📄 সালাফদের চাওয়া-পাওয়া
আবদুল্লাহ রহিমাহুল্লাহু বলেন, মুতাররিফ রহিমাহুল্লাহুর স্ত্রী কিংবা তার কোনো আত্মীয়ের ইন্তেকাল হলে, তার ভাইয়েরা পরস্পরে বলাবলি করেন, 'প্রিয়জনের মৃত্যুতে মুতাররিফ পেরেশান হতে পারে; চলো আমরা তাকে গিয়ে সান্ত্বনা দিই।' কিন্তু তারা মুতাররিফ রহিমাহুল্লাহুর কাছে গিয়ে দেখেন, তিনি যথেষ্ট স্বাভাবিক আছেন। এতে তাঁর ভাইয়েরা বিস্মিত হয়ে বলেন, 'কী ব্যাপার, আমরা তো ভেবেছিলাম, তুমি পেরেশান হয়ে কোনো শরিয়তবিরোধী কাজে লিপ্ত হয়ে পড়বে।' মুতাররিফ রহিমাহুল্লাহু তাদের কথার উত্তরে বলেন, 'আরে ভাই, মুত্যু তো খুবই সাধারণ ও স্বাভাবিক একটি ঘটনা। মাত্র একজন মানুষ আমাদের ছেড়ে চলে গেছে। আমি যদি সারা দুনিয়ার মালিক হতাম, আর কিয়ামতের দিন এক ঢোক পানির বিনিময়ে এই দুনিয়া নিয়ে নেওয়া হতো, তাহলে অবশ্যই আমি দিয়ে দিতাম।’
টিকাঃ
[১৭০] আহমাদ রহিমাহুল্লাহু, যুহুদ-৩০০১।
📄 বড় আফসোসের কথা
ইসহাক আস সাকাফি রহিমাহুল্লাহু বলেন-
ওই ব্যক্তি কীভাবে সুখী হতে পারে-যার জীবন থেকে মাসের পর মাস এবং বছরের পর বছর চলে যাচ্ছে, আর সে দুনিয়া নিয়ে মেতে আছে? আহ! আমরা ধীরেধীরে মৃত্যুর দিকে ধাবিত হচ্ছি, অথচ আখিরাত নিয়ে আমাদের কোনো চিন্তাই নেই।
📄 দুনিয়াটা খুবই তিক্ত
মুহাম্মদ ইবনু ইসহাক বলেন- দুনিয়ার প্রতিটা দিন এক-একটি তির। আর মানুষ হলো তার নিশানা। প্রতিদিন একটি করে তির তোমার বুকে এসে বিদ্ধ হচ্ছে। এভাবেই বিদ্ধ হতে হতে একদিন তোমাকে একেবারে নিঃশেষ করে ফেলবে। দিন-রাত একটি করে তির তোমাকে আঘাত করে চলেছে, আর তুমি নিজেকে সুখী বলে দাবি করেছ? তুমি যদি জানতে, এই দুনিয়ার প্রতিটি দিন তোমাকে কুরে-কুরে খাচ্ছে এবং ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে; তাহলে তোমার প্রতিটি মুহূর্ত সীমাহীন ভয়ে কাটত। আল্লাহ তাআলার ভয়ে হৃদয় কাঁপত। এই দুনিয়া খুবই তিক্ত। ডাক্তারের ওষুধের চেয়েও বেশি তিক্ত। তাই তুমি দুনিয়াবিমুখ হয়ে যাও。
টিকাঃ
[১৭১] হিলয়িয়া: ১০/১৫০।
📄 এ জীবন নগণ্য
মুহাম্মাদ ইবনু ইসহাক বলেন, জনৈক ব্যক্তি একবার একজন জ্ঞানীকে বলেন, আপনি আমাকে দুনিয়া এবং স্থায়িত্ব সম্পর্কে কিছু বলুন। তখন তিনি বলেন—
'দুনিয়া' চোখের পলকের মতো ক্ষণিক সময়ের নাম। এর চেয়ে বেশি সময় তুমি আদৌ পাবে কিনা, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। 'কাল' অনাগত একটি দিনের নাম। রাত তার পরিসমাপ্তির সংবাদদাতা। দিনরাতের এই গমনাগমন মানুষের জন্য বিপদাপদ বয়ে আনে। ঐক্য ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়। রাজত্ব হাতবদল করে এবং মানুষকে গ্রাস করে ফেলে। দুনিয়ায় মানুষের অনেক আশা থাকে। কিন্তু জীবন তো স্বল্প সময়ের। ফলে আশাগুলো অধরাই থেকে যায় এবং এ অবস্থায়ই আমরা দুনিয়া ত্যাগ করে রবের কাছে পৌঁছে যাই।