📘 সালাফদের চোখে দুনিয়া > 📄 দিন-রাত গনিমতের মতো

📄 দিন-রাত গনিমতের মতো


উমর ইবনু যার রহিমাহুল্লাহু বলেন, আমি সাঈদ ইবনু জুবাইর রহিমাহুল্লাহুর পত্রে পড়েছি—
'মুমিনের জন্য প্রতিটি দিন ও রাত গনিমত স্বরূপ।

টিকাঃ
[১৪৮] হিলইয়াতুল আওলিয়া: ৫/১১০।

উমর ইবনু যার রহিমাহুল্লাহু বলেন, আমি সাঈদ ইবনু জুবাইর রহিমাহুল্লাহুর পত্রে পড়েছি—
'মুমিনের জন্য প্রতিটি দিন ও রাত গনিমত স্বরূপ। [১৪৮]'

টিকাঃ
[১৪৮] হিলইয়াতুল আওলিয়া: ৫/১১০।

📘 সালাফদের চোখে দুনিয়া > 📄 একজন সালাফের অবস্থা

📄 একজন সালাফের অবস্থা


মুতাইর ইবনু রাবি রহিমাহুল্লাহু বরেন, গভীর রাতে সবাই যখন ঘুমিয়ে পড়ত এবং চারিদিকে অখণ্ড নীরবতা নেমে আসত তখন মুফাদ্দাল ইবনু ইউনুস রহিমাহুল্লাহু বলতেন—
আহ! আজও আমার জীবন থেকে একটি দিন চলে গেল। এই দিনটি আর ফিরে আসবে না। হারিয়ে গেল নিষুপ্তির কোলে। রাত পেরিয়ে যখন ভোর উদিত হতো, তখন তিনি বলতেন, আহ! আমার জীবনের একটি রাত চলে গেল। এই রাতটি আর ফিরে আসবে না। দিন-রাতের এই গমনাগমনই হয়তো আমাকে মৃত্যুর ঘাঁটিতে পৌঁছে দেবে।
মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এলে তিনি বলেন, হে রাত-দিন! আমি জানতাম, তোমাদের ঘূর্ণাবর্তই একদিন আমার জীবনযাত্রা থামিয়ে দেবে। সেদিন আমার জীবনের ওপর দিয়ে তুমুল ঝড় বয়ে যাবে। জীবন নদীতে বিরহ-বেদনার প্লাবন উঠবে। মৃত্যুর হামলা আসবে। সঙ্গোপনে মৃত্যু আমাকে তার বুকে টেনে নেবে। সমস্যা নেই। সেদিন মহান রব থাকবেন। তিনিই আমার ভরসা। জীবন-মৃত্যু দুটোই তার সৃষ্টি। দুটোই তার পরীক্ষা। অতঃপর তিনি এই আয়াত তিলাওয়াত করেন—
الَّذِي خَلَقَ الْمَوْتَ وَالْحَيَاةَ لِيَبْلُوَكُم .
'যিনি সৃষ্টি করেছেন জীবন এবং মরণকে—যাতে পরখ করতে পারেন, তোমাদের মধ্যে কর্মে কে শ্রেষ্ঠ?' [সুরা মূলক: ২]
এই আয়াত তিলাওয়াতের পরে তিনি জীবনের শেষ শ্বাস নেন। এরপরে মহান রবের ইশারায় তিনি এই দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়ে চলে যান।

মুতাইর ইবনু রাবি রহিমাহুল্লাহু বরেন, গভীর রাতে সবাই যখন ঘুমিয়ে পড়ত এবং চারিদিকে অখণ্ড নীরবতা নেমে আসত তখন মুফাদ্দাল ইবনু ইউনুস রহিমাহুল্লাহু বলতেন—
আহ! আজও আমার জীবন থেকে একটি দিন চলে গেল। এই দিনটি আর ফিরে আসবে না। হারিয়ে গেল নিষুপ্তির কোলে। রাত পেরিয়ে যখন ভোর উদিত হতো, তখন তিনি বলতেন, আহ! আমার জীবনের একটি রাত চলে গেল। এই রাতটি আর ফিরে আসবে না। দিন-রাতের এই গমনাগমনই হয়তো আমাকে মৃত্যুর ঘাঁটিতে পৌঁছে দেবে।
মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এলে তিনি বলেন, হে রাত-দিন! আমি জানতাম, তোমাদের ঘূর্ণাবর্তই একদিন আমার জীবনযাত্রা থামিয়ে দেবে। সেদিন আমার জীবনের ওপর দিয়ে তুমুল ঝড় বয়ে যাবে। জীবন নদীতে বিরহ-বেদনার প্লাবন উঠবে। মৃত্যুর হামলা আসবে। সঙ্গোপনে মৃত্যু আমাকে তার বুকে টেনে নেবে। সমস্যা নেই। সেদিন মহান রব থাকবেন। তিনিই আমার ভরসা। জীবন-মৃত্যু দুটোই তার সৃষ্টি। দুটোই তার পরীক্ষা। অতঃপর তিনি এই আয়াত তিলাওয়াত করেন—
الَّذِي خَلَقَ الْمَوْتَ وَالْحَيَاةَ لِيَبْلُوَكُم .
'যিনি সৃষ্টি করেছেন জীবন এবং মরণকে—যাতে পরখ করতে পারেন, তোমাদের মধ্যে কর্মে কে শ্রেষ্ঠ?' [সুরা মূলক: ২]
এই আয়াত তিলাওয়াতের পরে তিনি জীবনের শেষ শ্বাস নেন। এরপরে মহান রবের ইশারায় তিনি এই দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়ে চলে যান।

📘 সালাফদের চোখে দুনিয়া > 📄 সালাফদের আফসোস

📄 সালাফদের আফসোস


মুতাইর ইবনু রাবি রহিমাহুল্লাহু বলেন, মুফাদ্দাল ইবনু ইউনুস রহিমাহুল্লাহু আমাকে বলেছেন, একবার আমি বনু হারিসা গোত্রের মুহাম্মাদ ইবনু নযর রহিমাহুল্লাহুকে চিন্তিত দেখে জিজ্ঞাসা করি, 'ভাই আপনার কী হয়েছে?' উত্তরে তিনি বলেন—
'কী আর বলব ভাই! আজও আমার জীবন থেকে একটি রাত চলে গেল অথচ আমি আখিরাতের জন্য কিছুই করতে পারলাম না। এভাবেই একটু একটু করে আয়ু ফুরিয়ে যাবে। জীবন-প্রদীপ জ্বলতে জ্বলতে এক সময় নিভে যাবে। কে জানে আখিরাতের জন্য কতটুকু কী করতে পারব!'
আবু আউন রহিমাহুল্লাহু বলেন, একদিন মাগরিবের পরে রাবাহ আল কাইসি রহিমাহুল্লাহু নির্জন পথ ধরে হাঁটছিলেন। কোনো কাজে আমি তখন পথে বেরিয়েছিলাম। তখন শুনতে পেলাম, তিনি হু-হু করে কাঁদছেন আর নিজেকে সম্বোধন করে বলছেন, আহারে! জীবন থেকে কত দিন, কত রাত বিদায় নিয়েছে। দিন-রাত্রির গমনাগমন আমাকে মৃত্যুর কাছাকাছি এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। অথচ এখনো আমি, উদাসিনতার খোলস থেকে বের হতে পারিনি। ইন্নালিল্লাহ! ইন্নালিল্লাহ!

টিকাঃ
[১৪৯] আওলিয়া: ৬/১৯৩।

মুতাইর ইবনু রাবি রহিমাহুল্লাহু বলেন, মুফাদ্দাল ইবনু ইউনুস রহিমাহুল্লাহু আমাকে বলেছেন, একবার আমি বনু হারিসা গোত্রের মুহাম্মাদ ইবনু নযর রহিমাহুল্লাহুকে চিন্তিত দেখে জিজ্ঞাসা করি, 'ভাই আপনার কী হয়েছে?' উত্তরে তিনি বলেন—
'কী আর বলব ভাই! আজও আমার জীবন থেকে একটি রাত চলে গেল অথচ আমি আখিরাতের জন্য কিছুই করতে পারলাম না। এভাবেই একটু একটু করে আয়ু ফুরিয়ে যাবে। জীবন-প্রদীপ জ্বলতে জ্বলতে এক সময় নিভে যাবে। কে জানে আখিরাতের জন্য কতটুকু কী করতে পারব!'
আবু আউন রহিমাহুল্লাহু বলেন, একদিন মাগরিবের পরে রাবাহ আল কাইসি রহিমাহুল্লাহু নির্জন পথ ধরে হাঁটছিলেন। কোনো কাজে আমি তখন পথে বেরিয়েছিলাম। তখন শুনতে পেলাম, তিনি হু-হু করে কাঁদছেন আর নিজেকে সম্বোধন করে বলছেন, আহারে! জীবন থেকে কত দিন, কত রাত বিদায় নিয়েছে। দিন-রাত্রির গমনাগমন আমাকে মৃত্যুর কাছাকাছি এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। অথচ এখনো আমি, উদাসিনতার খোলস থেকে বের হতে পারিনি। ইন্নালিল্লাহ! ইন্নালিল্লাহ!
মালেক ইবনু মিগওয়াল রহিমাহুল্লাহু বলেন—
'আমি জনৈক ব্যক্তিকে দেখেছি, তিনি সারাটা রাত শুধু কাঁদতেন। কেঁদে কেঁদে বলতেন, 'আহ! আমার জীবন থেকে দিন-রাত্রিগুলি এক এক করে চলে যাচ্ছে। একদিন হয়তো তারা আমাকেও সঙ্গে করে নিয়ে যাবে। সেদিন কবরে আমার ঠাঁই হবে।’

টিকাঃ
[১৪৯] আওলিয়া: ৬/১৯৩।

📘 সালাফদের চোখে দুনিয়া > 📄 সাহাবিদের চাওয়া-পাওয়া

📄 সাহাবিদের চাওয়া-পাওয়া


আবিল বাখতারি রহিমাহুল্লাহু বলেন, আলি ইবনু আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু একবার জনসাধারণের মাঝে বাইতুল মালের সম্পদ বণ্টন করেন। বণ্টন শেষে জানতে পারেন, বাইতুল মালে আরও চার হাজার দিরহাম মূল্যের সম্পদ অবশিষ্ট আছে। সঙ্গে সঙ্গে তিনি এই চার হাজার দিরহামও বণ্টন করার নির্দেশ দেন।
লোকেরা তাকে তার ও তার পরিবারের কথা স্মরণ করিয়ে দিলে তিনি বলেন, মহান রবের শপথ! আমার ও আমার পরিবারের জন্য আমি কিছুই সঞ্চয় করতে চাই না; উটের লেদা পরিমাণ জমি বা খাদ্যশস্যও না।
কুবাইসা ইবনু জাবির রহিমাহুল্লাহু বলেন, আমি আলি ইবনু আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহুর চেয়ে অধিক দুনিয়াবিমুখ আর কাউকে দেখিনি।

আবিল বাখতারি রহিমাহুল্লাহু বলেন, আলি ইবনু আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু একবার জনসাধারণের মাঝে বাইতুল মালের সম্পদ বণ্টন করেন। বণ্টন শেষে জানতে পারেন, বাইতুল মালে আরও চার হাজার দিরহাম মূল্যের সম্পদ অবশিষ্ট আছে। সঙ্গে সঙ্গে তিনি এই চার হাজার দিরহামও বণ্টন করার নির্দেশ দেন。
লোকেরা তাকে তার ও তার পরিবারের কথা স্মরণ করিয়ে দিলে তিনি বলেন, মহান রবের শপথ! আমার ও আমার পরিবারের জন্য আমি কিছুই সঞ্চয় করতে চাই না; উটের লেদা পরিমাণ জমি বা খাদ্যশস্যও না。
কুবাইসা ইবনু জাবির রহিমাহুল্লাহু বলেন, আমি আলি ইবনু আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহুর চেয়ে অধিক দুনিয়াবিমুখ আর কাউকে দেখিনি।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00