📄 ওপারে ফেরার প্রস্তুতি নাও
হাসান ইবনু আবুল হাসান রহিমাহুল্লাহু একবার বনু 'শাকিফ' গোত্রের পাশ দিয়ে কোথাও যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে লোকেরা তাঁকে অনুরোধ করে বলল, 'শাইখ, আপনি আমাদেরকে কিছু নাসিহা করে যান।' তাদের অনুরোধের প্রেক্ষিতে তিনি বললেন-
'এটা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত যে, আল্লাহর কোনো শরিক নেই। আমাদের জন্য তিনি দুনিয়াকে মুসাফিরখানা বানিয়েছেন। দুনিয়াটা আমাদের জন্য পরীক্ষাগার। দুনিয়ায় আমাদেরকে ভালো-মন্দ যা-কিছু দেওয়া হয়, তার সবই পরীক্ষার বস্তু। দুনিয়ার সুখ-দুঃখও পরীক্ষার বস্তু। এগুলো দিয়ে মহান আল্লাহ আমাদের ইমান পরখ করতে চান। সুখে-দুঃখে আমরা কেমন আমল করি সেটা দেখতে চান। কিন্তু মানুষ এটা বুঝতে চায় না। মানুষ দিন-রাত একাকার করে দুনিয়ার পেছনে ছুটে। এভাবেই একদিন তার আয়ু শেষ হয়ে যায়। কিন্তু আখিরাতের জন্য আদৌ কোনো প্রস্তুতি নেওয়া আর হয়ে উঠে না।
তারা এটা বিশ্বাসই করতে চায় না যে, তাদের জন্মের পঞ্চাশ হাজার বছর পূর্বেই তাদের রিজিক নির্ধারিত হয়ে আছে। জীবনের অন্তিম মুহূর্ত পর্যন্ত তারা এই রিজিক পেতে থাকবে। কিন্তু আখিরাত! আখিরাত তো চেষ্টা ছাড়া অর্জন করা যায় না। যে আখিরাতের জন্য যতটুকু চেষ্টা করে, সে ততটুকুই সুফল পায়। অথচ এই আখিরাত নিয়ে তাদের কোনো চিন্তা-ভাবনাই নেই。
দুনিয়ার পেছনে ঘুরতে ঘুরতে যেদিন আয়ু শেষ হয়ে যাবে এবং জীবনর আলোঝলমল সুর্যটা অস্তাচলে ডুব দেবে, সেদিন আফসোসের অন্ত থাকবে না। কিন্তু সেদিনের আফসোস ও আক্ষেপ কোনো কাজে আসবে না। মহান আল্লাহ খালি হাতে ফিরিয়ে দেবেন সবাইকে। তাই তোমরা দুনিয়ার ব্যাপরে সতর্ক থেকো। আখিরাতের প্রতি মনোনিবেশ করো। বেলা শেষ হওয়ার আগেই ওপারে ফেরার প্রস্তুতি নিয়ো।'
হাসান ইবনু আবুল হাসান রহিমাহুল্লাহু একবার বনু 'শাকিফ' গোত্রের পাশ দিয়ে কোথাও যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে লোকেরা তাঁকে অনুরোধ করে বলল, 'শাইখ, আপনি আমাদেরকে কিছু নাসিহা করে যান।' তাদের অনুরোধের প্রেক্ষিতে তিনি বললেন-
'এটা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত যে, আল্লাহর কোনো শরিক নেই। আমাদের জন্য তিনি দুনিয়াকে মুসাফিরখানা বানিয়েছেন। দুনিয়াটা আমাদের জন্য পরীক্ষাগার। দুনিয়ায় আমাদেরকে ভালো-মন্দ যা-কিছু দেওয়া হয়, তার সবই পরীক্ষার বস্তু। দুনিয়ার সুখ-দুঃখও পরীক্ষার বস্তু। এগুলো দিয়ে মহান আল্লাহ আমাদের ইমান পরখ করতে চান। সুখে-দুঃখে আমরা কেমন আমল করি সেটা দেখতে চান। কিন্তু মানুষ এটা বুঝতে চায় না। মানুষ দিন-রাত একাকার করে দুনিয়ার পেছনে ছুটে। এভাবেই একদিন তার আয়ু শেষ হয়ে যায়। কিন্তু আখিরাতের জন্য আদৌ কোনো প্রস্তুতি নেওয়া আর হয়ে উঠে না।
তারা এটা বিশ্বাসই করতে চায় না যে, তাদের জন্মের পঞ্চাশ হাজার বছর পূর্বেই তাদের রিজিক নির্ধারিত হয়ে আছে। জীবনের অন্তিম মুহূর্ত পর্যন্ত তারা এই রিজিক পেতে থাকবে। কিন্তু আখিরাত! আখিরাত তো চেষ্টা ছাড়া অর্জন করা যায় না। যে আখিরাতের জন্য যতটুকু চেষ্টা করে, সে ততটুকুই সুফল পায়। অথচ এই আখিরাত নিয়ে তাদের কোনো চিন্তা-ভাবনাই নেই。
দুনিয়ার পেছনে ঘুরতে ঘুরতে যেদিন আয়ু শেষ হয়ে যাবে এবং জীবনর আলোঝলমল সুর্যটা অস্তাচলে ডুব দেবে, সেদিন আফসোসের অন্ত থাকবে না। কিন্তু সেদিনের আফসোস ও আক্ষেপ কোনো কাজে আসবে না। মহান আল্লাহ খালি হাতে ফিরিয়ে দেবেন সবাইকে। তাই তোমরা দুনিয়ার ব্যাপরে সতর্ক থেকো। আখিরাতের প্রতি মনোনিবেশ করো। বেলা শেষ হওয়ার আগেই ওপারে ফেরার প্রস্তুতি নিয়ো।'
📄 স্বার্থান্ধেষী আলিম ও একটি সতর্কবার্তা
ইসা আলাইহিস সালাম বলেন- হে স্বার্থান্বেষী আলিম, দুনিয়ার পেছনে তোমাদের দৌড়ঝাঁপ দেখে মনে হচ্ছে, আখিরাতের ভয়াবহ শাস্তির কথা তোমরা একেবারে ভুলেই গেছ। তোমরা দুনিয়ার সামান্য জিনিসের জন্য দিন-রাত কষ্ট করে চলেছ; কিন্তু আখিরাতের প্রতি ভ্রূক্ষেপই করছ না। অথচ তোমাদের উচিত ছিল, দুনিয়াকে অবজ্ঞার চোখে দেখা এবং আখিরাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া।
ইসা আলাইহিস সালাম বলেন- হে স্বার্থান্বেষী আলিম, দুনিয়ার পেছনে তোমাদের দৌড়ঝাঁপ দেখে মনে হচ্ছে, আখিরাতের ভয়াবহ শাস্তির কথা তোমরা একেবারে ভুলেই গেছ। তোমরা দুনিয়ার সামান্য জিনিসের জন্য দিন-রাত কষ্ট করে চলেছ; কিন্তু আখিরাতের প্রতি ভ্রূক্ষেপই করছ না। অথচ তোমাদের উচিত ছিল, দুনিয়াকে অবজ্ঞার চোখে দেখা এবং আখিরাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া।
📄 হেঁড়া পাতার অমূল্য নাসিহা
ওয়াহহাব ইবুন মুনাব্বিহ রহিমাহুল্লাহু বলেন, একবার আমি একটা কাগজের টুকরো দেখতে পেলাম। বাতাস কাগজের টুকরোটাকে এদিক-সেদিক নিয়ে যাচ্ছিল। আমি কাগজের টুকরোটা হাতে নিয়ে দেখতে পেলাম, তাতে অমূল্য কিছু কথা লিখা আছে- 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। এই দুনিয়া ধোঁকার ঘর। এখানে যারা থাকে, তারা কেউ-ই নিরাপদ নয়। এখানে মানুষ আসে, আবার চলে যায়। এখানে কেউ আজীবন থাকে না। এটা থাকার জায়গাও না। এখানে মানুষ যা কিছু জোগাড় করে, সব ছেড়ে একদিন চলে যায়। দেখে মনে হয়, দুনিয়ায় তার কোনো অর্জন বা উপার্জন নেই। তাই দুনিয়ার পরিবর্তে আখিরাতের চিন্তা করো। কবরে যাওয়ার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করো। দুনিয়াকে দুনিয়াদারদের জন্য ছেড়ে দাও। আখিরাতকে তোমার লক্ষ্য ও গন্তব্য বানাও।'
ওয়াহহাব ইবুন মুনাব্বিহ রহিমাহুল্লাহু বলেন, একবার আমি একটা কাগজের টুকরো দেখতে পেলাম। বাতাস কাগজের টুকরোটাকে এদিক-সেদিক নিয়ে যাচ্ছিল। আমি কাগজের টুকরোটা হাতে নিয়ে দেখতে পেলাম, তাতে অমূল্য কিছু কথা লিখা আছে- 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। এই দুনিয়া ধোঁকার ঘর। এখানে যারা থাকে, তারা কেউ-ই নিরাপদ নয়। এখানে মানুষ আসে, আবার চলে যায়। এখানে কেউ আজীবন থাকে না। এটা থাকার জায়গাও না। এখানে মানুষ যা কিছু জোগাড় করে, সব ছেড়ে একদিন চলে যায়। দেখে মনে হয়, দুনিয়ায় তার কোনো অর্জন বা উপার্জন নেই। তাই দুনিয়ার পরিবর্তে আখিরাতের চিন্তা করো। কবরে যাওয়ার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করো। দুনিয়াকে দুনিয়াদারদের জন্য ছেড়ে দাও। আখিরাতকে তোমার লক্ষ্য ও গন্তব্য বানাও।'
📄 দুনিয়ার প্রতি ঝুঁকে পড়া
বিলাল ইবনু সা'দ রহিমাহুল্লাহু বলেন-
মহান আল্লাহ আমাদেরকে দুনিয়া থেকে যতই দূরে রাখতে চান, আমরা ততই দুনিয়ার প্রতি ঝুঁকে পড়ি। ফলে দেখা যায়, একসময় যারা দুনিয়াবিমুখ ছিল এখন তারাও দুনিয়ামুখী হয়ে গেছে। [৮৭]
টিকাঃ
[৮৭] আল-মুসনাদু আহমাদ যুহুদ: ৩৮৫। সনদ যয়িফ।
বিলাল ইবনু সা'দ রহিমাহুল্লাহু বলেন-
মহান আল্লাহ আমাদেরকে দুনিয়া থেকে যতই দূরে রাখতে চান, আমরা ততই দুনিয়ার প্রতি ঝুঁকে পড়ি। ফলে দেখা যায়, একসময় যারা দুনিয়াবিমুখ ছিল এখন তারাও দুনিয়ামুখী হয়ে গেছে। [৮৭]
টিকাঃ
[৮৭] আল-মুসনাদু আহমাদ যুহুদ: ৩৮৫। সনদ যয়িফ।