📘 সালাফদের চোখে দুনিয়া > 📄 শেষ বেলার আফসোসগুলি

📄 শেষ বেলার আফসোসগুলি


হিশাম রহিমাহুল্লাহু বলেন, হাসান বসরি রহিমাহুল্লাহু বলেছেন-
'রূহ বের হওয়ার সময় মানুষ তিনটি বিষয়ে আফসোস করে-এক. সে উপার্জিত সম্পদ ভোগ করতে পারেনি। দুই. জীবনের সবগুলো স্বপ্ন তখনো ছুঁয়ে দেখা হয়নি। তিন. অনন্ত জীবনের জন্য আদৌ কোনো প্রস্তুতি গ্রহণ করেনি।
আবদুল্লাহ রহিমাহুল্লাহু বলেন, হুসাইন ইবনু আবদুর রহমান রহিমাহুল্লাহু একবার আমাকে দুনিয়ার ব্যাপারে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি কবিতা শোনান। কবিতাটির মর্মার্থ হচ্ছে-
'লাস্যময়ী দুনিয়া! তুমি বহুরূপি। বিশ্বাসঘাতক এবং রূপের জাদুকর! তুমি রূপের ঝলকে মুগ্ধ করে কতজনকে মৃত্যুর ঘাট পার করিয়েছ, তার কোনো ইয়ত্তা নেই।'

📘 সালাফদের চোখে দুনিয়া > 📄 তাদের সুখ ওপারে; আর আমাদের সুখ ওপারে

📄 তাদের সুখ ওপারে; আর আমাদের সুখ ওপারে


উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন-
একবার আমি নবি কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে উপস্থিত হলাম। তাঁকে সালাম দিলাম। তিনি তখন খেজুর পাতার বিছানায় শুয়ে ছিলেন। খেজুর পাতার চাটাইয়ের দাগ তাঁর শরীরে বসে গিয়েছিল। আমি ঘরের চারদিকে তাকালাম। দেখলাম, এক কোণায় তিন টুকরো কাঁচা চামড়া পড়ে আছে। আমি বললাম, 'হে আল্লাহর রাসুল, দোয়া করুন যেন আল্লাহ আপনার অবস্থার উন্নতি ঘটান। আপনাকে ন্যূনতম সচ্ছলতা দান করেন। পারসিক ও রোমকরা তো আল্লাহকে মোটেও মানে না। তার ইবাদাত-বন্দেগিও করে না। তা সত্ত্বেও দেখি, আল্লাহ তাদেরকে প্রাচুর্য দান করেছেন। (আর এদিকে আপনি তার পূর্ণ ইবাদাত ও আনুগত্য করার পরেও গরিব।)'
উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর একথা শুনে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শোয়া থেকে উঠে বসলেন। এরপর বললেন-
أَوَفِي شَكٍّ أَنْتَ يَا ابْنَ الْخَطَّابِ ۚ أُولَئِكَ قَوْمٌ عُجِّلَتْ لَهُمْ طَيِّبَاتُهُمْ فِي حَيَاتِهِمُ الدُّنْيَا .
'ইবনুল খাত্তাব, তুমি কি এখনো সন্দেহের মধ্যে আছ? শোনো, দুনিয়ার জীবনেই তাদেরকে তাদের প্রাপ্য চুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। (আর আমাদের প্রাপ্তি আখিরাতের জন্য সঞ্চিত আছে। ইন শা আল্লাহ।)'
উমর রহিমাহুল্লাহু বলেন, রাসুলের এ কথা শুনে আমি খুবই লজ্জিত হলাম এবং বললাম, 'হে আল্লাহর রাসুল, আপনি আমার জন্য ইস্তেগফার করুন।’

টিকাঃ
[১৪৬] সহিহ মুসলিম: হাদিস নং-১৪৭৯।

উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন-
একবার আমি নবি কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে উপস্থিত হলাম। তাঁকে সালাম দিলাম। তিনি তখন খেজুর পাতার বিছানায় শুয়ে ছিলেন। খেজুর পাতার চাটাইয়ের দাগ তাঁর শরীরে বসে গিয়েছিল। আমি ঘরের চারদিকে তাকালাম। দেখলাম, এক কোণায় তিন টুকরো কাঁচা চামড়া পড়ে আছে। আমি বললাম, 'হে আল্লাহর রাসুল, দোয়া করুন যেন আল্লাহ আপনার অবস্থার উন্নতি ঘটান। আপনাকে ন্যূনতম সচ্ছলতা দান করেন। পারসিক ও রোমকরা তো আল্লাহকে মোটেও মানে না। তার ইবাদাত-বন্দেগিও করে না। তা সত্ত্বেও দেখি, আল্লাহ তাদেরকে প্রাচুর্য দান করেছেন। (আর এদিকে আপনি তার পূর্ণ ইবাদাত ও আনুগত্য করার পরেও গরিব।)'
উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর একথা শুনে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শোয়া থেকে উঠে বসলেন। এরপর বললেন-
أَوَفِي شَكٍّ أَنْتَ يَا ابْنَ الْخَطَّابِ ۚ أُولَئِكَ قَوْمٌ عُجِّلَتْ لَهُمْ طَيِّبَاتُهُمْ فِي حَيَاتِهِمُ الدُّنْيَا .
'ইবনুল খাত্তাব, তুমি কি এখনো সন্দেহের মধ্যে আছ? শোনো, দুনিয়ার জীবনেই তাদেরকে তাদের প্রাপ্য চুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। (আর আমাদের প্রাপ্তি আখিরাতের জন্য সঞ্চিত আছে। ইন শা আল্লাহ।)'
উমর রহিমাহুল্লাহু বলেন, রাসুলের এ কথা শুনে আমি খুবই লজ্জিত হলাম এবং বললাম, 'হে আল্লাহর রাসুল, আপনি আমার জন্য ইস্তেগফার করুন।'

টিকাঃ
[১৪৬] সহিহ মুসলিম: হাদিস নং-১৪৭৯।

📘 সালাফদের চোখে দুনিয়া > 📄 দুনিয়া পায়ের নিচের মাটি থেকেও তুচ্ছ

📄 দুনিয়া পায়ের নিচের মাটি থেকেও তুচ্ছ


হাসান বসরি রহিমাহুল্লাহু বলেন-
আমি এমন অনেক মানুষকে দেখেছি, যাদের চোখে পদধূলির চেয়েও তুচ্ছ। দুনিয়া নিয়ে তাদের কোনো চিন্তাই ছিল না। দুনিয়ার কোথায় কী হলো—সে ব্যাপারে তাদের কোনো ভ্রুক্ষেপই ছিল না। তাদের মন-মস্তিস্কজুড়ে শুধুই পরকাল ও আখিরাত। তাই দুনিয়ার সামান্য ও সাময়িক সুখ-দুঃখকে তারা কিছুই মনে করতেন না。

টিকাঃ
[১৪৭] রাবিউল আবরার: ১/৭৩।

হাসান বসরি রহিমাহুল্লাহু বলেন-
আমি এমন অনেক মানুষকে দেখেছি, যাদের চোখে পদধূলির চেয়েও তুচ্ছ। দুনিয়া নিয়ে তাদের কোনো চিন্তাই ছিল না। দুনিয়ার কোথায় কী হলো—সে ব্যাপারে তাদের কোনো ভ্রুক্ষেপই ছিল না। তাদের মন-মস্তিস্কজুড়ে শুধুই পরকাল ও আখিরাত। তাই দুনিয়ার সামান্য ও সাময়িক সুখ-দুঃখকে তারা কিছুই মনে করতেন না।

টিকাঃ
[১৪৭] রাবিউল আবরার: ১/৭৩।

📘 সালাফদের চোখে দুনিয়া > 📄 কয়েকটি জরুরি প্রশ্ন ও তার উত্তর

📄 কয়েকটি জরুরি প্রশ্ন ও তার উত্তর


আবু বকর রহিমাহুল্লাহু বলেন, একবার জনৈк বিদ্বানকে জিজ্ঞাসা করা হয়—
'দুনিয়ার দোষ সম্পর্কে সবচেয়ে সচেতন কে?'
'যে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর কথা চিন্তা করে।'
'আমাদের কাছে মৃত্যু কেন এত অপ্রিয়?'
'কারণ, আমরা দুনিয়াকে আখিরাতের ওপর প্রাধান্য দিই।'
'মানুষ কখন উদাসীন বলে সাব্যস্ত হয়?'
'যখন দুনিয়া পেয়ে আনন্দে আত্মহারা হয়ে যায়।'
'আচ্ছা! আমাদের থেকে ইলম ও হিকমত কখন উঠে যাবে?'
'যখন তোমরা ইলম ও হিকমতের মাধ্যমে দুনিয়া অর্জনের চেষ্টা করবে।'
'আখিরাত অর্জনে অন্তরায় কোন জিনিস?'
'দুনিয়ার মায়া-মোহ।'
'যুহুদ' বা দুনিয়াবিমুখতার নিদর্শন কী?
'আখিরাতের নিরবচ্ছিন্ন চিন্তা।'
'দুনিয়ার কার জন্য? আর আখিরাত কার জন্য?'
'যে দুনিয়া তালাশ করে, দুনিয়া তার জন্য। আর যে আখিরাত তালাশ করে, আখিরাত তার জন্য।'

আবু বকর রহিমাহুল্লাহু বলেন, একবার জনৈক বিদ্বানকে জিজ্ঞাসা করা হয়—
'দুনিয়ার দোষ সম্পর্কে সবচেয়ে সচেতন কে?'
'যে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর কথা চিন্তা করে।'
'আমাদের কাছে মৃত্যু কেন এত অপ্রিয়?'
'কারণ, আমরা দুনিয়াকে আখিরাতের ওপর প্রাধান্য দিই।'
'মানুষ কখন উদাসীন বলে সাব্যস্ত হয়?'
'যখন দুনিয়া পেয়ে আনন্দে আত্মহারা হয়ে যায়।'
'আচ্ছা! আমাদের থেকে ইলম ও হিকমত কখন উঠে যাবে?'
'যখন তোমরা ইলম ও হিকমতের মাধ্যমে দুনিয়া অর্জনের চেষ্টা করবে।'
'আখিরাত অর্জনে অন্তরায় কোন জিনিস?'
'দুনিয়ার মায়া-মোহ।'
'যুহুদ' বা দুনিয়াবিমুখতার নিদর্শন কী?
'আখিরাতের নিরবচ্ছিন্ন চিন্তা।'
'দুনিয়ার কার জন্য? আর আখিরাত কার জন্য?'
'যে দুনিয়া তালাশ করে, দুনিয়া তার জন্য। আর যে আখিরাত তালাশ করে, আখিরাত তার জন্য।'

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00