📘 সালাফদের চোখে দুনিয়া > 📄 সালাফদের আফসোস

📄 সালাফদের আফসোস


মুতাইর ইবনু রাবি রহিমাহুল্লাহু বলেন, মুফাদ্দাল ইবনু ইউনুস রহিমাহুল্লাহু আমাকে বলেছেন, একবার আমি বনু হারিসা গোত্রের মুহাম্মাদ ইবনু নযর রহিমাহুল্লাহুকে চিন্তিত দেখে জিজ্ঞাসা করি, 'ভাই আপনার কী হয়েছে?' উত্তরে তিনি বলেন—
'কী আর বলব ভাই! আজও আমার জীবন থেকে একটি রাত চলে গেল অথচ আমি আখিরাতের জন্য কিছুই করতে পারলাম না। এভাবেই একটু একটু করে আয়ু ফুরিয়ে যাবে। জীবন-প্রদীপ জ্বলতে জ্বলতে এক সময় নিভে যাবে। কে জানে আখিরাতের জন্য কতটুকু কী করতে পারব!'
আবু আউন রহিমাহুল্লাহু বলেন, একদিন মাগরিবের পরে রাবাহ আল কাইসি রহিমাহুল্লাহু নির্জন পথ ধরে হাঁটছিলেন। কোনো কাজে আমি তখন পথে বেরিয়েছিলাম। তখন শুনতে পেলাম, তিনি হু-হু করে কাঁদছেন আর নিজেকে সম্বোধন করে বলছেন, আহারে! জীবন থেকে কত দিন, কত রাত বিদায় নিয়েছে। দিন-রাত্রির গমনাগমন আমাকে মৃত্যুর কাছাকাছি এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। অথচ এখনো আমি, উদাসিনতার খোলস থেকে বের হতে পারিনি। ইন্নালিল্লাহ! ইন্নালিল্লাহ!

টিকাঃ
[১৪৯] আওলিয়া: ৬/১৯৩।

মুতাইর ইবনু রাবি রহিমাহুল্লাহু বলেন, মুফাদ্দাল ইবনু ইউনুস রহিমাহুল্লাহু আমাকে বলেছেন, একবার আমি বনু হারিসা গোত্রের মুহাম্মাদ ইবনু নযর রহিমাহুল্লাহুকে চিন্তিত দেখে জিজ্ঞাসা করি, 'ভাই আপনার কী হয়েছে?' উত্তরে তিনি বলেন—
'কী আর বলব ভাই! আজও আমার জীবন থেকে একটি রাত চলে গেল অথচ আমি আখিরাতের জন্য কিছুই করতে পারলাম না। এভাবেই একটু একটু করে আয়ু ফুরিয়ে যাবে। জীবন-প্রদীপ জ্বলতে জ্বলতে এক সময় নিভে যাবে। কে জানে আখিরাতের জন্য কতটুকু কী করতে পারব!'
আবু আউন রহিমাহুল্লাহু বলেন, একদিন মাগরিবের পরে রাবাহ আল কাইসি রহিমাহুল্লাহু নির্জন পথ ধরে হাঁটছিলেন। কোনো কাজে আমি তখন পথে বেরিয়েছিলাম। তখন শুনতে পেলাম, তিনি হু-হু করে কাঁদছেন আর নিজেকে সম্বোধন করে বলছেন, আহারে! জীবন থেকে কত দিন, কত রাত বিদায় নিয়েছে। দিন-রাত্রির গমনাগমন আমাকে মৃত্যুর কাছাকাছি এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। অথচ এখনো আমি, উদাসিনতার খোলস থেকে বের হতে পারিনি। ইন্নালিল্লাহ! ইন্নালিল্লাহ!
মালেক ইবনু মিগওয়াল রহিমাহুল্লাহু বলেন—
'আমি জনৈক ব্যক্তিকে দেখেছি, তিনি সারাটা রাত শুধু কাঁদতেন। কেঁদে কেঁদে বলতেন, 'আহ! আমার জীবন থেকে দিন-রাত্রিগুলি এক এক করে চলে যাচ্ছে। একদিন হয়তো তারা আমাকেও সঙ্গে করে নিয়ে যাবে। সেদিন কবরে আমার ঠাঁই হবে।’

টিকাঃ
[১৪৯] আওলিয়া: ৬/১৯৩।

📘 সালাফদের চোখে দুনিয়া > 📄 সাহাবিদের চাওয়া-পাওয়া

📄 সাহাবিদের চাওয়া-পাওয়া


আবিল বাখতারি রহিমাহুল্লাহু বলেন, আলি ইবনু আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু একবার জনসাধারণের মাঝে বাইতুল মালের সম্পদ বণ্টন করেন। বণ্টন শেষে জানতে পারেন, বাইতুল মালে আরও চার হাজার দিরহাম মূল্যের সম্পদ অবশিষ্ট আছে। সঙ্গে সঙ্গে তিনি এই চার হাজার দিরহামও বণ্টন করার নির্দেশ দেন।
লোকেরা তাকে তার ও তার পরিবারের কথা স্মরণ করিয়ে দিলে তিনি বলেন, মহান রবের শপথ! আমার ও আমার পরিবারের জন্য আমি কিছুই সঞ্চয় করতে চাই না; উটের লেদা পরিমাণ জমি বা খাদ্যশস্যও না।
কুবাইসা ইবনু জাবির রহিমাহুল্লাহু বলেন, আমি আলি ইবনু আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহুর চেয়ে অধিক দুনিয়াবিমুখ আর কাউকে দেখিনি।

আবিল বাখতারি রহিমাহুল্লাহু বলেন, আলি ইবনু আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু একবার জনসাধারণের মাঝে বাইতুল মালের সম্পদ বণ্টন করেন। বণ্টন শেষে জানতে পারেন, বাইতুল মালে আরও চার হাজার দিরহাম মূল্যের সম্পদ অবশিষ্ট আছে। সঙ্গে সঙ্গে তিনি এই চার হাজার দিরহামও বণ্টন করার নির্দেশ দেন。
লোকেরা তাকে তার ও তার পরিবারের কথা স্মরণ করিয়ে দিলে তিনি বলেন, মহান রবের শপথ! আমার ও আমার পরিবারের জন্য আমি কিছুই সঞ্চয় করতে চাই না; উটের লেদা পরিমাণ জমি বা খাদ্যশস্যও না。
কুবাইসা ইবনু জাবির রহিমাহুল্লাহু বলেন, আমি আলি ইবনু আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহুর চেয়ে অধিক দুনিয়াবিমুখ আর কাউকে দেখিনি।

📘 সালাফদের চোখে দুনিয়া > 📄 সালাফরা যাদের ব্যাপারে অবাক হতেন

📄 সালাফরা যাদের ব্যাপারে অবাক হতেন


মুহাম্মাদ ইবনু ইসহাক আস সাকাফি রহিমাহুল্লাহু বলেন, জনৈক বিজ্ঞজন বলেছেন—
এক. আমার খুব অবাক লাগে—যখন দেখি, মানুষ সামান্য সম্পদ হ্রাস পেলে দুঃখবোধ করে; দুশ্চিন্তায় ভেঙে পড়ে। কিন্তু এই সামান্য সম্পদের জন্য যে তার বিশাল জীবন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে—সে ব্যাপারে তার কোনো অনুভূতিই নেই。
দুই. আমার খুব আফসোস হয়—যখন দেখি, মানুষ আখিরাতকে উপেক্ষা করে দুনিয়া নিয়ে ব্যস্ত থাকে। অথচ দুনিয়া তার থেকে ক্রমশ দূরে সরে যাচ্ছে; আর আখিরাত তার দিকে এগিয়ে আসছে।’

টিকাঃ
[১৪৯] আওলিয়া: ৬/১৯৩।

📘 সালাফদের চোখে দুনিয়া > 📄 একজন নারী

📄 একজন নারী


ইয়াস ইবনু হামযা রহিমাহুল্লাহু বলেন, বাহরাইনের জনৈক ব্যক্তি আমাকে বলেছেন, কুরাইশ গোত্রে মাজেদা নামের এক ভদ্রমহিলা ছিলেন। তিনি বাহরাইনে বসবাস করতেন। প্রায় সময়ই বলতেন, সূর্যের উদয়াস্ত আমার আশা-আকাঙ্ক্ষা কেড়ে নিয়েছে। এখন বাতাসে পাতা নড়ার শব্দ কিংবা আগন্তুকের পদধ্বনি শুনলেই আমার মনে হয়, এই বুঝি মৃত্যুর দূত এসে হাজির হলো!

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00