📄 ইবলিস এবং ঈসা আলাইহিস সালাম
ইসমাইল ইবনু আবি খালিদ রহিমাহুল্লাহু বলেন, একবার ঈসা আলাইহিস সালাম একটি পাথরে হেলান দিয়ে বসে ছিলেন। তখন ইবলিস তাকে লক্ষ করে বলে, ‘বাহ! আপনিও দেখি দুনিয়ার মায়া ছাড়তে পারেননি! পাথরে হেলান দিয়ে আরাম করছেন! এ কথা শোনে ঈসা আলাইহিস সালাম পাথরটিকে তার দিকে ছুড়ে মেরে বলেন, ‘এই পাথরও আমার দরকার নেই। তুই এই পাথর নিয়ে যা।’
📄 দুনিয়ার সাথে সম্পর্ক
আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন—
إِنَّمَا مَثَلِي وَمَثَلُ الدُّنْيَا كَمَثَلِ رَاكِبٍ قَالَ فِي ظِلَّ شَجَرَةٍ فِي يَوْمٍ صَائِفٍ، ثُمَّ رَاحَ وَتَرَكَهَا.
টিকাঃ
[১৪২] ওয়াকি রহিমাহুল্লাহু, যুহুদ: ১৮।
📄 এই দুনিয়া গনিমত
ওয়াহহাব ইবনু মুনাব্বিহ রহিমাহুল্লাহু বলেন, আমি এক কিতাবে পড়েছি—এই দুনিয়া জ্ঞানীদের জন্য গনিমত। আর মূর্খদের জন্য বিলাসিতার জায়গা। জ্ঞানীরা গনিমত মনে করে এখানে নেক আমল করে। আর মূর্খরা বিলাসিতায় ডুবে নেক আমল থেকে বিরত থাকে। ফলে আখিরাতে তারা অপদস্থ হবে। আত্মসংশোধনের জন্য দ্বিতীয়বার দুনিয়ায় আসার তামান্না করবে। কিন্তু তাদের এই তামান্না পূর্ণ হবে না।
টিকাঃ
[১৪৩] রাবিউল আবরার: ১/৫২।
📄 সালাফদের জীবনকথা
ফুদাইল ইবনু ইয়ায রহিমাহুল্লাহু বলেন—
যদি দুনিয়ার সমস্ত ধন-সম্পদ আমাকে দেওয়া হয় এবং এই মর্মে নিশ্চয়তাও দেওয়া হয় যে, এগুলো সম্পূর্ণ হালাল এবং আখিরাতে আমার কাছ থেকে এগুলোর কোনো রূপ হিসাব গ্রহণ করা হবে না, তবুও আমি দুনিয়া ও তার ধনসম্পদ গ্রহণ করব না। বরং তোমরা যেমন মৃত প্রাণীকে ঘৃণা করো এবং নর্দমার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় গা বাঁচিয়ে চলো—আমিও ঠিক তেমন ঘৃণা করব এবং গা বাঁচিয়ে চলব।
আবুল হাশিম রহিমাহুল্লাহু বলেন—
দুনিয়ায় আমি যে-সম্পদ জমা করেছি, তা কেবলই মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। বিলাসিতার জন্য নয়।’
আবদুল্লাহ রহিমাহুল্লাহু বলেন, আমি দাউদ ইবনু রুশদ রহিমাহুল্লাহুর একটি খাতায় দেখেছি—
‘দুনিয়ার কোনো কিছু হাতছাড়া হয়ে গেলে খুশি হবে; হতাশ হবে না। কারণ, দুনিয়া হাতছাড়া হয়ে গেলে আখিরাতের দিকে ধাবিত হওয়া সহজ হয়।’
টিকাঃ
[১৪৪] রাবিউল আবরার: ১/৬০।