📘 সালাফদের চোখে দুনিয়া > 📄 বিদায় বেলার কথা

📄 বিদায় বেলার কথা


হাসান বসরি রহিমাহুল্লাহু বলেন, যে অসুস্থতায় হজরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু দুনিয়া থেকে বিদায় নেন, সেই অসুস্থতার সময় হজরত সালমান ফারসি রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁকে দেখতে যান এবং অনুরোধ করে বলেন, 'আমিরুল মুমিনিন, আপনি আমাকে অসিয়ত করুন।' তখন আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, 'শোনো, যদি তোমাকে অভাবিত প্রাচুর্য দান করা হয় এবং দুনিয়ার সমুদয় সম্পদ তোমার পদতলে এনে রাখা হয়, তবু তুমি নিজের প্রয়োজনের অতিরিক্ত একটি দিরহামও গ্রহণ করবে না।
মনে রেখো, যে ফজরের সালাত আদায় করে, সে আল্লাহর দায়িত্বে চলে যায়। সুতরাং আল্লাহর দায়িত্ব থেকে তুমি বের হয়ে যেয়ো না। যদি আল্লাহর দায়িত্ব থেকে বের হয়ে যাও, তাহলে আল্লাহ তাআলা উপুড় করে তোমাকে জাহান্নামের অতলে নিক্ষেপ করবেন।[১২২]

টিকাঃ
[১২২] কানযুল উম্মাল: ৭/৩৭০।

📘 সালাফদের চোখে দুনিয়া > 📄 নবিজির সবচেয়ে নিকটে থাকবে দুনিয়াবিমুখরা

📄 নবিজির সবচেয়ে নিকটে থাকবে দুনিয়াবিমুখরা


আবু যর গিফারি রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি আখিরাতে আমার প্রিয় হাবিব রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে থাকব। কেননা আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি-
إِنَّ أَقْرَبَكُمْ مِنِّي مَجْلِسًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ مَنْ خَرَجَ مِنَ الدُّنْيَا بِهَيْئَةِ مَا تَرَكْتُهُ فِيهَا ، وَإِنَّهُ وَاللَّهِ مَا مِنْكُمْ مِنْ أَحَدٍ إِلَّا وَقَدْ تَشَبَّتَ مِنْهَا بِشَيْءٍ غَيْرِي .
‘কিয়ামতের দিন তোমাদের মধ্য হতে আমার সবচেয়ে নিকটে থাকবে ওই ব্যক্তি- যে দুনিয়াকে এমনভাবে ছেড়ে দেয়, যেভাবে আমি দুনিয়াকে ছেড়ে যাচ্ছি। আল্লাহর শপথ করে বলছি, আমি ছাড়া তোমরা সবাই দুনিয়ার কোনো না কোনো প্রয়োজনে কিংবা অজুহাতে দুনিয়াকে আঁকড়ে ধরবে।[১২৩]

টিকাঃ
[১২৩] মাজমাউয যাওয়ায়েদ: ৯/৩২৭।

📘 সালাফদের চোখে দুনিয়া > 📄 দুনিয়াবিমুখতার ফলাফল

📄 দুনিয়াবিমুখতার ফলাফল


আবু যর গিফারি রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবি কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-
مَنْ زَهِدَ فِي الدُّنْيَا أَسْكَنَ اللهُ الْحِكْمَةَ قَلْبَهُ، وَأَطْلَقَ بِهَا لِسَانَهُ، وَبَصَّرَهُ عُيُوبَ الدُّنْيَا دَاءَهَا وَدَوَاءَهَا، وَأَخْرَجَهُ مِنْهَا سَالِمًا مُسْلِمًا إِلَى دَارِ السلام .
‘যে-ব্যক্তি দুনিয়াবিমুখ হবে, আল্লাহ তাআলা জ্ঞান ও প্রজ্ঞা দ্বারা তার হৃদয়কে পূর্ণ করে দেবেন। তার মুখে প্রজ্ঞাপূর্ণ বাণীর প্রকাশ ঘটাবেন। দুনিয়ার সমস্যা ও তার প্রতিকার সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা দেবেন। অবশেষে তাকে সম্পূর্ণ নিরাপদে দুনিয়া থেকে জান্নাতের স্বপ্নীল ভুবনে পাঠাবেন।[১২৪]

টিকাঃ
[১২৪] আল ইতহাদ: ৯/৩২৯। হাদিস, মুরসাল। যয়িফ।

📘 সালাফদের চোখে দুনিয়া > 📄 সবচেয়ে বড় দুনিয়াবিমুখ

📄 সবচেয়ে বড় দুনিয়াবিমুখ


সিহাক ইবনু মুযাহিম রহিমাহুল্লাহু বলেন- এক ব্যক্তি নবি কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে এসে বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল, সবচেয়ে বড় দুনিয়াবিমুখ কে?’ উত্তরে তিনি বললেন-
مَنْ لَمْ يَنْسَ الْقَبْرَ وَالْبِلَى، وَتَرَكَ أَفْضَلَ زِينَةِ الدُّنْيَا، وَآثَرَ مَا يَبْقَى عَلَى مَا يَفْنَى، وَلَمْ يَعُدَّ غَدًا مِنْ أَيَّامِهِ، وَعَدَّ نَفْسَهُ فِي الْمَوْتَى .
'যে কবরের কথা এবং কবরে پচে-গলে যাবার কথা ভুলে না। দুনিয়ার বিলাসিতা পরিহার করে চলে। ক্ষণস্থায়ী বিষয়ের ওপর চিরস্থায়ী বিষয়কে প্রাধান্য দেয়। অনাগত ভবিষ্যৎকে বর্তমান মনে করে না; সে জন্য ব্যতিবস্ত থাকে না। বরং নিজেকে মৃতদের অন্তর্ভুক্ত মনে করে।[১২৫]

টিকাঃ
[১২৫] মুসান্নাফ ইবনু আবি শাইবা: ১৩/২২৩। হাদিস, মুরসাল।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00