📄 দুনিয়া মানুষের দুঃখ বাড়ায়
আবদুল্লাহ রহিমাহুল্লাহু বলেন, সাইদ ইবনু মুহাম্মাদ আমেরি রহিমাহুল্লাহু একদিন আমার সামনে একটি কবিতা পাঠ করেন। কবিতাটি ছিল নিম্নরূপ-
لَقَدْ نَغَصَ الدُّنْيَا عَلَى حُبِّ أَهْلِهَا * لَهَا أَنَّهَا مَحْفُوفَةٌ بِالْمَصَائِبِ
وَلَوْ لَمْ تَكُنْ فِيهَا الْمَصَائِبُ مَا ارْتَضَى مَحَبَّتَهَا فِي حَالَةٍ ذُو تَجَارِبِ
দুনিয়া তার প্রেম দিয়ে বন্দি করছে কূপে,
[১৩৮]
দুনিয়াকে ভালোবেসে নাইরে কেউ সুখে।
দুনিয়াটা দুঃখের ঘর বিপদ আছে তাতে
দুনিয়াকে ভালোবেসে পড়ো না কেউ ফাঁকে।
বিপদহীন এই দুনিয়ায় যদিও থাকত অনেক সুখ,
জ্ঞানীরা তবু পছন্দ করত না দুনিয়ার আঁচলে লুকাতে মুখ।
অর্থাৎ, দুনিয়া মোহগ্রস্তদেরকে খুব আদর করে দুধ পান করায়। মা যেমন কোলের শিশুটিকে দুধ পান করায় ঠিক তেমন করে। তাকে কোনো প্রকার কষ্ট অনুভব করতে দেয় না। কিন্তু গোপনে সে তাদেরকে ধ্বংস করার নকশা আঁকতে থাকে। দুনিয়ার সুখ- দুঃখ কখনো স্থায়ী হয় না। আজ সুখ তো কাল দুঃখ। কাজেই দুনিয়ার সুখ-দুঃখ নিয়ে খুব বেশি আনন্দিত কিংবা ব্যথিত হওয়ার কিছু নেই। সাইদ ইবনু মুহাম্মাদ আমেরি রহিমাহুল্লাহু বলেন-
أَلَمْ تَرَهَا تَغْذُو بَنِيهَا بِدَرِّهَا * وَتَصْرَعُهُمْ آفَاتُهَا بِالْعَجَائِبِ
وَمَا الْخَيْرُ فِيهَا حِينَ يُسْعِفُ أَهْلَهُ * وَلَا الشَّرُّ إِلَّا كَالْبُرُوقِ الْكَوَاذِبِ
يَزُولَانِ عَمَّنْ كَانَ فِيهَا بِنِعْمَةٍ * وَبُؤْسٍ كَمَا زَالَتْ صُدُورِ الْكَوَاكِبِ
দুনিয়াকে দেখনি কি তুমি খুব আদরে লালন করে
স্তন্য দেয় সন্তানকে; দেয় না কভু দুঃখ তারে।
এদিকে সে—তৈরি করে নিপুণ মরণ ফাঁদ;
দুনিয়ার সুখ-দুঃখ ভিড় জমালে হৃদয় কোণে,
লাভ নাই কোনো। চলে যাবে পরক্ষণে।
এই দুনিয়ার দুঃখ-সুখ থাকে না যে প্রতি ক্ষণে
মিথ্যে এক বিজলির মতো হারিয়ে যায় দূর-অরণ্যে।
দুনিয়ার সুখ চমকের মতো এখন আছে, তখন নেই।
চমকিত এক তারার মতো একটু পরে আর নেই।
টিকাঃ
[১৩৮] [অনেক কথাই মনের খাতায় জমা হয়ে এলো। হৃদয় মাঝে স্মৃতির কথার বাতাস বয়ে গেল।]
📄 দুনিয়ার ক্ষতি আছে
আবু বকর রহিমাহুল্লাহ বলেন, আলি ইবনু আবদুল্লাহ রহিমাহুল্লাহ একটি কবিতায় বলেন—
لِمَا تُوعِدُ الدُّنْيَا بِهِ مِنْ شُرُورِهَا * يَكُونُ بُكَاءُ الطَّفْلِ سَاعَةَ يُوضَعُ
وَإِلَّا فَمَا يُبْكِيهِ مِنْهَا وَإِنَّهَا * لَأَفْسَحُ مِمَّا كَانَ فِيهِ وَأَوْسَعُ
এই দুনিয়ায় আছে ক্ষতি লুকোচুরির কিছু নেই,
তার ক্ষতি থেকে বাঁচতে সতর্ক করে সে নিজেই।
এই দুনিয়ায় নাইরে সুখ আছে কেবল ক্ষয়,
তাই তো শিশু জন্মের সময় কাঁদতে কেবল রয়।
নয়তো সে কাঁদবে কেন দুনিয়া কি ছোট?
মাতৃগর্ভের চেয়ে সে নেহায়াত বড়।
📄 কবিতার আকুতি
আবদুল্লাহ রহিমাহুল্লাহু বলেন, কুরাইশ গোত্রের এক ভদ্রলোক আমাকে নিচের কবিতাটি শুনিয়েছেন—
মানুষ যত সাফল্যই অর্জন করুক না কেন যুগের দুর্বিপাকে একসময় তাকে নিশ্চিহ্ন হতেই হবে। হিযাযের বনু আবদুস সামসরা আজ কোথায়? বনু মারওয়ানের বীরসেনানিরা আজ কোথায়? তারা হারিয়ে গেছে কালের গর্ভে। ওই বীরবাহাদুররা আজ কোথায়— যাদের কঠিন হামলায় রণক্ষেত্রের মোড় ঘুরে যেত? তারা আজ কোথায় যারা বাহনে বসেই শিকার করতে সিদ্ধহস্ত ছিল? যুগের আবর্তে তারাও আজ হারিয়ে গেছে। কেউ নেই আশেপাশে। দুনিয়া থেকে তাদের নাম-নিশানা এমনভাবে মুছে গেছে যে, কারও মনে হতে পারে, দুনিয়ার বুকে তাদের কোনোদিন জন্মই হয়নি।
যুগ মানুষের সাথে খেলায় মত্ত। খেলার ছলেই সে একদিন সকলে জীবনাবসান ঘটাবে।
📄 গুচ্ছকবিতা
আবদুল্লাহ রহিমাহুল্লাহু বলেন, সুলাইমান ইবনু আবিশ শায়েখ নিম্নোক্ত কবিতাগুলো আমাকে শুনিয়েছেন-
مَا زَالَتِ الدُّنْيَا مُنَقَّصَةً لَمْ يَنْجُ صَاحِبُهَا مِنَ الْبَلْوَى
دَارُ الْفَجَائِعِ وَالْهُمُومِ وَدَارُ الْبَثَّ وَالْأَحْزَانِ وَالشَّكْوَى
بَيْنَا الْفَتَى فِيمَا يُسَرُّ بِهِ إِذْ صَارَ تَحْتَ خَرَابِهَا مُلْقَى
تَقْفُو مَسَاوِيهَا مَحَاسِنَهَا * لَا شَيْءَ بَيْنَ النَّعْيِ وَالْبُشْرَى
দুনিয়ার মুখ থাকে বিষন্ন সব সময়ের তরে,
দুনিয়াদার থাকে বিপন্ন সদা দুনিয়ার পরে।
দুনিয়া হলো চিন্তার ঘর দুঃখের কোনো নাই যে শেষ।
দুনিয়াকে ভালোবেসে পাবে না তো সুখের রেশ।
যদি কভু সুখ-আনন্দরা আসে নেমে হৃদয় কোণে,
একটু পরেই দুঃখের ভারে যাবে হৃদয় ছোট হয়ে।
দুনিয়াটা সুখের পরে গড়বে মনে দুঃখের বাড়ি,
সুখ-দুখের নেই যে ফারাক আছে শুধু আড়াআড়ি।