📄 আল্লাহ কল্যাণ চাইলে দুনিয়া কম করে দেন
হাসান বসরি রহিমাহুল্লাহু বলেন- 'আল্লাহ তাআলা কোনো বান্দার কল্যাণ চাইলে, তাকে প্রথমে সামান্য পরিমাণ রিজিক দান করেন। সেটা শেষ হয়ে গেলে, আরেকটু দান করেন। এভাবে একটু একটু করে দান করতে থাকেন। একপর্যায়ে যখন সে অল্প রিজিকে অভ্যস্থ হয়ে যায়, তখন আল্লাহ তাকে প্রাচুর্য দান করেন। ফলে সে দুনিয়ায়ও সুখী হয়; আখিরাতেও সুখী হয়。
টিকাঃ
[২৩৫] হিলয়িয়া: ৩/২৩৪।
📄 রুহাইম রাহিমাহুল্লাহর ভয়
বুহাইম রহিমাহুল্লাহু বলেন- 'আমি সব সময় এই ভয়ে থাকি যে, দুনিয়া আমার ওপর ভেঙে পড়বে; আর আমি দুনিয়ার চাপায় পড়ে মারা যাব।’
📄 টুকরো কথা
মুহাম্মাদ ইবনুল হানাফিয়াহ রহিমাহুল্লাহু বলেন, 'তোমাদের প্রকৃত মূল্য হলো 'জান্নাত'। সুতরাং তোমরা সাধারণ কোনো জিনিসের বিনিময়ে নিজেদের বিক্রি করে দিয়ো না। অর্থাৎ, তোমরা নিজেদেরকে আখিরাতের জন্য প্রস্তুত করো; দুনিয়ার বিনিময়ে বিক্রি করে দিয়ো না。
মুহাম্মাদ ইবনু ওমর আল কিমতি রহিমাহুল্লাহু বলেন, হজরত ইসা আলাইহিস সালামের বাণী সমগ্রে রয়েছে-
'প্রকৃত যাহিদের বৈশিষ্ট্য হলো, বন্ধু ও দুনিয়া ত্যাগ করা।’
টিকাঃ
[২৩৬] সাফওয়াতুস সাফওয়াহ: ৩/১৭৬。
📄 দুনিয়া আল্লাহর চোখে তুচ্ছ
মুহাম্মাদ ইবনু মুনকাদির রহিমাহুল্লাহু বলেন—
'মনে করুন, এক ব্যক্তি সারাজীবন নিয়মিত সিয়াম রেখেছে। সারা রাত নফল সালাত আদায় করেছে। আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করেছে। ধনসম্পদ দান করেছে। হারাম থেকে দূরে থেকেছে। কিন্তু মৃত্যুর পর দেখা গেল, এই বলে তার জান্নাতে যাওয়ার পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে যে, আল্লাহর দৃষ্টিতে যে জিনিস নিকৃষ্ট ছিল, সেই জিনিসটিই তার কাছে অত্যধিক প্রিয় ছিল। আর যে জিনিস আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয় ছিল, সেই জিনিসটিই তার দৃষ্টিতে নিতান্ত তুচ্ছ ছিল! তখন ওই লোকটির অবস্থা কেমন হবে? তার ওপর কেমন দমকা হাওয়া বয়ে যাবে?
এবার তোমরা প্রত্যেকে নিজেকে ওই ব্যক্তির জায়গায় রেখে চিন্তা করো। এরপর বুকে হাত রেখে বলো, দুনিয়ার তুলনায় আমার কাছে আখিরাত অধিক প্রিয়! জানি তোমরা কেউ একথা বলার সাহস করবে না। অথচ তোমরা জানো, আল্লাহর কাছে দুনিয়া নিকৃষ্ট; আখিরাত প্রিয়。
টিকাঃ
[২৩৭] সাফওয়াতুস সাফওয়াহ: ৩/১১৭。
[২৩৮] ইহইয়াউ উলুমুদ্দিন: ৩/২২৪。