📘 সালাফদের চোখে দুনিয়া > 📄 জ্ঞানীদের চোখে দুনিয়া

📄 জ্ঞানীদের চোখে দুনিয়া


জনৈক জ্ঞানী বলেন—
‘দুনিয়া একেবারেই তুচ্ছ। হালকা দমকা হওয়ায় তার ভিত নড়ে ওঠে। এরপরও তোমরা দুনিয়াকে স্থায়ী ভেবে আলিশান দালান নির্মাণ করো!’
উবাইদুল্লাহ ইবনু মুসলিম রহিমাহুল্লাহু বলেন, জনৈক দার্শনিক বলেছেন—
‘দুনিয়াটা হলো বিষের পেয়ালা। এই পেয়ালায় ঠোঁট ছোঁয়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বিষক্রিয়া শুরু হয়ে যায়। এতে কারও প্রাণ নাশ হয়; কারও আবার অঙ্গহানি ঘটে। ফলে দেখা যায়, দুনিয়াদাররা প্রাণ থাকতেও মৃত, চোখ থাকতেও অন্ধ, কান থাকতেও বধির এবং কণ্ঠ থাকতেও মূক হয়ে বেঁচে থাকে।’

📘 সালাফদের চোখে দুনিয়া > 📄 দুনিয়ার জমি-জমার পিছনে ছুটো না

📄 দুনিয়ার জমি-জমার পিছনে ছুটো না


আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন—
لَا تَتَّخِذُوا الضَّيْعَةَ فَتَرْغَبُوا فِي الدُّنْيَا .
‘তোমরা দুনিয়ার জমি-জমার পেছনে পড়ো না। তাহলে তোমরা দুনিয়ার প্রতি ঝুঁকে পড়বে।’

টিকাঃ
[২১৭] আস সুনানুত তিরমিজি, হাদিস সনদ, হাসান।

📘 সালাফদের চোখে দুনিয়া > 📄 গরিবরা আল্লাহর তাআলার খুব কাছের

📄 গরিবরা আল্লাহর তাআলার খুব কাছের


ইয়াজিদ ইবনু মায়সারা হিমসি রহিমাহুল্লাহু। তিনি একজন বড় আলিম ছিলেন। তিনি আসমানি কিতাবও পড়তেন। তিনি বলেন, আমি পূর্ববর্তী আসমানি কিতাবে নিম্নোক্ত কথাটি পেয়েছি—
أَيَحْزَنُ عَبْدِي أَنْ أَقْبِضَ عَنْهُ الدُّنْيَا، وَذَلِكَ أَقْرَبُ لَهُ مِنِّي، أَوْ يَفْرَحُ عَبْدِي أَنْ أَبْسُطَ لَهُ الدُّنْيَا، وَذَلِكَ أَبْعَدُ لَهُ مِنِّي.
‘আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, আমি কোনো বান্দাকে দুনিয়ার ধনসম্পদ স্বল্প পরিমাণে দিলে, সে কেন ভেঙে পড়ে? এটা তো আমার নৈকট্য অর্জনের শ্রেষ্ঠ মাধ্যম। অপর দিকে কোনো বান্দাকে দুনিয়ার বিপুল সম্পদ’ দিলে, সে কেন এত উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠে? এটা তো আমার থেকে দূরে সরে যাওয়ার প্রধান কারণ!' এরপর তিনি নিম্নোক্ত আয়াতটি তেলোয়াত করেন—
أَيَحْسَبُونَ أَنَّمَا نُمِدُّهُمْ بِهِ مِنْ مَالٍ وَبَنِينَ نُسَارِعُ لَهُمْ فِي الْخَيْرَاتِ بَلْ لَا يَشْعُرُونَ .
'তারা কি মনে করে যে, আমি তাদেরকে ধনসম্পদ ও সন্তানসন্ততি দিয়ে যাচ্ছি এবং এর মাধ্যমে তাদেরকে দ্রুত মঙ্গলের দিকে নিয়ে যাচ্ছি? বরং তারা বোঝে না। [সুরা মুমিনুন: ৫৫-৫৬]

টিকাঃ
[২১৯] আস সুনানুত তিরমিজি, হাদিস সনদ, হাসান।

📘 সালাফদের চোখে দুনিয়া > 📄 হেলায়-খেলায় কাটিয়ে দিয়ো না জীবন

📄 হেলায়-খেলায় কাটিয়ে দিয়ো না জীবন


আবদুল্লাহ রহিমাহুল্লাহু বলেন, জনৈক জ্ঞানী বলেছেন—
হে দুনিয়াদারেরা, দৃশ্যত তোমরা ধনী হলেও বাস্তবে নিতান্ত গরিব, নিঃস্ব ও সম্বলহীন। দিন-রাত মেহনত করে তোমবা অর্থ উপার্জন করো ঠিকই; কিন্তু তা থেকে তোমরা উপকৃত হতে পারো না। কারণ, সর্বাবস্থায় তোমরা এই আশঙ্কায় থাকো যে, একটু পরেই তোমাদের ওপর গুরুতর কোনো বিপদ নেমে আসবে।
তোমরা জানো, তোমাদের নির্ধারিত অংশ তোমরা অবশ্যই পাবে। এরপরও কেন দুনিয়ার ধোঁকার শিকার হও! দুনিয়া তোমাদেরকে এতটাই ব্যস্ত করে রাখে যে, তোমাদেরকে দেখে মনে হয়, তোমরা তোমাদের ন্যূনতম প্রাপ্য থেকেও বঞ্চিত হয়েছ। মনে রেখো, দুনিয়ার প্রয়োজন কখনো ফুরাবে না। প্রয়োজনগুলো উচ্ছ্বসিত ঢেউয়ের মতো একের পর এক আসতেই থাকবে। যতদিন তোমরা বেঁচে থাকবে, ততদিন ব্যস্ততাও তোমাদের পেছনে লেগে থাকবে। তাই দুনিয়ার ব্যস্ততাকে পাশ কাটিয়ে আখিরাতের জন্য একটু চেষ্টা করো। এখনো সময় আছে। নিজেকে কবরের জন্য প্রস্তুত করো। আখিরাতের সম্বল জোগাড় করো। হেলায়-খেলায় জীবনের অবশিষ্ট দিনগুলি নষ্ট করো না।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00