📄 বিদায় বেলার অশ্রুগুলো
হাসান বসরি রহিমাহুল্লাহু বলেন-
হজরত সালমান ফারসি রাদিয়াল্লাহু আনহুর মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এলে তিনি কাঁদতে থাকেন। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয়, 'আপনি রাসুলের প্রিয় সাহাবি হওয়া সত্ত্বেও কাঁদছেন কেন?' উত্তরে তিনি বলেন, 'দুনিয়া ছেড়ে চলে যাচ্ছি বলে আমি কাঁদছি না, বরং আমি কাঁদছি প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটি কথা মনে করে। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের থেকে এই অঙ্গীকার নিয়েছিলেন যে, দুনিয়ায় যেন আমাদের অর্থ-সম্পদ একজন মুসাফিরের পাথেয়-পরিমাণ থাকে; এরচেয়ে বেশি না হয়। কিন্তু আমার কাছে একজন মুসাফিরের চেয়েও বেশি সম্পদ আছে। আমি রাসুলের সঙ্গে কৃত সেই ওয়াদা পূরণ করতে না-পেরে কাঁদছি।'
একথা বলার কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি ইন্তেকাল করেন। ইন্তেকালের পর তার সমুদয় সম্পত্তি হিসেব করে দেখা গেল, তা ৩০ দিরহাম মূল্যের কাছাকাছি। [১২০]
টিকাঃ
[১২০] তারগিব: ৪/১৬৬। সনদ সহিহ।
📄 প্রিয়তমার প্রতি স্বামীর আন্তরিক উপদেশ
আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, নবি কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে বলেছেন-
يَا عَائِشَةُ إِنْ أَرَدْتِ اللَّحُوقَ بِي فَلْيَكْفِكِ مِنَ الدُّنْيَا كَزَادِ الرَّاكِبِ، وَلَا تَسْتَخْلِقِي ثَوْبًا حَتَّى تُرَقَّعِيهِ، وَإِيَّاكِ وَمُجَالَسَةَ الْأَغْنِيَاءِ .
'হে আয়িশা, তুমি যদি আখিরাতে আমার সঙ্গে মিলিত হতে চাও, তাহলে দুনিয়ায় মুসাফিরের পাথেয়-পরিমাণ জীবিকা ও জীবনোপকরণই নিজের জন্য যথেষ্ট মনে করবে। কাপড় তালিযুক্ত করে পরার আগ পর্যন্ত সেটাকে পরিত্যক্ত বলে রেখে দেবে না। আর মনে রাখবে, কখনো ধনীদের সাথে উঠাবসা করবে না।'[১২১]
টিকাঃ
[১২১] আস সুনানুত তিরমিজি, হাদিস নং- ১৭৮১। হাদিস গরিব।
📄 হাসান বসরি রাহিমাহুল্লাহর হৃদয় ছোঁয়া নসিহত
হাসান বসরি রহিমাহুল্লাহু বলেন-
'হে আদম সন্তান, দুনিয়ার মায়া-মোহ যেন তোমাদের হৃদয়ে প্রবেশ করতে না-পারে। কারণ, দুনিয়ার মায়া-মোহ আখিরাতকে ভুলিয়ে দেয়। কাজেই দুনিয়াকে ভালোবাসার সবগুলো জানালা বন্ধ করে দাও।
হে আদম সন্তান, দুনিয়ার ধনসম্পদকে যে বড় মনে করে, পৃথিবীতে তার চেয়ে বড় বোকা আর নেই। কারণ, ধনসম্পদ একদিন শেষ হয়ে যাবে। জীবনের সূর্যটাও আস্তাচলে ডুব দেবে। তখন সম্পদ ও সন্তান কোনো কাজে আসবে না। কাজেই এখনই ওপারের পাথেয় জোগাড়ের কাজে নেমে পড়ো।'
📄 বিদায় বেলার কথা
হাসান বসরি রহিমাহুল্লাহু বলেন, যে অসুস্থতায় হজরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু দুনিয়া থেকে বিদায় নেন, সেই অসুস্থতার সময় হজরত সালমান ফারসি রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁকে দেখতে যান এবং অনুরোধ করে বলেন, 'আমিরুল মুমিনিন, আপনি আমাকে অসিয়ত করুন।' তখন আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, 'শোনো, যদি তোমাকে অভাবিত প্রাচুর্য দান করা হয় এবং দুনিয়ার সমুদয় সম্পদ তোমার পদতলে এনে রাখা হয়, তবু তুমি নিজের প্রয়োজনের অতিরিক্ত একটি দিরহামও গ্রহণ করবে না।
মনে রেখো, যে ফজরের সালাত আদায় করে, সে আল্লাহর দায়িত্বে চলে যায়। সুতরাং আল্লাহর দায়িত্ব থেকে তুমি বের হয়ে যেয়ো না। যদি আল্লাহর দায়িত্ব থেকে বের হয়ে যাও, তাহলে আল্লাহ তাআলা উপুড় করে তোমাকে জাহান্নামের অতলে নিক্ষেপ করবেন।[১২২]
টিকাঃ
[১২২] কানযুল উম্মাল: ৭/৩৭০।