📄 আজকের দিনটিকে গনিমত মনে করো
মুহাম্মাদ ইবনু সিনান রহিমাহুল্লাহু বলেন, মানসুর আয জাফারি রহিমাহুল্লাহু একজন নেককার বুজুর্গ ছিলেন। তাঁর এক প্রতিবেশী একবার তাঁর কাছে যুগের দুর্যোগ সম্পর্কে অভিযোগ করলে তিনি বলেন-
'তুমি আজকের দিনটিকে জীবনের সর্বশেষ দিন মনে করবে। আগামীকালের আশায় থাকবে না। আর সমস্ত প্রয়োজন কেবল আল্লাহর কাছেই চাইবে। কারণ, দেওয়া-না-দেওয়ার অধিকার কেবল তারই হাতে।'
মুহাম্মাদ ইবনু সিনান রহিমাহুল্লাহু বলেন, মানসুর আয জাফারি রহিমাহুল্লাহু একজন নেককার বুজুর্গ ছিলেন। তাঁর এক প্রতিবেশী একবার তাঁর কাছে যুগের দুর্যোগ সম্পর্কে অভিযোগ করলে তিনি বলেন-
'তুমি আজকের দিনটিকে জীবনের সর্বশেষ দিন মনে করবে। আগামীকালের আশায় থাকবে না। আর সমস্ত প্রয়োজন কেবল আল্লাহর কাছেই চাইবে। কারণ, দেওয়া-না-দেওয়ার অধিকার কেবল তারই হাতে।'
📄 দুনিয়াকে অপছন্দ করো; আল্লাহ ভালোবাসবেন
সালাম ইবনু বশির রহিমাহুল্লাহু বলেন, একবার ইসা আলাইহিস সালামের সাথিবর্গ তাকে অনুরোধ করে বলেন, 'হে রুহুল্লাহ, আপনি আমাদেরকে এমন একটি আমলের কথা বলে দিন, যে আমল করলে আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে ভালোবাসবেন এবং আমরা আল্লাহ তাআলার প্রিয় পাত্র হব।' ইসা আলাইহিস সালাম তখন বলেন- أَبْغِضُوا الدُّنْيَا يُحْبِبْكُمُ اللهُ . 'তোমরা দুনিয়াকে অপছন্দ করো; আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন।'[৮৬]
টিকাঃ
[৮৬] উলুমুদ্দিন: ৩/২২০।
সালাম ইবনু বশির রহিমাহুল্লাহু বলেন, একবার ইসা আলাইহিস সালামের সাথিবর্গ তাকে অনুরোধ করে বলেন, 'হে রুহুল্লাহ, আপনি আমাদেরকে এমন একটি আমলের কথা বলে দিন, যে আমল করলে আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে ভালোবাসবেন এবং আমরা আল্লাহ তাআলার প্রিয় পাত্র হব।' ইসা আলাইহিস সালাম তখন বলেন- أَبْغِضُوا الدُّنْيَا يُحْبِبْكُمُ اللهُ . 'তোমরা দুনিয়াকে অপছন্দ করো; আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন।'[৮৬]
টিকাঃ
[৮৬] উলুমুদ্দিন: ৩/২২০।
📄 ওপারে ফেরার প্রস্তুতি নাও
হাসান ইবনু আবুল হাসান রহিমাহুল্লাহু একবার বনু 'শাকিফ' গোত্রের পাশ দিয়ে কোথাও যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে লোকেরা তাঁকে অনুরোধ করে বলল, 'শাইখ, আপনি আমাদেরকে কিছু নাসিহা করে যান।' তাদের অনুরোধের প্রেক্ষিতে তিনি বললেন-
'এটা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত যে, আল্লাহর কোনো শরিক নেই। আমাদের জন্য তিনি দুনিয়াকে মুসাফিরখানা বানিয়েছেন। দুনিয়াটা আমাদের জন্য পরীক্ষাগার। দুনিয়ায় আমাদেরকে ভালো-মন্দ যা-কিছু দেওয়া হয়, তার সবই পরীক্ষার বস্তু। দুনিয়ার সুখ-দুঃখও পরীক্ষার বস্তু। এগুলো দিয়ে মহান আল্লাহ আমাদের ইমান পরখ করতে চান। সুখে-দুঃখে আমরা কেমন আমল করি সেটা দেখতে চান। কিন্তু মানুষ এটা বুঝতে চায় না। মানুষ দিন-রাত একাকার করে দুনিয়ার পেছনে ছুটে। এভাবেই একদিন তার আয়ু শেষ হয়ে যায়। কিন্তু আখিরাতের জন্য আদৌ কোনো প্রস্তুতি নেওয়া আর হয়ে উঠে না।
তারা এটা বিশ্বাসই করতে চায় না যে, তাদের জন্মের পঞ্চাশ হাজার বছর পূর্বেই তাদের রিজিক নির্ধারিত হয়ে আছে। জীবনের অন্তিম মুহূর্ত পর্যন্ত তারা এই রিজিক পেতে থাকবে। কিন্তু আখিরাত! আখিরাত তো চেষ্টা ছাড়া অর্জন করা যায় না। যে আখিরাতের জন্য যতটুকু চেষ্টা করে, সে ততটুকুই সুফল পায়। অথচ এই আখিরাত নিয়ে তাদের কোনো চিন্তা-ভাবনাই নেই。
দুনিয়ার পেছনে ঘুরতে ঘুরতে যেদিন আয়ু শেষ হয়ে যাবে এবং জীবনর আলোঝলমল সুর্যটা অস্তাচলে ডুব দেবে, সেদিন আফসোসের অন্ত থাকবে না। কিন্তু সেদিনের আফসোস ও আক্ষেপ কোনো কাজে আসবে না। মহান আল্লাহ খালি হাতে ফিরিয়ে দেবেন সবাইকে। তাই তোমরা দুনিয়ার ব্যাপরে সতর্ক থেকো। আখিরাতের প্রতি মনোনিবেশ করো। বেলা শেষ হওয়ার আগেই ওপারে ফেরার প্রস্তুতি নিয়ো।'
হাসান ইবনু আবুল হাসান রহিমাহুল্লাহু একবার বনু 'শাকিফ' গোত্রের পাশ দিয়ে কোথাও যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে লোকেরা তাঁকে অনুরোধ করে বলল, 'শাইখ, আপনি আমাদেরকে কিছু নাসিহা করে যান।' তাদের অনুরোধের প্রেক্ষিতে তিনি বললেন-
'এটা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত যে, আল্লাহর কোনো শরিক নেই। আমাদের জন্য তিনি দুনিয়াকে মুসাফিরখানা বানিয়েছেন। দুনিয়াটা আমাদের জন্য পরীক্ষাগার। দুনিয়ায় আমাদেরকে ভালো-মন্দ যা-কিছু দেওয়া হয়, তার সবই পরীক্ষার বস্তু। দুনিয়ার সুখ-দুঃখও পরীক্ষার বস্তু। এগুলো দিয়ে মহান আল্লাহ আমাদের ইমান পরখ করতে চান। সুখে-দুঃখে আমরা কেমন আমল করি সেটা দেখতে চান। কিন্তু মানুষ এটা বুঝতে চায় না। মানুষ দিন-রাত একাকার করে দুনিয়ার পেছনে ছুটে। এভাবেই একদিন তার আয়ু শেষ হয়ে যায়। কিন্তু আখিরাতের জন্য আদৌ কোনো প্রস্তুতি নেওয়া আর হয়ে উঠে না।
তারা এটা বিশ্বাসই করতে চায় না যে, তাদের জন্মের পঞ্চাশ হাজার বছর পূর্বেই তাদের রিজিক নির্ধারিত হয়ে আছে। জীবনের অন্তিম মুহূর্ত পর্যন্ত তারা এই রিজিক পেতে থাকবে। কিন্তু আখিরাত! আখিরাত তো চেষ্টা ছাড়া অর্জন করা যায় না। যে আখিরাতের জন্য যতটুকু চেষ্টা করে, সে ততটুকুই সুফল পায়। অথচ এই আখিরাত নিয়ে তাদের কোনো চিন্তা-ভাবনাই নেই。
দুনিয়ার পেছনে ঘুরতে ঘুরতে যেদিন আয়ু শেষ হয়ে যাবে এবং জীবনর আলোঝলমল সুর্যটা অস্তাচলে ডুব দেবে, সেদিন আফসোসের অন্ত থাকবে না। কিন্তু সেদিনের আফসোস ও আক্ষেপ কোনো কাজে আসবে না। মহান আল্লাহ খালি হাতে ফিরিয়ে দেবেন সবাইকে। তাই তোমরা দুনিয়ার ব্যাপরে সতর্ক থেকো। আখিরাতের প্রতি মনোনিবেশ করো। বেলা শেষ হওয়ার আগেই ওপারে ফেরার প্রস্তুতি নিয়ো।'
📄 স্বার্থান্ধেষী আলিম ও একটি সতর্কবার্তা
ইসা আলাইহিস সালাম বলেন- হে স্বার্থান্বেষী আলিম, দুনিয়ার পেছনে তোমাদের দৌড়ঝাঁপ দেখে মনে হচ্ছে, আখিরাতের ভয়াবহ শাস্তির কথা তোমরা একেবারে ভুলেই গেছ। তোমরা দুনিয়ার সামান্য জিনিসের জন্য দিন-রাত কষ্ট করে চলেছ; কিন্তু আখিরাতের প্রতি ভ্রূক্ষেপই করছ না। অথচ তোমাদের উচিত ছিল, দুনিয়াকে অবজ্ঞার চোখে দেখা এবং আখিরাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া।
ইসা আলাইহিস সালাম বলেন- হে স্বার্থান্বেষী আলিম, দুনিয়ার পেছনে তোমাদের দৌড়ঝাঁপ দেখে মনে হচ্ছে, আখিরাতের ভয়াবহ শাস্তির কথা তোমরা একেবারে ভুলেই গেছ। তোমরা দুনিয়ার সামান্য জিনিসের জন্য দিন-রাত কষ্ট করে চলেছ; কিন্তু আখিরাতের প্রতি ভ্রূক্ষেপই করছ না। অথচ তোমাদের উচিত ছিল, দুনিয়াকে অবজ্ঞার চোখে দেখা এবং আখিরাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া।