📄 দুনিয়া হলো জান্নাত কিংবা জাহান্নামের রাস্তা
আমের ইবনু হামদানি রহিমাহুল্লাহু আবৃত্তি করেন-
إِنَّمَا الدُّنْيَا إِلَى الْجَنَّةِ وَالنَّارِ طَرِيقُ
وَاللَّيَالِي مَتْجَرُ الْإِنْسَانِ وَالْأَيَّامُ سُوقُ
দুনিয়া হলো জান্নাত কি বা জাহান্নামের রাস্তা-ধার
রাত হলো হাট আর দিন হলো বাজার
📄 দুনিয়াটা সুখের স্বপ্ন
আবদুল্লাহ রহিমাহুল্লাহু বলেন, আমাকে হাসান ইবনু আবদুল্লাহ রহিমাহুল্লাহু একটি গুচ্ছকবিতা শুনিয়েছেন-
إِذَا لَمْ يَعِظْنِي وَاعِظُ مِنْ جَوَارِحِي بِنَفْعٍ فَمَا شَيْءٌ سِوَاهُ بِنَافِعِي
أُؤَمِّلُ دُنْيَا أَرْتَجِي مِنْ رَخَائِهَا * غِلَالَةَ سُمَّ مُورِدِ الْمَوْتِ نَاقِعِ
وَمَنْ يَأْمَنِ الدُّنْيَا يَكُنْ مِثْلَ آخِدٍ عَلَى الْمَاءِ خَانَتْهُ فُرُوجُ الْأَصَابِعِ
وَكَالْحَالِمِ الْمَسْرُورِ عِنْدَ مَنَامِهِ بِلَذَّةٍ أَصْغَاثٍ مِنَ لِأَحْلَامِ هَاجِعِ
فَلَمَّا تَوَلَّى اللَّيْلُ وَلَّى سُرُورُهُ وَعَادَتْ عَلَيْهِ عَاطِفَاتُ الْفَجَائِعِ
আমার হাত-পা যখন আমার ওপর করেনি কোনো প্রীতি,
অন্যরা তাই করবে না আর, এটাই হলো যুগের নীতি।
দুনিয়ারই মায়ায় পড়ে আশার জাল বুনেছি কত,
বিষ ছাড়া আর কিছুই পাইনি, হয়েছি আশা-হত।
ওহে নির্ভীক, বলছি তোমায় ভয় করো এই দুনিয়াকে,
হাতের মাঝে পানি যেমন পড়ে যাওয়ার ভয় থাকে।
দুনিয়াটা ঘুমের মাঝে সুখের স্বপ্নে বাধা,
সেই স্বপ্নটা ভেঙে গেলে সবই শুধু ধাঁ ধাঁ।
সকাল বেলা স্বপ্নের সুখ হারিয়ে যায়ে এক ফাঁকে,
ধীরে ধীরে দুঃখগুলো আসে আবার জীবন-বাঁকে।
📄 দুনিয়া দুশ্চিন্তার জায়গা
আবদুল্লাহ রহিমাহুল্লাহু বলেন, হাসান ইবনু সাকান রহিমাহুল্লাহু একদিন আমাকে নিচের কবিতাটি আবৃত্তি করে শোনান-
حَيَاتُكَ بِالْهَمِّ مَقْرُونَهُ * فَمَا تَقْطَعُ الْعَيْشَ إِلَّا بِهَم
لَذَاذَاتُ دُيْنَاكَ مَسْمُومَةٌ * فَمَا تَأْكُلُ الشَّهْدَ إِلَّا بِسُمٌ
চিন্তার ভেতর দিয়েই কাটবে তোমার দিবস-কাল;
চিন্তার মাঝেই ডুববে সুর্য, জাগবে আবার দুঃখ-সকাল।
দুনিয়ার স্বাদ বিষদুষ্ট নয় রে খাঁটি মধু,
মধু ভেবে গিলবে বিষের স্বাদই শুধু।
📄 দুনিয়া সবাইকে ধ্বংস করে
আবদুল্লাহ রহিমাহুল্লাহু বলেন, সালমান ইবনু ইয়াযিদ আল আদাই রহিমাহুল্লাহু একবার আমাকে দীর্ঘ একটি কবিতা শোনান। সেখানে তিনি বলেন-
وَيحْدُو الْجَدِيدَانِ الْجَدِيدَ إِلَى الْبِلَى * وَكَمْ مِنْ جَدِيدٍ قَدْ أَبَادَا وَبَدَّدَا
وَكَمْ أَبْلَيَا مِنْ جِدَّةٍ وَبَشَاشَةٍ * وَعُمْرٍ طَوِيلٍ أَفْنَيَاهُ وَأَبْعَدَا
وَكَمْ مِنْ عَظِيمِ الْمُلْكِ أَشْوَسَ بَاذِخٍ * تَعَاوَرَهُ الْعَصْرَانِ حَتَّى تَبَلَّدَا
وَكَمْ عَامِرٍ لَمْ يَبْقَ فِيهِنَّ سَاكِنًا * وَلَا قَى خَرَابَ الدَّهْرِ مَا كَانَ شَيَّدًا
وَكَمْ صَدَعَ الْعَصْرَانِ مِنْ شَعْبِ مَعْشَرٍ * وَأَمْرُ عَجِيبُ غَيَّبَاهُ وَأَشْهَدًا
وَكُلُّ امْرِئٍ يَوْمًا سَيُجْزَى بِفِعْلِهِ * وَكُلُّ مُوَقَّى زَادُهُ مَا تَزَوَّدَا
এই দুনিয়ার দিন-রাত্রি নতুনদের করছে পুরান;
লয়-ক্ষয়ের দিকে ডেকে অতিথিকে করছে শেষ,
এটাই হলো যুগের নিয়ম তোমরা সবাই দেখবে বেশ।
ফ্যাশন ও বিলাস প্রেমী তাদেরকেও করছে শেষ,
দীর্ঘজীবীদের প্রাণ কেড়েছে নেই যে তাদের কোনো রেশ।
কত ছিল রাজা-বাদশাহ কত ছিল ধন-দৌলত
যুগের ঝড়ে সব হারিয়েছে হৃদয় তাদের হয়েছে ক্ষত।
যত ছিল আবাদ ভূমি করছে বিরান এই দুনিয়া;
শাহি মহল, রাজ-প্রাসাদ সবই হলো শেষ,
বিরাট গোত্র, নামি বংশ টুকরো করতে পারে—
এই দুনিয়া বেশ।
অনেক আজিব করছে হাজির, এটাই তার খেলা,
এক পলকেই করে যে শেষ, এই দুনিয়ার বেলা।
আখিরাতের ময়দানে রব দেবেন কর্মফল,
রবের সামনে কথা বলার থাকবে না আর বল।
পাথেয় হিসাবে পাবে সেথায় যা করেছ অগ্রে প্রেরণ,
সেখান থেকে কোনো কিছু হব না কারও হরণ।