📄 এই দুনিয়া গনিমত
ওয়াহহাব ইবনু মুনাব্বিহ রহিমাহুল্লাহু বলেন, আমি এক কিতাবে পড়েছি—এই দুনিয়া জ্ঞানীদের জন্য গনিমত। আর মূর্খদের জন্য বিলাসিতার জায়গা। জ্ঞানীরা গনিমত মনে করে এখানে নেক আমল করে। আর মূর্খরা বিলাসিতায় ডুবে নেক আমল থেকে বিরত থাকে। ফলে আখিরাতে তারা অপদস্থ হবে। আত্মসংশোধনের জন্য দ্বিতীয়বার দুনিয়ায় আসার তামান্না করবে। কিন্তু তাদের এই তামান্না পূর্ণ হবে না।
টিকাঃ
[১৪৩] রাবিউল আবরার: ১/৫২।
📄 সালাফদের জীবনকথা
ফুদাইল ইবনু ইয়ায রহিমাহুল্লাহু বলেন—
যদি দুনিয়ার সমস্ত ধন-সম্পদ আমাকে দেওয়া হয় এবং এই মর্মে নিশ্চয়তাও দেওয়া হয় যে, এগুলো সম্পূর্ণ হালাল এবং আখিরাতে আমার কাছ থেকে এগুলোর কোনো রূপ হিসাব গ্রহণ করা হবে না, তবুও আমি দুনিয়া ও তার ধনসম্পদ গ্রহণ করব না। বরং তোমরা যেমন মৃত প্রাণীকে ঘৃণা করো এবং নর্দমার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় গা বাঁচিয়ে চলো—আমিও ঠিক তেমন ঘৃণা করব এবং গা বাঁচিয়ে চলব।
আবুল হাশিম রহিমাহুল্লাহু বলেন—
দুনিয়ায় আমি যে-সম্পদ জমা করেছি, তা কেবলই মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। বিলাসিতার জন্য নয়।’
আবদুল্লাহ রহিমাহুল্লাহু বলেন, আমি দাউদ ইবনু রুশদ রহিমাহুল্লাহুর একটি খাতায় দেখেছি—
‘দুনিয়ার কোনো কিছু হাতছাড়া হয়ে গেলে খুশি হবে; হতাশ হবে না। কারণ, দুনিয়া হাতছাড়া হয়ে গেলে আখিরাতের দিকে ধাবিত হওয়া সহজ হয়।’
টিকাঃ
[১৪৪] রাবিউল আবরার: ১/৬০।
📄 আমাদের সুখ আখিরাতে; দুনিয়ায় নয়
হাসান ইবনু হাসান রহিমাহুল্লাহু বলেন—
একবার নবি কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাহনে করে কোথাও যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে একটি খেজুর গাছের পাশ দিয়ে অতিক্রম করার সময় তার হাতের একটি আঙুলে খেজুর-কাঁটা ফোটে। তৎক্ষণাৎ তিনি গৃহে ফিরে আসেন। তাঁর জন্য খেজুর-ডালের তৈরি একটি চৌকি পাতা হয়। চৌকির উপরে ছিল নামেমাত্র একটুকরো চাদর। মাথার নিচে ছিল খেজুরের আঁশ ভরতি একটি বালিশ।
নবিজির অসুস্থতার সংবাদ শুনে হজরত উমর ফারুক রাদিয়াল্লাহু আনহু তাকে দেখতে আসেন। তিনি এসে দেখেন ঘরের এক কোণে একটি কাঁচা চামড়া পড়ে আছে। সেখান থেকে উৎকট দুর্গন্ধ বেরুচ্ছে। উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু তখন নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল, এই দুর্গন্ধের কারণে কি আপনার কষ্ট হচ্ছে না?’ উত্তরে নবিজি বলেন, ‘তুমি চামড়াটি সরিয়ে রাখো।’ উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু চামড়াটি সরিয়ে রাখেন। এরপর বলেন, ‘এই মানবেতর অবস্থা দেখার পরও কি আমি বলতে পারি যে, আপনি মহান রবের কাছে কায়সার-কিসরার চেয়েও অধিক শ্রেষ্ঠ ও সম্মানিত। তারা তো সোনা-রূপার খাটে শয়ন করে। রেশমি পোশাক পরিধান করে।’ এ কথা শুনে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন—
أَمَا تَرْضَى أَنْ تَكُونَ لَهُمُ الدُّنْيَا وَلَنَا الْآخِرَةُ .
‘তুমি কি এটা ভালো মনে করো না যে, তাদের প্রাপ্তি দুনিয়াতেই চুকিয়ে দেওয়া হবে। আর আমাদের প্রাপ্তি আখিরাতের জন্য সংরক্ষণ করে রাখা হবে?’
উত্তরে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ‘অবশ্যই ভালো মনে করি।’
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তখন বলেন—
فَهُوَ إِنْ شَاءَ اللَّهُ كَذَلِكَ
‘ইন শা আল্লাহ এমনই হবে।
টিকাঃ
[১৪৫] জামিউল উসুল: ২/৪০৭। সনদ সহিহ। এ হাদিসটি বিভিন্ন সনদে সহিহুল বুখারি এবং সহিহ মুসলিমসহ বিভিন্ন হাদিসের কিতাবে আছে।
📄 শেষ বেলার আফসোসগুলি
হিশাম রহিমাহুল্লাহু বলেন, হাসান বসরি রহিমাহুল্লাহু বলেছেন-
'রূহ বের হওয়ার সময় মানুষ তিনটি বিষয়ে আফসোস করে-এক. সে উপার্জিত সম্পদ ভোগ করতে পারেনি। দুই. জীবনের সবগুলো স্বপ্ন তখনো ছুঁয়ে দেখা হয়নি। তিন. অনন্ত জীবনের জন্য আদৌ কোনো প্রস্তুতি গ্রহণ করেনি।
আবদুল্লাহ রহিমাহুল্লাহু বলেন, হুসাইন ইবনু আবদুর রহমান রহিমাহুল্লাহু একবার আমাকে দুনিয়ার ব্যাপারে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি কবিতা শোনান। কবিতাটির মর্মার্থ হচ্ছে-
'লাস্যময়ী দুনিয়া! তুমি বহুরূপি। বিশ্বাসঘাতক এবং রূপের জাদুকর! তুমি রূপের ঝলকে মুগ্ধ করে কতজনকে মৃত্যুর ঘাট পার করিয়েছ, তার কোনো ইয়ত্তা নেই।'