📄 উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুর ভাষণ
বদর ইবনু উসমান রহিমাহুল্লাহু বলেন, হজরত উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু তার শেষ ভাষণে বলেন—
প্রিয় ভাইয়েরা আমার, আল্লাহ তাআলা আপনাদেরকে দুনিয়া দিয়েছেন আখিরাত অন্বেষণ করার জন্য। আখিরাতকে পেছনে ফেলে দুনিয়ার দিকে ধাবিত হওয়ার জন্য নয়। একদিন এই মিছে দুনিয়া শেষ হয়ে যাবে। শুধু আখিরাতই বাকি থাকবে। এই দুনিয়া যেন আপনাদেরকে কিছুতেই ধোঁকায় না ফেলে। আখিরাতের ব্যাপারে যেন উদাসীন না করে। আপনারা অস্থায়ী জিনিসের ওপর স্থায়ী জিনিসকে প্রাধান্য দিন।
সম্মানিত উপস্থিতি, আপনারা আল্লাহকে ভয় করুন। কেননা তাঁর ভয়ই আখিরাতের শাস্তি থেকে বাঁচার একমাত্র উপায়। মুসলিম ভাইদের সাথে মিলেমিশে থাকুন। দলছুট হবেন না। আপনারা আল্লাহর নিয়ামতকে স্মরণ করুন। পবিত্র কুরআনুল কারিমে ইরশাদ হয়েছে—
وَاذْكُرُوا نِعْمَةَ اللَّهِ عَلَيْكُمْ إِذْ كُنْتُمْ أَعْدَاءً فَأَلَّفَ بَيْنَ قُلُوبِكُمْ فَأَصْبَحْتُمْ بِنِعْمَتِهِ إِخْوَانًا .
‘আর তোমরা সে নিয়ামতের কথা স্মরণ করো, যা আল্লাহ তোমাদেরকে দান করেছেন। তোমরা পরস্পর শত্রু ছিলে। অতঃপর আল্লাহ তাআলা তোমাদের মনে সম্প্রীতি দান করেছেন, ফলে এখন তোমরা তাঁর অনুগ্রহে পরস্পর ভাই ভাই হয়েছ।’ [সুরা আলে ইমরান: ১০৩]
📄 আলি রাদিয়াল্লাহু আনহুর নাসিহা
হজরত আলি ইবনু আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু এক ভাষণে বলেন—
আমি তোমাদেরকে তাকওয়া অবলম্বনের উপদেশ দিচ্ছি এবং বলছি, এক দিন সবাইকে দুনিয়া ছেড়ে চলে যেতে হবে। দুনিয়া তোমাদের দেহ মাটি করে দেবে। আজ যে মাটির ওপর দিয়ে হাঁটছ, কাল সে মাটিই তোমাদেরকে গ্রাস করে ফেলবে।
দুনিয়া সুখ-দুঃখের মিশ্রভূমি। সুখ-দুঃখ মিলেই মানুষের জীবন। দুনিয়ার দুঃখ-কষ্ট দেখে হা-হুতাশ করো না। পুণ্য করতে পারলে, এই দুঃখ-কষ্ট একদিন অবশ্যই শেষ হয়ে যাবে। তখন জীবনের তৃষ্ণার্ত ভূমিতে সুখের বারিধারা নেমে আসবে। অনুরূপ দুনিয়ার সুখ-শান্তিতে আত্মহারা হয়ে যেয়ো না। কারণ এই সুখও একদিন শেষ হয়ে যাবে। এই জীবনে পুণ্য করতে না পারলে, পরকাল বিষাদে ছেয়ে যাবে। আমার এই ভেবে খুব অবাক লাগে যে, বোকা মানুষগুলো দিনরাত দুনিয়ার পেছনে ছুটে বেড়ায়; আর দুনিয়া তাদেরকে ক্রমশ মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়。
টিকাঃ
[১৮২] ইহইয়াউ উলুমুদ্দিন: ৩/২২৮। সনদ: যয়িফ।
📄 হুযাইফা রাদিয়াল্লাহু আনহুর জুমার খুতবা
আবদুর রহমান সালামি রহিমাহুল্লাহু বলেন, আমরা একবার সফরে বের হই। সেই সফরে মাদায়েনের কাছাকাছি এসে যাত্রাবিরতি করি। তখন আমার পিতা আমার হাত ধরে বলেন, চলো, আমরা জুমার সালাত আদায় করে আসি। আমি আমার পিতার সাথে সালাত আদায় করতে পার্শ্ববর্তী একটি মসজিদে যাই। মসজিদে গিয়ে দেখি, হুযাইফা রাদিয়াল্লাহু আনহু জুমার খুতবা দিচ্ছেন। খুতবায় তিনি বলছেন—
'সাবধান! কিয়ামত অতি সন্নিকটে। অচিরেই কিয়ামত সংঘটিত হবে। দুনিয়া ধ্বংস হয়ে যাবে। তখন আপনাদের আমলের হিসাব গ্রহণ করা হবে। অতএব, দুনিয়ার সম্পদ জমিয়ে কোনো লাভ নেই।
পরবর্তী জুমায় লক্ষ করি, মুসল্লিরা সকাল সকাল মসজিদে গমন করছেন। তাদের ব্যস্তসমস্ত অবস্থা দেখে আমি আব্বাজানকে জিজ্ঞেস করি, 'লোকেরা কি এখনই মসজিদে যাচ্ছে? তিনি বলেন, হ্যাঁ। এরপর তাদের পিছু পিছু আমরাও মসজিদে যাই। তিনি সেদিনও পূর্বের বিষয় নিয়ে চমৎকার আলোচনা করেন。
টিকাঃ
[১৮৩] হিলইয়াতুল আওলিয়া: ১/২৮১।
📄 শেষ বেলার কথাগুলি
আবদুল্লাহ আল ফাদল রহিমাহুল্লাহু বলেন, হজরত উমর ইবনু আবদুল আজিজ রহিমাহুল্লাহু তাঁর জীবনের শেষ ভাষণে বলেন-
'হামদ ও সালাতের পর। প্রিয় ভাইয়েরা আমার, আপনাদের হাতে এখন যে-সম্পদ আছে, তা মূলত আপনাদের পূর্ববর্তীদের রেখে যাওয়া সম্পদ। আপনারও একদিন তাদের মতো আপনাদের হাতে থাকা এই সম্পদ রেখে দুনিয়া থেকে বিদায় নেবেন। আপনারাই তো আপনাদের স্বজনদের শেষ গোসল দিয়ে জীবনের জন্য বিদায় দিয়েছেন। কবরের সাড়ে তিন হাত মাটি খনন করে সেখানে দাফন করে রেখে এসেছেন। সেখানে না আছে বিছানা, না আছে সাথি, না আছে বাতি। দুনিয়ায় তাদের অনেক সম্পদ ছিল। কিছুই তো তাদের জন্য কবরে রেখে আসেননি। নিজেরা গিয়ে তাদেরকে সঙ্গ দেননি। তারা সেখানে একা পড়ে আছে। পরিবারপরিজন, বন্ধুবান্ধব সবাই তাদেরকে ফেলে চলে এসেছে। এখন কবরই তাদের শেষ ঠিকানা। মাটিই তাদের পরম বন্ধু।
আপনারা তো বরং তাদেরকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে এসেছেন। আপনার চলে আসার পরেই ফেরেশতারা তাদেরকে প্রশ্নবানে জর্জরিত করেছে। তাদের হিসাব-নিকাশ নেওয়া শুরু করেছে। হিসাব দিতে গিয়ে তারা দেখেছে, দুনিয়ায় যে যেটুকু নেক আমল করেছে, সেটুকুই তাদের কাজে এসেছে। আর দুনিয়ায় যা কিছু সঞ্চয় করে গেছে, তার কিছুই তাদের কাজে আসেনি।
মহান রবের শপথ, এ কথাগুলোর প্রথম সম্বোধন পাত্র আমি নিজে। এরপর আপনারা। কারণ একথাগুলোর সবচেয়ে বড় হকদার আমি।’
বর্ণনাকারী বলেন, তিনি একথাগুলো বলার সময় অঝোরে কাঁদছিলেন। বাঁধভাঙা অশ্রু গাল ও দাড়ি বেড়ে গড়িয়ে পড়ছিল। তিনি রুমাল দিয়ে কিছুক্ষণ অশ্রু মোছার চেষ্টা করেন। এরপর মিম্বর থেকে নেমে বাড়ির পথে হাঁটতে শুরু করেন。
টিকাঃ
[১৮৪] হিলইয়াতুল আওলিয়া: ৫/২৬৬।