📄 দুনিয়াবিমুখতার সুখ
আবু ওয়াকিদ আল লাইছি রহিমাহুল্লাহু বলেন-
تَابَعْنَا الْأَعْمَالَ وَلَمْ نَجِدْ شَيْئًا أَبْلَغَ فِي طَلَبِ الْآخِرَةِ مِنَ الزُّهْدِ فِي الدُّنْيَا .
'ছোট্ট এই জীবনে আমি অনেক আমল করেছি। সেগুলোর মধ্য থেকে সবচেয়ে বড় আমলটি খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু আখিরাত কামনায় এই দুনিয়া ত্যাগ করার চেয়ে বড় কোনো আমল আমি খুঁজে পাইনি।[১১৯]
টিকাঃ
[১১৯] ইমাম ওয়াকি রহিমাহুল্লাহু যুহুদ: ১/২১৯।
📄 এক কথায় সুখের সন্ধান
নজর ইবনু ইসমাইল রহিমাহুল্লাহু বলেন, একবার আমার কয়েকজন শাইখ আবদুল্লাহ ইবনু উতবা রহিমাহুল্লাহুর সঙ্গে দেখা করতে যান। তাদেরকে দেখে তিনি দীর্ঘ সময় চুপ করে থাকেন। এরপর বলেন, 'আমি কি তোমাদেরকে এক কথায় সমস্ত কল্যাণের সন্ধান দেবো?' উত্তরে শাইখগণ বলেন, 'জি, আপনি এক কথায় আমাদেরকে পরকালের সুখের সন্ধান দিন।।' তখন তিনি বলেন, 'দুনিয়াবিমুখতার মধ্যেই পরকালীন সমস্ত সুখ নিহিত। অতএব, তোমরা যদি দুনিয়াবিমুখতার গুণ নিয়ে আখিরাতে যেতে পারো, তবে তোমাদের কোনো ভয় নেই। তোমরা সেখানে সম্পূর্ণ নিরাপদ ও নিশ্চিন্ত থাকবে।'
📄 দুনিয়াবিমুখতার উপকার
আলি রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন- যে-ব্যক্তি দুনিয়াবিমুখ হবে, তার জন্য দুনিয়ার সব কষ্ট সহ্য করা এবং বিপদাপদে ধৈর্যধারণ করা অপেক্ষাকৃত সহজ হবে। আর যে-ব্যক্তি সব সময় মৃত্যুকে স্মরণ করবে, সে ধারণার চেয়েও দ্রুত নেক আমল করতে সক্ষম হবে।
📄 বিদায় বেলার অশ্রুগুলো
হাসান বসরি রহিমাহুল্লাহু বলেন-
হজরত সালমান ফারসি রাদিয়াল্লাহু আনহুর মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এলে তিনি কাঁদতে থাকেন। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয়, 'আপনি রাসুলের প্রিয় সাহাবি হওয়া সত্ত্বেও কাঁদছেন কেন?' উত্তরে তিনি বলেন, 'দুনিয়া ছেড়ে চলে যাচ্ছি বলে আমি কাঁদছি না, বরং আমি কাঁদছি প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটি কথা মনে করে। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের থেকে এই অঙ্গীকার নিয়েছিলেন যে, দুনিয়ায় যেন আমাদের অর্থ-সম্পদ একজন মুসাফিরের পাথেয়-পরিমাণ থাকে; এরচেয়ে বেশি না হয়। কিন্তু আমার কাছে একজন মুসাফিরের চেয়েও বেশি সম্পদ আছে। আমি রাসুলের সঙ্গে কৃত সেই ওয়াদা পূরণ করতে না-পেরে কাঁদছি।'
একথা বলার কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি ইন্তেকাল করেন। ইন্তেকালের পর তার সমুদয় সম্পত্তি হিসেব করে দেখা গেল, তা ৩০ দিরহাম মূল্যের কাছাকাছি। [১২০]
টিকাঃ
[১২০] তারগিব: ৪/১৬৬। সনদ সহিহ।