📄 আবু যর রাদিয়াল্লাহু আনহুর যুহদের পাঠ
আবু যর রাদিয়াল্লাহু আনহু সিরিয়া থাকাকালে তার কাছে সেখানকার গভর্নর তিনশত স্বর্ণ মুদ্রা হাদিয়া পাঠান এবং বিনয়ের সঙ্গে বলেন, আপনি যেকোনো কাজে এই মুদ্রাগুলো ব্যয় করতে পারেন। কিন্তু আবু যর রাদিয়াল্লাহু আনহু হাদিয়া গ্রহণে অপারগতা প্রকাশ করেন এবং দূতকে এই বলে ফেরত পাঠান যে, তুমি গভর্নরকে গিয়ে বলবে—'আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে দুনিয়ার ব্যাপারে সম্পূর্ণ নির্মোহ বানিয়েছেন। কাজেই আমাদের জন্য এক টুকরো গাছের ছায়া, একপাল বকরি এবং একজন বাঁদিই যথেষ্ট। ঘুম পেলে গাছের ছায়ায় শুয়ে পড়ব। সন্ধ্যায় বকরিগুলোর দুধ পান করব এবং দৈনন্দিন গৃহস্থালি কাজে বাঁদির সাহায্য নেব। ব্যস, এতটুকুই। এরচেয়ে বেশি সম্পদ আমাদের মোটেই দরকার নেই। বরং সেটা আমাদের ধ্বংসের কারণ হতে পারে।[১২৭]
টিকাঃ
[১২৭] হিলইয়াতুল আওলিয়া: ১/১৬১।
📄 সাহাবিরা যতটুকু সম্পদ রাখতেন
সালামা ইবনু নুবাতা রহিমাহুল্লাহু বলেন—
একবার আমরা হজের উদ্দেশ্যে মক্কা যাওয়ার সময় 'রাবযা' নামক স্থানে যাত্রা বিরতি করি। সংবাদ পেয়ে আবু যর রাদিয়াল্লাহু আনহু আমাদের সাথে দেখা করতে আসেন। কথা প্রসঙ্গে আমাদের একজন তাঁকে জিজ্ঞেস করেন, '현재 আপনার কী পরিমাণ সম্পদ আছে?' উত্তরে তিনি বলেন, 'কয়েকটি বকরি, দু-তিনটি উট এবং একটি গোলাম। এর বাইরে আমার আর কোনো সম্পদ নেই। উট ও বকরি আমার ছেলে দেখাশুনা করে। আর গোলামটি এক বছর পরে আজাদ হয়ে যাবে।'
📄 দ্বীনের প্রিয় স্বভাব
ওয়াহহাব ইবনু মুনাব্বিহ রহিমাহুল্লাহু বলেন-
দ্বীনের সবচেয়ে প্রিয় স্বভাব হলো দুনিয়াবিমুখতা। আর সবচেয়ে অপ্রিয় স্বভাব হলো প্রবৃত্তির তাড়নায় সাড়া দেওয়া।
📄 প্রিয়বির সতর্কবাণী
হাসান রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, একদিন নবি কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবিদেরকে উদ্দেশ্যে করে বলেন-
هَلْ مِنْكُمْ مَنْ يُرِيدُ أَنْ يُؤْتِيَهُ اللَّهُ تَعَالَى عِلْمًا بِغَيْرِ تَعَلُّمٍ، وَهُدًى بِغَيْرِ هِدَايَةٍ؟ هَلْ مِنْكُمْ مَنْ يُرِيدُ أَنْ يُذْهِبَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ عَنْهُ الْعَمَى وَيَجْعَلَهُ بَصِيرًا؟ أَلَا إِنَّهُ مَنْ رَغِبَ فِي الدُّنْيَا وَطَالَ أَمَلُهُ فِيهَا أَعْمَى اللَّهُ قَلْبَهُ عَلَى قَدْرِ ذَلِكَ، وَمَنْ زَهِدَ فِي الدُّنْيَا وَقَصُرَ أَمَلُهُ فِيهَا أَعْطَاهُ اللَّهُ عِلْمًا بِغَيْرِ تَعَلَّمٍ، وَهُدًى بِغَيْرَ هِدَايَةٍ، أَلَا إِنَّهُ سَيَكُونُ بَعْدَكُمْ قَوْمٌ لَا يَسْتَقِيمُ لَهُمُ الْمُلْكُ إِلَّا بِالْقَتْلِ وَالتَّجَبُّرِ، وَلَا الْغِنَى إِلَّا بِالْبُخْلِ وَالْفَخْرِ، وَلَا الْمَحَبَّةُ إِلَّا بِاسْتِخْرَاجِ فِي الدِّينِ وَاتَّبَاعِ الْهَوَى، أَلَا فَمَنْ أَدْرَكَ ذَلِكَ الزَّمَنَ مِنْكُمْ فَصَبَرَ لِلْفَقْرِ وَهُوَ يَقْدِرُ عَلَى الْغِنَى، وَصَبَرَ لِلْبَغْضَاءِ وَهُوَ يَقْدِرُ عَلَى الْمَحَبَّةِ، وَصَبَرَ عَلَى الذُّلِّ وَهُوَ يَقْدِرُ عَلَى الْعِزَّ، لَا يُرِيدُ بِذَلِكَ إِلَّا وَجْهَ اللَّهِ تَعَالَى، أَعْطَاهُ اللهُ تَعَالَى ثَوَابَ خَمْسِينَ صِدِّيقًا.
‘তোমাদের মধ্যে কি এমন কেউ আছে, যে চায়, মহান আল্লাহ তাকে শিক্ষা গ্রহণ ছাড়াই ইলম দান করবেন। হিদায়াত লাভের ইচ্ছা ও চেষ্টা ছাড়াই হিদায়াত দিয়ে দেবেন?
কিংবা তোমাদের মধ্যে কি এমন কেউ আছে, যে চায়, আল্লাহ স্বপ্রণোদিত হয়ে অজ্ঞতা ও অন্ধত্ব দূর করবেন এবং তাকে জ্ঞান ও দৃষ্টিশক্তি দান করবেন?
শোনো, যে-ব্যক্তি দুনিয়ার মায়ায় জড়িয়ে পড়ে এবং দুনিয়া কেন্দ্রিক বড় বড় স্বপ্ন দেখে, আল্লাহ তাকে অজ্ঞতার অন্ধকারে নিক্ষেপ করেন এবং তার অন্তরদৃষ্টি কেড়ে নেন।
আর যে-ব্যক্তি দুনিয়ার মায়া-মোহ এড়িয়ে চলে এবং সীমিত আশা নিয়ে কোনো রকম বেঁচে থাকে আল্লাহ তাকে চেষ্টা ছাড়াই ইলম দান করেন, কারও সহায়তা ও পথনির্দেশ ছাড়াই হিদায়াত দান করেন এবং তার অন্তরচোখ খুলে দেন।
সাবধান! তোমাদের পরে এমন এক জাতির আবির্ভাব ঘটবে—যারা হত্যা ও রক্তপাতকে শাসনক্ষমতা টিকিয়ে রাখার মাধ্যম মনে করবে। সচ্ছলতাকে কৃপণতা ও গর্বের বস্তু মনে করবে এবং ভালোবাসাকে ধর্মান্তর ও প্রবৃত্তি চর্চার উপলক্ষ্য বানাবে।
সাবধান! তোমাদের কেউ যদি এমন যুগের দেখা পায়, তাহলে সে যেন সচ্ছলতা অর্জনের সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও ধৈর্য সহকারে অনটনপূর্ণ জীবন যাপন করে; ভালোবাসা ও হৃদ্যতা পোষণের যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও বিদ্বেষ পোষণ করে এবং সম্মান লাভের উপযোগিতা থাকা সত্ত্বেও অপদস্থতার কষ্ট সহ্য করে।
আর মনে রেখো, যে-ব্যক্তি একমাত্র আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে এগুলো করবে, আল্লাহ তাকে ৫০ সিদ্দিকের সমপরিমাণ সওয়াব দান করবেন।[১২৮]
টিকাঃ
[১২৮] ইহইয়াউ উলমুদ্দিন: ৩/২১৯। হাদিস—মুরসাল।