📘 সালাফদের চোখে দুনিয়া > 📄 তবুও মানুষ দুনিয়া ছাড়ে না

📄 তবুও মানুষ দুনিয়া ছাড়ে না


সুফিয়ান সাওরি রহিমাহুল্লাহু দুনিয়ার ব্যাপারে বলতেন-
أَرَى أَشْقِيَاءَ النَّاسِ لَا يَسْأَمُونَهَا عَلَى أَنَّهُمْ فِيهَا عُرَاةٌ وَجُوعُ
أَرَاهَا وَإِنْ كَانَتْ تُحِبُّ كَأَنَّهَا * سَحَابَهُ صَيْفٍ عَنْ قَلِيلٍ تَقَشَّعُ
দুনিয়ার হতভাগাদের দেখি ক্ষুধা আর অভাবের ঘামে
জীবন হয় যে কয়লা, তবু দুনিয়ার প্রেমে
তাদের জমে না কখনো ময়লা। [১৩৭]
এই প্রেম শেষে আষাঢ়ের জল হয়ে নামে
তাদের জীবনে।
সকালে হাসায়, বিকেলে কাঁদায় এরপর কেটে পড়ে।

টিকাঃ
[১৩৭] দুনিয়া দুনিয়াদারদেরকে ক্ষুধা আর অভাবে রাখলেও মানুষ দুনিয়াকেই ভালোবাসে। দুনিয়ার ভালোবাসায় সামান্য ত্রুটিও থাকে না।

📘 সালাফদের চোখে দুনিয়া > 📄 তোমাকে যে কথাগুলো বলা হয়নি

📄 তোমাকে যে কথাগুলো বলা হয়নি


আবু বকর রহিমাহুল্লাহু বলেন, জনৈক জ্ঞানী আমাকে দুনিয়ার ব্যাপারে সতর্ক করে বলেন-
يَا سَاكِنَ الدُّنْيَا أَتَعْمُرُ مَسْكَنَا * لَمْ يَبْقَ فِيهِ مَعَ الْمَنِيَّةِ سَاكِنُ
الْمَوْتُ شَيْءٌ أَنْتَ تَعْلَمُ أَنَّهُ * حَقٌّ وَأَنْتَ بِذِكْرِهِ مُتَهَاوِنُ
إِنَّ الْمَنِيَّةَ لَا تُؤَامِرُ مَنْ أَتَتْ * فِي نَفْسِهِ يَوْمًا وَلَا تَسْتَأْذِنُ
وَاعْلَمْ بِأَنَّكَ لَا أَبَا لَكَ فِي الَّذِي أَصْبَحْتَ تَجْمَعُهُ لِغَيْرِكَ خَازِنُ
দুনিয়ার বাসিন্দা, শুনো তুমি করছ আবাদ যারে,
এই দুনিয়ায় আশা নিয়ে কেউ কি থাকতে পারে!
মৃত্যু তোমার অনিবার্য তুমিও জানো বটে,
এরপরও কেন হেলার চাদরে ঢাকছ বদনখানি?
মৃত্যু হলো এমন নেতা যখন মন চায় আসে,
পরামর্শ আর অনুমতি নেয় না কারও কাছে।
বহু কষ্টে, তীব্র ক্লেশে মাল জমা করেছ তুমি,
জীবন প্রদীপ নিভলে তখন সব হারাবে তুমি।
এগুলো থাকবে পড়ে দুনিয়ার এই ধূসর পাড়ে,
মালিক হবে অন্য কেউ সে কথাটাই বলছি তোরে।
আবুল খুজাঈ রহিমাহুল্লাহ বলেন, আমাকে বনু শাইবা গোত্রের জনৈক ব্যক্তি বলেছেন—
একবার আমি স্বদেশ ত্যাগ করে বসরা চলে যাই। সেখানে দীর্ঘ বিশ বছর অবস্থান করি। এরপর একদিন স্বদেশে ফিরে আসি। সমবয়সী বন্ধুদের খোঁজ করি। তখন দেখতে পাই, তাদের অনেকেই মারা গেছে। কালের আবর্তনে দুনিয়া তাদেরকে পাঠিয়ে ওপারে দিয়েছে। তারা আর এই দুনিয়াতে নেই। সেই পূর্বের আড্ডাগুলো এখন আর নেই। সরাইখানার সেই ভোজন রসিক ও সঙ্গীতজ্ঞরাও আর নেই। তাদের স্মৃতি পড়ে আছে সাকির পেয়ালায়। আমি তখন ভগ্ন হৃদয় আবৃত্তি করি—
مَجْلِسَ الْقَوْمِ الَّذِينَ * بِهِمْ تَفَرَّقَتِ الْمَنَازِلُ
أَصْبَحْتَ بَعْدَ عِمَارَةٍ * قَفْرًا تُخَرِّقُكَ الشَّمَائِلُ
এসব হলো কালের খেলা দলের সাথি কেউ নেই,
ঘর-বাড়ি সব ছেড়ে গেছে কবর এখন হলো ঠাঁই।
যেই দালান বানাতে গিয়ে জীবন করলে শেষ,
সেটাই তোমার কাল হবে যে পাবে না সুখের রেশ!
এখানে একটি কবিতা রয়ে গেছ।

📘 সালাফদের চোখে দুনিয়া > 📄 দুনিয়া মানুষের দুঃখ বাড়ায়

📄 দুনিয়া মানুষের দুঃখ বাড়ায়


আবদুল্লাহ রহিমাহুল্লাহু বলেন, সাইদ ইবনু মুহাম্মাদ আমেরি রহিমাহুল্লাহু একদিন আমার সামনে একটি কবিতা পাঠ করেন। কবিতাটি ছিল নিম্নরূপ-
لَقَدْ نَغَصَ الدُّنْيَا عَلَى حُبِّ أَهْلِهَا * لَهَا أَنَّهَا مَحْفُوفَةٌ بِالْمَصَائِبِ
وَلَوْ لَمْ تَكُنْ فِيهَا الْمَصَائِبُ مَا ارْتَضَى مَحَبَّتَهَا فِي حَالَةٍ ذُو تَجَارِبِ
দুনিয়া তার প্রেম দিয়ে বন্দি করছে কূপে,
[১৩৮]
দুনিয়াকে ভালোবেসে নাইরে কেউ সুখে।
দুনিয়াটা দুঃখের ঘর বিপদ আছে তাতে
দুনিয়াকে ভালোবেসে পড়ো না কেউ ফাঁকে।
বিপদহীন এই দুনিয়ায় যদিও থাকত অনেক সুখ,
জ্ঞানীরা তবু পছন্দ করত না দুনিয়ার আঁচলে লুকাতে মুখ।
অর্থাৎ, দুনিয়া মোহগ্রস্তদেরকে খুব আদর করে দুধ পান করায়। মা যেমন কোলের শিশুটিকে দুধ পান করায় ঠিক তেমন করে। তাকে কোনো প্রকার কষ্ট অনুভব করতে দেয় না। কিন্তু গোপনে সে তাদেরকে ধ্বংস করার নকশা আঁকতে থাকে। দুনিয়ার সুখ- দুঃখ কখনো স্থায়ী হয় না। আজ সুখ তো কাল দুঃখ। কাজেই দুনিয়ার সুখ-দুঃখ নিয়ে খুব বেশি আনন্দিত কিংবা ব্যথিত হওয়ার কিছু নেই। সাইদ ইবনু মুহাম্মাদ আমেরি রহিমাহুল্লাহু বলেন-
أَلَمْ تَرَهَا تَغْذُو بَنِيهَا بِدَرِّهَا * وَتَصْرَعُهُمْ آفَاتُهَا بِالْعَجَائِبِ
وَمَا الْخَيْرُ فِيهَا حِينَ يُسْعِفُ أَهْلَهُ * وَلَا الشَّرُّ إِلَّا كَالْبُرُوقِ الْكَوَاذِبِ
يَزُولَانِ عَمَّنْ كَانَ فِيهَا بِنِعْمَةٍ * وَبُؤْسٍ كَمَا زَالَتْ صُدُورِ الْكَوَاكِبِ
দুনিয়াকে দেখনি কি তুমি খুব আদরে লালন করে
স্তন্য দেয় সন্তানকে; দেয় না কভু দুঃখ তারে।
এদিকে সে—তৈরি করে নিপুণ মরণ ফাঁদ;
দুনিয়ার সুখ-দুঃখ ভিড় জমালে হৃদয় কোণে,
লাভ নাই কোনো। চলে যাবে পরক্ষণে।
এই দুনিয়ার দুঃখ-সুখ থাকে না যে প্রতি ক্ষণে
মিথ্যে এক বিজলির মতো হারিয়ে যায় দূর-অরণ্যে।
দুনিয়ার সুখ চমকের মতো এখন আছে, তখন নেই।
চমকিত এক তারার মতো একটু পরে আর নেই।

টিকাঃ
[১৩৮] [অনেক কথাই মনের খাতায় জমা হয়ে এলো। হৃদয় মাঝে স্মৃতির কথার বাতাস বয়ে গেল।]

📘 সালাফদের চোখে দুনিয়া > 📄 দুনিয়ার ক্ষতি আছে

📄 দুনিয়ার ক্ষতি আছে


আবু বকর রহিমাহুল্লাহ বলেন, আলি ইবনু আবদুল্লাহ রহিমাহুল্লাহ একটি কবিতায় বলেন—
لِمَا تُوعِدُ الدُّنْيَا بِهِ مِنْ شُرُورِهَا * يَكُونُ بُكَاءُ الطَّفْلِ سَاعَةَ يُوضَعُ
وَإِلَّا فَمَا يُبْكِيهِ مِنْهَا وَإِنَّهَا * لَأَفْسَحُ مِمَّا كَانَ فِيهِ وَأَوْسَعُ
এই দুনিয়ায় আছে ক্ষতি লুকোচুরির কিছু নেই,
তার ক্ষতি থেকে বাঁচতে সতর্ক করে সে নিজেই।
এই দুনিয়ায় নাইরে সুখ আছে কেবল ক্ষয়,
তাই তো শিশু জন্মের সময় কাঁদতে কেবল রয়।
নয়তো সে কাঁদবে কেন দুনিয়া কি ছোট?
মাতৃগর্ভের চেয়ে সে নেহায়াত বড়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00