📄 যুহদ ছাড়া বুজুর্গ হওয়া যায় না
আবদুল্লাহ ইবনু আবিন নুহ রহিমাহুল্লাহু বলেন- আমি একজন বুজুর্গকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, মনুষ্যত্বের পরিপূর্ণতা সুধীজনদের মাঝেই চূড়ান্ত রূপ পায় এবং তাদের চোখে দুনিয়া অতি তুচ্ছ হয়ে যায়。
টিকাঃ
[২২৪] একজন জ্ঞানী বলেছিলেন— কোনো ব্যক্তি পরিপূর্ণ বুজুর্গ হতে পারবে না যতক্ষণ না দুনিয়া তাদের কাছে তুচ্ছ মনে না হবে।
📄 দুনিয়া অপবিত্র বস্তুর মতো
সালেম ইবনু আবিল জা'দ রহিমাহুল্লাহু বলেন, নবি ঈসা আলাইহিস সালাম বলেছেন-
اتَّقُوا فُضُولَ الدُّنْيَا، فَإِنَّهَا رِجْسٌ عِنْدَ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ .
'তোমরা দুনিয়ার চাকচিক্য থেকে দূরে থাকো। কেননা দুনিয়া আল্লাহর নিকটে নাপাক বস্তুর মতো।’
📄 ঈসা আলাইহিস সালামের আফসোস
ফাদল ইবনু ইয়াজ রহিমাহুল্লাহু বলেন, হজরত ইসা আলাইহিস সালাম বলেছেন, দুনিয়া না ছাড়লে তোমরা আখিরাত পাবে না। দুঃখে, কষ্টে ধৈর্যধারণ না করলে আশা পূরণ করতে পারবে না। দুনিয়াদারদের দেখলে আমার খুব আফসোস লাগে। কারণ, তারা দুনিয়া জমা করে ঠিকই। কিন্তু কবরে যায় খালি হাতে। দুনিয়া মানুষকে ধোঁকা দেয়, তবুও মানুষ তাকেই আপন করে বুকে টেনে নেয়। তার ওপরই ভরসা করে। ধ্বংস তাদের জন্য, যারা সব সময় দুনিয়া নিয়ে ভাবে। দুনিয়ার জন্য পাপ-পঙ্কিলতায় ডুবে থাকে。
ইবনু উয়াইনাহ রহিমাহুল্লাহু বলেন, ইসা আলাইহিস সালাম বলেন—
'এই দুনিয়া আমার জন্মের আগেও ছিল; পরেও থাকবে। কিন্তু আমি আজ আছি; কাল থাকব না। কাজেই যে-কয়দিন আমি বেঁচে আছি, সে কয়দিনই আমার পুঁজি। আমি পুঁজি কাজে লাগাতে না-পারলে আমি একেবারেই হতভাগা।
📄 সালাফদের দরবারবিমুখতা
রাওহা ইবনু হাতিম রহিমাহুল্লাহু বলেন—
আমি একবার বসরার এক আমিরের দরোজার সামনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। তখন খালেদ ইবনু সাফওয়ান রহিমাহুল্লাহু আমাকে দেখে এগিয়ে আসেন। এরপর ঘোড়া থেকে নেমে বলেন, 'কী খবর ভাতিজা! আমি তো কোনো দিন কোনো আমিরের দরোজায় গিয়ে দাঁড়াইনি। তুমি কেন দাঁড়ালে! তুমি কি কেবল দুনিয়াবি স্বার্থেই এখানে এসেছ? তোমার সাথে যারা আছে, তারাও কি একই উদ্দেশ্যে এসেছে? আমি তাকে সঠিক উত্তরে দিতে ভয় পাচ্ছিলাম। তাই বললাম, 'চাচা, আপনার ধারণাই ঠিক।' তখন তিনি বললেন 'ভাতিজা, এই দুনিয়া একদিন তোমাদের ধ্বংস করে ছাড়বে। আজকাল আমরা তো দুনিয়াকে একটু বেশিই গুরুত্ব দিচ্ছি।' একথা বলে তিনি ঘোড়া ছুটিয়ে চলে যান。
টিকাঃ
[২২৫] তারিখে দিমাশক: ৬/২৯৫।