📘 সালাফদের চোখে দুনিয়া > 📄 দুনিয়ার ফাঁদে পা দেবে না

📄 দুনিয়ার ফাঁদে পা দেবে না


উমর ইবনু আবদুল আজিজ রহিমাহুল্লাহু তাঁর এক ভাইকে পত্র মারফত বলেন-
প্রিয় ভাই আমার, তুমি জীবন-সফরের দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে ফেলেছ। এখন সামান্য একটু পথ বাকি আছে। এই পথটুকু পার হতে পারলেই তুমি সফলকাম!
ভাই আমার! আখিরাতের ঘাঁটিগুলোর কথা স্মরণ রেখো। ওই ঘাঁটিগুলো তোমাকে পেরোতে হবেই। কারণ, আমাদের নবির প্রতি এ মর্মে ওহি অবতীর্ণ হয়েছে যে, হে নবি, মৃত্যুর পরে আপনাকে অনেকগুলো দুর্গম ঘাঁটির সম্মুখীন হতে হবে। কিন্তু এটা বলা হয়নি যে, আপনি নিরাপদে এ ঘাঁটিগুলো অতিক্রম করে যেতে পারবেন!
সুতরাং দুনিয়ার ব্যাপারে সব সময় সাবধান থাকবে। ভুলেও দুনিয়ার ফাঁদে পা দেবে না。
আরেকটা কথা সব সময় মনে রাখবে, আখিরাতে যার কোনো ঘর নির্মাণের আশা নেই, সেই কেবল দুনিয়াকে নিজের ঘর মনে করে। অনুরূপ আখিরাতে যার কোনো সম্পদ প্রাপ্তির নিশ্চয়তা নেই, সেই কেবল দুনিয়ার সম্পদকে নিজের সম্পদ বলে মনে করে।

উমর ইবনু আবদুল আজিজ রহিমাহুল্লাহু তাঁর এক ভাইকে পত্র মারফত বলেন-
প্রিয় ভাই আমার, তুমি জীবন-সফরের দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে ফেলেছ। এখন সামান্য একটু পথ বাকি আছে। এই পথটুকু পার হতে পারলেই তুমি সফলকাম!
ভাই আমার! আখিরাতের ঘাঁটিগুলোর কথা স্মরণ রেখো। ওই ঘাঁটিগুলো তোমাকে পেরোতে হবেই। কারণ, আমাদের নবির প্রতি এ মর্মে ওহি অবতীর্ণ হয়েছে যে, হে নবি, মৃত্যুর পরে আপনাকে অনেকগুলো দুর্গম ঘাঁটির সম্মুখীন হতে হবে। কিন্তু এটা বলা হয়নি যে, আপনি নিরাপদে এ ঘাঁটিগুলো অতিক্রম করে যেতে পারবেন!
সুতরাং দুনিয়ার ব্যাপারে সব সময় সাবধান থাকবে। ভুলেও দুনিয়ার ফাঁদে পা দেবে না。
আরেকটা কথা সব সময় মনে রাখবে, আখিরাতে যার কোনো ঘর নির্মাণের আশা নেই, সেই কেবল দুনিয়াকে নিজের ঘর মনে করে। অনুরূপ আখিরাতে যার কোনো সম্পদ প্রাপ্তির নিশ্চয়তা নেই, সেই কেবল দুনিয়ার সম্পদকে নিজের সম্পদ বলে মনে করে।

📘 সালাফদের চোখে দুনিয়া > 📄 যে জীবন अस्थायी সে জীবন আপনার নয়

📄 যে জীবন अस्थायी সে জীবন আপনার নয়


প্রিয় ভাই আমার, তুমি এখন পড়ন্ত বেলায় এসে পড়েছ। তাই নিজেই নিজেকে সংশোধন করো। নিজেই নিজেকে হিদায়াতের পথে তুলে আনার চেষ্টা করো। অন্যের অপেক্ষায় বসে থাকবে না। ওয়াসসালাম。
হুসাইন ইবনু আবদুর রহমান রহিমাহুল্লাহু বলেন, কুরাইশ গোত্রের এক ভদ্রলোক পত্র মারফত তার ভাইকে জানান-
'প্রিয় ভাই আমার, প্রতিটি ভোর তোমার জন্য নতুন মেহমান। সুতরাং তাকে যথাযথ মূল্যায়ন করবে। আর মনে রাখবে, এই মেহমান তোমার সারাদিনের সকল ভালো- মন্দের সাক্ষী হয়ে থাকবে। তাই তাকে বিপক্ষের সাক্ষী না বানিয়ে পক্ষের সাক্ষী বানালেই বেশি ভালো হবে। ওয়াসসালাম।’
আদি ইবনু আদি রহিমাহুল্লাহু বলেন, উমর ইবনু আবদুল আজিজ রহিমাহুল্লাহু তাঁর এক গভর্নরের উদ্দেশে নিম্নোক্ত পত্রটি প্রেরণ করেন-
গভর্নর, আপনি সর্বাবস্থায় আল্লাহকে ভয় করবেন। আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করবেন। নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করলে, নিয়ামত আরও বৃদ্ধি পাবে। আর শুকরিয়া আদায় না করলে, নিয়ামত হ্রাস পাবে।
গভর্নর, আপনি সর্বদা মৃত্যুকে স্মরণ করবেন। যেকোনো সময় মৃত্যু আপনাকে আপন করে নিতে পারে। পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই আপনার জীবনের সুর্য ডুবে যেতে পারে। মৃত্যুর ফেরেশতা এসে যেকোনো সময় আপনার ঘরের সামনে দাঁড়াতে পারে। আপনার বিদায়- ঘণ্টা বাজাতে পারে。
আপনি বিভীষিকাময় কিয়ামতের কথাও স্মরণ রাখবেন। এতে আপনার হৃদয়ে দুনিয়ার প্রতি আকর্ষণ কমে আসবে এবং আখিরাতের ভয় জাগ্রত হবে。
গভর্নর, আপনি দুনিয়ার প্রতি ঝুঁকে পড়বেন না। দুনিয়ার সাথে নিবিড়ভাবে জড়াবেন না। এমনকি দুনিয়াদারদের থেকেও নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখবেন। তবে যতটুকু প্রয়োজন, সেটুকুর সঙ্গে ন্যূনতম সম্পর্ক রাখবেন। এতে বিশেষ কোনো সমস্যা হবে না। মহান রবরে শপথ, এভাবে চলতে পারলে আপনার পার্থিব ব্যস্ততা অনেকাংশেই হ্রাস পাবে。
গভর্নর, আপনি সব সময় অজ্ঞতার ওপর জ্ঞানার্জনকে প্রাধান্য দেবেন। তাহলে ক্রমশ আপনার ইলম বাড়তে থাকবে। অনুরূপ মিথ্যার ওপর সত্যকে প্রাধান্য দেবেন। তবেই কেবল সত্যের ওপর অবিচল থাকতে পারবেন। আমি মহান রবের দরবারে আমার এবং আপনার মঙ্গল কামনা করছি। আল্লাহ তাআলা যেন আমাদেরকে রহমতের চাদরে জড়িয়ে রাখেন。

টিকাঃ
[১৭৫] আওলিয়া: ৫/২৬৮।

প্রিয় ভাই আমার, তুমি এখন পড়ন্ত বেলায় এসে পড়েছ। তাই নিজেই নিজেকে সংশোধন করো। নিজেই নিজেকে হিদায়াতের পথে তুলে আনার চেষ্টা করো। অন্যের অপেক্ষায় বসে থাকবে না। ওয়াসসালাম。
হুসাইন ইবনু আবদুর রহমান রহিমাহুল্লাহু বলেন, কুরাইশ গোত্রের এক ভদ্রলোক পত্র মারফত তার ভাইকে জানান-
'প্রিয় ভাই আমার, প্রতিটি ভোর তোমার জন্য নতুন মেহমান। সুতরাং তাকে যথাযথ মূল্যায়ন করবে। আর মনে রাখবে, এই মেহমান তোমার সারাদিনের সকল ভালো- মন্দের সাক্ষী হয়ে থাকবে। তাই তাকে বিপক্ষের সাক্ষী না বানিয়ে পক্ষের সাক্ষী বানালেই বেশি ভালো হবে। ওয়াসসালাম।’
আদি ইবনু আদি রহিমাহুল্লাহু বলেন, উমর ইবনু আবদুল আজিজ রহিমাহুল্লাহু তাঁর এক গভর্নরের উদ্দেশে নিম্নোক্ত পত্রটি প্রেরণ করেন-
গভর্নর, আপনি সর্বাবস্থায় আল্লাহকে ভয় করবেন। আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করবেন। নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করলে, নিয়ামত আরও বৃদ্ধি পাবে। আর শুকরিয়া আদায় না করলে, নিয়ামত হ্রাস পাবে।
গভর্নর, আপনি সর্বদা মৃত্যুকে স্মরণ করবেন। যেকোনো সময় মৃত্যু আপনাকে আপন করে নিতে পারে। পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই আপনার জীবনের সুর্য ডুবে যেতে পারে। মৃত্যুর ফেরেশতা এসে যেকোনো সময় আপনার ঘরের সামনে দাঁড়াতে পারে। আপনার বিদায়- ঘণ্টা বাজাতে পারে。
আপনি বিভীষিকাময় কিয়ামতের কথাও স্মরণ রাখবেন। এতে আপনার হৃদয়ে দুনিয়ার প্রতি আকর্ষণ কমে আসবে এবং আখিরাতের ভয় জাগ্রত হবে。
গভর্নর, আপনি দুনিয়ার প্রতি ঝুঁকে পড়বেন না। দুনিয়ার সাথে নিবিড়ভাবে জড়াবেন না। এমনকি দুনিয়াদারদের থেকেও নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখবেন। তবে যতটুকু প্রয়োজন, সেটুকুর সঙ্গে ন্যূনতম সম্পর্ক রাখবেন। এতে বিশেষ কোনো সমস্যা হবে না। মহান রবরে শপথ, এভাবে চলতে পারলে আপনার পার্থিব ব্যস্ততা অনেকাংশেই হ্রাস পাবে。
গভর্নর, আপনি সব সময় অজ্ঞতার ওপর জ্ঞানার্জনকে প্রাধান্য দেবেন। তাহলে ক্রমশ আপনার ইলম বাড়তে থাকবে। অনুরূপ মিথ্যার ওপর সত্যকে প্রাধান্য দেবেন। তবেই কেবল সত্যের ওপর অবিচল থাকতে পারবেন। আমি মহান রবের দরবারে আমার এবং আপনার মঙ্গল কামনা করছি। আল্লাহ তাআলা যেন আমাদেরকে রহমতের চাদরে জড়িয়ে রাখেন。

টিকাঃ
[১৭৫] আওলিয়া: ৫/২৬৮।

📘 সালাফদের চোখে দুনিয়া > 📄 দুনিয়ার ভালোবাসা মানুষকে অন্ধ বানিয়ে দেয়

📄 দুনিয়ার ভালোবাসা মানুষকে অন্ধ বানিয়ে দেয়


ইবরাহিম ইবনু আদহাম রহিমাহুল্লাহু তাঁর এক ভাইয়ের উদ্দেশে একটি পত্র লিখেন। পত্রের সারকথা এই যে-
'প্রিয় ভাই আমার, দুনিয়ার মায়া-মোহ ত্যাগ করুন এবং আখিরাতের ভালোবাসা হৃদয়ে জাগরূক রাখুন। কারণ, দুনিয়ার মায়া-মোহ অন্তরদৃষ্টি কেড়ে নেয়। অন্ধ ও বধির করে ফেলে。

টিকাঃ
[১৭৬] হিলইয়াতুল আওলিয়া: ৩/২৭৩।

ইবরাহিম ইবনু আদহাম রহিমাহুল্লাহু তাঁর এক ভাইয়ের উদ্দেশে একটি পত্র লিখেন। পত্রের সারকথা এই যে-
'প্রিয় ভাই আমার, দুনিয়ার মায়া-মোহ ত্যাগ করুন এবং আখিরাতের ভালোবাসা হৃদয়ে জাগরূক রাখুন। কারণ, দুনিয়ার মায়া-মোহ অন্তরদৃষ্টি কেড়ে নেয়। অন্ধ ও বধির করে ফেলে。

টিকাঃ
[১৭৬] হিলইয়াতুল আওলিয়া: ৩/২৭৩।

📘 সালাফদের চোখে দুনিয়া > 📄 ক্ষণস্থায়ী জীবন আমাদের নয়

📄 ক্ষণস্থায়ী জীবন আমাদের নয়


উবাইদুল্লাহ ইবনু মুগিরা কুরাইশি রহিমাহুল্লাহু বলেন, একবার ফাযল ইবনু ইসা আমাদের জন্য দীর্ঘ একটি পত্র লিখেন। সেখানে তিনি বলেন-
দুনিয়া দুঃখ-কষ্ট ও বিপদাপদে ভরপুর। তবে সান্ত্বনা এই যে, দুনিয়াটা একদিন ধ্বংস হয়ে যাবে। এটাই তার প্রধান বৈশিষ্ট্য। দুনিয়ার অবস্থা সব সময় এক থাকে না। বিভিন্ন সময় সে বিভিন্ন রূপ ধারণ করে। দুনিয়ার ভোগ-বিলাস নিন্দনীয়। এখানকার আনন্দ-উল্লাস ক্ষণস্থায়ী। আর এটাই স্বাভাবিক। কেননা এখানে সামান্য সুখের পরই দুঃখেরা দল বেঁধে আসে। জীবনের শান্তি ও স্বস্তি কেড়ে নেয়। দুনিয়ার দুঃখগুলো তাসবিহর দানার মতো। একটা অতিক্রম করতে না-করতেই অন্যটা এসে হাজির হয়। মৃত্যু মানুষকে গ্রাস করার জন্য সব সময় হা করে থাকে।

উবাইদুল্লাহ ইবনু মুগিরা কুরাইশি রহিমাহুল্লাহু বলেন, একবার ফাযল ইবনু ইসা আমাদের জন্য দীর্ঘ একটি পত্র লিখেন। সেখানে তিনি বলেন-
দুনিয়া দুঃখ-কষ্ট ও বিপদাপদে ভরপুর। তবে সান্ত্বনা এই যে, দুনিয়াটা একদিন ধ্বংস হয়ে যাবে। এটাই তার প্রধান বৈশিষ্ট্য। দুনিয়ার অবস্থা সব সময় এক থাকে না। বিভিন্ন সময় সে বিভিন্ন রূপ ধারণ করে। দুনিয়ার ভোগ-বিলাস নিন্দনীয়। এখানকার আনন্দ-উল্লাস ক্ষণস্থায়ী। আর এটাই স্বাভাবিক। কেননা এখানে সামান্য সুখের পরই দুঃখেরা দল বেঁধে আসে। জীবনের শান্তি ও স্বস্তি কেড়ে নেয়। দুনিয়ার দুঃখগুলো তাসবিহর দানার মতো। একটা অতিক্রম করতে না-করতেই অন্যটা এসে হাজির হয়। মৃত্যু মানুষকে গ্রাস করার জন্য সব সময় হা করে থাকে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00