📄 এই তো দুনিয়া
নু'মান ইবনু মুনজিরের কন্যা হুরাকা একবার মুয়াবিয়া ইবনু আবু সুফিয়ান রহিমাহুল্লাহুর কাছে এলে তিনি বলেন, আপনাদের অতীত নিয়ে কিছু আলোচনা করুন। হুরাকা বলেন, 'সংক্ষেপে বলব না বিস্তারিত?' মুয়াবিয়া বলেন, 'সংক্ষেপেই বলুন।' হুরাকা তখন বলতে শুরু করেন, 'এক সময় আমরা অনেক ধনী ছিলাম। কোনো কিছুর অভাব ছিল না আমাদের। আরবের সবাই তখন আমাদের দিকে তাকিয়ে থাকত। আমাদেরকে সমীহ করত। আমাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখতে পারাকে নিজেদের সৌভাগ্যের কারণ মনে করত। কিন্তু এখন আর সে অবস্থা নেই। এখন আমরাই অন্যদের দিকে তাকিয়ে থাকি। অন্যদের ক্ষতির ভয়ে সব সময় তটস্থ থাকি। একসময় আমরা শহরের প্রতিটি মানুষের দেখা-শুনা করতাম। তারা আমাদের প্রজা ছিল। এখন আমরা তাদের প্রজা বনে গেছি। দুনিয়ার চরিত্র বড়ই অদ্ভুত। সে আজ এর কাছে ধরা দেয় তো কাল ওর কাছে। দুনিয়ার সম্পদ কখনো কোথাও স্থির থাকে না। একারণে দুনিয়া নিয়ে ভাবা বুদ্ধিমানের কাজ নয়।
এরপর তিনি নিচের কবিতাটি আবৃত্তি করেন-
فَبَيْنَا نَسُوسُ النَّاسَ فِي كُلِّ بَلْدَةٍ * إِذَا نَحْنُ فِيهِمْ سُوقَةٌ فَأُفِّ لِدُنْيَا لَا يَدُومُ نَعِيمُهَا * تَقَلَّبُ تَارَاتٍ بِنَا وَتَصَرَّفُ
প্রতিটি শহর শাসন করতাম ছিলাম মোরা রাজা,
দেশ হারিয়ে আজ আমরা বনে গেলাম প্রজা।
দুনিয়াকে দেখে আফসোস হয় হেঁটে চলে তার পায়ে,
📄 দুনিয়া এক স্বপ্নের মতো
দুনিয়া এক স্বপ্নের মতো তার সুখ থাকে না স্থির চলে ডানে-বায়ে।
হুসাইন ইবনু আবদুল্লাহ রহিমাহুল্লাহ বলেন-
إِذَا لَمْ يَعِظْنِي وَاعِظُ مِنْ جَوَارِحِي لِنَفْعِ فَمَا شَيْءٌ سِوَاهُ بِنَافِعِي
أُؤَمِّلُ دُنْيَا أَرْتَجِي مِنْ حِلَابِهَا * غِلَالَةَ سُمَّ مُورِدِ الْمَوْتِ نَاقِعِ
وَكَالْخَالِمِ الْمَسْرُورِ عِنْدَ مَنَامِهِ * بِلَذَّةِ أَضْغَاتٍ لِأَحْلَامِ هَاجِعِ
فَلَمَّا تَوَلَّى اللَّيْلُ وَلَّى سُرُورُهُ * وَعَادَتْ عَلَيْهِ عَاطِفَاتُ الْفَجَائِعِ
আমার নিজের অঙ্গগুলি উপকার করেনি যখন,
অন্য কিছু করবে কি আর আমার উপকার তখন?
এই দুনিয়ায় আশা-ভরসা হাসিল করে চলছি আমি
সকাল-সন্ধ্যা সাঁঝে,
একদিন তবে এই দুনিয়া পৌঁছাবে তো মৃত্যুর ঘাঁটে
নিবে কবর মাঝে।
এই দুনিয়া স্বপ্নের মতো আসে সুখ ঘুমের ঘোরে,
ঘুম ভাঙলে স্বপ্নগুলো যায় যে চলে দলে দলে।
রাত শেষে স্বপ্নেরা তো যায় যে চলে তাদের বাড়ি,
সকাল হলেই বিষাদেরা আসে আবার সারি সারি।
📄 অন্তমিলহীন কবিতা
আবু আজাজা রহিমাহুল্লাহু বলেন, বনি আসাদের জনৈক কবি আমাকে দুটো কবিতা শুনিয়েছেন। কবিতা দুটির ভাবার্থ হচ্ছে—
'দুনিয়া মানুষকে প্রথমে একটু সুখ দেয়। এরপর থেকে ক্রমাগত দুঃখ দিতে থাকে। দুনিয়া একেবারেই ক্ষণস্থায়ী। কাজেই দুনিয়ার জন্য দৌড়ঝাঁপ করা কিংবা দু-ফোঁটা অশ্রু বিসর্জন দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ নয়।?