📘 সালাফদের চোখে দুনিয়া > 📄 দুনিয়ার হালচাল

📄 দুনিয়ার হালচাল


আবদুল্লাহ রহিমাহুল্লাহ বলেন, আবু নাসর আল মাদিনি আমাকে দুনিয়া সম্পর্কে একটি কবিতা শোনান। কবিতাটিতে তিনি বলেন—
هَذِهِ الدَّارُ مَلَكَهَا قَبْلَنَا عُصْبَةٌ بَادُوا وَخَلَّوْهَا لَنَا
فَمَلَكْنَاهَا كَمَا قَدْ مَلَكُوا وَسَيَمْلِكُهَا أُنَاسٌ بَعْدَنَا
ثُمَّ تُفْنِيهِمْ وَتَفْنَى بَعْدَهُمْ * لَيْسَتِ الدُّنْيَا لِحَيِّ وَطَنَا
عَجَبًا لِلدَّارِ كَمْ تَخْدَعُنَا * حَسْرَةً يَا حَسْرَةً يَا حُزْنَا
এই দুনিয়ার মালিক ছিল আমাদের অনেক পূর্বসূরি,
তারা সবাই চলে গেছে এখন মালিক আমি তুমি।
খুব অচিরেই দুনিয়া ছেড়ে আমরা যাব পরপারে
ক'দিন বাদেই আমরা যাব পড়ব বাধা কবর ঘাটে।
এরপর অনেক লোকে মালিক হবে তবে,
একটা সময় দুনিয়া ছেড়ে তারাও যাবে সবে।
এই দুনিয়াটা ছাড়তে হবে গড়া যায় না বসত-বাড়ি,
আসল ঘর ওই যে কবর সেটাই হবে শেষের বাড়ি।
দুনিয়াটা এমন ভাইরে অবাক হওয়ার কিছু নাই,
দিন ফুরালে সবাই বলে হায়—রে হায় হায়!

📘 সালাফদের চোখে দুনিয়া > 📄 দুনিয়ার ভালোবাসা খুবই বিপজ্জনক

📄 দুনিয়ার ভালোবাসা খুবই বিপজ্জনক


হাসান রহিমাহুল্লাহু বলতেন-
هِيَ الدُّنْيَا تُعَذِّبُ مَنْ هَوَاهَا * وَتُورِثُ قَلْبَهُ حُزْنًا وَدَاءَ
فَإِنْ أَبْغَضْتَهَا نُجِّيتَ مِنْهَا * وَإِنْ أَحْبَبْتَهَا تَلْقَى الْبَلَاءَ
দুনিয়া তার মায়া দিয়ে সবাইকে রাখে ব্যস্ত করে,
দুঃখের ভারে বুকের সীমায় হৃদয় তখন অশ্রু ঝরে।
যদি তুমি দুনিয়ার প্রতি রাগ-অভিমান করতে পারো,
থাকবে তুমি খুব সুখেতে হৃদয়-মাঝে আসবে আলো।
তা না হলে দুঃখরা সব ভিড় জমাবে হৃদয় কোণে,
বিপদ-ভারে বুকের সীমা আসবে চেপে ছোট হয়ে।

📘 সালাফদের চোখে দুনিয়া > 📄 তবুও মানুষ দুনিয়া ছাড়ে না

📄 তবুও মানুষ দুনিয়া ছাড়ে না


সুফিয়ান সাওরি রহিমাহুল্লাহু দুনিয়ার ব্যাপারে বলতেন-
أَرَى أَشْقِيَاءَ النَّاسِ لَا يَسْأَمُونَهَا عَلَى أَنَّهُمْ فِيهَا عُرَاةٌ وَجُوعُ
أَرَاهَا وَإِنْ كَانَتْ تُحِبُّ كَأَنَّهَا * سَحَابَهُ صَيْفٍ عَنْ قَلِيلٍ تَقَشَّعُ
দুনিয়ার হতভাগাদের দেখি ক্ষুধা আর অভাবের ঘামে
জীবন হয় যে কয়লা, তবু দুনিয়ার প্রেমে
তাদের জমে না কখনো ময়লা। [১৩৭]
এই প্রেম শেষে আষাঢ়ের জল হয়ে নামে
তাদের জীবনে।
সকালে হাসায়, বিকেলে কাঁদায় এরপর কেটে পড়ে।

টিকাঃ
[১৩৭] দুনিয়া দুনিয়াদারদেরকে ক্ষুধা আর অভাবে রাখলেও মানুষ দুনিয়াকেই ভালোবাসে। দুনিয়ার ভালোবাসায় সামান্য ত্রুটিও থাকে না।

📘 সালাফদের চোখে দুনিয়া > 📄 তোমাকে যে কথাগুলো বলা হয়নি

📄 তোমাকে যে কথাগুলো বলা হয়নি


আবু বকর রহিমাহুল্লাহু বলেন, জনৈক জ্ঞানী আমাকে দুনিয়ার ব্যাপারে সতর্ক করে বলেন-
يَا سَاكِنَ الدُّنْيَا أَتَعْمُرُ مَسْكَنَا * لَمْ يَبْقَ فِيهِ مَعَ الْمَنِيَّةِ سَاكِنُ
الْمَوْتُ شَيْءٌ أَنْتَ تَعْلَمُ أَنَّهُ * حَقٌّ وَأَنْتَ بِذِكْرِهِ مُتَهَاوِنُ
إِنَّ الْمَنِيَّةَ لَا تُؤَامِرُ مَنْ أَتَتْ * فِي نَفْسِهِ يَوْمًا وَلَا تَسْتَأْذِنُ
وَاعْلَمْ بِأَنَّكَ لَا أَبَا لَكَ فِي الَّذِي أَصْبَحْتَ تَجْمَعُهُ لِغَيْرِكَ خَازِنُ
দুনিয়ার বাসিন্দা, শুনো তুমি করছ আবাদ যারে,
এই দুনিয়ায় আশা নিয়ে কেউ কি থাকতে পারে!
মৃত্যু তোমার অনিবার্য তুমিও জানো বটে,
এরপরও কেন হেলার চাদরে ঢাকছ বদনখানি?
মৃত্যু হলো এমন নেতা যখন মন চায় আসে,
পরামর্শ আর অনুমতি নেয় না কারও কাছে।
বহু কষ্টে, তীব্র ক্লেশে মাল জমা করেছ তুমি,
জীবন প্রদীপ নিভলে তখন সব হারাবে তুমি।
এগুলো থাকবে পড়ে দুনিয়ার এই ধূসর পাড়ে,
মালিক হবে অন্য কেউ সে কথাটাই বলছি তোরে।
আবুল খুজাঈ রহিমাহুল্লাহ বলেন, আমাকে বনু শাইবা গোত্রের জনৈক ব্যক্তি বলেছেন—
একবার আমি স্বদেশ ত্যাগ করে বসরা চলে যাই। সেখানে দীর্ঘ বিশ বছর অবস্থান করি। এরপর একদিন স্বদেশে ফিরে আসি। সমবয়সী বন্ধুদের খোঁজ করি। তখন দেখতে পাই, তাদের অনেকেই মারা গেছে। কালের আবর্তনে দুনিয়া তাদেরকে পাঠিয়ে ওপারে দিয়েছে। তারা আর এই দুনিয়াতে নেই। সেই পূর্বের আড্ডাগুলো এখন আর নেই। সরাইখানার সেই ভোজন রসিক ও সঙ্গীতজ্ঞরাও আর নেই। তাদের স্মৃতি পড়ে আছে সাকির পেয়ালায়। আমি তখন ভগ্ন হৃদয় আবৃত্তি করি—
مَجْلِسَ الْقَوْمِ الَّذِينَ * بِهِمْ تَفَرَّقَتِ الْمَنَازِلُ
أَصْبَحْتَ بَعْدَ عِمَارَةٍ * قَفْرًا تُخَرِّقُكَ الشَّمَائِلُ
এসব হলো কালের খেলা দলের সাথি কেউ নেই,
ঘর-বাড়ি সব ছেড়ে গেছে কবর এখন হলো ঠাঁই।
যেই দালান বানাতে গিয়ে জীবন করলে শেষ,
সেটাই তোমার কাল হবে যে পাবে না সুখের রেশ!
এখানে একটি কবিতা রয়ে গেছ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00