📘 সালাফদের চোখে দুনিয়া > 📄 দুনিয়াবিমুখের কাছে দুনিয়া নত হয়ে আসে

📄 দুনিয়াবিমুখের কাছে দুনিয়া নত হয়ে আসে


আনাস ইবনু মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবি কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-
مَنْ كَانَتْ نِيَّتُهُ الْآخِرَةَ جَمَعَ اللَّهُ لَهُ شَمْلَهُ، وَجَعَلَ غِنَاهُ فِي قَلْبِهِ، وَأَتَتْهُ الدُّنْيَا وَهِيَ رَاغِمَةٌ، وَمَنْ كَانَتْ نِيَّتُهُ الدُّنْيَا فَرَّقَ اللَّهُ عَلَيْهِ أَمْرَهُ، وَجَعَلَ فَقْرَهُ بَيْنَ عَيْنَيْهِ، وَلَمْ يَأْتِهِ مِنَ الدُّنْيَا إِلَّا مَا كُتِبَ لَهُ .
'যে ব্যক্তি আখিরাতকে লক্ষ্য বানায়, মহান আল্লাহ তাকে সবকিছুতে স্থিতি দান করেন। হৃদয়ে প্রাণ-প্রাচুর্য ঢেলে দেন। ফলে দুনিয়া তার পদতলে আছড়ে পড়ে। আর যে ব্যক্তি পার্থিব দুনিয়াকে লক্ষ্য বানায়, আল্লাহ তাকে সবকিছুতেই অস্থির চিত্ত করে দেন। তার কপালে দারিদ্রতার তিলক এঁকে দেন এবং তার জন্য দুনিয়ার যেটুকু প্রাপ্তি লিখে রেখেছেন, সেটুকুই কেবল তাকে দান করেন。

টিকাঃ
[২১১] আস সুনান ইবনু মাজাহ: ৪২০৫। হাদিস, সনদ সহিহ।

📘 সালাফদের চোখে দুনিয়া > 📄 দুনিয়া কম অর্জন হওয়াই ভালো

📄 দুনিয়া কম অর্জন হওয়াই ভালো


ইবনু সাম্মাক রহিমাহুল্লাহু বলেন-
'দুনিয়ার কোনো বস্তু হাতছাড়া হয়ে গেলে, সেটাকে গনিমত মনে করবে। কেননা দুনিয়া কম অর্জন হলে, তোমার জন্য আখিরাতমুখী হওয়া সহজ হবে।’
জ্ঞানীরা বলেন-
'মানুষ যখন দুনিয়ার ব্যাপারে বড় বড় স্বপ্ন দেখে, তখন তার আমলে ভাটা পড়ে। কারণ, দুনিয়ার স্বপ্ন মানুষকে আখিরাত ও আল্লাহর পরিচয় ভুলিয়ে দেয়।’
হাসান বসরি রহিমাহুল্লাহু বলেন-
'আল্লাহর কসম! মানুষের হৃদয়কে প্রবঞ্চিত করার শক্তি দুনিয়ার নেই। এরপরও দেখা যাচ্ছে, তোমরা প্রবঞ্চিত হচ্ছ। অতএব বোঝা যাচ্ছে, তোমার হৃদয়গুলো জীবিত নেই。

📘 সালাফদের চোখে দুনিয়া > 📄 দুনিয়ার বরাদ্দ

📄 দুনিয়ার বরাদ্দ


ইসা আলাইহিস সালাম বলেন- 'তোমরা দুনিয়ার জন্য রাত-দিন মেহনত করে যাচ্ছ, অথচ আল্লাহ তোমাদের জন্য যটুকু রিজিক বরাদ্দ করে রেখেছেন, তোমার কেবল ততটুকুই পাবে। অপর দিকে আখিরাতের জন্য তোমরা কোনো চেষ্টাই করছ না, অথচ আল্লাহ তোমাদের জন্য আখিরাতের কোনো কিছুই বরাদ্দ করে রাখেননি। দুনিয়ার আমালই তোমাদের আখিরাতের বরাদ্দ নির্ধারণ করবে।

📘 সালাফদের চোখে দুনিয়া > 📄 সালাফদের কয়েকটি অমীয় বচন

📄 সালাফদের কয়েকটি অমীয় বচন


খালেদ ইবনু ইয়াযিদ ইবনু মুআবিয়া রহিমাহুল্লাহু বলেন- 'হে আদম সন্তান, তোমার পরিবারপরিজন যেন তোমাকে আল্লাহর ইবাদতের ব্যাপারে গাফিল না করে। দুনিয়ায় তুমি দু-দিনের মেহমান মাত্র। দুনিয়ার জীবন শেষ করে তুমি যে-জীবনে প্রবেশ করবে, তা হবে অনন্তকালের। তবে সেই অনন্তকালীন জীবনের জন্য তোমাকে এখনই ব্যবস্থা নিতে হবে। বসবাসের জন্য নেক আমলের সাহায্যে সুরোম্য প্রাসাদ নির্মাণ করতে হবে। কাজেই তুমি আখিরাতের অন্তহীন জীবনের জন্য এখনই গৃহ নির্মাণ শুরু করো। অন্যথায় তোমাকে সেখানে গৃহহীন থাকতে হবে।’
মাদান রহিমাহুল্লাহু বলেন- 'তুমি দুনিয়ার জন্য ততটুকু পরিশ্রম করবে, যতটুকু দুনিয়ার জীবনের জন্য প্রয়োজন। অনুরূপ আখিরাতের জন্য ততটুকু আমল করবে, যতটুকু আখিরাতের জন্য প্রয়োজন। আর মনে রেখো, আখিরাতের জীবনের তুলনায় দুনিয়ার জীবন একেবারেই তুচ্ছ।’
ইউসুফ ইবনু আসবাত রহিমাহুল্লাহু বলেন, আমাকে আবু যুরআ রহিমাহুল্লাহু বলেন- 'যার চোখে দুনিয়া তুচ্ছ; আখিরাত মহান, সে কীভাবে দুনিয়ার তালাশে মগ্ন হয়ে থাকে!'
জা'ফর আল কুরাশি রহিমাহুল্লাহু বলেন, ইসা আল আহমার রহিমাহুল্লাহু বলেছেন, মৃত্যু বিচ্ছিন্নতা ও ধ্বংসের প্রতীক। মায়ামমতা ও প্রেম-ভালোবাসার শত্রু। একসময় আমাদের অনেক বন্ধু ছিল। এখন তারা নেই। মৃত্যু তাদেরকে আমাদের থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে। যুগ আমাদের মাঝে বিদায়ের রেখা টেনে দিয়েছে। তাদের নাম- নিশানা এমনভাবে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে যে, মনে হয়, তারা কোনো কালেই এই দুনিয়ার বাসিন্দা ছিল না。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00