📄 জীবন জাগানিয়া বাণী
ইবরাহিম ইবনু আদহাম রহিমাহুল্লাহু বলতেন-
আছে কি কোনো বীর বাহাদুর-যে দুনিয়াকে উপেক্ষা করে সামনে এগিয়ে যাবে!
আবদুল্লাহ রহিমাহুল্লাহু বলেন, মাহমুদ আল ওয়াররাক রহিমাহুল্লাহু একদিন আমাকে একটি কবিতা শোনান। কবিতাটির মর্মার্থ হলো- 'মানুষ অবর্ণনীয় কষ্ট-ক্লেশ সহ্য করে সম্পদ জমা করে। তারা ভাবে, সম্পদ উপার্জন করতে পারলেই হয়তো জীবনটা সুখে কাটবে। কিন্তু বাস্তবতা আসলে তেমন নয়। সময় একদিন তাদেরকে মৃত্যুর ঘাঁটে পৌঁছিয়ে দেয়। একদিন তারা এই ধনসম্পদ ছেড়ে চলে যায়। তখন এই সম্পদ তাদের কোনো কাজে আসে না। মানুষ এটা জানে, তারপরও দুনিয়ার প্রতি আগ্রহের শেষ নেই।’
📄 যে যুহদ অবলম্বন করবে
আলি ইবনু আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন-যে ব্যক্তি যুহুদ অবলম্বন করবে সে বিপদআপদে স্বাভাবিক থাকবে। কখনো পেরেশান হবে না। আর যে মৃত্যুর অপেক্ষায় থাকবে, সে নেক কাজে অত্যন্ত তৎপর হবে।
📄 তোমাদেরকে মৃত্যুর দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে
মুহাম্মাদ ইবনু ইসহাক আস সাকাফি রহিমাহুল্লাহু বলেন- একবার বনু কায়সের এক ব্যক্তি আমাদেরকে উদ্দেশ্য করে বলেন, তোমরা কোথায় যাচ্ছ? তোমাদের কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে! তোমরা তো জানো না যে, মৃত্যু অতি সন্তর্পণে তোমাদের পিছু নিচ্ছে। তোমাদের রূহকে ক্ষণস্থায়ী দুনিয়া থেকে চিরস্থায়ী আখিরাতে নিয়ে যাওয়ার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। বিলাসিতায় মত্ত এই দেহকে প্রচণ্ড গতিতে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে。
টিকাঃ
[২২১] হিলইয়াতুল আওলিয়া: ১০/১৫১।
📄 মৃত্যু-রোগ কখনো ভালো হবে না
আবু মারহুম রহিমাহুল্লাহু বলেন, একবার আমরা হাসান বসরি রহিমাহুল্লাহুর সাথে একজন অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যাই। সেখানে গিয়ে হাসান বসরি রহিমাহুল্লাহু অসুস্থ ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করেন, 'আচ্ছা, এখন তুমি কেমন অনুভব করছ?' সে বলে, 'খেতে মনে চাইছে; কিন্তু খেতে পারছি না। পান করতে ইচ্ছে করছে; কিন্তু পান করতে পারছি না।' তার এ কথা শুনে হাসান বসরি রহিমাহুল্লাহু কেঁদে ফেলেন। কেঁদে কেঁদে বলেন, 'দুনিয়ার ভিত্তিই রোগ-বালাইর ওপর। যদি ধরেও নিই, এ রোগ থেকে তুমি মুক্তি পাবে। কিন্তু মৃত্যু নামক রোগ থেকে কিছুতেই মুক্তি পাবে না।' একথা বলে তিনি আরও জোরে জোরে কাঁদতে থাকেন। তাঁর কান্না দেখে উপস্থিত সবাই কেঁদে ফেলে।