📘 সালাফদের চোখে দুনিয়া > 📄 যেভাবে যুহদ অবলম্বন করবেন

📄 যেভাবে যুহদ অবলম্বন করবেন


একবার উমর ইবনু আবদুল আজিজ রহিমাহুল্লাহু হাসান বসরি রহিমাহুল্লাহুর কাছে দুনিয়ার ব্যাপারে উপদেশ চেয়ে পত্র লিখলে উত্তরে তিনি লিখে পাঠান—
'হামদ ও সালাতের পর নিবেদন এই যে, আত্মোন্নয়ন ও আত্মশুদ্ধির সবচেয়ে কার্যকর ও ফলপ্রসূ উপায় হলো, দুনিয়াবিমুখতা। তবে এই দুনিয়াবিমুখতার গুণ অর্জিত হয়, ইয়াকিন দ্বারা। ইয়াকিন অর্জিত হয় অব্যাহত চিন্তা ও শিক্ষাগ্রহণের দ্বারা। আর এই তিনটি গুণ অর্জন করার পর আপনি যখন দুনিয়া নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করবেন, তখন খুব সহজেই বুঝতে পারবেন যে, দুনিয়া আপনার ব্যস্ততার ক্ষেত্র নয়। দুনিয়ার জন্য আপনি নিজেকে বিসর্জন দিতে পারেন না। কারণ, দুনিয়া একেবারেই তুচ্ছ, স্থিতিহীন এবং ধোঁকা ও দুর্যোগপূর্ণ。

টিকাঃ
[১৭৯] আয যুহদুল কাবির: ৬৮, ১৫০

একবার উমর ইবনু আবদুল আজিজ রহিমাহুল্লাহু হাসান বসরি রহিমাহুল্লাহুর কাছে দুনিয়ার ব্যাপারে উপদেশ চেয়ে পত্র লিখলে উত্তরে তিনি লিখে পাঠান—
'হামদ ও সালাতের পর নিবেদন এই যে, আত্মোন্নয়ন ও আত্মশুদ্ধির সবচেয়ে কার্যকর ও ফলপ্রসূ উপায় হলো, দুনিয়াবিমুখতা। তবে এই দুনিয়াবিমুখতার গুণ অর্জিত হয়, ইয়াকিন দ্বারা। ইয়াকিন অর্জিত হয় অব্যাহত চিন্তা ও শিক্ষাগ্রহণের দ্বারা। আর এই তিনটি গুণ অর্জন করার পর আপনি যখন দুনিয়া নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করবেন, তখন খুব সহজেই বুঝতে পারবেন যে, দুনিয়া আপনার ব্যস্ততার ক্ষেত্র নয়। দুনিয়ার জন্য আপনি নিজেকে বিসর্জন দিতে পারেন না। কারণ, দুনিয়া একেবারেই তুচ্ছ, স্থিতিহীন এবং ধোঁকা ও দুর্যোগপূর্ণ。

টিকাঃ
[১৭৯] আয যুহদুল কাবির: ৬৮, ১৫০

📘 সালাফদের চোখে দুনিয়া > 📄 চিরকুটের কথাগুলো

📄 চিরকুটের কথাগুলো


মিসআর ইবনু কিদাম রহিমাহুল্লাহু বলেন, এক দেশে একজন বিজ্ঞ আলিম ও ন্যায়বিচারক কাজি ছিলেন। সাধারণ মানুষ তাকে বাদশাহর চেয়েও বেশি ভালোবাসত ও সম্মান করত। কিন্তু দাম্ভিক বাদশাহ এতে ঈর্ষাপরায়ণ হয়ে তাকে হত্যা করে ফেলে。
এরপর সভাসদদের ডেকে বলে, সে নিশ্চয় এতদিন কোনো বই-পত্র দেখে বিচার করেছে। তাই তার বিচার সব সময় সুষ্ঠু হয়েছে। তোমরা এই বিচারকের বাড়িতে গিয়ে খোঁজ নাও, সে বিচার-সংক্রান্ত কোনো বই-পত্র রেখে গেছে কি-না!
বাদশাহর নির্দেশ মতে তৎক্ষণাৎ একটি তদন্ত কমিটি বিচারকের বাড়িতে গিয়ে উপস্থিত হয় এবং তার পরিবারকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তার পরিবার জানায়, 'আমাদের কাছে তিনি কোনো কাগজ-পত্র রেখে যাননি। তা ছাড়া আমরা তাকে বিচার-সংক্রান্ত কোনো বই-পত্রও পড়তে দেখিনি। তবে তার বুকপকেটে সব সময় একটুকরো কাগজ থাকত।’
পরিবারের দেওয়া তথ্য নিয়ে তদন্ত কর্মকর্তাগণ তৎক্ষণাৎ বাদশাহর কাছে ফিরে আসেন এবং মৃতের দেহ তল্লাশি করে একটুকরো কাগজ বের করেন। কাগজে চারটি উপদেশ লিখা ছিল-
এক. আমার খুব অবাক লাগে—যখন দেখি মানুষ মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও দুনিয়া নিয়ে মেতে থাকে。
দুই. যে জানে জাহান্নাম সত্য, তার মুখে কি হাসি মানায়?
তিন. যে দিব্যি চোখে মানুষের জন্ম-মৃত্যু, সুখ-দুঃখ ও লয়-ক্ষয় দেখে, দুনিয়ার মায়ায় জড়ানো কি তার সাজে?
চার. যে জানে, আল্লাহর তাকদির সত্য, দুনিয়ার জন্য অতিরিক্ত কষ্ট-ক্লেশ কি তার জন্য শোভা পায়?

মিসআর ইবনু কিদাম রহিমাহুল্লাহু বলেন, এক দেশে একজন বিজ্ঞ আলিম ও ন্যায়বিচারক কাজি ছিলেন। সাধারণ মানুষ তাকে বাদশাহর চেয়েও বেশি ভালোবাসত ও সম্মান করত। কিন্তু দাম্ভিক বাদশাহ এতে ঈর্ষাপরায়ণ হয়ে তাকে হত্যা করে ফেলে。
এরপর সভাসদদের ডেকে বলে, সে নিশ্চয় এতদিন কোনো বই-পত্র দেখে বিচার করেছে। তাই তার বিচার সব সময় সুষ্ঠু হয়েছে। তোমরা এই বিচারকের বাড়িতে গিয়ে খোঁজ নাও, সে বিচার-সংক্রান্ত কোনো বই-পত্র রেখে গেছে কি-না!
বাদশাহর নির্দেশ মতে তৎক্ষণাৎ একটি তদন্ত কমিটি বিচারকের বাড়িতে গিয়ে উপস্থিত হয় এবং তার পরিবারকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তার পরিবার জানায়, 'আমাদের কাছে তিনি কোনো কাগজ-পত্র রেখে যাননি। তা ছাড়া আমরা তাকে বিচার-সংক্রান্ত কোনো বই-পত্রও পড়তে দেখিনি। তবে তার বুকপকেটে সব সময় একটুকরো কাগজ থাকত।’
পরিবারের দেওয়া তথ্য নিয়ে তদন্ত কর্মকর্তাগণ তৎক্ষণাৎ বাদশাহর কাছে ফিরে আসেন এবং মৃতের দেহ তল্লাশি করে একটুকরো কাগজ বের করেন। কাগজে চারটি উপদেশ লিখা ছিল-
এক. আমার খুব অবাক লাগে—যখন দেখি মানুষ মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও দুনিয়া নিয়ে মেতে থাকে。
দুই. যে জানে জাহান্নাম সত্য, তার মুখে কি হাসি মানায়?
তিন. যে দিব্যি চোখে মানুষের জন্ম-মৃত্যু, সুখ-দুঃখ ও লয়-ক্ষয় দেখে, দুনিয়ার মায়ায় জড়ানো কি তার সাজে?
চার. যে জানে, আল্লাহর তাকদির সত্য, দুনিয়ার জন্য অতিরিক্ত কষ্ট-ক্লেশ কি তার জন্য শোভা পায়?

📘 সালাফদের চোখে দুনিয়া > 📄 সালাফদের চিঠি

📄 সালাফদের চিঠি


ইসা রহিমাহুল্লাহু বলেন, উমর ইবনু আবদুল আজিজ রহিমাহুল্লাহু এক ব্যক্তির উদ্দেশ্যে লিখে পাঠান—
'হামদ ও সালাতের পর সমাচার এই যে, তুমি সব সময় আল্লাহকে ভয় করবে। তোমার ধনসম্পদ আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করবে। আখিরাতের প্রস্তুতি গ্রহণের কাজে নিজেকে ব্যতিব্যস্ত রাখবে। ওপারের সম্বল জোগাড়ের সর্বাত্মক চেষ্টা করবে। এক কথায়, তুমি নিজেকে মৃতদের অন্তর্ভুক্ত মনে করবে। আর এটাও মনে করবে যে, তোমার জীবন এখানেই শেষ।'
আবুল বাখতারি রহিমাহুল্লাহু বলেন, একবার উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু আবু মুসা আশআরি রাদিয়াল্লাহু আনহুকে দুনিয়াবিমুখ হওয়ার উপদেশ দিয়ে একটি পত্র লিখেন। সেখানে তিনি বলেন—
শোনো, আজকের আমল আগামীকালের জন্য রেখে দেবে না। আজকের আমল আজ- ই করে নেবে। আর দুনিয়ার প্রতি সব সময় বিমুখ থাকবে। দুনিয়া যেন কখনোই তোমাকে গ্রাস করতে না-পারে—সেদিকে লক্ষ রাখবে। আমি আমার ও তোমার জন্য মহান আল্লাহর কাছে দুনিয়ার মোহ ও প্রবৃত্তির অনুসরণ থেকে পানাহ চাইছি。

ইসা রহিমাহুল্লাহু বলেন, উমর ইবনু আবদুল আজিজ রহিমাহুল্লাহু এক ব্যক্তির উদ্দেশ্যে লিখে পাঠান—
'হামদ ও সালাতের পর সমাচার এই যে, তুমি সব সময় আল্লাহকে ভয় করবে। তোমার ধনসম্পদ আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করবে। আখিরাতের প্রস্তুতি গ্রহণের কাজে নিজেকে ব্যতিব্যস্ত রাখবে। ওপারের সম্বল জোগাড়ের সর্বাত্মক চেষ্টা করবে। এক কথায়, তুমি নিজেকে মৃতদের অন্তর্ভুক্ত মনে করবে। আর এটাও মনে করবে যে, তোমার জীবন এখানেই শেষ।'
আবুল বাখতারি রহিমাহুল্লাহু বলেন, একবার উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু আবু মুসা আশআরি রাদিয়াল্লাহু আনহুকে দুনিয়াবিমুখ হওয়ার উপদেশ দিয়ে একটি পত্র লিখেন। সেখানে তিনি বলেন—
শোনো, আজকের আমল আগামীকালের জন্য রেখে দেবে না। আজকের আমল আজ- ই করে নেবে। আর দুনিয়ার প্রতি সব সময় বিমুখ থাকবে। দুনিয়া যেন কখনোই তোমাকে গ্রাস করতে না-পারে—সেদিকে লক্ষ রাখবে। আমি আমার ও তোমার জন্য মহান আল্লাহর কাছে দুনিয়ার মোহ ও প্রবৃত্তির অনুসরণ থেকে পানাহ চাইছি。

📘 সালাফদের চোখে দুনিয়া > 📄 ভাইয়ের প্রতি ভাইয়ের নাসিহা

📄 ভাইয়ের প্রতি ভাইয়ের নাসিহা


হুসাইন ইবনু আবদুর রহমান রহিমাহুল্লাহু বলেন, জনৈক বিদ্বান তার ভাইকে দুনিয়ার ব্যাপারে সতর্ক করে একটি পত্র লিখেন—
'হামদ ও সালাতের পর সমাচার এই যে, দুনিয়া ঘুমের মতো; আখিরাত জাগৃতির মতো আর মৃত্যু হলো ঘুম ও জাগৃতির মাঝামাঝি অবস্থা। সুতরাং তুমি ঘুমের ঘোরে রঙিন স্বপ্নে বিভোর থেকো না। ওয়াস সালাম।’
আওযাঈ রহিমাহুল্লাহু একবার তাঁর ভাইয়ের উদ্দেশ্যে একটি চিঠি পাঠান। চিঠিতে তিনি লিখেন—
'ভাই আমার, দুনিয়ায় তুমি একেবারে স্বাধীন নও। দুঃখ, দুশ্চিন্তা ও মৃত্যু তোমাকে চতুর্দিক থেকে পরিবেষ্টন করে রেখেছে। দিন-রাত্রির পালাবদল তোমাকে ক্রমশ মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। সুতরাং আল্লাহকে ভয় করো। মহান রবের সামনে দাঁড়ানোর মতো পাথেয় সংগ্রহ করো। দুনিয়ায় তুমি বেশি দিন থাকতে পারবে না। এই তো আর ক'টা দিন। এরপরই তোমাকে বেরিয়ে পড়তে হবে অনন্তকালের সফরে। তাই দুনিয়ার প্রতি বিমুখতা প্রদর্শন করো। আখিরাতকে গন্তব্য বলে স্থির করো। ওয়াসসালাম。

টিকাঃ
[১৮০] সাফওয়াতুস সাফওয়াহ: ৪/২৫৫।

হুসাইন ইবনু আবদুর রহমান রহিমাহুল্লাহু বলেন, জনৈক বিদ্বান তার ভাইকে দুনিয়ার ব্যাপারে সতর্ক করে একটি পত্র লিখেন—
'হামদ ও সালাতের পর সমাচার এই যে, দুনিয়া ঘুমের মতো; আখিরাত জাগৃতির মতো আর মৃত্যু হলো ঘুম ও জাগৃতির মাঝামাঝি অবস্থা। সুতরাং তুমি ঘুমের ঘোরে রঙিন স্বপ্নে বিভোর থেকো না। ওয়াস সালাম।’
আওযাঈ রহিমাহুল্লাহু একবার তাঁর ভাইয়ের উদ্দেশ্যে একটি চিঠি পাঠান। চিঠিতে তিনি লিখেন—
'ভাই আমার, দুনিয়ায় তুমি একেবারে স্বাধীন নও। দুঃখ, দুশ্চিন্তা ও মৃত্যু তোমাকে চতুর্দিক থেকে পরিবেষ্টন করে রেখেছে। দিন-রাত্রির পালাবদল তোমাকে ক্রমশ মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। সুতরাং আল্লাহকে ভয় করো। মহান রবের সামনে দাঁড়ানোর মতো পাথেয় সংগ্রহ করো। দুনিয়ায় তুমি বেশি দিন থাকতে পারবে না। এই তো আর ক'টা দিন। এরপরই তোমাকে বেরিয়ে পড়তে হবে অনন্তকালের সফরে। তাই দুনিয়ার প্রতি বিমুখতা প্রদর্শন করো। আখিরাতকে গন্তব্য বলে স্থির করো। ওয়াসসালাম。

টিকাঃ
[১৮০] সাফওয়াতুস সাফওয়াহ: ৪/২৫৫।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00