📄 সালাফদের জীবন
হাসান ইবনু আবদুল আজিজ রহিমাহুল্লাহু বলেন- আবু সাহমা আল কালবি রহিমাহুল্লাহু যথেষ্ট সম্পদ ও কর্তৃত্বের অধিকারী ছিলেন। এরপরও তিনি ধনসম্পদের মায়া ত্যাগ করে সব সময় ইবাদাতে নিমগ্ন থাকতেন。
হারিস ইবনু মিসকিন রহিমাহুল্লাহু একবার ইস্কান্দারিয়ার রাজদরবার থেকে বের হয়ে মন্তব্য করেন-
'আল্লাহ তাআলার শোকর যে, তিনি আমাদেরকে নিজ অনুগ্রহে রাজা-বাদশাহদের থেকে দূরে রেখেছেন। একারণে আমরা স্বাধীনভাবে চলতে পারি। মন ভরে ইবাদাত করতে পারি। তাদের দরবারে থাকলে এটা আদৌ সম্ভব হতো না। বরং সদা সর্বক্ষণ তাদের আজ্ঞাবহ হয়ে থাকতে হতো।’
📄 একদিন তোমাদের জীবনটা পাল্টে যাবে
উরয়াতু ইবনু যুবাইর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, প্রিয় সাহাবি মুস'আব ইবনু উমাইর রাদিয়াল্লাহু আনহু একবার মোটা পশমি জুব্বা পরে নবি কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে আসেন। জুব্বাটি যথেষ্ট ছোট ও চাপা হওয়ায় ভালোভাবে সতর ঢাকা যাচ্ছিল না। নবিজির দরবারে আরও অনেক সাহাবি উপস্থিত ছিলেন। তারা মুস'আব ইবনু উমায়ের রাদিয়াল্লাহু আনহুর এ অবস্থা দেখে পেরেশান হয়ে যান। কিন্তু তাদের কারওই তখন যে, একটুকরো কাপড় দিয়ে তাকে সাহায্য করার সামর্থ্য ছিল না। মুস'আব রাদিয়াল্লাহু আনহু ধীরেধীরে নবিজির কাছে আসেন এবং সালাম দিয়ে মজলিসে বসে যান। নবি কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তখন বলেন-
لَقَدْ رَأَيْتُهُ عِنْدَ أَبَوَيْهِ، وَمَا فَتَّى مِنْ فَتَيَانِ قُرَيْشٍ مِثْلَهُ، يُكْرِمَانِهِ وَيُنَعْمَانِهِ، فَخَرَجَ مِنْ ذَلِكَ ابْتِغَاءَ مَرْضَاةِ اللَّهِ وَنُصْرَةَ رَسُولِهِ، أَمَا إِنَّكُمْ لَا يَأْتِي عَلَيْكُمْ إِلَّا كَذَا حَتَّى تَفْتَحُوا فَارِسَ وَالرُّومَ، فَيَغْدُو أَحَدُكُمْ فِي حُلَّةٍ، وَيَرُوحُ فِي حُلَّةٍ، وَيُغْدَى عَلَيْكُمْ بِقَصْعَةٍ، وَيُرَاحُ عَلَيْكُمْ بِأُخْرَى .
'কাফির অবস্থায় আমি তাকে তাঁর পিতার সঙ্গে দেখেছি। তখন তার অর্থবিত্তর কোনো অভাব ছিল না। পোশাক-পরিচ্ছদে কুরাইশের কোনো যুবক তার সমকক্ষ ছিল না। কিন্তু সে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও তাঁর রাসুলের সহযোগিতার কথা চিন্তা করে সবকিছু ত্যাগ করেছে। মনে রেখো, তোমরা চিরকাল অভাবী থাকবে না। অচিরেই তোমাদের কষ্টগুলো দূরীভূত হবে। তোমরা রোম ও পারস্য জয় করবে। তখন তোমরা সকালে এক পোশাক পরবে; বিকালে আরেক পোশাক পরবে। দুপুরে এক ধরনের খাবার খাবে; রাতে আরেক ধরনের খাবার খাবে।’
টিকাঃ
[১৫০] বাইহাকি, শুআবুল ইমান: ৩/৬২৮। একবার আবদুর রহমান ইবনু আউফ রাদিয়াল্লাহু আনহুর সামনে খাবার পেশ করা হলো। তিনি সেদিন রোজাদার ছিলেন। খাবার সামন রেখে তিনি বলতে লাগলেন, 'মুসআব ইবনু উমায়ের রাদিয়াল্লাহু আনহু শহিদ হয়েছেন। তিনি আমার থেকে অনেক ভালো ব্যক্তি ছিলেন। তাঁর কাফনের কাপড় হিসাবে মাত্র একটি চাদর ব্যতীত আর কিছুই ছিল না। যখন সেই চাদরে তাঁর মাথা আবৃত করা হতো, তখন পায়ের দিক অনাবৃত হয়ে যেত। এখন দুনিয়া আমাদের জন্য অনেক খুলে দেওয়া হয়েছে। তাঁরা আখিরাতের সুখ পাওয়ার আশায় দুনিয়াতে সুখ কামনা করতেন না। [সহিহুল বুখারি: ৩৮৯৯।]
📄 দুনিয়ায় কেউ চিরস্থায়ী হয় না; হবেও না
আমর আন নাজদি রহিমাহুল্লাহু বলেন, সালেহ আল মুররি রহিমাহুল্লাহু বলেন-
'মনে রেখো, আজ পর্যন্ত দুনিয়ায় কেউ চিরস্থায়ী হতে পারেনি। ভবিষ্যতেও পারবে না। তুমি আজ আছ; কাল হয়তো থাকবে না। দিন গড়িয়ে রাত কিংবা রাত গড়িয়ে সকাল হতেই কবরের ডাক চলে আসবে। কাজেই এখনই প্রস্তুতি নাও। অনন্ত সফরের পাথেয় জোগাড় করে নাও। মৃত্যু তোমার অতি নিকটেই অবস্থান করছে。
টিকাঃ
[১৫১] হিলইয়াতুল আওলিয়া: ৬/১৬৭।
📄 দুনিয়ার ভালোবাসা থাকলে হৃদয়ে পাপেরা বাসা বাঁধে
আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক রহিমাহুল্লাহ বলেন- 'হৃদয়ে দুনিয়ার ভালোবাসার অনুপ্রবেশ ঘটলে, পাপেরা সেখানে জায়গা করে নেয়। তখন আর শান্তির বাণী সেখানে পৌঁছে না।’