📄 দুনিয়া ময়লার স্তূপের মতো
হাসান বসরি রহিমাহুল্লাহু বলেন, নবি কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একবার মদিনার একটি নর্দমার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় সঙ্গীদেরকে উদ্দেশ্য করে বলেন—
‘তোমাদের কেউ যদি দুনিয়ার স্বরূপ দেখতে চায়, তাহলে সে যেন এই নর্দমাটি ভালো করে দেখে নেয়। তাবৎ দুনিয়া যদি মহান আল্লাহর কাছে একটি মাছি ডানার সমমূল্যেরও হতো, তাহলেও তিনি কোনো কাফিরকে দুনিয়ার সামান্য কিছু ভোগ করতে দিতেন না।’
টিকাঃ
[১৬৫] কানযুল উম্মাল: ৩/২১৫। হাদিস, মুরসাল। তবে এই হাদিসই মারফু হিসেবে বিভিন্ন সাহাবি থেকে বর্ণিত আছে।
📄 সাহাবিরা দুনিয়াবিমুখ ছিলেন
আবদুল্লাহ রহিমাহুল্লাহু একদিন এক মজলিসে বলেন—
সাহাবায়ে কেরাম রাদিয়াল্লাহু আনহুমের সালাত, সিয়ামের চেয়ে তোমাদের সালাত, সিয়াম পরিমাণে অনেক বেশি। কারণ তারা জীবনের সিংহভাগ কিংবা উল্লেখযোগ্য একটি অংশ অতিক্রান্ত হওয়ার পর ইসলামের পরশ পেয়েছিলেন। কিন্তু এরপরও তাদের সালাত-সিয়াম তোমাদের সালাত-সিয়ামের চেয়ে হাজার গুণ ভালো。
টিকাঃ
[১৬৬] হিলইয়াতুল আওলিয়া: ১/১৩৬।
📄 সাহাবিরা যেমন ছিলেন
হাসান বসরি রহিমাহুল্লাহু বলেন-
সাহাবায়ে কেরাম রাদিয়াল্লাহু আনহুম অত্যন্ত জ্ঞানী ও বিচক্ষণ ছিলেন। তাঁরা বেশি বেশি নেক আমল করতেন। হালাল পন্থায় জীবিকা উপার্জন করতেন। হারাম থেকে দূরে থাকতেন। নিজের ভালো সম্পদগুলো আল্লাহর রাস্তায় দান করে দিতেন। দুনিয়ার প্রতি তাঁদের মোটেও আগ্রহ ছিল না। পার্থিব যশ-খ্যাতির মোহও তাঁদের ছিল না। তাঁরা সবকিছুরই ভালো দিক গ্রহণ করতেন; মন্দ দিক বর্জন করতেন। তাঁরা নেক আমল করে অহংকার করতেন না। তাঁরা দুনিয়াকে তাচ্ছিল্যের চোখে দেখতেন。
ইবরাহিম আত তাইমি রহিমাহুল্লাহু বলেন-
তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের নিকট দুনিয়া দৌড়ে আসত; কিন্তু তারা ফিতনার ভয়ে দুনিয়া থেকে পলায়ন করতেন। এতে কি তাদের কোনো ক্ষতি হয়েছে? তাদের মর্যাদা কমে গেছে?
অপর দিকে তোমরা দুনিয়ার পেছনে ছুটে বেড়াও। কিন্তু দুনিয়া তোমাদের থেকে পালিয়ে বেড়ায়। তোমাদের হাতে ধরা দেয় না। এতে কি তোমাদের বিশেষ কোনো লাভ হয়েছে? কিংবা একটু আধটু সম্মান বেড়েছে? তোমরা বরং এই তুচ্ছ দুনিয়ার কারণে, অসংখ্য ফিতনায় জড়িয়ে পড়েছ! এবার তোমরাই নিজেদেরকে পূর্ববর্তীদের সঙ্গে তুলনা করে দেখো-কারা ভালো; আর কারা মন্দ?
📄 সালাফরা আখিরাতমুখী ছিলেন
আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন-
সাহাবায়ে কেরام রাদিয়াল্লাহু আনহুম-এর চেয়ে তোমাদের সালাত বেশি, জিকিরআজকারও বেশি। এতৎসত্ত্বেও তারা তোমাদের চেয়ে অনেক উত্তম। কারণ, তাঁরা দুনিয়াবিমুখ ও আখিরাতমুখী ছিলেন。
টিকাঃ
[১৬৭] ইবনু মুবারক রহিমাহুল্লাহু, যুহুদ-৫০১।