📄 দুনিয়া একটি মধুময় স্বপ্ন
আবু বকর রহিমাহুল্লাহু বলেন, একদিন আবু জা'ফর রহিমাহুল্লাহু আমাকে দুনিয়া সম্পর্কে একটি কবিতা পাঠ করে শোনান। কবিতার সারাংশ হলো—'দুনিয়া মধুময় স্বপ্নের মতো। মানুষ যেমন গভীর রাতে ঘুমের ঘোরে সুন্দর সুন্দর স্বপ্ন দেখে; এরপর সকাল হতে না হতেই সেই স্বপ্ন ভেঙে খানখান হয়ে যায়, দুনিয়াও ঠিক তেমনি। এই আছে; এই নেই। কিছুক্ষণ পূর্বে যে-মানুষটি সুন্দর সুন্দর স্বপ্নের কথা বলছিল, একটু পরেই মৃত্যু সংবাদ ভেসে আসে। তখন বুঝে ওঠা যায় না যে, তার স্বপ্নের সংবাদ আগে এসেছিল, নাকি মৃত্যু সংবাদ। কবির ভাষায়—
وَكَمْ نَائِم نَامَ فِي غِبْطَةٍ * أَتَتْهُ الْمَنِيَّةُ فِي نَوْمَتِهِ
وَكَمْ مِنْ مُقِيمٍ عَلَى لَذَّةٍ * دَهَتْهُ الْحَوَادِثُ فِي لَذَّتِهِ
وَكُلُّ جَدِيدٍ عَلَى ظَهْرِهَا * سَيَأْتِي الزَّمَانُ عَلَى جِدَّتِهِ
কত মানুষ ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে সুখ কামনা করে,
ঘুমের ঘোরে কামনারা আসে দলে দলে।
কত মানুষ সুখের ছোঁয়ায় কাটায় দিবস-কাল,
সুখগুলো সব করে যে দূর যুগেরই হালচাল।
দুনিয়ার বুকে এখন যারা দিব্যি হাসে খেলে,
একদিন তারা যাবে চলে নতুন প্রজন্ম এলে
📄 একদিন বিদায়-ঘন্টা বেজে উঠবে
আবদুল্লাহ রহিমাহুল্লাহ বলেন, মাহমুদ ইবনুল হাসান রহিমাহুল্লাহ একবার আমাকে নিচের কবিতাটি শোনান—
يَا أَيُّهَا الشَّيْخُ الْمُعَلِّلُ نَفْسَهُ وَالشَّيْبُ شَامِل
اعْلَمْ بِأَنَّكَ نَائِمُ فَوْقَ الْفِرَاشِ وَأَنْتَ رَاحِلْ
وَاللَّيْلُ يَطْوِي لَا يُفَتَّرُ وَالنَّهَارُ بِكَ الْمَنَازِلُ
হে বৃদ্ধ, বলছি তোমায় মনে রেখো তুমি,
ঘিরে ধরেছে বার্ধক্য তোমায় জানো সে কি তুমি?
হঠাৎ তোমার যেতে হবে এই দুনিয়া ছাড়ি,
ঘুম-সফরে থাকলেও তবু বাজবে বিদায়-ঘড়ি
দিন-রাত্রির অদল-বদল সতর্ক করছে বারবার,
সমাধির দিকে নিয়ে যাচ্ছে মঞ্জিল করছে পার। [১০২]
টিকাঃ
[১৩২] 'ভাবলেশহীন আর অলসতায় দিন কাটিও না ভাই, নয়তো তোমার পরকালের সুখের জায়গা হবে ছাই।'
📄 দুনিয়া নিয়ে গুচ্ছকবিতা
আবদুল্লাহ রহিমাহুল্লাহ বলেন, ইয়াসকুর গোত্রের জনৈক কবি একটি কবিতায় দুনিয়া সম্পর্কে বলেন—
إِنَّمَا الدُّنْيَا وَإِنْ سَرَّتْ * قَلِيلٌ مِنْ قَلِيلٍ
لَيْسَ يَخْلُو أَنْ تَبَدَّى * لَكَ فِي زِيِّ جَمِيلِ
ثُمَّ تَرْمِيكَ مِنَ الْمَأْمَنِ * بِالْخَطْبِ الْجَلِيلِ
إِنَّمَا الْعَيْشُ جِوَارُ اللهِ * فِي ظِلَّ ظليل
حَيْثُ لَا تَسْمَعُ مَا * يُؤْذِيكَ مَنْ قَالٍ وَقِيلِ
এই দুনিয়া যদিও অল্প—
খুশিতে রাখে বেশ,
তার সৌন্দর্যে আটকে রাখে
থাকে না দুঃখের লেশ।
খুব শীঘ্রই এই দুনিয়া মারবে তোমায় ছুড়ে,
তার আঘাতেই পড়বে ঝরে দূর থেকে সুদূরে।
আখিরাতে যার প্রতিবেশী হবেন মহান রব,
রহমতেরই ছায়ায় তার সুখ থাকবে সব।
সেখানেতে থাকবে সুখে বলবে না কেউ কিছু
কষ্ট দিতে লাগবে না কেউ তোমার পিছু।
📄 ভালো-মন্দ বোঝার উপায়
সাইদ ইবনু সাইদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, এক ব্যক্তি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বললেন, 'হে আল্লাহর রাসুল, আমার অবস্থা ভালো না খারাপ তা আমি কী করে বুঝব?'
উত্তরে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন-
إِذَا رَأَيْتَ كُلَّمَا طَلَبْتَ شَيْئًا مِنْ أَمْرِ الْآخِرَةِ وَابْتَغَيْتَهُ يُسِّرَ لَكَ، وَإِذَا أَرَدْتَ شَيْئًا مِنْ أَمْرِ الدُّنْيَا وَابْتَغَيْتُهُ عُسْرَ عَلَيْكَ فَأَنْتَ عَلَى حَالٍ حَسَنَةٍ، وَإِذَا كُنْتَ عَلَى خِلَافِ ذَلِكَ فَإِنَّكَ عَلَى حَالٍ قَبِيحَةٍ .
'যদি দেখো, আখিরাতের কোনো বিষয় প্রয়োজন হলে, সহজেই সেটা পেয়ে যাও কিন্তু দুনিয়ার কোনো বিষয় প্রয়োজন হলে অনেক কষ্টেও সেটা পাও না, তাহলে বুঝবে তুমি ভালো অবস্থায় আছ। আর যদি এর ব্যতিক্রম হতে দেখো, তাহলে বুঝবে, খারাপ অবস্থায় আছ। [১৩৩]
টিকাঃ
[১৩৩] জামিউল কাবির: ১/৫৯।