📘 সালাফদের চোখে কবর > 📄 কুরআন ও হাদিসের আলোকে কবর

📄 কুরআন ও হাদিসের আলোকে কবর


কবর, জমিনের বুক থেকে আখিরাতের যাত্রাপথে প্রথম ঘাঁটি। মানুষের জীবনচক্র নিয়ে আল্লাহ তাআলা বলেন,
(قُتِلَ الْإِنسَانُ مَا أَكْفَرَهُ (۱۷) مِنْ أَيِّ شَيْءٍ خَلَقَهُ (۱۸) مِن نُّطْفَةٍ خَلَقَهُ فَقَدَّرَهُ (۱۹) ثُمَّ السَّبِيلَ يَسَّرَهُ (٢٠) ثُمَّ أَمَاتَهُ فَأَقْبَرَهُ (۲۱) ثُمَّ إِذَا شَاءَ أَنشَرَهُ)
মানুষ ধ্বংস হোক, সে কতই-না অকৃতজ্ঞ! তিনি (আল্লাহ) তাকে কোন বস্তু হতে সৃষ্টি করেছেন? শুক্রবিন্দু থেকে তিনি তাকে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর সুগঠিত করেছেন। তারপর তিনি তার পথ সহজ করে দিয়েছেন। অতঃপর তিনি তার মৃত্যু ঘটান এবং তাকে কবরস্থ করেন। অতঃপর যখন তিনি চাইবেন তাকে আবার জীবিত করবেন।'
উল্লিখিত আয়াতসমূহে কবরস্থ করার ব্যাখ্যায় ইমাম বুখারী লেখেন, 'এর অর্থ হলো দাফন করা।'
আল্লামা ইবনুল কাসীর বলেন, এর অর্থ হলো, 'আল্লাহ তাআলা তাকে কবরবাসী বানিয়ে দেবেন।'"
কবরজগৎকে বারযাখও বলা হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন,
حَتَّى إِذَا جَاءَ أَحَدَهُمُ الْمَوْتُ قَالَ رَبِّ ارْجِعُونِ (۹۹) لَعَلِّي أَعْمَلُ صَالِحًا فِيمَا تَرَكْتُ ، كَلَّا ، إِنَّهَا كَلِمَةٌ هُوَ قَائِلُهَا ، وَمِن وَرَائِهِم بَرْزَخٌ إِلَى يَوْمِ يُبْعَثُونَ)
যখন তাদের কারও মৃত্যু উপস্থিত হয় তখন সে বলে, হে আমার রব, আমাকে আবার ফেরত পাঠান। যেন আমি সৎকাজ করতে পারি, যা আমি ছেড়ে দিয়েছিলাম।' কখনো নয়, এটি একটি কথামাত্র, যা সে বলবে। যেদিন তাদের পুনরুত্থিত করা হবে সেদিনের আগ পর্যন্ত তাদের সামনে থাকবে বরযখ।
বরযখের ব্যাখ্যায় ইমাম মুজাহিদ বলেন, বরযখ হলো দুনিয়া ও আখিরাতের মধ্যবর্তী একটি আড়াল। মুহাম্মাদ বিন কাআব বলেন, বরযখ হলো দুনিয়া ও আখিরাতের মধ্যবর্তী একটি সময় ও স্থান। এখানে অবস্থানকারী ব্যক্তি দুনিয়াবাসীর মতো পানাহার করতে পারে না। আবার আখিরাতবাসীর মতো নিজ আমলের বিনিময়ও লাভ করে না। আবু সখরা বলেন, বরযখ হলো কবরের জীবন। এটা দুনিয়ার অংশ নয়। আবার আখিরাতেরও অংশ নয়।"
আব্দুল্লাহ ইবনু উমর রা. বলেন,
اطَّلَعَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى أَهْلِ القَلِيبِ، فَقَالَ: وَجَدْتُمْ مَا وَعَدَ رَبُّكُمْ حَقًّا؟ فَقِيلَ لَهُ: تَدْعُو أَمْوَاتًا فَقَالَ: مَا أَنْتُمْ بِأَسْمَعَ مِنْهُمْ، وَلَكِنْ لَا يُجِيبُونَ
রাসূল সা. বদর প্রান্তরে নিহত মুশরিকদের দাফন করা গর্তের দিকে ঝুঁকে বললেন, তোমরা তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের সাথে যে ওয়াদা করেছিলেন, তা ঠিকমতো পেয়েছ তো? এ সময় তাকে বলা হলো, আপনি মৃতদের ডাকছেন? তিনি বললেন, 'তোমরা তাদের চেয়ে বেশি শোনো না। তবে তারা কথার জবাব দিতে পারে না।"
আসমা বিনতু আবু বকর রা. বলেন,
قَامَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَطِيبًا فَذَكَرَ فِتْنَةَ القَبْرِ الَّتِي يَفْتَتِنُ فِيهَا المَرْءُ، فَلَمَّا ذَكَرَ ذَلِكَ ضَجَّ الْمُسْلِمُونَ ضَجَّةٌ
রাসূল সা. একবার দাঁড়িয়ে খুতবা দিচ্ছিলেন। খুতবায় তিনি কবরের মধ্যে মানুষ যে ভয়াবহ পরিস্থিতির শিকার হবে সে সম্পর্কে আলোচনা করেন। তার আলোচনায় মুসলমানগণ ভয়ে-আতঙ্কে আর্তনাদ শুরু করেন।"
আরেক বর্ণনায় আসমা বিনতু আবু বকর রা. বলেন,
قَامَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَذَكَرَ الْفِتْنَةَ الَّتِي يُفْتَنُ بِهَا الْمَرْءُ فِي قَبْرِهِ، فَلَمَّا ذَكَرَ ذَلِكَ ضَجَ الْمُسْلِمُونَ ضَجَّةً حَالَتْ بَيْنِي وَبَيْنَ أَنْ أَفْهَمَ كَلَامَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَلَمَّا سَكَنَتْ ضَجَّتُهُمْ قُلْتُ لِرَجُلٍ قَرِيبٍ مِنِّي: أَيْ بَارَكَ اللهُ لَكَ، مَاذَا قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي آخِرِ قَوْلِهِ؟ قَالَ: قَدْ أُوحِيَ إِلَيَّ أَنَّكُمْ تُفْتَنُونَ فِي الْقُبُورِ قَرِيبًا مِنْ فِتْنَةِ الدَّجَّالِ
একবার রাসুলুল্লাহ সা. কবরে লোকজন যে পরীক্ষার সম্মুখীন হবে দাঁড়িয়ে তার উল্লেখ করতে থাকলে মুসলমানগণ এমন উঁচু স্বরে কাঁদতে লাগলেন যে, তাদের আওয়াজ আমার জন্য রাসুলুল্লাহ সা. এর কথা শোনার পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়াল। যখন কান্নাকাটি থেমে গেল তখন আমি আমার নিকটবর্তী এক ব্যক্তিকে বললাম, আল্লাহ তা'আলা আপনার মাঝে বরকত করুন, রাসুলুল্লাহ সা. তার কথার শেষে কী বলেছিলেন? তিনি বললেন, রাসুলুল্লাহ সা. বলেছেন, আমার নিকট ওহী এসেছে যে, তোমরা দাজ্জালের ফিতনার ন্যায় কবরে ফিতনার সম্মুখীন হবে।'

টিকাঃ
১. সুরা আবাসা, (৮০): ১৭-২২
২. সহিহ বুখারী, জানাযা অধ্যায়। রাসুল আবু বকর ও উমর -এর কবর-সংক্রান্ত অনুচ্ছেদের ভূমিকায়।
৩. তাফসীরু ইবনি কাসীর, ৮/৩২৩। উল্লেখিত আয়াতসমূহের ব্যাখ্যায়।
৪. সুরা মুমিনুন, (২৩): ৯৯, ১০০।
৫. তাফসীর ইবনি কাসীর, ৫/৪৩০। উল্লেখিত আয়াতের ব্যাখ্যায়।
৬. সুরা আ'রাফ, (৭):৪৪
৭. সহিহ বুখারী, ১৩৭০, জানাযা অধ্যায়।
৮. সহিহ বুখারী, ১৩৭৩, জানাযা অধ্যায়।
৯. সুনানু নাসাঈ, ২০৬২, জানাযা অধ্যায়। সনদ সহিহ।

📘 সালাফদের চোখে কবর > 📄 আখিরাতের প্রথম ঘাঁটি কবর

📄 আখিরাতের প্রথম ঘাঁটি কবর


উসমান -এর আযাদকৃত গোলাম হানী বলেন,
كَانَ عُثْمَانُ إِذَا وَقَفَ عَلَى قَبْرٍ بَكَى، حَتَّى يَبُلَ لِحِيَتَهُ، فَقِילَ لَهُ: تَذْكُرُ الْجَنَّةَ وَالنَّارَ فَلا تَبْكِي، وَتَبْكِي مِنْ هَذَا؟ فَقَالَ: إِنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: الْقَبْرُ أَوَّلُ مَنَازِلِ الْآخِرَةِ، فَإِنْ يَنْجُ مِنْهُ فَمَا بَعْدَهُ أَيْسَرُ مِنْهُ، وَإِنْ لَمْ يَنْجُ مِنْهُ، فَمَا بَعْدَهُ أَشَدُّ مِنْهُ . قَالَ: وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَا رَأَيْتُ مَنْظَرًا قَطُّ إِلَّا وَالْقَبْرُ أَفْظَعُ مِنْهُ
উসমান যখন কোনো কবরের নিকট দাঁড়াতেন, কাঁদতে কাঁদতে দাড়ি ভিজে যেত। একবার তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, জান্নাত ও জাহান্নামের কথা স্মরণ হলে আপনি এত কাঁদেন না। অথচ এখানে (কברস্থানে) এভাবে কাঁদছেন?
উত্তরে তিনি বললেন, রাসুল বলেছেন, আখিরাতের ঘাঁটিসমূহের মধ্যে কবর হলো প্রথম ঘাঁটি। কেউ যদি এ ঘাঁটিতে মুক্তি পেয়ে যায়, তাহলে পরের ঘাঁটিসমূহ অতিক্রম করা তার জন্য সহজ হয়ে যাবে। আর যে ব্যক্তি এ ঘাঁটিতে মুক্তি লাভ করতে পারল না, তার জন্য পরবর্তী ঘাঁটিসমূহ আরও কঠিন হয়ে পড়বে। অতঃপর তিনি বলেন, রাসুল এটাও বলেছেন যে, কবরের চেয়ে ভয়ংকর কোনো জায়গা আমি কক্ষনো দেখিনি।

টিকাঃ
১০. মুসনাদু আহমাদ, ৪২41 সনদ সহিহ।

📘 সালাফদের চোখে কবর > 📄 কবরের প্রথম প্রহর

📄 কবরের প্রথম প্রহর


দুজন ফিরিশতা, তিনটি প্রশ্ন। মুমিন ও কাফিরের অবস্থা হবে ভিন্ন।
বারা বিন আযিব বলেন,
خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فِي جَنَازَةِ رَجُلٍ مِنَ الأَنْصَارِ، فَانْتَهَيْنَا إِلَى الْقَبْرِ وَلَمَّا يُلْحَدْ، فَجَلَسَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَجَلَسْنَا حَوْلَهُ كَأَنَّمَا عَلَى رُءُوسِنَا الطَّيْرُ، وَفِي يَدِهِ عُودُ يَنْكُتُ بِهِ فِي الْأَرْضِ، فَرَفَعَ رَأْسَهُ فَقَالَ : اسْتَعِيذُوا بِاللَّهِ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ. مَرَّتَيْنِ أَوْ ثَلَاثًا - زَادَ فِي حَدِيثٍ جَرِيرٍ هَا هُنَا - وَقَالَ : وَإِنَّهُ لَيَسْمَعُ خَفْقَ نِعَالِهِمْ إِذَا وَلَّوْا مُدْبِرِينَ حِينَ يُقَالُ لَهُ : يَا هَذَا مَنْ رَبُّكَ وَمَا دِينُكَ وَمَنْ نَبِيُّكَ . قَالَ هَنَّادٌ قَالَ : وَيَأْتِيهِ مَلَكَانِ فَيُجْلِسَانِهِ فَيَقُولَانِ لَهُ : مَنْ رَبُّكَ فَيَقُولُ : رَبِّيَ اللَّهُ . فَيَقُولَانِ لَهُ : مَا دِينُكَ فَيَقُولُ : دِينِي الإِسْلامُ . فَيَقُولَانِ لَهُ : مَا هَذَا الرَّجُلُ الَّذِي بُعِثَ فِيكُمْ قَالَ فَيَقُولُ : هُوَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم . فَيَقُولَانِ : وَمَا يُدْرِيكَ فَيَقُولُ : قَرَأْتُ كِتَابَ اللَّهِ فَآمَنْتُ بِهِ وَصَدَّقْتُ . زَادَ فِي حَدِيثِ جَرِيرٍ : فَذَلِكَ قَوْلُ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ { يُثَبِّتُ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا } . الآيَةَ . ثُمَّ اتَّفَقَا قَالَ : فَيُنَادِي مُنَادٍ مِنَ السَّمَاءِ : أَنْ قَدْ صَدَقَ عَبْدِي فَأَفْرِشُوهُ مِنَ الْجَنَّةِ، وَافْتَحُوا لَهُ بَابًا إِلَى الْجَنَّةِ وَأَلْبِسُوهُ مِنَ الْجَنَّةِ . قَالَ : فَيَأْتِيهِ مِنْ رَوْحِهَا وَطِيبِهَا . قَالَ : وَيُفْتَحُ لَهُ فِيهَا مَدَّ بَصَرِهِ. قَالَ : وَإِنَّ الْكَافِرَ . فَذَكَرَ مَوْتَهُ قَالَ : وَتُعَادُ رُوحُهُ
فِي جَسَدِهِ وَيَأْتِيهِ مَلَكَانِ فَيُجْلِسَانِهِ فَيَقُولَانِ : مَنْ رَبُّكَ فَيَقُولُ : هَاهُ هَاهُ هَاهُ لَا أَدْرِي . فَيَقُولَانِ لَهُ : مَا دِينُكَ فَيَقُولُ : هَاهُ هَاهُ لَا أَدْرِي ، فَيَقُولَانِ : مَا هَذَا الرَّجُلُ الَّذِي بُعِثَ فِيكُمْ فَيَقُولُ : هَاهُ هَاهُ لَا أَدْرِي . فَيُنَادِي مُنَادٍ مِنَ السَّمَاءِ : أَنْ كَذَبَ فَأَفْرِشُوهُ مِنَ النَّارِ وَأَلْبِسُوهُ مِنَ النَّارِ، وَافْتَحُوا لَهُ بَابًا إِلَى النَّارِ . قَالَ : فَيَأْتِيهِ مِنْ حَرِّهَا وَسَمُومِهَا. قَالَ : وَيُضَيَّقُ عَلَيْهِ قَبْرُهُ حَتَّى تَخْتَلِفَ فِيهِ أَضْلاعُهُ . زَادَ فِي حَدِيثِ جَرِيرٍ قَالَ : ثُمَّ يُقَيَّضُ لَهُ أَعْمَى أَبْكَمُ مَعَهُ مِرْزَيَّةٌ مِنْ حَدِيدٍ، لَوْ ضُرِبَ بِهَا جَبَلُ لَصَارَ تُرَابًا . قَالَ : فَيَضْرِبُهُ بِهَا ضَرْبَةً يَسْمَعُهَا مَا بَيْنَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ إِلَّا الثَّقَلَيْنِ فَيَصِيرُ تُرَابًا .
আমরা রাসুলুল্লাহ -এর সঙ্গে আনসার গোত্রের এক ব্যক্তির জানাযায় শরীক হওয়ার জন্য রওনা হয়ে কবরের নিকট গেলাম। কিন্তু তখনো কবর খনন শেষ হয়নি। তাই রাসুলুল্লাহ বসলেন এবং আমরাও তাঁর চারিদিকে নীরবে তাঁকে ঘিরে বসে পড়লাম, যেন আমাদের মাথার ওপর পাখি বসে আছে। তখন তাঁর হাতে ছিল একটি লাঠি, তা দিয়ে তিনি মাটিতে আঁচড় কাটছিলেন। অতঃপর তিনি মাথা তুলে দুই বা তিনবার বললেন, তোমরা আল্লাহর নিকট কবরের আযাব হতে আশ্রয় চাও। বর্ণনাকারী জারীর বলেন, তিনি আরও উল্লেখ করেন, রাসুল বলেন, মৃত ব্যক্তি তাদের জুতার শব্দ শুনতে পায় যখন তারা ফিরে যেতে থাকে, আর তখনই তাকে বলা হয়, হে অমুক, তোমার রব কে? তোমার দ্বীন কী এবং তোমার নবী কে? হান্নাদ বলেন, তিনি বলেছেন, অতঃপর তার নিকট দুজন ফেরেশতা এসে তাকে বসিয়ে উভয়ে প্রশ্ন করে, তোমার রব কে? তখন সে বলে, আমার রব আল্লাহ। তাঁরা উভয়ে তাকে প্রশ্ন করে, তোমার দ্বীন কী? সে বলে, আমার দ্বীন হলো ইসলাম। তারা প্রশ্ন করে, এ লোকটি তোমাদের মধ্যে প্রেরিত হয়েছিলেন, তিনি কে? তিনি বলেন, সে বলে, তিনি আল্লাহর রাসুল। তারপর তারা উভয়ে আবার বলে, তুমি কীভাবে জানতে পারলে? সে বলে, আমি আল্লাহর কিতাব পড়েছি এবং তার প্রতি ঈমান এনেছি এবং সত্য বলে স্বীকার করেছি। জারীর বর্ণিত হাদিসে রয়েছে, এটাই হলো আল্লাহর এ বাণীর অর্থ: "যারা এ শাশ্বত বাণীতে ঈমান এনেছে, তাদের দুনিয়া ও আখিরাতে আল্লাহ সুপ্রতিষ্ঠিত রাখবেন।” (সুরা ইবরাহীম: ১১২৭)। এরপর বর্ণনাকারী জারীর ও হান্নাদ উভয়ে একইরূপ বর্ণনা করেন। নবী বলেছেন,
অতঃপর আকাশ হতে একজন ঘোষক ঘোষণা করেন, আমার বান্দা যথাযথ বলেছে। সুতরাং তার জন্য জান্নাতের একটি বিছানা বিছিয়ে দাও এবং তাকে জান্নাতের পোশাক পরিয়ে দাও। এ ছাড়া তার জন্য জান্নাতের দিকে একটা দরজা খুলে দাও। তিনি বলেন, সুতরাং তার দিকে জান্নাতের হাওয়া ও তার সুগন্ধী বইতে থাকে। তিনি আরও বলেন, ওই দরজা তার দৃষ্টিসীমা পর্যন্ত প্রশস্ত করা হয়।
অতঃপর নবী কাফিরদের মৃত্যু প্রসঙ্গে বলেন, তার রূহকে তার শরীরে ফিরিয়ে আনা হয় এবং দুজন ফেরেশতা এসে তাকে বসিয়ে প্রশ্ন করে, তোমার রব কে? সে উত্তর দেয়, হায়! আমি কিছুই জানি না। তারপর তারা প্রশ্ন করেন, তোমার দ্বীন কী? সে বলে, হায়! আমি কিছুই জানি না। তারা প্রশ্ন করে, এ লোকটি তোমাদের মধ্যে প্রেরিত হয়েছিলেন তিনি কে? সে বলে, হায়! আমি তো জানি না। তখন আকাশের দিক হতে একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা করেন, সে মিথ্যা বলেছে। সুতরাং তার জন্য জাহান্নামের একটি বিছানা এনে বিছিয়ে দাও এবং তাকে জাহান্নামের পোশাক পরিয়ে দাও, আর তার জন্য জাহান্নামের দিকে একটা দরজা খুলে দাও। তিনি বলেন, অতঃপর তার দিকে জাহান্নামের উত্তপ্ত বাতাস আসতে থাকে। এ ছাড়া তার জন্য তার কবরকে সংকীর্ণ করে দেওয়া হয়, ফলে তার এক দিকের পাঁজর অপর দিকের পাঁজরের মধ্যে ঢুকে যায়। বর্ণনাকারী জারীর বর্ণিত হাদিসে রয়েছে, তিনি বলেন, অতঃপর তার জন্য এক অন্ধ ও বধির ফেরেশতাকে নিযুক্ত করা হয়, যার সঙ্গে একটি লোহার হাতুড়ি থাকবে, যদি এ দ্বারা পাহাড়কে আঘাত করা হয় তাহলে তা ধুলায় পরিণত হয়ে যাবে। নবী বলেন, তারপর সে তাকে হাতুড়ি দিয়ে সজোরে আঘাত করতে থাকে, এতে সে বিকট শব্দে চিৎকার করতে থাকে যা মানুষ ও জিন ছাড়া পূর্ব হতে পশ্চিম পর্যন্ত সকল সৃষ্ট জীবই শুনতে পায়। আঘাতের ফলে সে মাটিতে মিশে যায়। তিনি বলেন, অতঃপর (শাস্তি অব্যাহত রাখার জন্য) পুনরায় তাতে রূহ ফেরত দেওয়া হয়।”

টিকাঃ
১১. সুনানু আবি দাউদ, ৪৭৫৩। সুন্নাহ অধ্যায়। সনদ সহিহ।

📘 সালাফদের চোখে কবর > 📄 কবর : এক অন্ধকার জগৎ

📄 কবর : এক অন্ধকার জগৎ


আবু হুরায়রা বলেন,
أَنَّ امْرَأَةً، سَوْدَاءَ كَانَتْ تَقُمُّ الْمَسْجِدَ - أَوْ شَابًا - فَفَقَدَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَسَأَلَ عَنْهَا - أَوْ عَنْهُ - فَقَالُوا مَاتَ . قَالَ : أَفَلَا كُنْتُمْ آذَنْتُمُونِي . قَالَ فَكَأَنَّهُمْ صَغَرُوا أَمْرَهَا - أَوْ أَمْرَهُ - فَقَالَ : دُلُّونِي عَلَى قَبْرِهِ . فَدَلُّوهُ فَصَلَّى عَلَيْهَا ثُمَّ قَالَ : إِنَّ هَذِهِ الْقُبُورَ مَمْلُوءَةً ظُلْمَةً عَلَى أَهْلِهَا وَإِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ يُنَوِّرُهَا لَهُمْ بِصَلَاتِي عَلَيْهِمْ.
একটি কৃষ্ণাঙ্গ মহিলা অথবা যুবক মসজিদে নববীতে ঝাড়ু দিত। রাসুল কিছুদিন তাকে না দেখে তার সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করলেন। সাহাবীগণ বললেন, সে তো মারা গেছে। রাসুল বললেন, তোমরা আমাকে খবর দিলে না কেন? বর্ণনাকারী বলেন, খুব সম্ভব তারা বিষয়টিকে গুরুত্বহীন মনে করেছিলেন। রাসুল ﷺ বললেন, আমাকে তার কবর দেখিয়ে দাও। তারা তাঁকে কবর দেখিয়ে দিলে তিনি কবরের ওপর জানাযার নামায আদায় করলেন। অতঃপর তিনি বললেন, এই কবর অন্ধকারে পরিপূর্ণ হয়ে আছে। আমার জানাযার নামাযের দরুন আল্লাহ আযযা ওয়া যাল্লা তা আলোকিত করে দেন।”

টিকাঃ
১২. সহিহ মুসলিম, ৯৫৬। জানাযা অধ্যায়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00