📄 যুহদের পরিচয়
আবু মুহাম্মাদ রহিমাহুল্লাহ বলেন— एकदा এক ভদ্রলোক জনৈক যাহিদের কাছে উপস্থিত হলে, তিনি ভদ্রলোককে জিজ্ঞেস করেন—
'কী মনে করে আমার কাছে কেন এসেছ?'
'আমি জানতে পেরেছি, আপনি অনেক বড় যাহিদ। তাই আমি আপনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এসেছি।'
'আচ্ছা, আমি কি তোমাকে আমার চেয়ে আরও বড় কোনো যাহিদের সন্ধান দেবো?'
'অবশ্যই। কে সেই মহা মানব?'
'তুমি। স্বয়ং তুমিই আমার চেয়ে বড় যাহিদ।'
'কীভাবে?'
'কারণ, তুমি যাহিদ বা দুনিয়াবিমুখ বলেই এখানে এসেছ।'
📄 প্রকৃত দুনিয়াত্যাগী
ইসহাক ইবনু মানসুর রহিমাহুল্লাহু বলেন-
একবার আমি এবং আমার এক বন্ধু দাউদ তাই রহিমাহুল্লাহুর কাছে যাই। তিনি তখন মাটিতে শুয়ে ছিলেন। আমি আমার বন্ধুকে লক্ষ করে বলি, 'এই আল্লাহর বান্দা দুনিয়াত্যাগী'। ঘটনাক্রমে দাউদ তাই আমার এ কথা শুনে ফেলেন এবং আমাদেরকে বুঝ দেওয়ার মতো করে বলেন, 'আরে, প্রকৃত দুনিয়াত্যাগী তো সে, যে দুনিয়া অর্জনের সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও তা ত্যাগ করে। আমার তো সেই সামর্থ্যই নেই。
টিকাঃ
[১৭৩] হিলইয়াতুল আওলিয়া: ৭/৩৪৪। সনদে সমস্যা আছে।
📄 প্রকৃত যাহিদ কে?
ফুদাইল ইবনু ইয়াজ রহিমাহুল্লাহু বলেন-
'যে সুখে-দুঃখে আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট থাকে, সে-ই প্রকৃত যাহিদ।'
আবু সুলাইমান রহিমাহুল্লাহু বলেন-
কোনো ব্যক্তির অন্তরে যদি দুনিয়ার মায়া-মোহ ও কামনাবাসনা থাকে তাহলে তার এই কথা দাবি করা জায়েয নেই যে, সে 'যাহিদ বা দুনিয়াত্যাগী'। হ্যাঁ, অন্তরে দুনিয়ার কামনাবাসনা না থাকলে; দুনিয়া ত্যাগের দাবি করার অনুমতি আছে। কেননা অন্তরে দুনিয়ার প্রতি কামনাবাসনা না থাকাটা তার কাজকর্মে প্রকাশ পাবে।
📄 সালাফদের মনের অবস্থা
মালেক ইবনু দিনার রহিমাহুল্লাহু বলেন, যদি 'জিসর' থেকে 'খোরাসান' পর্যন্ত-সমগ্র এলাকা আমাকে উটের সামান্য লেদের বিনিময়েও দেওয়া হয়, তবু আমি তা গ্রহণ করব না। আনন্দিত বা আহ্লাদিতও হব না。
কখনো এমনও বলতেন, যাবাল থেকে উবুল্লা পর্যন্ত-সমগ্র এলাকা যদি আমাকে একটি খেজুরের আঁটির বিনিময়েও দিয়ে দেওয়া হয়, তবু আমি তা গ্রহণ করব না। আনন্দ প্রকাশের তো প্রশ্নই আসে না।
এরপর তিনি উপস্থিত লোকদেরকে উদ্দেশ্য করে বলেন, একথা যদি আমি হৃদয়ের গভীর থেকে না বলে থাকি, তাহলে আমার জন্য ভয়াবহ দুঃখ অপেক্ষা করছে。
টিকাঃ
[১৭৪] হিলইয়াতুল আওলিয়া: ২/৩৭৫।