وَافْتَحُوا لَهُ بَابًا إِلَى الْجَنَّةِ وَأَلْبِسُوهُ مِنَ الْجَنَّةِ . قَالَ : فَيَأْتِيهِ مِنْ رَوْحِهَا وَطِيبِهَا . قَالَ : وَيُفْتَحُ لَهُ فِيهَا مَدَّ بَصَرِهِ. قَالَ : وَإِنَّ الْكَافِرَ . فَذَكَرَ مَوْتَهُ قَالَ : وَتُعَادُ رُوحُهُ
فِي جَسَدِهِ وَيَأْتِيهِ مَلَكَانِ فَيُجْلِسَانِهِ فَيَقُولَانِ : مَنْ رَبُّكَ فَيَقُولُ : هَاهُ هَاهُ هَاهُ لَا أَدْرِي . فَيَقُولَانِ لَهُ : مَا دِينُكَ فَيَقُولُ : هَاهُ هَاهُ لَا أَدْرِي ، فَيَقُولَانِ : مَا هَذَا الرَّجُلُ الَّذِي بُعِثَ فِيكُمْ فَيَقُولُ : هَاهُ هَاهُ لَا أَدْرِي . فَيُنَادِي مُنَادٍ مِنَ السَّمَاءِ : أَنْ كَذَبَ فَأَفْرِشُوهُ مِنَ النَّارِ وَأَلْبِسُوهُ مِنَ النَّارِ، وَافْتَحُوا لَهُ بَابًا إِلَى النَّارِ . قَالَ : فَيَأْتِيهِ مِنْ حَرِّهَا وَسَمُومِهَا. قَالَ : وَيُضَيَّقُ عَلَيْهِ قَبْرُهُ حَتَّى تَخْتَلِفَ فِيهِ أَضْلاعُهُ . زَادَ فِي حَدِيثِ جَرِيرٍ قَالَ : ثُمَّ يُقَيَّضُ لَهُ أَعْمَى أَبْكَمُ مَعَهُ مِرْزَيَّةٌ مِنْ حَدِيدٍ، لَوْ ضُرِبَ بِهَا جَبَلُ لَصَارَ تُرَابًا . قَالَ : فَيَضْرِبُهُ بِهَا ضَرْبَةً يَسْمَعُهَا مَا بَيْنَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ إِلَّا الثَّقَلَيْنِ فَيَصِيرُ تُرَابًا .
আমরা রাসুলুল্লাহ -এর সঙ্গে আনসার গোত্রের এক ব্যক্তির জানাযায় শরীক হওয়ার জন্য রওনা হয়ে কবরের নিকট গেলাম। কিন্তু তখনো কবর খনন শেষ হয়নি। তাই রাসুলুল্লাহ বসলেন এবং আমরাও তাঁর চারিদিকে নীরবে তাঁকে ঘিরে বসে পড়লাম, যেন আমাদের মাথার ওপর পাখি বসে আছে। তখন তাঁর হাতে ছিল একটি লাঠি, তা দিয়ে তিনি মাটিতে আঁচড় কাটছিলেন। অতঃপর তিনি মাথা তুলে দুই বা তিনবার বললেন, তোমরা আল্লাহর নিকট কবরের আযাব হতে আশ্রয় চাও। বর্ণনাকারী জারীর বলেন, তিনি আরও উল্লেখ করেন, রাসুল বলেন, মৃত ব্যক্তি তাদের জুতার শব্দ শুনতে পায় যখন তারা ফিরে যেতে থাকে, আর তখনই তাকে বলা হয়, হে অমুক, তোমার রব কে? তোমার দ্বীন কী এবং তোমার নবী কে? হান্নাদ বলেন, তিনি বলেছেন, অতঃপর তার নিকট দুজন ফেরেশতা এসে তাকে বসিয়ে উভয়ে প্রশ্ন করে, তোমার রব কে? তখন সে বলে, আমার রব আল্লাহ। তাঁরা উভয়ে তাকে প্রশ্ন করে, তোমার দ্বীন কী? সে বলে, আমার দ্বীন হলো ইসলাম। তারা প্রশ্ন করে, এ লোকটি তোমাদের মধ্যে প্রেরিত হয়েছিলেন, তিনি কে? তিনি বলেন, সে বলে, তিনি আল্লাহর রাসুল। তারপর তারা উভয়ে আবার বলে, তুমি কীভাবে জানতে পারলে? সে বলে, আমি আল্লাহর কিতাব পড়েছি এবং তার প্রতি ঈমান এনেছি এবং সত্য বলে স্বীকার করেছি। জারীর বর্ণিত হাদিসে রয়েছে, এটাই হলো আল্লাহর এ বাণীর অর্থ: "যারা এ শাশ্বত বাণীতে ঈমান এনেছে, তাদের দুনিয়া ও আখিরাতে আল্লাহ সুপ্রতিষ্ঠিত রাখবেন।” (সুরা ইবরাহীম: ১১২৭)। এরপর বর্ণনাকারী জারীর ও হান্নাদ উভয়ে একইরূপ বর্ণনা করেন। নবী বলেছেন,
অতঃপর আকাশ হতে একজন ঘোষক ঘোষণা করেন, আমার বান্দা যথাযথ বলেছে। সুতরাং তার জন্য জান্নাতের একটি বিছানা বিছিয়ে দাও এবং তাকে জান্নাতের পোশাক পরিয়ে দাও। এ ছাড়া তার জন্য জান্নাতের দিকে একটা দরজা খুলে দাও। তিনি বলেন, সুতরাং তার দিকে জান্নাতের হাওয়া ও তার সুগন্ধী বইতে থাকে। তিনি আরও বলেন, ওই দরজা তার দৃষ্টিসীমা পর্যন্ত প্রশস্ত করা হয়।
অতঃপর নবী কাফিরদের মৃত্যু প্রসঙ্গে বলেন, তার রূহকে তার শরীরে ফিরিয়ে আনা হয় এবং দুজন ফেরেশতা এসে তাকে বসিয়ে প্রশ্ন করে, তোমার রব কে? সে উত্তর দেয়, হায়! আমি কিছুই জানি না। তারপর তারা প্রশ্ন করেন, তোমার দ্বীন কী? সে বলে, হায়! আমি কিছুই জানি না। তারা প্রশ্ন করে, এ লোকটি তোমাদের মধ্যে প্রেরিত হয়েছিলেন তিনি কে? সে বলে, হায়! আমি তো জানি না। তখন আকাশের দিক হতে একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা করেন, সে মিথ্যা বলেছে। সুতরাং তার জন্য জাহান্নামের একটি বিছানা এনে বিছিয়ে দাও এবং তাকে জাহান্নামের পোশাক পরিয়ে দাও, আর তার জন্য জাহান্নামের দিকে একটা দরজা খুলে দাও। তিনি বলেন, অতঃপর তার দিকে জাহান্নামের উত্তপ্ত বাতাস আসতে থাকে। এ ছাড়া তার জন্য তার কবরকে সংকীর্ণ করে দেওয়া হয়, ফলে তার এক দিকের পাঁজর অপর দিকের পাঁজরের মধ্যে ঢুকে যায়। বর্ণনাকারী জারীর বর্ণিত হাদিসে রয়েছে, তিনি বলেন, অতঃপর তার জন্য এক অন্ধ ও বধির ফেরেশতাকে নিযুক্ত করা হয়, যার সঙ্গে একটি লোহার হাতুড়ি থাকবে, যদি এ দ্বারা পাহাড়কে আঘাত করা হয় তাহলে তা ধুলায় পরিণত হয়ে যাবে। নবী বলেন, তারপর সে তাকে হাতুড়ি দিয়ে সজোরে আঘাত করতে থাকে, এতে সে বিকট শব্দে চিৎকার করতে থাকে যা মানুষ ও জিন ছাড়া পূর্ব হতে পশ্চিম পর্যন্ত সকল সৃষ্ট জীবই শুনতে পায়। আঘাতের ফলে সে মাটিতে মিশে যায়। তিনি বলেন, অতঃপর (শাস্তি অব্যাহত রাখার জন্য) পুনরায় তাতে রূহ ফেরত দেওয়া হয়।”

টিকাঃ
১১. সুনানু আবি দাউদ, ৪৭৫৩। সুন্নাহ অধ্যায়। সনদ সহিহ।

📘 সালাফদের চোখে কবর > 📄 কবর : এক অন্ধকার জগৎ

📄 কবর : এক অন্ধকার জগৎ


আবু হুরায়রা বলেন,
أَنَّ امْرَأَةً، سَوْدَاءَ كَانَتْ تَقُمُّ الْمَسْجِدَ - أَوْ شَابًا - فَفَقَدَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَسَأَلَ عَنْهَا - أَوْ عَنْهُ - فَقَالُوا مَاتَ . قَالَ : أَفَلَا كُنْتُمْ آذَنْتُمُونِي . قَالَ فَكَأَنَّهُمْ صَغَرُوا أَمْرَهَا - أَوْ أَمْرَهُ - فَقَالَ : دُلُّونِي عَلَى قَبْرِهِ . فَدَلُّوهُ فَصَلَّى عَلَيْهَا ثُمَّ قَالَ : إِنَّ هَذِهِ الْقُبُورَ مَمْلُوءَةً ظُلْمَةً عَلَى أَهْلِهَا وَإِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ يُنَوِّرُهَا لَهُمْ بِصَلَاتِي عَلَيْهِمْ.
একটি কৃষ্ণাঙ্গ মহিলা অথবা যুবক মসজিদে নববীতে ঝাড়ু দিত। রাসুল কিছুদিন তাকে না দেখে তার সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করলেন। সাহাবীগণ বললেন, সে তো মারা গেছে। রাসুল বললেন, তোমরা আমাকে খবর দিলে না কেন? বর্ণনাকারী বলেন, খুব সম্ভব তারা বিষয়টিকে গুরুত্বহীন মনে করেছিলেন। রাসুল ﷺ বললেন, আমাকে তার কবর দেখিয়ে দাও। তারা তাঁকে কবর দেখিয়ে দিলে তিনি কবরের ওপর জানাযার নামায আদায় করলেন। অতঃপর তিনি বললেন, এই কবর অন্ধকারে পরিপূর্ণ হয়ে আছে। আমার জানাযার নামাযের দরুন আল্লাহ আযযা ওয়া যাল্লা তা আলোকিত করে দেন।”

টিকাঃ
১২. সহিহ মুসলিম, ৯৫৬। জানাযা অধ্যায়।

📘 সালাফদের চোখে কবর > 📄 কবর : অতি সংকীর্ণ এক ঠিকানা

📄 কবর : অতি সংকীর্ণ এক ঠিকানা


জাবির বিন আবদুল্লাহ আনসারি বলেন,
خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمًا إِلَى سَعْدِ بْنِ مُعَاذٍ حِينَ تُوُفِّيَ، قَالَ: فَلَمَّا صَلَّى عَلَيْهِ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَوُضِعَ فِي قَبْرِهِ وَسُويَ عَلَيْهِ، سَبَّحَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَسَبِّحْنَا طَوِيلًا ، ثُمَّ كَبَّرَ فَكَبَّرْنَا، فَقِيلَ: يَا رَسُولَ اللهِ، لِمَ سَبَّحْتَ ؟ ثُمَّ كَبَّرْتَ؟ قَالَ: لَقَدْ تَضَايَقَ عَلَى هَذَا الْعَبْدِ الصَّالِحِ قَبْرُهُ حَتَّى فَرَّجَهُ اللَّهُ عَنْهُ.
সাদ ইবনু মুআয যখন ইন্তিকাল করেন, তখন আমরা রাসুল -এর সাথে তাঁর জানাযায় হাজির হলাম। জানাযার নামায আদায় করে তাকে যখন কবরে রাখা হলো ও মাটি সমান করে দেওয়া হলো, তখন রাসুল সেখানে (দীর্ঘক্ষণ) তাসবীহ পাঠ করলেন। আমরাও তাঁর সাথে অনেক সময় তাসবীহ পড়লাম। তারপর রাসুল তাকবীর বললেন। আমরাও (তাঁর সাথে) তাকবীর বললাম। অতঃপর রাসুল -কে জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রাসুল, আপনি কেন এভাবে তাসবীহ পড়লেন ও তাকবীর বললেন? তিনি বললেন, এ নেক ব্যক্তির কবর খুব সংকীর্ণ হয়ে গিয়েছিল (তাই আমি তাসবীহ ও তাকবীর পড়লাম)। এতে আল্লাহ তাআলা তার কবরকে প্রশস্ত করে দিলেন।

টিকাঃ
১০. মুসনাদু আহমাদ, ১৪৮৭৩। সনদ হাসান।

📘 সালাফদের চোখে কবর > 📄 কবরের আযাব : এক অনস্বীকার্য বাস্তবতা

📄 কবরের আযাব : এক অনস্বীকার্য বাস্তবতা


আল্লাহ তাআলা বলেন,
(وَلَوْ تَرَى إِذِ الظَّالِمُونَ فِي غَمَرَاتِ الْمَوْتِ وَالْمَلَائِكَةُ بَاسِطُو أَيْدِيهِمْ أَخْرِجُوا أَنفُسَكُمُ الْيَوْمَ تُجْزَوْنَ عَذَابَ الْهُونِ بِمَا كُنتُمْ تَقُولُونَ عَلَى اللَّهِ غَيْر الْحَقِّ وَكُنتُمْ عَنْ آيَاتِهِ تَسْتَكْبِرُون)
আর আপনি যদি দেখতেন, যখন যালিমরা মৃত্যুযন্ত্রণায় কাতর থাকবে আর ফেরেশতাগণ হাত বাড়িয়ে বলবে, তোমাদের প্রাণ বের করে দাও, আজ তোমাদের অবমাননাকর শাস্তি দেওয়া হবে।
এর ব্যাখ্যায় ইমাম বুখারী মৃত্যুর পর পর শাস্তির ঘোষণাকে কবরের আযাব বলে উল্লেখ করেছেন।
আরেক আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন,
(سَنُعَذِّبُهُم مَّرَّتَيْنِ ثُمَّ يُرَدُّونَ إِلَى عَذَابٍ عَظِيمٍ)
অচিরেই তাদের আমি দুইবার (বারবার) শাস্তি দেব। পরে তারা প্রত্যাবর্তিত হবে মহা শাস্তির দিকে।
এখানে দুইবার শাস্তির ব্যাখ্যায় ইমাম বুখারী বলেন, প্রথম বার হলো কবরের আযাব।
অন্যত্র আল্লাহ তাআলা বলেন, ﴿وَحَاقَ بِآلِ فِرْعَوْنَ سُوءُ الْعَذَابِ ﴿٤٥﴾ النَّارُ يُعْرَضُونَ عَلَيْهَا غُدُوًّا وَعَشِيًّا وَيَوْمَ تَقُومُ السَّاعَةُ أَدْخِلُوا آلَ فِرْعَوْنَ أَشَدَّ الْعَذَابِ﴾
আর নিকৃষ্ট (কঠিন) শাস্তি ফেরআউন গোষ্ঠীকে ঘিরে ফেলল, সকাল সন্ধ্যায় তাদের উপস্থিত করা হয় জাহান্নামের সামনে, আর যেদিন কিয়ামত সংঘটিত হবে (সেদিন বলা হবে) ফেরআউন গোষ্ঠীকে কঠিন শাস্তিতে প্রবিষ্ট করো।”
এই আয়াতের ব্যাখ্যায় আল্লামা ইবনুল কাসির বলেন, এই আয়াতটি আলমে বরযখ তথা কবরজগতে শাস্তির প্রমাণ বহন করে।
আম্মাজান আয়িশা হতে বর্ণিত,
أَنَّ يَهُودِيَّةٌ، دَخَلَتْ عَلَيْهَا، فَذَكَرَتْ عَذَابَ الْقَبْرِ، فَقَالَتْ لَهَا أَعَاذَكِ اللَّهُ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ. فَسَأَلَتْ عَائِشَةُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ عَذَابٍ الْقَبْرِ فَقَالَ : نَعَمْ عَذَابُ الْقَبْرِ. قَالَتْ عَائِشَةُ ـ رضى الله عنها - فَمَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم بَعْدُ صَلَّى صَلَاةً إِلَّا تَعَوَّذَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ. زَادَ غُنْدَرُ، عَذَابُ الْقَبْرِ حَقٌّ.
এক ইয়াহুদী স্ত্রীলোক আয়িশা -এর কাছে এসে কবরের আযাব সম্পর্কে আলোচনা করে তাঁকে (দুআ করে) বলল, আল্লাহ আপনাকে কবরের আযাব হতে রক্ষা করুন! পরে আয়িশা কবরের আযাব সম্পর্কে আল্লাহর রাসুল -এর নিকট জিজ্ঞেস করলেন। তিনি বললেন, হাঁ, কবরের আযাব (সত্য)। আয়িশা বলেন, এরপর থেকে নবী -কে এমন কোনো সালাত আদায় করতে দেখিনি, যাতে তিনি কবরের আযাব থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করেননি।
এই হাদিসের বর্ণনায় গুনদার অধিক উল্লেখ করেছেন যে, 'কবরের আযাব একেবারে বাস্তব।'

টিকাঃ
১৪. সুরা আনআম, (৬) : ১৩।
১৫. সুরা তাওবা, (৯) : ১০১।
১৬. সহিহ বুখারী, জানাযা অধ্যায়। কবরের আযাব-সংক্রান্ত অনুচ্ছেদের ভূমিকা।
১৭. সুরা মুমিন/গাফির, (৪০): ৪৫, ৪৬
১৮. তাফসীরু ইবনি কাসীর, ৭/১৩৩। উল্লেখিত আয়াতের ব্যাখ্যায়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00