📄 চিরকুটের কথাগুলো
মিসআর ইবনু কিদাম রহিমাহুল্লাহু বলেন, এক দেশে একজন বিজ্ঞ আলিম ও ন্যায়বিচারক কাজি ছিলেন। সাধারণ মানুষ তাকে বাদশাহর চেয়েও বেশি ভালোবাসত ও সম্মান করত। কিন্তু দাম্ভিক বাদশাহ এতে ঈর্ষাপরায়ণ হয়ে তাকে হত্যা করে ফেলে。
এরপর সভাসদদের ডেকে বলে, সে নিশ্চয় এতদিন কোনো বই-পত্র দেখে বিচার করেছে। তাই তার বিচার সব সময় সুষ্ঠু হয়েছে। তোমরা এই বিচারকের বাড়িতে গিয়ে খোঁজ নাও, সে বিচার-সংক্রান্ত কোনো বই-পত্র রেখে গেছে কি-না!
বাদশাহর নির্দেশ মতে তৎক্ষণাৎ একটি তদন্ত কমিটি বিচারকের বাড়িতে গিয়ে উপস্থিত হয় এবং তার পরিবারকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তার পরিবার জানায়, 'আমাদের কাছে তিনি কোনো কাগজ-পত্র রেখে যাননি। তা ছাড়া আমরা তাকে বিচার-সংক্রান্ত কোনো বই-পত্রও পড়তে দেখিনি। তবে তার বুকপকেটে সব সময় একটুকরো কাগজ থাকত।’
পরিবারের দেওয়া তথ্য নিয়ে তদন্ত কর্মকর্তাগণ তৎক্ষণাৎ বাদশাহর কাছে ফিরে আসেন এবং মৃতের দেহ তল্লাশি করে একটুকরো কাগজ বের করেন। কাগজে চারটি উপদেশ লিখা ছিল-
এক. আমার খুব অবাক লাগে—যখন দেখি মানুষ মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও দুনিয়া নিয়ে মেতে থাকে。
দুই. যে জানে জাহান্নাম সত্য, তার মুখে কি হাসি মানায়?
তিন. যে দিব্যি চোখে মানুষের জন্ম-মৃত্যু, সুখ-দুঃখ ও লয়-ক্ষয় দেখে, দুনিয়ার মায়ায় জড়ানো কি তার সাজে?
চার. যে জানে, আল্লাহর তাকদির সত্য, দুনিয়ার জন্য অতিরিক্ত কষ্ট-ক্লেশ কি তার জন্য শোভা পায়?
মিসআর ইবনু কিদাম রহিমাহুল্লাহু বলেন, এক দেশে একজন বিজ্ঞ আলিম ও ন্যায়বিচারক কাজি ছিলেন। সাধারণ মানুষ তাকে বাদশাহর চেয়েও বেশি ভালোবাসত ও সম্মান করত। কিন্তু দাম্ভিক বাদশাহ এতে ঈর্ষাপরায়ণ হয়ে তাকে হত্যা করে ফেলে。
এরপর সভাসদদের ডেকে বলে, সে নিশ্চয় এতদিন কোনো বই-পত্র দেখে বিচার করেছে। তাই তার বিচার সব সময় সুষ্ঠু হয়েছে। তোমরা এই বিচারকের বাড়িতে গিয়ে খোঁজ নাও, সে বিচার-সংক্রান্ত কোনো বই-পত্র রেখে গেছে কি-না!
বাদশাহর নির্দেশ মতে তৎক্ষণাৎ একটি তদন্ত কমিটি বিচারকের বাড়িতে গিয়ে উপস্থিত হয় এবং তার পরিবারকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তার পরিবার জানায়, 'আমাদের কাছে তিনি কোনো কাগজ-পত্র রেখে যাননি। তা ছাড়া আমরা তাকে বিচার-সংক্রান্ত কোনো বই-পত্রও পড়তে দেখিনি। তবে তার বুকপকেটে সব সময় একটুকরো কাগজ থাকত।’
পরিবারের দেওয়া তথ্য নিয়ে তদন্ত কর্মকর্তাগণ তৎক্ষণাৎ বাদশাহর কাছে ফিরে আসেন এবং মৃতের দেহ তল্লাশি করে একটুকরো কাগজ বের করেন। কাগজে চারটি উপদেশ লিখা ছিল-
এক. আমার খুব অবাক লাগে—যখন দেখি মানুষ মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও দুনিয়া নিয়ে মেতে থাকে。
দুই. যে জানে জাহান্নাম সত্য, তার মুখে কি হাসি মানায়?
তিন. যে দিব্যি চোখে মানুষের জন্ম-মৃত্যু, সুখ-দুঃখ ও লয়-ক্ষয় দেখে, দুনিয়ার মায়ায় জড়ানো কি তার সাজে?
চার. যে জানে, আল্লাহর তাকদির সত্য, দুনিয়ার জন্য অতিরিক্ত কষ্ট-ক্লেশ কি তার জন্য শোভা পায়?
📄 সালাফদের চিঠি
ইসা রহিমাহুল্লাহু বলেন, উমর ইবনু আবদুল আজিজ রহিমাহুল্লাহু এক ব্যক্তির উদ্দেশ্যে লিখে পাঠান—
'হামদ ও সালাতের পর সমাচার এই যে, তুমি সব সময় আল্লাহকে ভয় করবে। তোমার ধনসম্পদ আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করবে। আখিরাতের প্রস্তুতি গ্রহণের কাজে নিজেকে ব্যতিব্যস্ত রাখবে। ওপারের সম্বল জোগাড়ের সর্বাত্মক চেষ্টা করবে। এক কথায়, তুমি নিজেকে মৃতদের অন্তর্ভুক্ত মনে করবে। আর এটাও মনে করবে যে, তোমার জীবন এখানেই শেষ।'
আবুল বাখতারি রহিমাহুল্লাহু বলেন, একবার উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু আবু মুসা আশআরি রাদিয়াল্লাহু আনহুকে দুনিয়াবিমুখ হওয়ার উপদেশ দিয়ে একটি পত্র লিখেন। সেখানে তিনি বলেন—
শোনো, আজকের আমল আগামীকালের জন্য রেখে দেবে না। আজকের আমল আজ- ই করে নেবে। আর দুনিয়ার প্রতি সব সময় বিমুখ থাকবে। দুনিয়া যেন কখনোই তোমাকে গ্রাস করতে না-পারে—সেদিকে লক্ষ রাখবে। আমি আমার ও তোমার জন্য মহান আল্লাহর কাছে দুনিয়ার মোহ ও প্রবৃত্তির অনুসরণ থেকে পানাহ চাইছি。
ইসা রহিমাহুল্লাহু বলেন, উমর ইবনু আবদুল আজিজ রহিমাহুল্লাহু এক ব্যক্তির উদ্দেশ্যে লিখে পাঠান—
'হামদ ও সালাতের পর সমাচার এই যে, তুমি সব সময় আল্লাহকে ভয় করবে। তোমার ধনসম্পদ আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করবে। আখিরাতের প্রস্তুতি গ্রহণের কাজে নিজেকে ব্যতিব্যস্ত রাখবে। ওপারের সম্বল জোগাড়ের সর্বাত্মক চেষ্টা করবে। এক কথায়, তুমি নিজেকে মৃতদের অন্তর্ভুক্ত মনে করবে। আর এটাও মনে করবে যে, তোমার জীবন এখানেই শেষ।'
আবুল বাখতারি রহিমাহুল্লাহু বলেন, একবার উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু আবু মুসা আশআরি রাদিয়াল্লাহু আনহুকে দুনিয়াবিমুখ হওয়ার উপদেশ দিয়ে একটি পত্র লিখেন। সেখানে তিনি বলেন—
শোনো, আজকের আমল আগামীকালের জন্য রেখে দেবে না। আজকের আমল আজ- ই করে নেবে। আর দুনিয়ার প্রতি সব সময় বিমুখ থাকবে। দুনিয়া যেন কখনোই তোমাকে গ্রাস করতে না-পারে—সেদিকে লক্ষ রাখবে। আমি আমার ও তোমার জন্য মহান আল্লাহর কাছে দুনিয়ার মোহ ও প্রবৃত্তির অনুসরণ থেকে পানাহ চাইছি。
📄 ভাইয়ের প্রতি ভাইয়ের নাসিহা
হুসাইন ইবনু আবদুর রহমান রহিমাহুল্লাহু বলেন, জনৈক বিদ্বান তার ভাইকে দুনিয়ার ব্যাপারে সতর্ক করে একটি পত্র লিখেন—
'হামদ ও সালাতের পর সমাচার এই যে, দুনিয়া ঘুমের মতো; আখিরাত জাগৃতির মতো আর মৃত্যু হলো ঘুম ও জাগৃতির মাঝামাঝি অবস্থা। সুতরাং তুমি ঘুমের ঘোরে রঙিন স্বপ্নে বিভোর থেকো না। ওয়াস সালাম।’
আওযাঈ রহিমাহুল্লাহু একবার তাঁর ভাইয়ের উদ্দেশ্যে একটি চিঠি পাঠান। চিঠিতে তিনি লিখেন—
'ভাই আমার, দুনিয়ায় তুমি একেবারে স্বাধীন নও। দুঃখ, দুশ্চিন্তা ও মৃত্যু তোমাকে চতুর্দিক থেকে পরিবেষ্টন করে রেখেছে। দিন-রাত্রির পালাবদল তোমাকে ক্রমশ মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। সুতরাং আল্লাহকে ভয় করো। মহান রবের সামনে দাঁড়ানোর মতো পাথেয় সংগ্রহ করো। দুনিয়ায় তুমি বেশি দিন থাকতে পারবে না। এই তো আর ক'টা দিন। এরপরই তোমাকে বেরিয়ে পড়তে হবে অনন্তকালের সফরে। তাই দুনিয়ার প্রতি বিমুখতা প্রদর্শন করো। আখিরাতকে গন্তব্য বলে স্থির করো। ওয়াসসালাম。
টিকাঃ
[১৮০] সাফওয়াতুস সাফওয়াহ: ৪/২৫৫।
হুসাইন ইবনু আবদুর রহমান রহিমাহুল্লাহু বলেন, জনৈক বিদ্বান তার ভাইকে দুনিয়ার ব্যাপারে সতর্ক করে একটি পত্র লিখেন—
'হামদ ও সালাতের পর সমাচার এই যে, দুনিয়া ঘুমের মতো; আখিরাত জাগৃতির মতো আর মৃত্যু হলো ঘুম ও জাগৃতির মাঝামাঝি অবস্থা। সুতরাং তুমি ঘুমের ঘোরে রঙিন স্বপ্নে বিভোর থেকো না। ওয়াস সালাম।’
আওযাঈ রহিমাহুল্লাহু একবার তাঁর ভাইয়ের উদ্দেশ্যে একটি চিঠি পাঠান। চিঠিতে তিনি লিখেন—
'ভাই আমার, দুনিয়ায় তুমি একেবারে স্বাধীন নও। দুঃখ, দুশ্চিন্তা ও মৃত্যু তোমাকে চতুর্দিক থেকে পরিবেষ্টন করে রেখেছে। দিন-রাত্রির পালাবদল তোমাকে ক্রমশ মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। সুতরাং আল্লাহকে ভয় করো। মহান রবের সামনে দাঁড়ানোর মতো পাথেয় সংগ্রহ করো। দুনিয়ায় তুমি বেশি দিন থাকতে পারবে না। এই তো আর ক'টা দিন। এরপরই তোমাকে বেরিয়ে পড়তে হবে অনন্তকালের সফরে। তাই দুনিয়ার প্রতি বিমুখতা প্রদর্শন করো। আখিরাতকে গন্তব্য বলে স্থির করো। ওয়াসসালাম。
টিকাঃ
[১৮০] সাফওয়াতুস সাফওয়াহ: ৪/২৫৫।
📄 নিজেকে প্রাণহীন দেহ ভাববেন
হাসান বসরি রহিমাহুল্লাহু মাকহুল রহিমাহুল্লাহুকে খুব ভালোবাসতেন। একবার হাসান বসরি রহিমাহুল্লাহু মাকহুল রহিমাহুল্লাহুর কাছে একটি পত্র পাঠান। পত্রে লিখা ছিল—
'ভাই আমার, আল্লাহ তাআলা আমাকে এবং আপনাকে রহম করুন। মনে রাখবেন, আপনি এখন মৃত্যুর করিডোরে দাঁড়িয়ে আছেন। সেদিন খুব দূরে নয়, যেদিন আপনাকে মৃত্যুর দুয়ার পেরিয়ে কবরে প্রবেশ করতে হবে। মসজিদের মিনারে আপনার মৃত্যুর সংবাদ ঘোষিত হবে。
নিত্য-দিনের সকাল-সন্ধ্যা আপনার জীবনে শুধু বৈচিত্র্যই আনছে না; বরং আপনাকে একটু একটু করে মৃত্যুর দিকেও ঠেলে দিচ্ছে। একটু খেয়াল করে দেখুন, গতকালও যারা আপনার চারপাশে ছিল, তাদের অনেকেই আজ নেই। মৃত্যু তাদেরকে থাকতে দেয়নি। নিয়ে গেছে বিজন কবরে। মুছে দিয়েছে তাদের নাম-নিশানা। কেড়ে নিয়েছে তাদের শক্তি ও অর্থবিত্ত।
আপনাকেও একদিন একই পরিণতি বরণ করতে হবে। মাটির কবরে ঠাঁই নিতে হবে। দুনিয়া কিন্তু ঠিকই থাকবে। আপনার প্রয়াণে তার বিশেষ কিছু আসবে যাবে না। মানুষের মৃত্যুতে পৃথিবীর কোনো ক্ষতি হলে কি আজ অবধি পৃথিবী টিকে থাকতে পারত!
আপনি এখন আছেন। আগামীকাল থাকবেন না। দুনিয়া এখন আছে। আগামীকাল আপনার মৃত্যুর পরও থাকবে। তাই দুনিয়ার মায়ায় জড়াবেন না। এক্ষেত্রে আপনি নিজেকে প্রাণ, প্রেম ও অনুভূতিহীন মনে করবেন। ভাববেন, আপনার দেহে প্রাণ নেই। আপনার হৃদয়ে কোনো অনুভূতি নেই। নিথর দেহটা কেবল পড়ে আছে ওপারের ডাকের অপেক্ষায় থাকে। আল্লাহ আপনার প্রতি রহম করুন। ওয়াসসালাম
হুসাইন ইবনু আবদুর রহমান রহিমাহুল্লাহু বলেন, কুরাইশ গোত্রের জনৈক ব্যক্তি নিজের আত্মিক সমস্যার কথা জানিয়ে তার ভাইকে একটি পত্র লিখেন। সেখানে তিনি বলেন-
'শ্রদ্ধেয় ভাই, আমি আজ আপনাকে আমার ব্যক্তিগত ও আত্মিক কিছু সমস্যার কথা জানাব। এই সমস্যাগুলো আমি মেনে নিতেও পারছি না; আবার এথেকে উত্তরণের কোনো পথও পাচ্ছি না। আশা করছি, আপনি এব্যাপারে আমাকে সাহায্য করবেন।
প্রিয় ভাই, মন সব সময় আরাম ও অবসর কামনা করে। আনন্দ-ফুর্তিতে লিপ্ত হওয়ার জন্য লালায়িত থাকে। ইবাদাত-বন্দেগিতে মোটেই আগ্রহ বোধ করে না। বরং এটাকে নিজের জন্য বড় ধরনের বোঝা মনে করে। আমি আমার মনকে অনেকভাবে বুঝিয়েছি। কিন্তু সে বুঝ মানেনি। আমি তাকে ভয়াবহ শাস্তির ভয় দেখিয়েছি। কিন্তু সে ভীত হয়ে অলসতা ও অবহেলা ঝেড়ে ফেলেনি। সর্বশেষ আমি তাকে মৃত্যু ও মৃত্যু পরবর্তী মর্মান্তিক কষ্টের কথা বলেছি। কিন্তু তাতেও কোনো কাজ হয়নি। কোনো উপায়েই আমি আত্মসংশোধন করতে পারিনি। তাই আপনার শরণাপন্ন হয়েছি। আপনি আমাকে নসিহত করুন। আত্মোন্নয়নে সাহায্য করুন। কারণ, ভয় হয়, এভাবে চলতে থাকলে সম্পূর্ণ অপ্রস্তুত অবস্থায় মৃত্যুর ঘাঁটি পারি দিতে হবে। ওয়াসসালাম।’
পত্র পেয়ে তার ভাই লিখে পাঠান-
'আমার খুব অবাক লাগে—যখন দেখি, কোনো মানুষ দুনিয়ার প্রেমে মজে যায় এবং দুনিয়ায় চিরস্থায়ী হবার অভিলাষ পোষণ করে। কারণ, সে নিজেও জানে, প্রতিটি মুহূর্ত আমাদেরকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। দিন-রাত্রির গমনাগমন আমাদের জীবনকে সংকুচিত করে ফেলছে। এমতাবস্থায় এই বৈরী দুনিয়ার সঙ্গে কীভাবে আমাদের আত্মার সম্পর্ক গড়ে উঠতে পারে? এমন অস্থায়ী জীবন কীভাবে আমাদের প্রিয় হতে পারে? মনে রেখো, এ জীবন দু-দিনের। তাই জীবন ও দুনিয়ার মায়ায় জড়িয়ে নিজেকে ধোঁকা দিয়ো না। ওয়াসসালাম।’
টিকাঃ
[১৮১] তারিখে দিমাশক: ২৫/২০১।
হাসান বসরি রহিমাহুল্লাহু মাকহুল রহিমাহুল্লাহুকে খুব ভালোবাসতেন। একবার হাসান বসরি রহিমাহুল্লাহু মাকহুল রহিমাহুল্লাহুর কাছে একটি পত্র পাঠান। পত্রে লিখা ছিল—
'ভাই আমার, আল্লাহ তাআলা আমাকে এবং আপনাকে রহম করুন। মনে রাখবেন, আপনি এখন মৃত্যুর করিডোরে দাঁড়িয়ে আছেন। সেদিন খুব দূরে নয়, যেদিন আপনাকে মৃত্যুর দুয়ার পেরিয়ে কবরে প্রবেশ করতে হবে। মসজিদের মিনারে আপনার মৃত্যুর সংবাদ ঘোষিত হবে。
নিত্য-দিনের সকাল-সন্ধ্যা আপনার জীবনে শুধু বৈচিত্র্যই আনছে না; বরং আপনাকে একটু একটু করে মৃত্যুর দিকেও ঠেলে দিচ্ছে। একটু খেয়াল করে দেখুন, গতকালও যারা আপনার চারপাশে ছিল, তাদের অনেকেই আজ নেই। মৃত্যু তাদেরকে থাকতে দেয়নি। নিয়ে গেছে বিজন কবরে। মুছে দিয়েছে তাদের নাম-নিশানা। কেড়ে নিয়েছে তাদের শক্তি ও অর্থবিত্ত।
আপনাকেও একদিন একই পরিণতি বরণ করতে হবে। মাটির কবরে ঠাঁই নিতে হবে। দুনিয়া কিন্তু ঠিকই থাকবে। আপনার প্রয়াণে তার বিশেষ কিছু আসবে যাবে না। মানুষের মৃত্যুতে পৃথিবীর কোনো ক্ষতি হলে কি আজ অবধি পৃথিবী টিকে থাকতে পারত!
আপনি এখন আছেন। আগামীকাল থাকবেন না। দুনিয়া এখন আছে। আগামীকাল আপনার মৃত্যুর পরও থাকবে। তাই দুনিয়ার মায়ায় জড়াবেন না। এক্ষেত্রে আপনি নিজেকে প্রাণ, প্রেম ও অনুভূতিহীন মনে করবেন। ভাববেন, আপনার দেহে প্রাণ নেই। আপনার হৃদয়ে কোনো অনুভূতি নেই। নিথর দেহটা কেবল পড়ে আছে ওপারের ডাকের অপেক্ষায় থাকে। আল্লাহ আপনার প্রতি রহম করুন। ওয়াসসালাম
হুসাইন ইবনু আবদুর রহমান রহিমাহুল্লাহু বলেন, কুরাইশ গোত্রের জনৈক ব্যক্তি নিজের আত্মিক সমস্যার কথা জানিয়ে তার ভাইকে একটি পত্র লিখেন। সেখানে তিনি বলেন-
'শ্রদ্ধেয় ভাই, আমি আজ আপনাকে আমার ব্যক্তিগত ও আত্মিক কিছু সমস্যার কথা জানাব। এই সমস্যাগুলো আমি মেনে নিতেও পারছি না; আবার এথেকে উত্তরণের কোনো পথও পাচ্ছি না। আশা করছি, আপনি এব্যাপারে আমাকে সাহায্য করবেন।
প্রিয় ভাই, মন সব সময় আরাম ও অবসর কামনা করে। আনন্দ-ফুর্তিতে লিপ্ত হওয়ার জন্য লালায়িত থাকে। ইবাদাত-বন্দেগিতে মোটেই আগ্রহ বোধ করে না। বরং এটাকে নিজের জন্য বড় ধরনের বোঝা মনে করে। আমি আমার মনকে অনেকভাবে বুঝিয়েছি। কিন্তু সে বুঝ মানেনি। আমি তাকে ভয়াবহ শাস্তির ভয় দেখিয়েছি। কিন্তু সে ভীত হয়ে অলসতা ও অবহেলা ঝেড়ে ফেলেনি। সর্বশেষ আমি তাকে মৃত্যু ও মৃত্যু পরবর্তী মর্মান্তিক কষ্টের কথা বলেছি। কিন্তু তাতেও কোনো কাজ হয়নি। কোনো উপায়েই আমি আত্মসংশোধন করতে পারিনি। তাই আপনার শরণাপন্ন হয়েছি। আপনি আমাকে নসিহত করুন। আত্মোন্নয়নে সাহায্য করুন। কারণ, ভয় হয়, এভাবে চলতে থাকলে সম্পূর্ণ অপ্রস্তুত অবস্থায় মৃত্যুর ঘাঁটি পারি দিতে হবে। ওয়াসসালাম।’
পত্র পেয়ে তার ভাই লিখে পাঠান-
'আমার খুব অবাক লাগে—যখন দেখি, কোনো মানুষ দুনিয়ার প্রেমে মজে যায় এবং দুনিয়ায় চিরস্থায়ী হবার অভিলাষ পোষণ করে। কারণ, সে নিজেও জানে, প্রতিটি মুহূর্ত আমাদেরকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। দিন-রাত্রির গমনাগমন আমাদের জীবনকে সংকুচিত করে ফেলছে। এমতাবস্থায় এই বৈরী দুনিয়ার সঙ্গে কীভাবে আমাদের আত্মার সম্পর্ক গড়ে উঠতে পারে? এমন অস্থায়ী জীবন কীভাবে আমাদের প্রিয় হতে পারে? মনে রেখো, এ জীবন দু-দিনের। তাই জীবন ও দুনিয়ার মায়ায় জড়িয়ে নিজেকে ধোঁকা দিয়ো না। ওয়াসসালাম।’
টিকাঃ
[১৮১] তারিখে দিমাশক: ২৫/২০১।