📄 নবিজির দোয়া
হাসান বসরি রহিমাহুল্লাহু বলেন, নবি কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রায় সময় এই দোয়াটি করতেন—
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ دُنْيَا تَمْنَعُ خَيْرَ الْآخِرَةِ .
‘হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে এমন দুনিয়া থেকে আশ্রয় কামনা করছি, যা আখিরাতের কল্যাণ অর্জনে অন্তরায় হয়’
টিকাঃ
[১৯৫] আল ইতহাফ: ১০/২৪০। হাদিস মুরসাল। সনদ দুর্বল।
📄 সালাফদের দোয়া
হুসাইন ইবনু আবদুল্লাহ রহিমাহুল্লাহু বলেন, আবিল হাজ্জাজ রহিমাহুল্লাহু তার দোয়ায় বলতেন—
اللَّهُمَّ لَا تَرْزُقْنَا دِينَارًا وَلَا دِرْهَمًا .
'হে আল্লাহ, আপনি আমাদেরকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত অর্থবিত্ত দান করবেন না।'
সুফিয়ান সাওরি রহিমাহুল্লাহু অনেক সময় এই বলে দোয়া করতেন-
اللَّهُمَّ زَهَدْنَا فِي الدُّنْيَا، وَوَسِّعْ عَلَيْنَا مِنْهَا، وَلَا تَزْوِ بِهَا عَنَّا وَتُرَتِّبْنَا فِيهَا .
'হে আল্লাহ, আপনি আমাদেরকে দুনিয়ার প্রতি নির্মোহ করুন। এরপর প্রাচুর্য দান করুন। আপনি আমাদেরকে প্রাচুর্য থেকে বঞ্চিত করে দুনিয়ার প্রতি আগ্রহী করে তুলবেন না।'
মুহাম্মদ ইবনু উমর আল কিলাবি রহিমাহুল্লাহু বলেন, আমি কতিপয় আলিমকে এই দোয়াটি করতে শুনেছি-
أَيَا مُمْسِكَ السَّمَاءَ أَنْ تَقَعَ عَلَى الْأَرْضِ إِلَّا بِإِذْنِهِ، أَمْسِكْ عَنِّي الدُّنْيَا .
'হে আল্লাহ, আপনি আসমানকে যেভাবে আমাদের থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছেন, দুনিয়াকেও ঠিক সেভাবে দূরে সরিয়ে রাখুন। আসমান ভেঙে যেন মৃত্যুর কারণ না-হয় এবং দুনিয়ার প্রাচুর্য যেন আখিরাত নষ্টের কারণ না-হয়।'
আবু খালিদ আস-সুরি রহিমাহুল্লাহু দুনিয়ার ব্যাপারে দোয়া করে বলতেন-
اللَّهُمَّ أَخْرِجْنِي مِنْ جِوَارِ إِبْلِيسَ إِلَى جِوَارِكَ .
'হে আল্লাহ, আপনি আমাকে ইবলিসের প্রতিবেশীর [১৯৬] হাত থেকে রক্ষা করে আপনার কাছে নিয়ে যান।'
সুলাইমান আত তাইমি রহিমাহুল্লাহু দুনিয়ার ব্যাপারে আল্লাহর কাছে এভাবে দোয়া করতেন-
اللَّهُمَّ إِنَّكَ تَعْلَمُ أَنِّي لَا أُرِيدُ مِنَ الدُّنْيَا شَيْئًا، فَلَا تَرْزُقْنِي مِنْهَا شَيْئًا .
'হে আল্লাহ, আপনি তো জানেন, আমি দুনিয়ার কোনো কিছু চাই না। তাই আপনি আমাকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত রিজিক দেবেন না।'
টিকাঃ
[১৯৬] এখানে ইবলিসের প্রতিবেশী দ্বারা দুনিয়া উদ্দেশ্য।
📄 আলি ইবনু আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহুর দোয়া
হুসাইন ইবনু আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহুমা এই দোয়া করতেন-
اللَّهُمَّ ارْزُقْنِي الرَّغْبَةَ فِي الْآخِرَةِ حَتَّى أَعْرِفَ صِدْقَ ذَلِكَ فِي قَلْبِي بِالزَّهَادَةِ مِنِّي فِي دُنْيَايَ. اللَّهُمَّ ارْزُقْنِي بَصَرًا فِي أَمْرِ الْآخِرَةِ حَتَّى أَطْلُبَ الْحَسَنَاتِ شَوْقًا، وَأَفِرَّ مِنَ السَّيِّئَاتِ خَوْفًا
'হে আমার রব, আপনি আমাকে আখিরাতের এতটা ভালোবাসা দান করুন-যেন হৃদয়ে তার শীতলতা অনুভব করি। দুনিয়ার প্রতি নির্মোহ হয়ে থাকতে পারি。
হে আমার রব, আপনি আমাকে আখিরাতের ব্যাপারে এতটা অন্তর্দৃষ্টি দান করুন-যেন আগ্রহের সাথে নেক আমল করতে পারি এবং ভয়ের সাথে গুনাহ থেকে বেঁচে থাকতে পারি।’
📄 সালাফরা রোজ সকালে দুনিয়া থেকে পানাহ চাইতেন
আহমাদ ইবনু আবিল হাওয়ারি রহিমাহুল্লাহু বলেন, একবার আবু আবদুল্লাহ রহিমাহুল্লাহু আমাকে বলেন, 'হে আহমাদ, তুমি কি জানো, আমি কী প্রত্যয় নিয়ে দিন শুরু করি? আমি প্রতিদিন এই প্রত্যয় নিয়ে দিন শুরু করি-
'হে আল্লাহ, দুনিয়া আমার কাছে নিতান্তই তুচ্ছ। পৃথিবীর সমস্ত সম্পদ যদি আমাকে দিয়ে দেওয়া হয়, তবুও আমি তা গ্রহণ করব না।'
ইবরাহিম আত তাইমি রহিমাহুল্লাহু বলেন, দুনিয়াটা স্বভাবতই ব্যস্ততার ক্ষেত্র। তাই তিনি দোয়ার মধ্যে বলতেন-
اللَّهُمَّ لَا تَشْغَلْنِي بِهَا، وَلَا تُعْطِنِي مِنْهَا شَيْئًا .
'হে আল্লাহ, আপনি আমাকে দুনিয়ার পেছনে ব্যতিব্যস্ত রাখবেন না। প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদও দান করবেন না।’