📄 কুরাইসি রহিমাহুল্লাহর কবিতা
আবদুল্লাহ রহিমাহুল্লাহ বলেন, আবু ইসহাক আল কুরাশি রহিমাহুল্লাহ আমাকে একটি কবিতায় বলেন-
تُنَافِسُ فِي الدُّنْيَا وَنَحْنُ نَعِيبُهَا * وَقَدْ حُذُرُتْنَا لَعَمْرِي خُطُوبُهَا
وَمَا نَحْسُبُ الْأَيَّامَ تَنْقُصُ مُدَّةً عَلَى أَنَّهَا فِينَا سَرِيعًا دَبِيبُهَا
كَأَنِّي بِرَهْطٍ يَحْمِلُونَ جِنَازَتِي إِلَى حُفْرَةٍ يُحْشَعَلَيَّ كَثِيبُهَا
فَكَمْ ثُمَّ مِنْ مُسْتَرْجِعِ مُتَوَجِّعٍ وَنَائِحَةٍ يَعْلُو عَلَيَّ نَحِيبُهَا
وَبَاكِيَةٍ تَبْكِي عَلَيَّ وَإِنَّنِي لَفِي غَفْلَةٍ عَنْ صَوْتِهَا مَا أُجِيبُهَا
দুনিয়ার মোহ রাখো তুমি আমরা ভর্ৎসনা করি তাকে,
দুনিয়ার ব্যাপারে মনে মোদের ভয়-আতঙ্ক থাকে।
কখনো ভাবিনি আমি হারিয়ে গেছে মোর দিবস-কাল,
অনেক দ্রুত কেটে যাবে তোমার-আমার জীবন-কাল।
[খুব অচিরেই পেয়ে যাব আজরাইলের দেখা, তাঁর আশা করে করে কাটছে আমার বেলা।]
আমার লাশ কাঁধে করে যাবে স্বজন দ্রুত লয়ে,
আমার সমাধিতে দেবে মাটি মুঠো, মুঠো করে।
স্বজনরা তো মলিন হবে যখন যাব তাদের ছাড়ি,
ইন্নালিল্লাহ বলে কাঁদবে আকাশ-বাতাস হবে ভারী।
কতজনে কাঁদবে তখন বিদায়ের ওই সময়টাতে,
তাদের আওয়াজ শুনব না কো পাশের ওই কবর থেকে।
📄 দুনিয়ার হালচাল
আবদুল্লাহ রহিমাহুল্লাহ বলেন, আবু নাসর আল মাদিনি আমাকে দুনিয়া সম্পর্কে একটি কবিতা শোনান। কবিতাটিতে তিনি বলেন—
هَذِهِ الدَّارُ مَلَكَهَا قَبْلَنَا عُصْبَةٌ بَادُوا وَخَلَّوْهَا لَنَا
فَمَلَكْنَاهَا كَمَا قَدْ مَلَكُوا وَسَيَمْلِكُهَا أُنَاسٌ بَعْدَنَا
ثُمَّ تُفْنِيهِمْ وَتَفْنَى بَعْدَهُمْ * لَيْسَتِ الدُّنْيَا لِحَيِّ وَطَنَا
عَجَبًا لِلدَّارِ كَمْ تَخْدَعُنَا * حَسْرَةً يَا حَسْرَةً يَا حُزْنَا
এই দুনিয়ার মালিক ছিল আমাদের অনেক পূর্বসূরি,
তারা সবাই চলে গেছে এখন মালিক আমি তুমি।
খুব অচিরেই দুনিয়া ছেড়ে আমরা যাব পরপারে
ক'দিন বাদেই আমরা যাব পড়ব বাধা কবর ঘাটে।
এরপর অনেক লোকে মালিক হবে তবে,
একটা সময় দুনিয়া ছেড়ে তারাও যাবে সবে।
এই দুনিয়াটা ছাড়তে হবে গড়া যায় না বসত-বাড়ি,
আসল ঘর ওই যে কবর সেটাই হবে শেষের বাড়ি।
দুনিয়াটা এমন ভাইরে অবাক হওয়ার কিছু নাই,
দিন ফুরালে সবাই বলে হায়—রে হায় হায়!
📄 দুনিয়ার ভালোবাসা খুবই বিপজ্জনক
হাসান রহিমাহুল্লাহু বলতেন-
هِيَ الدُّنْيَا تُعَذِّبُ مَنْ هَوَاهَا * وَتُورِثُ قَلْبَهُ حُزْنًا وَدَاءَ
فَإِنْ أَبْغَضْتَهَا نُجِّيتَ مِنْهَا * وَإِنْ أَحْبَبْتَهَا تَلْقَى الْبَلَاءَ
দুনিয়া তার মায়া দিয়ে সবাইকে রাখে ব্যস্ত করে,
দুঃখের ভারে বুকের সীমায় হৃদয় তখন অশ্রু ঝরে।
যদি তুমি দুনিয়ার প্রতি রাগ-অভিমান করতে পারো,
থাকবে তুমি খুব সুখেতে হৃদয়-মাঝে আসবে আলো।
তা না হলে দুঃখরা সব ভিড় জমাবে হৃদয় কোণে,
বিপদ-ভারে বুকের সীমা আসবে চেপে ছোট হয়ে।
📄 তবুও মানুষ দুনিয়া ছাড়ে না
সুফিয়ান সাওরি রহিমাহুল্লাহু দুনিয়ার ব্যাপারে বলতেন-
أَرَى أَشْقِيَاءَ النَّاسِ لَا يَسْأَمُونَهَا عَلَى أَنَّهُمْ فِيهَا عُرَاةٌ وَجُوعُ
أَرَاهَا وَإِنْ كَانَتْ تُحِبُّ كَأَنَّهَا * سَحَابَهُ صَيْفٍ عَنْ قَلِيلٍ تَقَشَّعُ
দুনিয়ার হতভাগাদের দেখি ক্ষুধা আর অভাবের ঘামে
জীবন হয় যে কয়লা, তবু দুনিয়ার প্রেমে
তাদের জমে না কখনো ময়লা। [১৩৭]
এই প্রেম শেষে আষাঢ়ের জল হয়ে নামে
তাদের জীবনে।
সকালে হাসায়, বিকেলে কাঁদায় এরপর কেটে পড়ে।
টিকাঃ
[১৩৭] দুনিয়া দুনিয়াদারদেরকে ক্ষুধা আর অভাবে রাখলেও মানুষ দুনিয়াকেই ভালোবাসে। দুনিয়ার ভালোবাসায় সামান্য ত্রুটিও থাকে না।