📄 প্রিয়তমার প্রতি স্বামীর আন্তরিক উপদেশ
আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, নবি কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে বলেছেন-
يَا عَائِشَةُ إِنْ أَرَدْتِ اللَّحُوقَ بِي فَلْيَكْفِكِ مِنَ الدُّنْيَا كَزَادِ الرَّاكِبِ، وَلَا تَسْتَخْلِقِي ثَوْبًا حَتَّى تُرَقَّعِيهِ، وَإِيَّاكِ وَمُجَالَسَةَ الْأَغْنِيَاءِ .
'হে আয়িশা, তুমি যদি আখিরাতে আমার সঙ্গে মিলিত হতে চাও, তাহলে দুনিয়ায় মুসাফিরের পাথেয়-পরিমাণ জীবিকা ও জীবনোপকরণই নিজের জন্য যথেষ্ট মনে করবে। কাপড় তালিযুক্ত করে পরার আগ পর্যন্ত সেটাকে পরিত্যক্ত বলে রেখে দেবে না। আর মনে রাখবে, কখনো ধনীদের সাথে উঠাবসা করবে না।'[১২১]
টিকাঃ
[১২১] আস সুনানুত তিরমিজি, হাদিস নং- ১৭৮১। হাদিস গরিব।
📄 হাসান বসরি রাহিমাহুল্লাহর হৃদয় ছোঁয়া নসিহত
হাসান বসরি রহিমাহুল্লাহু বলেন-
'হে আদম সন্তান, দুনিয়ার মায়া-মোহ যেন তোমাদের হৃদয়ে প্রবেশ করতে না-পারে। কারণ, দুনিয়ার মায়া-মোহ আখিরাতকে ভুলিয়ে দেয়। কাজেই দুনিয়াকে ভালোবাসার সবগুলো জানালা বন্ধ করে দাও।
হে আদম সন্তান, দুনিয়ার ধনসম্পদকে যে বড় মনে করে, পৃথিবীতে তার চেয়ে বড় বোকা আর নেই। কারণ, ধনসম্পদ একদিন শেষ হয়ে যাবে। জীবনের সূর্যটাও আস্তাচলে ডুব দেবে। তখন সম্পদ ও সন্তান কোনো কাজে আসবে না। কাজেই এখনই ওপারের পাথেয় জোগাড়ের কাজে নেমে পড়ো।'
📄 বিদায় বেলার কথা
হাসান বসরি রহিমাহুল্লাহু বলেন, যে অসুস্থতায় হজরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু দুনিয়া থেকে বিদায় নেন, সেই অসুস্থতার সময় হজরত সালমান ফারসি রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁকে দেখতে যান এবং অনুরোধ করে বলেন, 'আমিরুল মুমিনিন, আপনি আমাকে অসিয়ত করুন।' তখন আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, 'শোনো, যদি তোমাকে অভাবিত প্রাচুর্য দান করা হয় এবং দুনিয়ার সমুদয় সম্পদ তোমার পদতলে এনে রাখা হয়, তবু তুমি নিজের প্রয়োজনের অতিরিক্ত একটি দিরহামও গ্রহণ করবে না।
মনে রেখো, যে ফজরের সালাত আদায় করে, সে আল্লাহর দায়িত্বে চলে যায়। সুতরাং আল্লাহর দায়িত্ব থেকে তুমি বের হয়ে যেয়ো না। যদি আল্লাহর দায়িত্ব থেকে বের হয়ে যাও, তাহলে আল্লাহ তাআলা উপুড় করে তোমাকে জাহান্নামের অতলে নিক্ষেপ করবেন।[১২২]
টিকাঃ
[১২২] কানযুল উম্মাল: ৭/৩৭০।
📄 নবিজির সবচেয়ে নিকটে থাকবে দুনিয়াবিমুখরা
আবু যর গিফারি রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি আখিরাতে আমার প্রিয় হাবিব রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে থাকব। কেননা আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি-
إِنَّ أَقْرَبَكُمْ مِنِّي مَجْلِسًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ مَنْ خَرَجَ مِنَ الدُّنْيَا بِهَيْئَةِ مَا تَرَكْتُهُ فِيهَا ، وَإِنَّهُ وَاللَّهِ مَا مِنْكُمْ مِنْ أَحَدٍ إِلَّا وَقَدْ تَشَبَّتَ مِنْهَا بِشَيْءٍ غَيْرِي .
‘কিয়ামতের দিন তোমাদের মধ্য হতে আমার সবচেয়ে নিকটে থাকবে ওই ব্যক্তি- যে দুনিয়াকে এমনভাবে ছেড়ে দেয়, যেভাবে আমি দুনিয়াকে ছেড়ে যাচ্ছি। আল্লাহর শপথ করে বলছি, আমি ছাড়া তোমরা সবাই দুনিয়ার কোনো না কোনো প্রয়োজনে কিংবা অজুহাতে দুনিয়াকে আঁকড়ে ধরবে।[১২৩]
টিকাঃ
[১২৩] মাজমাউয যাওয়ায়েদ: ৯/৩২৭।