📘 সালাফদের চোখে দুনিয়া > 📄 দুনিয়াবিমুখতার ফলাফল

📄 দুনিয়াবিমুখতার ফলাফল


আবু যর গিফারি রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবি কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-
مَنْ زَهِدَ فِي الدُّنْيَا أَسْكَنَ اللهُ الْحِكْمَةَ قَلْبَهُ، وَأَطْلَقَ بِهَا لِسَانَهُ، وَبَصَّرَهُ عُيُوبَ الدُّنْيَا دَاءَهَا وَدَوَاءَهَا، وَأَخْرَجَهُ مِنْهَا سَالِمًا مُسْلِمًا إِلَى دَارِ السلام .
‘যে-ব্যক্তি দুনিয়াবিমুখ হবে, আল্লাহ তাআলা জ্ঞান ও প্রজ্ঞা দ্বারা তার হৃদয়কে পূর্ণ করে দেবেন। তার মুখে প্রজ্ঞাপূর্ণ বাণীর প্রকাশ ঘটাবেন। দুনিয়ার সমস্যা ও তার প্রতিকার সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা দেবেন। অবশেষে তাকে সম্পূর্ণ নিরাপদে দুনিয়া থেকে জান্নাতের স্বপ্নীল ভুবনে পাঠাবেন।[১২৪]

টিকাঃ
[১২৪] আল ইতহাদ: ৯/৩২৯। হাদিস, মুরসাল। যয়িফ।

📘 সালাফদের চোখে দুনিয়া > 📄 সবচেয়ে বড় দুনিয়াবিমুখ

📄 সবচেয়ে বড় দুনিয়াবিমুখ


সিহাক ইবনু মুযাহিম রহিমাহুল্লাহু বলেন- এক ব্যক্তি নবি কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে এসে বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল, সবচেয়ে বড় দুনিয়াবিমুখ কে?’ উত্তরে তিনি বললেন-
مَنْ لَمْ يَنْسَ الْقَبْرَ وَالْبِلَى، وَتَرَكَ أَفْضَلَ زِينَةِ الدُّنْيَا، وَآثَرَ مَا يَبْقَى عَلَى مَا يَفْنَى، وَلَمْ يَعُدَّ غَدًا مِنْ أَيَّامِهِ، وَعَدَّ نَفْسَهُ فِي الْمَوْتَى .
'যে কবরের কথা এবং কবরে پচে-গলে যাবার কথা ভুলে না। দুনিয়ার বিলাসিতা পরিহার করে চলে। ক্ষণস্থায়ী বিষয়ের ওপর চিরস্থায়ী বিষয়কে প্রাধান্য দেয়। অনাগত ভবিষ্যৎকে বর্তমান মনে করে না; সে জন্য ব্যতিবস্ত থাকে না। বরং নিজেকে মৃতদের অন্তর্ভুক্ত মনে করে।[১২৫]

টিকাঃ
[১২৫] মুসান্নাফ ইবনু আবি শাইবা: ১৩/২২৩। হাদিস, মুরসাল।

📘 সালাফদের চোখে দুনিয়া > 📄 যে বেশি উত্তম

📄 যে বেশি উত্তম


হাসান বসরি রহিমাহুল্লাহু জনৈক সাহাবি থেকে বর্ণনা করেন, একবার সাহাবিরা নবি কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমতে উপস্থিত হয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, 'ইয়া রাসুলাল্লাহ, আমাদের মধ্যে কে সর্বাপেক্ষা উত্তম?' উত্তরে তিনি বললেন—
أَزْهَدُكُمْ فِي الدُّنْيَا وَأَرْغَبُكُمْ فِي الْآخِرَةِ .
'তোমাদের মধ্যে যে সর্বাপেক্ষা দুনিয়াবিমুখ ও আখিরাতমুখী।[১২৬]

টিকাঃ
[১২৬] তারগিব: ৪/১৫৮। হাদিস, মুরসাল।

📘 সালাফদের চোখে দুনিয়া > 📄 আবু যর রাদিয়াল্লাহু আনহুর যুহদের পাঠ

📄 আবু যর রাদিয়াল্লাহু আনহুর যুহদের পাঠ


আবু যর রাদিয়াল্লাহু আনহু সিরিয়া থাকাকালে তার কাছে সেখানকার গভর্নর তিনশত স্বর্ণ মুদ্রা হাদিয়া পাঠান এবং বিনয়ের সঙ্গে বলেন, আপনি যেকোনো কাজে এই মুদ্রাগুলো ব্যয় করতে পারেন। কিন্তু আবু যর রাদিয়াল্লাহু আনহু হাদিয়া গ্রহণে অপারগতা প্রকাশ করেন এবং দূতকে এই বলে ফেরত পাঠান যে, তুমি গভর্নরকে গিয়ে বলবে—'আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে দুনিয়ার ব্যাপারে সম্পূর্ণ নির্মোহ বানিয়েছেন। কাজেই আমাদের জন্য এক টুকরো গাছের ছায়া, একপাল বকরি এবং একজন বাঁদিই যথেষ্ট। ঘুম পেলে গাছের ছায়ায় শুয়ে পড়ব। সন্ধ্যায় বকরিগুলোর দুধ পান করব এবং দৈনন্দিন গৃহস্থালি কাজে বাঁদির সাহায্য নেব। ব্যস, এতটুকুই। এরচেয়ে বেশি সম্পদ আমাদের মোটেই দরকার নেই। বরং সেটা আমাদের ধ্বংসের কারণ হতে পারে।[১২৭]

টিকাঃ
[১২৭] হিলইয়াতুল আওলিয়া: ১/১৬১।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00