📘 সালাফদের চোখে দুনিয়া > 📄 দুনিয়ার ক্ষতি আছে

📄 দুনিয়ার ক্ষতি আছে


আবু বকর রহিমাহুল্লাহ বলেন, আলি ইবনু আবদুল্লাহ রহিমাহুল্লাহ একটি কবিতায় বলেন—
لِمَا تُوعِدُ الدُّنْيَا بِهِ مِنْ شُرُورِهَا * يَكُونُ بُكَاءُ الطَّفْلِ سَاعَةَ يُوضَعُ
وَإِلَّا فَمَا يُبْكِيهِ مِنْهَا وَإِنَّهَا * لَأَفْسَحُ مِمَّا كَانَ فِيهِ وَأَوْسَعُ
এই দুনিয়ায় আছে ক্ষতি লুকোচুরির কিছু নেই,
তার ক্ষতি থেকে বাঁচতে সতর্ক করে সে নিজেই।
এই দুনিয়ায় নাইরে সুখ আছে কেবল ক্ষয়,
তাই তো শিশু জন্মের সময় কাঁদতে কেবল রয়।
নয়তো সে কাঁদবে কেন দুনিয়া কি ছোট?
মাতৃগর্ভের চেয়ে সে নেহায়াত বড়।

📘 সালাফদের চোখে দুনিয়া > 📄 কবিতার আকুতি

📄 কবিতার আকুতি


আবদুল্লাহ রহিমাহুল্লাহু বলেন, কুরাইশ গোত্রের এক ভদ্রলোক আমাকে নিচের কবিতাটি শুনিয়েছেন—
মানুষ যত সাফল্যই অর্জন করুক না কেন যুগের দুর্বিপাকে একসময় তাকে নিশ্চিহ্ন হতেই হবে। হিযাযের বনু আবদুস সামসরা আজ কোথায়? বনু মারওয়ানের বীরসেনানিরা আজ কোথায়? তারা হারিয়ে গেছে কালের গর্ভে। ওই বীরবাহাদুররা আজ কোথায়— যাদের কঠিন হামলায় রণক্ষেত্রের মোড় ঘুরে যেত? তারা আজ কোথায় যারা বাহনে বসেই শিকার করতে সিদ্ধহস্ত ছিল? যুগের আবর্তে তারাও আজ হারিয়ে গেছে। কেউ নেই আশেপাশে। দুনিয়া থেকে তাদের নাম-নিশানা এমনভাবে মুছে গেছে যে, কারও মনে হতে পারে, দুনিয়ার বুকে তাদের কোনোদিন জন্মই হয়নি।
যুগ মানুষের সাথে খেলায় মত্ত। খেলার ছলেই সে একদিন সকলে জীবনাবসান ঘটাবে।

📘 সালাফদের চোখে দুনিয়া > 📄 গুচ্ছকবিতা

📄 গুচ্ছকবিতা


আবদুল্লাহ রহিমাহুল্লাহু বলেন, সুলাইমান ইবনু আবিশ শায়েখ নিম্নোক্ত কবিতাগুলো আমাকে শুনিয়েছেন-
مَا زَالَتِ الدُّنْيَا مُنَقَّصَةً لَمْ يَنْجُ صَاحِبُهَا مِنَ الْبَلْوَى
دَارُ الْفَجَائِعِ وَالْهُمُومِ وَدَارُ الْبَثَّ وَالْأَحْزَانِ وَالشَّكْوَى
بَيْنَا الْفَتَى فِيمَا يُسَرُّ بِهِ إِذْ صَارَ تَحْتَ خَرَابِهَا مُلْقَى
تَقْفُو مَسَاوِيهَا مَحَاسِنَهَا * لَا شَيْءَ بَيْنَ النَّعْيِ وَالْبُشْرَى
দুনিয়ার মুখ থাকে বিষন্ন সব সময়ের তরে,
দুনিয়াদার থাকে বিপন্ন সদা দুনিয়ার পরে।
দুনিয়া হলো চিন্তার ঘর দুঃখের কোনো নাই যে শেষ।
দুনিয়াকে ভালোবেসে পাবে না তো সুখের রেশ।
যদি কভু সুখ-আনন্দরা আসে নেমে হৃদয় কোণে,
একটু পরেই দুঃখের ভারে যাবে হৃদয় ছোট হয়ে।
দুনিয়াটা সুখের পরে গড়বে মনে দুঃখের বাড়ি,
সুখ-দুখের নেই যে ফারাক আছে শুধু আড়াআড়ি।

📘 সালাফদের চোখে দুনিয়া > 📄 এই তো দুনিয়া

📄 এই তো দুনিয়া


নু'মান ইবনু মুনজিরের কন্যা হুরাকা একবার মুয়াবিয়া ইবনু আবু সুফিয়ান রহিমাহুল্লাহুর কাছে এলে তিনি বলেন, আপনাদের অতীত নিয়ে কিছু আলোচনা করুন। হুরাকা বলেন, 'সংক্ষেপে বলব না বিস্তারিত?' মুয়াবিয়া বলেন, 'সংক্ষেপেই বলুন।' হুরাকা তখন বলতে শুরু করেন, 'এক সময় আমরা অনেক ধনী ছিলাম। কোনো কিছুর অভাব ছিল না আমাদের। আরবের সবাই তখন আমাদের দিকে তাকিয়ে থাকত। আমাদেরকে সমীহ করত। আমাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখতে পারাকে নিজেদের সৌভাগ্যের কারণ মনে করত। কিন্তু এখন আর সে অবস্থা নেই। এখন আমরাই অন্যদের দিকে তাকিয়ে থাকি। অন্যদের ক্ষতির ভয়ে সব সময় তটস্থ থাকি। একসময় আমরা শহরের প্রতিটি মানুষের দেখা-শুনা করতাম। তারা আমাদের প্রজা ছিল। এখন আমরা তাদের প্রজা বনে গেছি। দুনিয়ার চরিত্র বড়ই অদ্ভুত। সে আজ এর কাছে ধরা দেয় তো কাল ওর কাছে। দুনিয়ার সম্পদ কখনো কোথাও স্থির থাকে না। একারণে দুনিয়া নিয়ে ভাবা বুদ্ধিমানের কাজ নয়।
এরপর তিনি নিচের কবিতাটি আবৃত্তি করেন-
فَبَيْنَا نَسُوسُ النَّاسَ فِي كُلِّ بَلْدَةٍ * إِذَا نَحْنُ فِيهِمْ سُوقَةٌ فَأُفِّ لِدُنْيَا لَا يَدُومُ نَعِيمُهَا * تَقَلَّبُ تَارَاتٍ بِنَا وَتَصَرَّفُ
প্রতিটি শহর শাসন করতাম ছিলাম মোরা রাজা,
দেশ হারিয়ে আজ আমরা বনে গেলাম প্রজা।
দুনিয়াকে দেখে আফসোস হয় হেঁটে চলে তার পায়ে,

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00