📄 ঈসা নবির জীবনবেলা
উবাইদ ইবনু উমায়ের রহিমাহুল্লাহু বলেন-
ইসা আলাইহিস সালামের জীবন ছিল একেবারেই নির্ঝঞ্ঝাট। তিনি গাছের ছালবাকল ও লতাপাতা খেতেন। চামড়া ও পশমের কাপড় পরতেন। খাওয়ার মতো কিছু পেলে কৃতজ্ঞতার সাথে খেতেন। না-পেলে ধৈর্যধারণ করতেন। কখনো কারও কাছে হাত পাততেন না।
তাঁর কোনো সন্তান ছিল না। কাজেই দ্বীনি কাজে কোনো রকম পিছুটান ছিল না। সন্তান কেন্দ্রিক বিশেষ ঝামেলা ও দুঃখ কষ্টও ছিল না। তার কোনো ঘরবাড়িও ছিল না। তাই নিরাপত্তা জনিত পেরেশানিও ছিল না। যেখানে রাত হতো, সেখানেই তিনি নিশ্চিন্তে শুয়ে পড়তেন। এই দুনিয়ার মায়া তাকে কখনো আটকাতে পারেনি। দুনিয়ার ভালোবাসা তাঁকে কখনো গ্রাস করতে পারেনি। তিনি মহান রবকে অনেক ভালোবাসতেন。
আবু মুসলিম ইবনু সাইদ রহিমাহুল্লাহু বলেন- একদিন আমরা 'বনু হানিফা' গোত্রের এক মজলিসে বসা ছিলাম। তখন আমাদের পাশ দিয়ে এক ভদ্রলোক অতিক্রম করেন। তাকে বেশ চিন্তিত ও বিমর্ষ দেখাচ্ছিল। তিনি আমাদেরকে সালাম দিয়ে সামনে চলে যান। এরপর কী মনে করে যেন পেছনে ফিরে আসেন এবং আমাদেরকে সম্বোধন করে বলেন, 'বন্ধুগণ, দিন-রাতের আবর্তন দেখে দেখে আমি ক্লান্ত ও হতাশ হয়ে গেছি। কেউ কি আমাকে এই ক্লান্তি ও হতাশা থেকে মুক্তি দিতে পারবে?'
একথা বলে তিনি সামনে চলে যান। এরপর আবার ফিরে এসে বলেন- 'পাপমুক্ত হৃদয়কে ধন্যবাদ। রবের ইবাদাতে অগ্রগামী অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে ধন্যবাদ। গুনাহমুক্ত দেহকে ধন্যবাদ। যাদের এমন দেহ, মন ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ তারা কখনো ক্লান্ত ও হতাশ হয় না। তাদের ইবাদতে ভাটা পড়ে না। বরং দিন বাড়তে বাড়তে একপর্যায়ে মহান রবের সঙ্গে আত্মিক সম্পর্ক গড়ে উঠে। তখন তারা আল্লাহর সব ধরনের ফায়সালায় সন্তুষ্ট থাকে। তাদের কাছে দুনিয়া ও আখিরাত বরাবর হয়ে যায়। কারণ, তারা জানে, আখিরাতে গেলে আল্লাহ তাআলা তাদেরকে দুনিয়ার আমলের বিনিময়ে সুখ দেবেন। জান্নাত দেবেন। সুখের চাবি দেবেন। আর যদি দুনিয়ায় তারা দীর্ঘজীবী হয়, তাহলেও তাদের আফসোস নেই। কারণ, তারা ওপারের জন্য আরও বেশি পরিমাণে পাথেয় জোগাতে পারবে।'
এতটুকু বলেই লোকটি চলে যায়। আবু মুসলিম রহিমাহুল্লাহু বলেন, তার কথাগুলো চিন্তা করে আমি অনেক কেঁদেছি।
📄 দুনিয়াবিমুখতা দেহ-মনে প্রশান্তি বয়ে আনে
হজরত উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন- 'এই ধূসর দুনিয়ার প্রতি বিমুখতা দেহ ও মনের জন্য প্রশান্তিস্বরূপ।' (কেননা যার লাখ টাকা নেই, তার লাখ টাকার চিন্তাও নেই। আর যার চিন্তা নেই, তার দেহ মন সব সময়ই ভালো থাকে। [১১৭]
টিকাঃ
[১১৭] কানযুল উম্মাল: ৫/১৮৪। সনদে সমস্যা আছে। তবে এ বর্ণনাটি মারফু হাদিস হিসেবে সহিহ সনদে বর্ণনা করা হয়েছে।
📄 কিয়ামতের দিন দুনিয়াবিমুখগণ পোশাক পরিহিত থাকবে
হাসান বসরি রহিমাহুল্লাহু-
'কিয়ামতের দিন সবাইকে বিবস্ত্র অবস্থায় সমবেত করা হবে। কেবল যাহিদগণ ব্যতীত। [১১৮]
টিকাঃ
[১১৮] হাসান বসরি, ইবনুল জাওযি, পৃ: ৩৯
📄 দুনিয়াবিমুখতার সুখ
আবু ওয়াকিদ আল লাইছি রহিমাহুল্লাহু বলেন-
تَابَعْنَا الْأَعْمَالَ وَلَمْ نَجِدْ شَيْئًا أَبْلَغَ فِي طَلَبِ الْآخِرَةِ مِنَ الزُّهْدِ فِي الدُّنْيَا .
'ছোট্ট এই জীবনে আমি অনেক আমল করেছি। সেগুলোর মধ্য থেকে সবচেয়ে বড় আমলটি খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু আখিরাত কামনায় এই দুনিয়া ত্যাগ করার চেয়ে বড় কোনো আমল আমি খুঁজে পাইনি।[১১৯]
টিকাঃ
[১১৯] ইমাম ওয়াকি রহিমাহুল্লাহু যুহুদ: ১/২১৯।