📄 দুনিয়াবিমুখ ব্যক্তি সবচেয়ে উত্তম
হাসান বসরি রহিমাহুল্লাহু বলেন-
একবার সাহাবায়ে কেরাম রাদিয়াল্লাহু আনহুম নবিকে জিজ্ঞাসা করেন, 'ইয়া রাসুলাল্লাহ, আমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি কে?' উত্তরে নবি কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন-
أَزْهَدُكُمْ فِي الدُّنْيَا، وَأَرْغَبُكُمْ فِي الْآخِرَةِ .
'যে দুনিয়ার ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি নির্মোহ ও আখিরাতের ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি আগ্রহী, সে-ই তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম'।[১১৩]
টিকাঃ
[১১৩] ইহইয়াউ উলুমুদ্দিন: ৩/৩২৫। হাদিস মুনকাতি, মুরসাল।
📄 দুনিয়াবিমুখরা আখিরাতে নূরের মেলায় মিলিত হবে
দাউদ ইবনু হিলাল রহিমাহুল্লাহু বলেন, হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালামের সহিফায় লিখা ছিল-
'হে দুনিয়া, তুই সৎলোকদের চোখে অত্যন্ত হীন ও তুচ্ছ। তুই একেক সময় একেক বেশ ধারণ করিস! আমি আমার প্রিয় বান্দাদের অন্তরে তোর প্রতি বিদ্ধেষ সৃষ্টি করে দিয়েছি। তারা তোর থেকে দূরে থাকতে অঙ্গীকারবদ্ধ। আমার সৃষ্টিকুলের মধ্যে তুই সবচেয়ে ঘৃণ্য ও তুচ্ছ। শুধু তুই না; তোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবকিছুই তুচ্ছ। যেদিন আমি সমস্ত মাখলুক সৃষ্টি করেছি, সেদিনই তোর ব্যাপারে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছি যে, তুই চিরকাল কারও আপন হয়ে থাকতে পারবি না; তোর জন্যও কেউ চিরকাল থাকতে পারবে না-যদিও তুই এবং তোর নাগর পরস্পরকে বুকে আগলে রাখার চেষ্টা করিস।
সুতরাং ওই পুণ্যাত্মাদের জন্য, যারা হৃদয় থেকে আমার সিদ্ধান্ত মেনে নেয়। তোকে তাচ্ছিল্যের চোখে দেখে। আখিরাতমুখী হয় এবং আমাকে পরিপূর্ণ বিশ্বাস করে।
মৃত্যুর পরে তারা নুরের মেলায় সমবেত হবে। সেখানে ফেরেশতারা তাদেরকে পরিবেষ্টন করে রাখবে। আমি তাদের প্রতি দয়াপরবশ হয়ে উন্নত মর্যাদায় উন্নীত করব। আর তারা তো আমার কাছে এটাই চেয়ে থাকে'।[১১৪]
টিকাঃ
[১১৪] হিলইয়াতুল আওলিয়া: ১০/১৫৮।
📄 দুনিয়াবিমুখদের জন্য সুসংবাদ
আলি ইবনু আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন-
طوبَى لِلزَّاهِدِينَ فِي الدُّنْيَا، وَالرَّاغِبِينَ فِي الْآخِرَةِ، أُولَئِكَ قَوْمُ اتَّخَذُوا أَرْضَ اللَّهِ بِسَاطًا، وَتُرَابَهَا فِرَاشًا، وَمَاءَهَا طِيبًا، وَالدُّعَاءَ دِثَارًا
'যারা দুনিয়া ত্যাগ করে আখিরাতমুখী হয়, তাদের জন্য সুসংবাদ! যারা মাটিকে বিছানা হিসেবে, বালুকে বালিশ হিসেবে, পানিকে আহার্য হিসেবে এবং দোয়াকে আচ্ছাদন হিসেবে গ্রহণ করে—তাদেরকেই কেবল দুনিয়া ত্যাগী ও আখিরাতমুখী আখ্যা দেওয়া যায়।'
📄 আখিরাতমুখী জীবনে সুখের দোলা
আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবি কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন-
‘যে ব্যক্তি দুনিয়াকে সর্বোচ্চ লক্ষ্য বলে স্থির করে এরপর এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা ও সংগ্রাম করে, আল্লাহ দারিদ্র্যকে তার ভাগ্যলিপি করে দেন। তার পরিকল্পনা ভেস্তে দেন এবং দুনিয়ার যৎসামান্য অর্থসম্পদ দিয়ে তাকে সান্ত্বনা দেন। আর যে ব্যক্তি আখিরাতকে সর্বোচ্চ লক্ষ্য বলে স্থির করে এরপর এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা ও সাধনা করে, আল্লাহ তাকে প্রাণ-প্রাচুর্য দান করেন। সবকিছুতে তাকে দৃঢ়চেতা করে দেন এবং দুনিয়াকে তার অনুগত ও বশীভূত করে দেন।’ [১১৫]
মুহাম্মাদ ইবনু মুনকাদির তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-
الدُّنْيَا مَلْعُونَةٌ، وَمَلْعُونُ مَا فِيهَا إِلَّا مَا كَانَ مِنْهَا لِلَّهِ عَزَّ وَجَلَّ .
‘দুনিয়ার যে অংশ আল্লাহর জন্য সেটুকু ব্যতীত দুনিয়া এবং দুনিয়ার সমস্ত কিছুই অভিশপ্ত।’ [১১৬]
টিকাঃ
[১১৫] মাজমাউয যাওয়ায়েদ: ১০/২২২। সনদ, যয়িফ。
[১১৬] হিলইয়াতুল আওলিয়া: ৩/১৫৭। হাদিস, যয়িফ।