📄 উম্মতের ব্যাপারে নবিজির ভয়
مَثَلُ هَذِهِ الدُّنْيَا مَثَلُ ثَوْبٍ شُقَّ مِنْ أَوَّلِهِ إِلَى آخِرِهِ، فَبَقِيَ مُتَعَلِّقًا بِخَيْطٍ فِي آخِرِهِ، فَيُوشِكُ ذَلِكَ الْخَيْطُ أَنْ يَنْقَطِعَ .
'দুনিয়াটা মূলত মিহি একটি সুতোয় ঝুলে থাকা আগাগোড়া ছেঁড়া কাপড়ের মতো। যেকোনো মুহূর্তে সুতোটি ছিঁড়ে দু-টুকরো হয়ে যেতে পারে。
আবু সাইদ খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-
إِنَّ أَكْثَرَ مَا أَخَافُ عَلَيْكُمْ مَا يُخْرِجُ اللهُ لَكُمْ مِنْ بَرَكَاتِ الْأَرْضِ . فَقِيلَ: مَا بَرَكَاتُ الْأَرْضِ؟ قَالَ: زَهْرَةُ الدُّنْيَا .
'তোমাদের ব্যাপারে আমার সবচেয়ে বড় ভয় হয় এই যে, আল্লাহ তোমাদের জন্য জমিনের সকল বরকত উন্মুক্ত করে দেবেন। আর তোমরা সেগুলো পেয়ে দিকভ্রান্ত ও স্বেচ্ছাচার হয়ে পড়বে। সাহাবায়ে কেরাম রাদিয়াল্লাহু আনহুম জিজ্ঞাসা করেন, 'ইয়া রাসুলাল্লাহ, জমিনের বরকত কী?' উত্তরে তিনি বলেন, 'পার্থিব ধন-ঐশ্বর্যের প্রাচুর্য。
আমর ইবনু হুরাইছ রহিমাহুল্লাহু বলেন, মহান আল্লাহ তাআলা নিচের আয়াতটি 'আসহাবুস সুফফা'-এর ব্যাপারে নাজিল করেন-
وَلَوْ بَسَطَ اللَّهُ الرِّزْقَ لِعِبَادِهِ لَبَغَوْا فِي الْأَرْضِ .
'যদি আল্লাহ তাআলা তাঁর সকল বান্দাকে রিজিক দিতেন, তাহলে তারা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করত।' [সুরা শু'রা: ২৭]
কারণ, তারা মনে মনে অর্থসম্পদ কামনা করতেন আর বলতেন, হায় যদি আমরা দুনিয়ার সম্পদ অর্জন করতে পারতাম!
ইবরাহিম ইবনু আবদুর রহমান ইবনু আওফ রহিমাহুল্লাহু বলেন, আমি মুআবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহুর শাসনামলে একদিন তাঁর খেদমতে উপস্থিত হই। সেদিন তাঁর কাছে শামের একদল লোক উপস্থিত ছিল। তাদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ কোনো বিষয়ে আলোচনা হচ্ছিল। আমি মজলিসে বসলে জনৈক ব্যক্তি আমাকে জিজ্ঞেস করেন—
'আপনার নাম কী?'
'ইবরাহিম ইবনু আবদুর রহমান ইবনু আওফ।'
'আল্লাহ তাআলা আপনার পিতার ওপর রহম করুন। জনৈক ব্যক্তি আমাকে সাহাবিদের একটি ঘটনা শোনালে আমি নিয়ত করি, সাহাবায়ে কেরام রাদিয়াল্লাহু আনহুম-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ঘটনাগুলো সরাসরি তাদের মুখ থেকে শুনব। এ লক্ষ্যে আমি উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুর যুগে মদিনায় যাই। সেখানে অনেক সাহাবায়ে কেরام রাদিয়াল্লাহু আনহুম-এর সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ হয়। কিন্তু আবদুর রহমান ইبনু আওফ রাদিয়াল্লাহু আনহুর তখন সেখানে ছিলেন না। তাঁর কথা জিজ্ঞেস করলে আমাকে জানানো হয়, তিনি 'যারফ' নামক স্থানে জমি দেখা-শুনার জন্য গিয়েছেন। পরে আমি তাঁর সাথে সাক্ষাতের জন্য 'যারফ' নামক স্থানে যাই। গিয়ে দেখি, তিনি খালি গায়ে জমিতে পানি সেঁচ করছেন। আমাকে দেখে গায়ে চাদর জড়িয়ে নেন। আমি সালাম বিনিময় করে তার কথাবার্তা বলা শুরু করি। এক পর্যায়ে বলি—
'আমি আপনার কাছে বিশেষ এক প্রয়োজনে এসেছি। কিন্তু আপনাকে এই অবস্থায় দেখে যুগপৎ অবাক ও হতাশ হচ্ছি। শরিয়তের যে সকল বিষয় আমাদের কাছে এসেছে তা কি আপনাদের কাছেও এসেছে? আমরা যা জানি, তা কি আপনারাও জানেন?'
'হ্যাঁ, তোমরা যা জানো আমরাও তা জানি। তোমাদের নিকট যা এসেছে, আমাদের নিকটও তা-ই এসেছে।'
'তাহলে এর কারণ কী যে, আমরা যার প্রতি বিমুখ হচ্ছি; আপনারা তার প্রতি ঝুঁকে পড়ছেন? অথচ আপনারা নবির সম্মানিত সাহাবি।'
'ভাই, তোমার কথা ঠিক আছে। নবিজির জামানায় আমাদেরকে অনটন ও অসচ্ছলতা দিয়ে পরীক্ষা করা হয়েছে। তখন আমরা সবর করে ওই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছি। আর এখন পরীক্ষা করা হচ্ছে প্রাচুর্য দিয়ে। কিন্তু আমরা এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারছি না。
টিকাঃ
[২১৩] শু'আবুল ইমান: ৭/২৬০। সনদ যয়িফ。
[২১৪] সহিহুল বুখারি: ১১/২৪৪。
[২১৫] তাবারনি: ২৫/১。
নোট: সম্পদ কামনা করা সাহাবাদের ব্যাপারে দূষণীয় বলা যাবে না। কারণ, তাঁরা এমনটা হয়তো করেছিলেন, যখন তাঁরা নতুন ইমান এনেছিলেন। এরপরে যখন তাদের ইমানি শক্তি পোক্ত এবং গভীর ও বেড়ে গিয়েছিল, তখন তাঁরা সম্পদকে লাখি মেরে ফেলে দিয়েছিলেন。
[২১৬] ইবনুল মুবারক, যুহুদ: ৫১৯। সনদ সহিহ।
📄 জ্ঞানীদের চোখে দুনিয়া
জনৈক জ্ঞানী বলেন—
‘দুনিয়া একেবারেই তুচ্ছ। হালকা দমকা হওয়ায় তার ভিত নড়ে ওঠে। এরপরও তোমরা দুনিয়াকে স্থায়ী ভেবে আলিশান দালান নির্মাণ করো!’
উবাইদুল্লাহ ইবনু মুসলিম রহিমাহুল্লাহু বলেন, জনৈক দার্শনিক বলেছেন—
‘দুনিয়াটা হলো বিষের পেয়ালা। এই পেয়ালায় ঠোঁট ছোঁয়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বিষক্রিয়া শুরু হয়ে যায়। এতে কারও প্রাণ নাশ হয়; কারও আবার অঙ্গহানি ঘটে। ফলে দেখা যায়, দুনিয়াদাররা প্রাণ থাকতেও মৃত, চোখ থাকতেও অন্ধ, কান থাকতেও বধির এবং কণ্ঠ থাকতেও মূক হয়ে বেঁচে থাকে।’
📄 দুনিয়ার জমি-জমার পিছনে ছুটো না
আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন—
لَا تَتَّخِذُوا الضَّيْعَةَ فَتَرْغَبُوا فِي الدُّنْيَا .
‘তোমরা দুনিয়ার জমি-জমার পেছনে পড়ো না। তাহলে তোমরা দুনিয়ার প্রতি ঝুঁকে পড়বে।’
টিকাঃ
[২১৭] আস সুনানুত তিরমিজি, হাদিস সনদ, হাসান।
📄 গরিবরা আল্লাহর তাআলার খুব কাছের
ইয়াজিদ ইবনু মায়সারা হিমসি রহিমাহুল্লাহু। তিনি একজন বড় আলিম ছিলেন। তিনি আসমানি কিতাবও পড়তেন। তিনি বলেন, আমি পূর্ববর্তী আসমানি কিতাবে নিম্নোক্ত কথাটি পেয়েছি—
أَيَحْزَنُ عَبْدِي أَنْ أَقْبِضَ عَنْهُ الدُّنْيَا، وَذَلِكَ أَقْرَبُ لَهُ مِنِّي، أَوْ يَفْرَحُ عَبْدِي أَنْ أَبْسُطَ لَهُ الدُّنْيَا، وَذَلِكَ أَبْعَدُ لَهُ مِنِّي.
‘আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, আমি কোনো বান্দাকে দুনিয়ার ধনসম্পদ স্বল্প পরিমাণে দিলে, সে কেন ভেঙে পড়ে? এটা তো আমার নৈকট্য অর্জনের শ্রেষ্ঠ মাধ্যম। অপর দিকে কোনো বান্দাকে দুনিয়ার বিপুল সম্পদ’ দিলে, সে কেন এত উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠে? এটা তো আমার থেকে দূরে সরে যাওয়ার প্রধান কারণ!' এরপর তিনি নিম্নোক্ত আয়াতটি তেলোয়াত করেন—
أَيَحْسَبُونَ أَنَّمَا نُمِدُّهُمْ بِهِ مِنْ مَالٍ وَبَنِينَ نُسَارِعُ لَهُمْ فِي الْخَيْرَاتِ بَلْ لَا يَشْعُرُونَ .
'তারা কি মনে করে যে, আমি তাদেরকে ধনসম্পদ ও সন্তানসন্ততি দিয়ে যাচ্ছি এবং এর মাধ্যমে তাদেরকে দ্রুত মঙ্গলের দিকে নিয়ে যাচ্ছি? বরং তারা বোঝে না। [সুরা মুমিনুন: ৫৫-৫৬]
টিকাঃ
[২১৯] আস সুনানুত তিরমিজি, হাদিস সনদ, হাসান।