📄 গরিবরা আল্লাহর তাআলার খুব কাছের
ইয়াজিদ ইবনু মায়সারা হিমসি রহিমাহুল্লাহু। তিনি একজন বড় আলিম ছিলেন। তিনি আসমানি কিতাবও পড়তেন। তিনি বলেন, আমি পূর্ববর্তী আসমানি কিতাবে নিম্নোক্ত কথাটি পেয়েছি—
أَيَحْزَنُ عَبْدِي أَنْ أَقْبِضَ عَنْهُ الدُّنْيَا، وَذَلِكَ أَقْرَبُ لَهُ مِنِّي، أَوْ يَفْرَحُ عَبْدِي أَنْ أَبْسُطَ لَهُ الدُّنْيَا، وَذَلِكَ أَبْعَدُ لَهُ مِنِّي.
‘আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, আমি কোনো বান্দাকে দুনিয়ার ধনসম্পদ স্বল্প পরিমাণে দিলে, সে কেন ভেঙে পড়ে? এটা তো আমার নৈকট্য অর্জনের শ্রেষ্ঠ মাধ্যম। অপর দিকে কোনো বান্দাকে দুনিয়ার বিপুল সম্পদ’ দিলে, সে কেন এত উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠে? এটা তো আমার থেকে দূরে সরে যাওয়ার প্রধান কারণ!' এরপর তিনি নিম্নোক্ত আয়াতটি তেলোয়াত করেন—
أَيَحْسَبُونَ أَنَّمَا نُمِدُّهُمْ بِهِ مِنْ مَالٍ وَبَنِينَ نُسَارِعُ لَهُمْ فِي الْخَيْرَاتِ بَلْ لَا يَشْعُرُونَ .
'তারা কি মনে করে যে, আমি তাদেরকে ধনসম্পদ ও সন্তানসন্ততি দিয়ে যাচ্ছি এবং এর মাধ্যমে তাদেরকে দ্রুত মঙ্গলের দিকে নিয়ে যাচ্ছি? বরং তারা বোঝে না। [সুরা মুমিনুন: ৫৫-৫৬]
টিকাঃ
[২১৯] আস সুনানুত তিরমিজি, হাদিস সনদ, হাসান।
📄 হেলায়-খেলায় কাটিয়ে দিয়ো না জীবন
আবদুল্লাহ রহিমাহুল্লাহু বলেন, জনৈক জ্ঞানী বলেছেন—
হে দুনিয়াদারেরা, দৃশ্যত তোমরা ধনী হলেও বাস্তবে নিতান্ত গরিব, নিঃস্ব ও সম্বলহীন। দিন-রাত মেহনত করে তোমবা অর্থ উপার্জন করো ঠিকই; কিন্তু তা থেকে তোমরা উপকৃত হতে পারো না। কারণ, সর্বাবস্থায় তোমরা এই আশঙ্কায় থাকো যে, একটু পরেই তোমাদের ওপর গুরুতর কোনো বিপদ নেমে আসবে।
তোমরা জানো, তোমাদের নির্ধারিত অংশ তোমরা অবশ্যই পাবে। এরপরও কেন দুনিয়ার ধোঁকার শিকার হও! দুনিয়া তোমাদেরকে এতটাই ব্যস্ত করে রাখে যে, তোমাদেরকে দেখে মনে হয়, তোমরা তোমাদের ন্যূনতম প্রাপ্য থেকেও বঞ্চিত হয়েছ। মনে রেখো, দুনিয়ার প্রয়োজন কখনো ফুরাবে না। প্রয়োজনগুলো উচ্ছ্বসিত ঢেউয়ের মতো একের পর এক আসতেই থাকবে। যতদিন তোমরা বেঁচে থাকবে, ততদিন ব্যস্ততাও তোমাদের পেছনে লেগে থাকবে। তাই দুনিয়ার ব্যস্ততাকে পাশ কাটিয়ে আখিরাতের জন্য একটু চেষ্টা করো। এখনো সময় আছে। নিজেকে কবরের জন্য প্রস্তুত করো। আখিরাতের সম্বল জোগাড় করো। হেলায়-খেলায় জীবনের অবশিষ্ট দিনগুলি নষ্ট করো না।
📄 তোমরা দুনিয়ার প্রতি ঝুঁকে যাবে
উকবা ইবনু আমির আল জুহানি রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবি কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উহুদ যুদ্ধের প্রায় ৮ বছর পরে শাহিদানে উহুদের [৩৯] স্মরণে এমনভাবে সালাত আদায় করেন, যেন জীবিত এবং মৃত-সকলের কাছ থেকে বিদায় নিচ্ছেন। এরপরে মিম্বরে উঠে বলেন-
إِنِّي بَيْنَ أَيْدِيكُمْ فَرَطٌ ، وَأَنَا عَلَيْكُمْ شَهِيدٌ، وَإِنَّ مَوْعِدَكُمُ الْحَوْضُ، وَإِنِّي لَأَنْظُرُ إِلَيْهِ، وَأَنَا فِي مَقَامِي هَذَا ، وَإِنِّي لَسْتُ أَخْشَى عَلَيْكُمْ أَنْ تُشْرِكُوا بَعْدِي، وَلَكِنِّي أَخْشَى عَلَيْكُمُ الدُّنْيَا أَنْ تَنَافَسُوهَا 'আমি তোমাদের আগেই দুনিয়া ছেড়ে চলে যাব। আমি তোমাদের পক্ষে সাক্ষী হব। আমার সাথে তোমাদের পরবর্তী দেখা হবে হাউজে কাউসারে। আমি দিব্য চোখে আমার পরকালীন নিবাস দেখতে পাচ্ছি। আমি এ আশঙ্কা করি না যে, তোমরা আমার পরে শিরক করবে। বরং আমার আশঙ্কা এই যে, তোমরা দুনিয়ার প্রতি ঝুঁকে পড়বে। [৪০]
উকবা ইবনু আমির আল জুহানি রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, এটাই ছিল নবি কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে আমার শেষ দেখা。
টিকাঃ
[২১৮] নোট: এটা গায়েবি জানাযা বলা যাবে না। কারণ, হতে পারে নবিজির সামনে শহিদানদেরকে রাখা হয়েছিল। কিংবা এভাবে জানাযার সালাত আদায় করা নবিজির জন্য খাস বা নির্দিষ্ট ছিল। যা সাধারণ মুসলমানদের জন্য বৈধ নয়। আমাদের সমাজে গায়েবি জানাযার যে পদ্ধতি চালু আছে, তা নাজায়েজ এবং বর্জনীয় কাজ。
[২১৯] মুসনাদু আহমাদ: ৪/১৪৯।
📄 আঁধার রাতের স্বপ্ন
আবদুল্লাহ ইবনু সা'দি রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি একদিন একটি স্বপ্ন দেখি। স্বপ্নটির সারকথা এই যে-আমি এক পাহাড়ে বসে আছি। হঠাৎ সেখানে একটি কাফেলার আত্মপ্রকাশ ঘটে। তারা ধীরে ধীরে সামনের দিকে এগোতে থাকে। এক পর্যায়ে তাদের সামনে একটি ঘাঁটি পড়ে। ঘাঁটিটি ছিল খুব-ই সুন্দর। সবুজ-শ্যামল। কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার এই যে, ঘাঁটিটি অতিক্রম করার সময় কাফেলার একজনও সেদিকে তাকায়নি। আরও আশ্চর্যের ব্যাপার এই যে, তারা চলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সুন্দর ঘাঁটিটিও অদৃশ্য হয়ে যায়। আমি অবাক হয়ে এই অদ্ভুত দৃশ্য দেখতে থাকি。
এরপরে আরেকটি কাফেলা আসে। এই কাফেলার সামনেও সুজলা-সুফলা একটি মাঠ আত্মপ্রকাশ করে। তবে এই কাফেলার কিছু লোক চলার সময় সেখান থেকে মূল্যবান কিছু জিনিস সঞ্চয় করে নেয়。
এরপরে তৃতীয় আরেকটি কাফেলা আসে। তারা এই রহস্যঘেরা ঘাঁটিটির সামনে এসে থমকে দাঁড়ায়। তাদের পথপ্রদর্শন বাহন থামিয়ে সেখানে নেমে পড়ে। তাকে অনুসরণ করে সবাই বাহন থেকে নেমে পড়ে। এরপর তারা একযোগে সেখানকার মূল্যবান বস্তুসামগ্রীর ওপর হামলে পড়ে এবং দু-হাতে যে যত পারে, সংগ্রহ করে。
আমি তৃতীয় কাফেলারই একজন। আমি এই ঘাঁটি লুট করে নিচ্ছি এবং পদে পদে বিপদে পড়ছি। আর যারা ঘাঁটিটি উপেক্ষা করে যাচ্ছে, তারাই নিরাপদ。
টিকাঃ
[২২০] ইবনুল মবারক রহিমাহুল্লাহু, যুহুদ: ৫০৬।