📄 সালাফরা যাদের ব্যাপারে অবাক হতেন
মুহাম্মাদ ইবনু ইসহাক আস সাকাফি রহিমাহুল্লাহু বলেন, জনৈক বিজ্ঞজন বলেছেন—
এক. আমার খুব অবাক লাগে—যখন দেখি, মানুষ সামান্য সম্পদ হ্রাস পেলে দুঃখবোধ করে; দুশ্চিন্তায় ভেঙে পড়ে। কিন্তু এই সামান্য সম্পদের জন্য যে তার বিশাল জীবন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে—সে ব্যাপারে তার কোনো অনুভূতিই নেই。
দুই. আমার খুব আফসোস হয়—যখন দেখি, মানুষ আখিরাতকে উপেক্ষা করে দুনিয়া নিয়ে ব্যস্ত থাকে। অথচ দুনিয়া তার থেকে ক্রমশ দূরে সরে যাচ্ছে; আর আখিরাত তার দিকে এগিয়ে আসছে।’
টিকাঃ
[১৪৯] আওলিয়া: ৬/১৯৩।
📄 একজন নারী
ইয়াস ইবনু হামযা রহিমাহুল্লাহু বলেন, বাহরাইনের জনৈক ব্যক্তি আমাকে বলেছেন, কুরাইশ গোত্রে মাজেদা নামের এক ভদ্রমহিলা ছিলেন। তিনি বাহরাইনে বসবাস করতেন। প্রায় সময়ই বলতেন, সূর্যের উদয়াস্ত আমার আশা-আকাঙ্ক্ষা কেড়ে নিয়েছে। এখন বাতাসে পাতা নড়ার শব্দ কিংবা আগন্তুকের পদধ্বনি শুনলেই আমার মনে হয়, এই বুঝি মৃত্যুর দূত এসে হাজির হলো!
📄 জীবনের প্রদীপ নিভে যাবে একদিন
আবদুল্লাহ রহিমাহুল্লাহু বলেন, আবু জা'ফর আল কুরাশি রহিমাহুল্লাহু একটি কবিতায় দুনিয়ার ব্যাপারে সতর্ক করে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু কথা বলেন। কথাগুলোর সারমর্ম হচ্ছে-
'সাবধান! দুনিয়া যেন তোমাকে ধোঁকায় না ফেলে। দুনিয়ার চিন্তা করে এক মুহূর্ত সময়ও নষ্ট করো না। দুনিয়ার পরিবর্তে আখিরাতকে লক্ষ্য বানাও। কারণ, দুনিয়া আজ আছে; কাল থাকবে না। তেমনি তুমিও আজ আছ; কাল থাকবে না। সুতরাং তুমি তোমার মতো অস্থায়ী জগৎটাকে লক্ষ্য হিসেবে স্থির করো না।
📄 সালাফদের জীবন
হাসান ইবনু আবদুল আজিজ রহিমাহুল্লাহু বলেন- আবু সাহমা আল কালবি রহিমাহুল্লাহু যথেষ্ট সম্পদ ও কর্তৃত্বের অধিকারী ছিলেন। এরপরও তিনি ধনসম্পদের মায়া ত্যাগ করে সব সময় ইবাদাতে নিমগ্ন থাকতেন。
হারিস ইবনু মিসকিন রহিমাহুল্লাহু একবার ইস্কান্দারিয়ার রাজদরবার থেকে বের হয়ে মন্তব্য করেন-
'আল্লাহ তাআলার শোকর যে, তিনি আমাদেরকে নিজ অনুগ্রহে রাজা-বাদশাহদের থেকে দূরে রেখেছেন। একারণে আমরা স্বাধীনভাবে চলতে পারি। মন ভরে ইবাদাত করতে পারি। তাদের দরবারে থাকলে এটা আদৌ সম্ভব হতো না। বরং সদা সর্বক্ষণ তাদের আজ্ঞাবহ হয়ে থাকতে হতো।’