📄 দুনিয়াবিমুখদের জন্য সুসংবাদ
আলি ইবনু আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন-
طوبَى لِلزَّاهِدِينَ فِي الدُّنْيَا، وَالرَّاغِبِينَ فِي الْآخِرَةِ، أُولَئِكَ قَوْمُ اتَّخَذُوا أَرْضَ اللَّهِ بِسَاطًا، وَتُرَابَهَا فِرَاشًا، وَمَاءَهَا طِيبًا، وَالدُّعَاءَ دِثَارًا
'যারা দুনিয়া ত্যাগ করে আখিরাতমুখী হয়, তাদের জন্য সুসংবাদ! যারা মাটিকে বিছানা হিসেবে, বালুকে বালিশ হিসেবে, পানিকে আহার্য হিসেবে এবং দোয়াকে আচ্ছাদন হিসেবে গ্রহণ করে—তাদেরকেই কেবল দুনিয়া ত্যাগী ও আখিরাতমুখী আখ্যা দেওয়া যায়।'
📄 আখিরাতমুখী জীবনে সুখের দোলা
আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবি কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন-
‘যে ব্যক্তি দুনিয়াকে সর্বোচ্চ লক্ষ্য বলে স্থির করে এরপর এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা ও সংগ্রাম করে, আল্লাহ দারিদ্র্যকে তার ভাগ্যলিপি করে দেন। তার পরিকল্পনা ভেস্তে দেন এবং দুনিয়ার যৎসামান্য অর্থসম্পদ দিয়ে তাকে সান্ত্বনা দেন। আর যে ব্যক্তি আখিরাতকে সর্বোচ্চ লক্ষ্য বলে স্থির করে এরপর এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা ও সাধনা করে, আল্লাহ তাকে প্রাণ-প্রাচুর্য দান করেন। সবকিছুতে তাকে দৃঢ়চেতা করে দেন এবং দুনিয়াকে তার অনুগত ও বশীভূত করে দেন।’ [১১৫]
মুহাম্মাদ ইবনু মুনকাদির তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-
الدُّنْيَا مَلْعُونَةٌ، وَمَلْعُونُ مَا فِيهَا إِلَّا مَا كَانَ مِنْهَا لِلَّهِ عَزَّ وَجَلَّ .
‘দুনিয়ার যে অংশ আল্লাহর জন্য সেটুকু ব্যতীত দুনিয়া এবং দুনিয়ার সমস্ত কিছুই অভিশপ্ত।’ [১১৬]
টিকাঃ
[১১৫] মাজমাউয যাওয়ায়েদ: ১০/২২২। সনদ, যয়িফ。
[১১৬] হিলইয়াতুল আওলিয়া: ৩/১৫৭। হাদিস, যয়িফ।
📄 দুনিয়া ত্যাগীগণ ওপারে নিশ্চিন্ত থাকবে
মুসলিম ইবনু আবদুল মালেক রহিমাহুল্লাহু বলেন-
‘যে দুনিয়ার ব্যাপারে কম চিন্তা করবে, সে আখিরাতে নিশ্চিন্ত থাকবে।’
📄 ঈসা নবির জীবনবেলা
উবাইদ ইবনু উমায়ের রহিমাহুল্লাহু বলেন-
ইসা আলাইহিস সালামের জীবন ছিল একেবারেই নির্ঝঞ্ঝাট। তিনি গাছের ছালবাকল ও লতাপাতা খেতেন। চামড়া ও পশমের কাপড় পরতেন। খাওয়ার মতো কিছু পেলে কৃতজ্ঞতার সাথে খেতেন। না-পেলে ধৈর্যধারণ করতেন। কখনো কারও কাছে হাত পাততেন না।
তাঁর কোনো সন্তান ছিল না। কাজেই দ্বীনি কাজে কোনো রকম পিছুটান ছিল না। সন্তান কেন্দ্রিক বিশেষ ঝামেলা ও দুঃখ কষ্টও ছিল না। তার কোনো ঘরবাড়িও ছিল না। তাই নিরাপত্তা জনিত পেরেশানিও ছিল না। যেখানে রাত হতো, সেখানেই তিনি নিশ্চিন্তে শুয়ে পড়তেন। এই দুনিয়ার মায়া তাকে কখনো আটকাতে পারেনি। দুনিয়ার ভালোবাসা তাঁকে কখনো গ্রাস করতে পারেনি। তিনি মহান রবকে অনেক ভালোবাসতেন。
আবু মুসলিম ইবনু সাইদ রহিমাহুল্লাহু বলেন- একদিন আমরা 'বনু হানিফা' গোত্রের এক মজলিসে বসা ছিলাম। তখন আমাদের পাশ দিয়ে এক ভদ্রলোক অতিক্রম করেন। তাকে বেশ চিন্তিত ও বিমর্ষ দেখাচ্ছিল। তিনি আমাদেরকে সালাম দিয়ে সামনে চলে যান। এরপর কী মনে করে যেন পেছনে ফিরে আসেন এবং আমাদেরকে সম্বোধন করে বলেন, 'বন্ধুগণ, দিন-রাতের আবর্তন দেখে দেখে আমি ক্লান্ত ও হতাশ হয়ে গেছি। কেউ কি আমাকে এই ক্লান্তি ও হতাশা থেকে মুক্তি দিতে পারবে?'
একথা বলে তিনি সামনে চলে যান। এরপর আবার ফিরে এসে বলেন- 'পাপমুক্ত হৃদয়কে ধন্যবাদ। রবের ইবাদাতে অগ্রগামী অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে ধন্যবাদ। গুনাহমুক্ত দেহকে ধন্যবাদ। যাদের এমন দেহ, মন ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ তারা কখনো ক্লান্ত ও হতাশ হয় না। তাদের ইবাদতে ভাটা পড়ে না। বরং দিন বাড়তে বাড়তে একপর্যায়ে মহান রবের সঙ্গে আত্মিক সম্পর্ক গড়ে উঠে। তখন তারা আল্লাহর সব ধরনের ফায়সালায় সন্তুষ্ট থাকে। তাদের কাছে দুনিয়া ও আখিরাত বরাবর হয়ে যায়। কারণ, তারা জানে, আখিরাতে গেলে আল্লাহ তাআলা তাদেরকে দুনিয়ার আমলের বিনিময়ে সুখ দেবেন। জান্নাত দেবেন। সুখের চাবি দেবেন। আর যদি দুনিয়ায় তারা দীর্ঘজীবী হয়, তাহলেও তাদের আফসোস নেই। কারণ, তারা ওপারের জন্য আরও বেশি পরিমাণে পাথেয় জোগাতে পারবে।'
এতটুকু বলেই লোকটি চলে যায়। আবু মুসলিম রহিমাহুল্লাহু বলেন, তার কথাগুলো চিন্তা করে আমি অনেক কেঁদেছি।