📘 সালাফদের চোখে দুনিয়া > 📄 কবিতার নিবেদন বুঝে নিয়ো

📄 কবিতার নিবেদন বুঝে নিয়ো


আবু বকর আল আবিদ রহিমাহুল্লাহু দুনিয়ার ব্যাপারে বলেন-
يَا خَاطِبَ الدُّنْيَا عَلَى نَفْسِهَا * إِنَّ لَهَا فِي كُلِّ يَوْمٍ خَلِيلٌ
مَا أَقْتَلَ الدُّنْيَا لِخُطَّابِهَا * تَقْتُلْهُمْ قِدْمًا قَبِيلًا قَبِيل
تَسْتَنْكِحُ الْبَعْلَ وَقَدْ وَطَنَتْ فِي مَوْضِعٍ آخَرَ مِنْهُ بَدِيلٌ
إِنِّي لَمُغْتَرُّ وَإِنَّ الْبِلَى يَعْمَلُ فِي جِسْمِي قَلِيلًا قَلِيلٌ
تَزَوَّدُوا لِلْمَوْتِ دَارًا فَقَدْ * نَادَى مُنَادِيهِ الرَّحِيلَ الرَّحِيلُ
দুনিয়া প্রেমী, বলছি তোমায় ভালোবাসো তুমি যাকে,
প্রতিদিন সে নতুন প্রেমে ব্যস্ত থাকে।
দুনিয়াকে যারা দিছে প্রস্তাব মারছে তাদের গলায় ছুড়ি,
আগে-পরে অনেককে সে হত্যা করেছে, ছিঁড়েছে জীবন-ঘুরি।
এক স্বামীকে করে বিয়ে সকাল কিংবা রাতে,
তার স্থানে অন্য স্বামীকে বিয়ের জন্য ডাকে।
দুনিয়ার শিকার আমিও। পাচ্ছি না কো সুখের সুর,
দুরাবস্থা খাচ্ছে আমায় করছে শুধু দূর দূর!
বন্ধু আমি আপন হয়ে বলছি কাব্যাকারে,
পরকালের পাথেয় জোগাও জগৎ ও সংসারে।
আর কতকাল থাকবে তুমি ধোঁকার মধু-চাকে,
গোপন থেকে একজন তবে বিদায়ের জন্য ডাকে।
আবদুল্লাহ রহিমাহুল্লাহু বলেন, অপর এক কবি আমাকে বলেছেন—
দুনিয়ার চরিত্র এবং তার প্রতি আমাদের ভালোবাসার নিবেদন দেখে আমি অবাক হই।
দুনিয়ার তো হিংসা-বিদ্বেষ শত্রুতা ছাড়া আর কিছুই দেওয়ার নেই।
হেলায়-খেলায় দুনিয়ার দিনগুলো কেটে যাচ্ছে বেশ। মৃত্যুও ধেয়ে আসছে উন্মত্ত গতিতে— কে জানে কোন দুঃখ-কূপে পড়ি হবে জীবন নিঃশেষ!
আবদুল্লাহ রহিমাহুল্লাহু বলেন, জনৈক দার্শনিক কবির দৃষ্টিতে—
দুনিয়া কেবল মিছে আশা এবং আকাঙ্ক্ষার নাম। তুমি দুনিয়া থেকে বেঁচে থাকো।
দুনিয়ার আশা হলো পশুর চারণভূমি এবং তাঁবুর মতো। তুমি দুনিয়া তাদের জন্য ছেড়ে দাও— যারা পশুর চারণভূমিতে বিচরণ করতে চায়। যারা পশুর মতো বিচরণে খুশি হয়।
যুগের দুর্বিপাক একদিন এই দুনিয়াকে ধ্বংস করে দেবে। পঙ্গু ও অসাড় করে দেবে তার ভক্তদেরকে।

📘 সালাফদের চোখে দুনিয়া > 📄 একজন মহিলার কবিতা

📄 একজন মহিলার কবিতা


আবদুল্লাহ ইবনু যুবাইর রহিমাহুল্লাহু বলেন, আমের ইবনু আবদুল্লাহ রহিমাহুল্লাহু একবার একটি কবরস্থানের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন সেখানে একজন বৃদ্ধা মহিলা দেখতে পান। বৃদ্ধার চুলগুলো ছিল এলোমেলো। চেহারায় ছিল চিন্তার ছাপ। সে কবরস্থানের পাশে বসে বারবার একটি কবিতা আবৃত্তি করছিল। জানি অনূদিত ভাষায় তার কবিতার আকুতি প্রকাশ করা যাবে না। তবুও বলছি—
آذَنَتْ زِينَةُ الْحَيَياةِ بِبَيْنِ * وَانْقِضَاءِ مِنْ أَهْلِهَا وَفَنَاءِ
এই দুনিয়ার সাজ-সজ্জা হয়ে যাবে শেষ।
চলে যাবে সকল মানুষ বাঁচবে না কেউ শেষ। [১৩৬]

টিকাঃ
[১৩৬] বাহজাতুল মাজালিস: ৩/১৪৫।

📘 সালাফদের চোখে দুনিয়া > 📄 দুনিয়ার ধোঁকায় পড়ো না

📄 দুনিয়ার ধোঁকায় পড়ো না


আবদুল্লাহ রহিমাহুল্লাহু বলেন, আমার পিতা আমাকে দুনিয়ার ব্যাপারে নসিহত করে বলেন-
دَعِ الدُّنْيَا لِنَاكِحِهَا * يَسْتَصْبِحُ مِنْ ذَبَائِحِهَا
وَلَا تَغْرُرْكَ رَائِحَةُ * تُصِيبُكَ مِنْ رَوَائِحِهَا
أَرَى الدُّنْيَا وَإِنْ عُشِقَتْ * تَدُلُّ عَلَى فَضَائِحِهَا
দুনিয়াকে দাও যে ছেড়ে
দুনিয়াবরের লাগি,
এক সকালে করবে জবাই
জীবন হবে পানি।
দুনিয়ারই ঘ্রাণে ধোঁকায় পড়ো না তুমি,
সেই ঘ্রাণই একদিন হবে তোমার বিপদ-ভূমি।
দুনিয়াকে অনেক আগে মেপেছি তবে আমি,
এই দুনিয়া দেয় যে ধোঁকা কেবল ছলনাময়ী।

📘 সালাফদের চোখে দুনিয়া > 📄 দুনিয়া হলো জান্নাত কিংবা জাহান্নামের রাস্তা

📄 দুনিয়া হলো জান্নাত কিংবা জাহান্নামের রাস্তা


আমের ইবনু হামদানি রহিমাহুল্লাহু আবৃত্তি করেন-
إِنَّمَا الدُّنْيَا إِلَى الْجَنَّةِ وَالنَّارِ طَرِيقُ
وَاللَّيَالِي مَتْجَرُ الْإِنْسَانِ وَالْأَيَّامُ سُوقُ
দুনিয়া হলো জান্নাত কি বা জাহান্নামের রাস্তা-ধার
রাত হলো হাট আর দিন হলো বাজার

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00