📄 দুনিয়া কম অর্জন হওয়াই ভালো
ইবনু সাম্মাক রহিমাহুল্লাহু বলেন-
'দুনিয়ার কোনো বস্তু হাতছাড়া হয়ে গেলে, সেটাকে গনিমত মনে করবে। কেননা দুনিয়া কম অর্জন হলে, তোমার জন্য আখিরাতমুখী হওয়া সহজ হবে।’
জ্ঞানীরা বলেন-
'মানুষ যখন দুনিয়ার ব্যাপারে বড় বড় স্বপ্ন দেখে, তখন তার আমলে ভাটা পড়ে। কারণ, দুনিয়ার স্বপ্ন মানুষকে আখিরাত ও আল্লাহর পরিচয় ভুলিয়ে দেয়।’
হাসান বসরি রহিমাহুল্লাহু বলেন-
'আল্লাহর কসম! মানুষের হৃদয়কে প্রবঞ্চিত করার শক্তি দুনিয়ার নেই। এরপরও দেখা যাচ্ছে, তোমরা প্রবঞ্চিত হচ্ছ। অতএব বোঝা যাচ্ছে, তোমার হৃদয়গুলো জীবিত নেই。
📄 দুনিয়ার বরাদ্দ
ইসা আলাইহিস সালাম বলেন- 'তোমরা দুনিয়ার জন্য রাত-দিন মেহনত করে যাচ্ছ, অথচ আল্লাহ তোমাদের জন্য যটুকু রিজিক বরাদ্দ করে রেখেছেন, তোমার কেবল ততটুকুই পাবে। অপর দিকে আখিরাতের জন্য তোমরা কোনো চেষ্টাই করছ না, অথচ আল্লাহ তোমাদের জন্য আখিরাতের কোনো কিছুই বরাদ্দ করে রাখেননি। দুনিয়ার আমালই তোমাদের আখিরাতের বরাদ্দ নির্ধারণ করবে।
📄 সালাফদের কয়েকটি অমীয় বচন
খালেদ ইবনু ইয়াযিদ ইবনু মুআবিয়া রহিমাহুল্লাহু বলেন- 'হে আদম সন্তান, তোমার পরিবারপরিজন যেন তোমাকে আল্লাহর ইবাদতের ব্যাপারে গাফিল না করে। দুনিয়ায় তুমি দু-দিনের মেহমান মাত্র। দুনিয়ার জীবন শেষ করে তুমি যে-জীবনে প্রবেশ করবে, তা হবে অনন্তকালের। তবে সেই অনন্তকালীন জীবনের জন্য তোমাকে এখনই ব্যবস্থা নিতে হবে। বসবাসের জন্য নেক আমলের সাহায্যে সুরোম্য প্রাসাদ নির্মাণ করতে হবে। কাজেই তুমি আখিরাতের অন্তহীন জীবনের জন্য এখনই গৃহ নির্মাণ শুরু করো। অন্যথায় তোমাকে সেখানে গৃহহীন থাকতে হবে।’
মাদান রহিমাহুল্লাহু বলেন- 'তুমি দুনিয়ার জন্য ততটুকু পরিশ্রম করবে, যতটুকু দুনিয়ার জীবনের জন্য প্রয়োজন। অনুরূপ আখিরাতের জন্য ততটুকু আমল করবে, যতটুকু আখিরাতের জন্য প্রয়োজন। আর মনে রেখো, আখিরাতের জীবনের তুলনায় দুনিয়ার জীবন একেবারেই তুচ্ছ।’
ইউসুফ ইবনু আসবাত রহিমাহুল্লাহু বলেন, আমাকে আবু যুরআ রহিমাহুল্লাহু বলেন- 'যার চোখে দুনিয়া তুচ্ছ; আখিরাত মহান, সে কীভাবে দুনিয়ার তালাশে মগ্ন হয়ে থাকে!'
জা'ফর আল কুরাশি রহিমাহুল্লাহু বলেন, ইসা আল আহমার রহিমাহুল্লাহু বলেছেন, মৃত্যু বিচ্ছিন্নতা ও ধ্বংসের প্রতীক। মায়ামমতা ও প্রেম-ভালোবাসার শত্রু। একসময় আমাদের অনেক বন্ধু ছিল। এখন তারা নেই। মৃত্যু তাদেরকে আমাদের থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে। যুগ আমাদের মাঝে বিদায়ের রেখা টেনে দিয়েছে। তাদের নাম- নিশানা এমনভাবে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে যে, মনে হয়, তারা কোনো কালেই এই দুনিয়ার বাসিন্দা ছিল না。
📄 যাকে সবাই ঘৃণা করে
উরওয়াহ ইবনু যুবাইর রহিমাহুল্লাহু বলেন-
'আমার গোপন দোষের ব্যাপারে আমি মহান রবের কাছে ক্ষমা চাই। যেসকল গুণ না- থাকা সত্ত্বেও মানুষ আমাকে গুণী মনে করে, সেসকল গুণ ভিক্ষা চাই। তবে আমাদের সবচেয়ে বড় দোষ হলো, আমরা দ্বীনের মাধ্যমে দুনিয়া তালাশ করি।’
আবু তাইবা আল জুরজানি রহিমাহুল্লাহু বলেন, আমি রুকজ ইবনু ওবরা রহিমাহুল্লাহুকে একবার জিজ্ঞেস করি, সর্বস্তরের মানুষ সাধারণত কাকে ঘৃণা করে? উত্তরে তিনি বলেন, 'যে একসময় আখিরাতমুখী ছিল; কিন্তু এখন দুনিয়ামুখি হয়ে পড়েছে, তাকে।’