📄 ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর নাসিহা
আবদুর রহমান ইবনু হুযাইরা রহিমাহুল্লাহু বলেন, আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর সাথিদেরকে উপদেশ দিতে গিয়ে বলতেন— 'তোমরা খুব অল্প সময়ের জন্য দুনিয়ায় এসেছ। রাত-দিনের পালাবদলে হঠাৎ করেই একদিন মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে আসবে। তবে ভয়ের কথা হলো, দুনিয়ায় যাপিত প্রতিটি মুহূর্ত হিসাব করে রাখা হচ্ছে। আখিরাতে এর জন্য পুরস্কার বা শাস্তির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। মনে রেখো, দুনিয়া আখিরাতের পাথেয় সংগ্রহের উর্বর ক্ষেত্র। এখানে চাষাবাদ করেই তোমাকে আখিরাতের শস্য ঘরে তুলতে হবে। কাজেই এখানে যদি ভালো ফসল ফলাতে পারো, তাহলে আখিরাতে পুরস্কার পাবে। অনন্তকাল সুখে থাকবে। আর যদি এখানে মন্দ ফসল ফলাও তাহলে আখিরাতে শাস্তির সম্মুখীন হবে। অনন্তকাল কষ্টে থাকবে।
তাই কখনো দুনিয়ার মায়ায় জড়াবে না। সব সময় নেক আমলের চেষ্টা করবে। কারণ, আখিরাতে মুক্তি পেতে হলে নেক আমলের কোনো বিকল্প নেই। সেখানে ধন-দৌলত ও বংশ-কৌলিন্য কোনো কাজে আসবে না।
মনে রাখবে, জীবনে যা-কিছু ভালো, তা আল্লাহ দান করেন। আর যা-কিছু মন্দ তাও তিনিই দূর করেন। মুত্তাকিরা দ্বীনের সর্দার ও অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব। তাই যথাসম্ভব তাঁদের সংস্পর্শে থাকার চেষ্টা করবে।
আবদুর রহমান ইবনু হুযাইরা রহিমাহুল্লাহু বলেন, আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর সাথিদেরকে উপদেশ দিতে গিয়ে বলতেন— 'তোমরা খুব অল্প সময়ের জন্য দুনিয়ায় এসেছ। রাত-দিনের পালাবদলে হঠাৎ করেই একদিন মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে আসবে। তবে ভয়ের কথা হলো, দুনিয়ায় যাপিত প্রতিটি মুহূর্ত হিসাব করে রাখা হচ্ছে। আখিরাতে এর জন্য পুরস্কার বা শাস্তির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। মনে রেখো, দুনিয়া আখিরাতের পাথেয় সংগ্রহের উর্বর ক্ষেত্র। এখানে চাষাবাদ করেই তোমাকে আখিরাতের শস্য ঘরে তুলতে হবে। কাজেই এখানে যদি ভালো ফসল ফলাতে পারো, তাহলে আখিরাতে পুরস্কার পাবে। অনন্তকাল সুখে থাকবে। আর যদি এখানে মন্দ ফসল ফলাও তাহলে আখিরাতে শাস্তির সম্মুখীন হবে। অনন্তকাল কষ্টে থাকবে।
তাই কখনো দুনিয়ার মায়ায় জড়াবে না। সব সময় নেক আমলের চেষ্টা করবে। কারণ, আখিরাতে মুক্তি পেতে হলে নেক আমলের কোনো বিকল্প নেই। সেখানে ধন-দৌলত ও বংশ-কৌলিন্য কোনো কাজে আসবে না।
মনে রাখবে, জীবনে যা-কিছু ভালো, তা আল্লাহ দান করেন। আর যা-কিছু মন্দ তাও তিনিই দূর করেন। মুত্তাকিরা দ্বীনের সর্দার ও অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব। তাই যথাসম্ভব তাঁদের সংস্পর্শে থাকার চেষ্টা করবে।
📄 দু-কূলের বাদশা হয়ে যেভাবে
আবু মুহাম্মাদ রহিমাহুল্লাহু বলেন-
এক ব্যক্তি মুহাম্মাদ ইবনু ওয়াসি' রহিমাহুল্লাহুকে অনুরোধ করে বলে, 'আপনি আমাকে অসিয়ত করুন।' প্রতি উত্তরে মুহাম্মাদ ইবনু ওয়াসি' রহিমাহুল্লাহু বলেন, 'তুমি দুনিয়া এবং আখিরাতের মালিক হয়ে যাও।' লোকটি জিজ্ঞেস করে, 'এটা কী করে সম্ভব?' উত্তরে ওয়াসি' রহিমাহুল্লাহু বলেন, 'তুমি সর্বান্তকরণে দুনিয়া ত্যাগ করো; হৃদয় থেকে দুনিয়ার মায়া-মহব্বত মুছে ফেলো, তবেই সম্ভব।' [৮২]
মিহরাজ আত-তাফাবি রহিমাহুল্লাহু বলেন-
'হে আল্লাহর বান্দারা, তোমরা অযথা সময় নষ্ট করো না। কেননা, প্রকৃত মুমিনরা আল্লাহর আনুগত্যের বাইরে একটি মুহূর্তও কাটায় না।'
টিকাঃ
[৮২] হিলইয়াতুল আওলিয়া: ২/৩৫০।
আবু মুহাম্মাদ রহিমাহুল্লাহু বলেন-
এক ব্যক্তি মুহাম্মাদ ইবনু ওয়াসি' রহিমাহুল্লাহুকে অনুরোধ করে বলে, 'আপনি আমাকে অসিয়ত করুন।' প্রতি উত্তরে মুহাম্মাদ ইবনু ওয়াসি' রহিমাহুল্লাহু বলেন, 'তুমি দুনিয়া এবং আখিরাতের মালিক হয়ে যাও।' লোকটি জিজ্ঞেস করে, 'এটা কী করে সম্ভব?' উত্তরে ওয়াসি' রহিমাহুল্লাহু বলেন, 'তুমি সর্বান্তকরণে দুনিয়া ত্যাগ করো; হৃদয় থেকে দুনিয়ার মায়া-মহব্বত মুছে ফেলো, তবেই সম্ভব।' [৮২]
মিহরাজ আত-তাফাবি রহিমাহুল্লাহু বলেন-
'হে আল্লাহর বান্দারা, তোমরা অযথা সময় নষ্ট করো না। কেননা, প্রকৃত মুমিনরা আল্লাহর আনুগত্যের বাইরে একটি মুহূর্তও কাটায় না।'
টিকাঃ
[৮২] হিলইয়াতুল আওলিয়া: ২/৩৫০।
📄 বিশিষ্টজনদের অসিয়ত
আওন ইবনু আবদুল্লাহ রহিমাহুল্লাহু বলেন, ওলামায়ে কেরাম রহিমাহুমুল্লাহ পরস্পরকে তিনটি ব্যাপারে অসিয়ত করতেন-
এক. যে ব্যক্তি কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আমল করবে, আল্লাহ তার জন্য যথেষ্ট হয়ে যাবেন।
দুই. যে ব্যক্তি আখিরাতের জন্য আমল করবে, আল্লাহ তার দুনিয়ার প্রয়োজন পূরণ করে দেবেন।
দিন। যে ব্যক্তি তার অভ্যন্তরীণ অবস্থা ভালো করবে, আল্লাহ তার বাহ্যিক অবস্থাও ভালো করে দেবেন।
হাসান বসরি রহিমাহুল্লাহু বলেন-
প্রকৃত মুমিন সে, যে সর্বান্তকরণে বিশ্বাস করে যে, আল্লাহ তাআলা যা কিছু বলেছেন সব-ই সত্য এবং তা বাস্তবায়িত হবেই। তা ছাড়া প্রকৃত মুমিন সবচেয়ে বেশি আমল করে। আল্লাহর আযাবকে ভয় করে। আল্লাহর রাস্তায় বিপুল অর্থসম্পদ ব্যয় করেও নিজেকে নিরাপদ মনে করে না। বরং দ্বীনের রাস্তায় অনেক কাজ করার পরেও পড়ন্তবেলায় এসে দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলে-
'আল্লাহর জন্য কিছুই করতে পারলাম না। মৃত্যুর পর হয়তো আল্লাহর শান্তি থেকে রেহাই পাব না।'
অপর দিকে মুনাফিকের মাঝে এ ধরনের কোনো লক্ষণই দেখা যায় না। সে সব সময় দুনিয়া নিয়ে ব্যস্ত থাকে আর বুক ফুলিয়ে বলে-
'দুনিয়ায় আমার মতো হাজারও মানুষ আছে, তারা ক্ষমা পেয়ে গেলে আমিও পেয়ে যাব।' এই চিন্তা তাকে আরও ভ্রষ্টতার দিকে নিয়ে যায়। আর সে আল্লাহর কাছে মিথ্যা আশা পোষণ করতে থাকে।
আবু বকর রহিমাহুল্লাহু বলেন, একজন অন্তজ্ঞানী বলেছেন-
হে বনি আদম, তুমি যখন দুনিয়ার কথা ভুলে যেতে পারবে, তখনই প্রকৃত আনন্দ অনুভব করবে।
দুনিয়া পেয়ে তখনই তুমি খুশি হতে পারবে, যখন নিশ্চিত করে জানতে পারবে যে, তোমার জন্য জান্নাত নির্ধারণ হয়ে গেছে।
শরীরের যত্ন নিতে তখনই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবে, যখন জানতে পারবে যে, তোমার কাফনের কাপড় পরতে হবে না।
মুহাম্মাদ ইবনুল ওয়ালিদ রহিমাহুল্লাহু বলেন, লোকেরা একবার হাসান বসরি রহিমাহুল্লাহুকে বলেন, আপনি আমাদের সামনে দুনিয়া ও দুনিয়ার জীবনের তাৎপর্য তুলে ধরুন। তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে হাসান বসরি রহিমাহুল্লাহু বলেন-
অতীত কখনো ফিরে আসবে না। বর্তমান তোমার আমলের মোক্ষম সময়। ভবিষ্যৎ তোমার আশা-নিরাশার দোলাচল। পেতে পারো; আবার হারাতেও পারো।'
হাসান বসরি রহিমাহুল্লাহু বলেন-
হে আদম সন্তান, তুমি সারা বছরের চিন্তা একদিনে করতে যেয়ো না। কারণ, তুমি সারা বছর বেঁচে থাকলে, আল্লাহ নিজ দয়াগুণে তোমার রিজিকের ব্যবস্থা করবেন। আর মৃত্যুবরণ করলে, তুমি এমন জিনিসের চিন্তা করছ, যা আদৌ তোমার নয়। কাজেই দুনিয়াবিমুখ হয়ে জীবনযাপন করো। দুনিয়ার জীবন নির্ঝঞ্ঝাট কেটে যাবে। পরকালে সুখে-শান্তিতে থাকতে পারবে।'
উমর ইবনু যার রহিমাহুল্লাহু একবার তাঁর বন্ধুদের উদ্দেশ্যে বলেন- প্রিয় বন্ধুগণ, আল্লাহ তাআলা তোমাদের ওপর রহম করুন। তোমরা দিন ও রাতের বিভিন্ন প্রহরে মহান আল্লাহর ইবাদাত করবে। আখিরাতের পাথেয় জোগাড় করবে। কারণ, যারা ইবাদতের মাধ্যমে আখিরাতের পাথেয় সংগ্রহ করে, তারাই মূলত সৌভাগ্যবান। আর যারা এটা করে না, তারাই মূলত হতভাগা।
মনে রাখবে, দিন-রাতের বিভিন্ন প্রহর ও গমনাগমন রবের সঙ্গে বান্দার আত্মার সম্পর্ক গড়ার সুবর্ণ সুযোগ। যারা অলস ও অকর্মণ্য, তাদের জন্য এই সুযোগ ক্ষতির কারণ। আরেকটা ব্যাপার, তোমরা প্রভুর স্মরণের মাধ্যমে হৃদয়কে উজ্জীবিত ও প্রাণবন্ত রাখবে। যারা গভীর রাতে অশ্রুসজল চোখে প্রভুর পায়ে মাথা ঠুকে, তাদেরকে অনুসরণ করবে। যারা সীমাহীন আশা ও ভয় নিয়ে মহান রবকে ডাকে, তাদের সান্নিধ্য গ্রহণ করবে।
আর মনে রাখবে, রাতের শেষ প্রহরে যারা মহান রবকে ডাকে, আল্লাহ তাদের ডাকে সাড়া দেন। সৃষ্টিকুলের গভীর ঘুমের মুহূর্তে যারা রবের পদরেখায় এসে দাঁড়ায়, তাদের ওপর রহমতের শিশির বর্ষণ করেন। তা ছাড়া যারা রাতগুলো হেলায় নষ্ট করে কিংবা ঘুমে বিভোর থাকে, আখিরাতে অনুতাপ তাদেরকে ঘিরে ধরবে। কিন্তু সেদিন কারও কোনো আক্ষেপ বা অনুতাপ কোনো কাজে আসবে না। আল্লাহ তোমাদের ওপর রহম করুন।'
বাকর আল আবেদ রহিমাহুল্লাহু বলতেন— 'জীবনের প্রতিটি দিনকে এক একটি যুগ মনে করবে। একটি দিন চলে গেলে, একযুগ নষ্ট হওয়ার সমান দুঃখবোধ করবে।'
আবু হাযেম রহিমাহুল্লাহু বলেন- 'দুনিয়ার কোনো কিছু তোমাকে সীমাহীন আনন্দিত করলে, মনে করবে, এর পেছনে কষ্টের বীজ লুকিয়ে আছে।' [৮৩]
টিকাঃ
[৮৩] হিলইয়াতুল আওলিয়া: ১/২৩৯।
আওন ইবনু আবদুল্লাহ রহিমাহুল্লাহু বলেন, ওলামায়ে কেরাম রহিমাহুমুল্লাহ পরস্পরকে তিনটি ব্যাপারে অসিয়ত করতেন-
এক. যে ব্যক্তি কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আমল করবে, আল্লাহ তার জন্য যথেষ্ট হয়ে যাবেন।
দুই. যে ব্যক্তি আখিরাতের জন্য আমল করবে, আল্লাহ তার দুনিয়ার প্রয়োজন পূরণ করে দেবেন।
দিন। যে ব্যক্তি তার অভ্যন্তরীণ অবস্থা ভালো করবে, আল্লাহ তার বাহ্যিক অবস্থাও ভালো করে দেবেন।
হাসান বসরি রহিমাহুল্লাহু বলেন-
প্রকৃত মুমিন সে, যে সর্বান্তকরণে বিশ্বাস করে যে, আল্লাহ তাআলা যা কিছু বলেছেন সব-ই সত্য এবং তা বাস্তবায়িত হবেই। তা ছাড়া প্রকৃত মুমিন সবচেয়ে বেশি আমল করে। আল্লাহর আযাবকে ভয় করে। আল্লাহর রাস্তায় বিপুল অর্থসম্পদ ব্যয় করেও নিজেকে নিরাপদ মনে করে না। বরং দ্বীনের রাস্তায় অনেক কাজ করার পরেও পড়ন্তবেলায় এসে দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলে-
'আল্লাহর জন্য কিছুই করতে পারলাম না। মৃত্যুর পর হয়তো আল্লাহর শান্তি থেকে রেহাই পাব না।'
অপর দিকে মুনাফিকের মাঝে এ ধরনের কোনো লক্ষণই দেখা যায় না। সে সব সময় দুনিয়া নিয়ে ব্যস্ত থাকে আর বুক ফুলিয়ে বলে-
'দুনিয়ায় আমার মতো হাজারও মানুষ আছে, তারা ক্ষমা পেয়ে গেলে আমিও পেয়ে যাব।' এই চিন্তা তাকে আরও ভ্রষ্টতার দিকে নিয়ে যায়। আর সে আল্লাহর কাছে মিথ্যা আশা পোষণ করতে থাকে।
আবু বকর রহিমাহুল্লাহু বলেন, একজন অন্তজ্ঞানী বলেছেন-
হে বনি আদম, তুমি যখন দুনিয়ার কথা ভুলে যেতে পারবে, তখনই প্রকৃত আনন্দ অনুভব করবে।
দুনিয়া পেয়ে তখনই তুমি খুশি হতে পারবে, যখন নিশ্চিত করে জানতে পারবে যে, তোমার জন্য জান্নাত নির্ধারণ হয়ে গেছে।
শরীরের যত্ন নিতে তখনই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবে, যখন জানতে পারবে যে, তোমার কাফনের কাপড় পরতে হবে না।
মুহাম্মাদ ইবনুল ওয়ালিদ রহিমাহুল্লাহু বলেন, লোকেরা একবার হাসান বসরি রহিমাহুল্লাহুকে বলেন, আপনি আমাদের সামনে দুনিয়া ও দুনিয়ার জীবনের তাৎপর্য তুলে ধরুন। তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে হাসান বসরি রহিমাহুল্লাহু বলেন-
অতীত কখনো ফিরে আসবে না। বর্তমান তোমার আমলের মোক্ষম সময়। ভবিষ্যৎ তোমার আশা-নিরাশার দোলাচল। পেতে পারো; আবার হারাতেও পারো।'
হাসান বসরি রহিমাহুল্লাহু বলেন-
হে আদম সন্তান, তুমি সারা বছরের চিন্তা একদিনে করতে যেয়ো না। কারণ, তুমি সারা বছর বেঁচে থাকলে, আল্লাহ নিজ দয়াগুণে তোমার রিজিকের ব্যবস্থা করবেন। আর মৃত্যুবরণ করলে, তুমি এমন জিনিসের চিন্তা করছ, যা আদৌ তোমার নয়। কাজেই দুনিয়াবিমুখ হয়ে জীবনযাপন করো। দুনিয়ার জীবন নির্ঝঞ্ঝাট কেটে যাবে। পরকালে সুখে-শান্তিতে থাকতে পারবে।'
উমর ইবনু যার রহিমাহুল্লাহু একবার তাঁর বন্ধুদের উদ্দেশ্যে বলেন- প্রিয় বন্ধুগণ, আল্লাহ তাআলা তোমাদের ওপর রহম করুন। তোমরা দিন ও রাতের বিভিন্ন প্রহরে মহান আল্লাহর ইবাদাত করবে। আখিরাতের পাথেয় জোগাড় করবে। কারণ, যারা ইবাদতের মাধ্যমে আখিরাতের পাথেয় সংগ্রহ করে, তারাই মূলত সৌভাগ্যবান। আর যারা এটা করে না, তারাই মূলত হতভাগা।
মনে রাখবে, দিন-রাতের বিভিন্ন প্রহর ও গমনাগমন রবের সঙ্গে বান্দার আত্মার সম্পর্ক গড়ার সুবর্ণ সুযোগ। যারা অলস ও অকর্মণ্য, তাদের জন্য এই সুযোগ ক্ষতির কারণ। আরেকটা ব্যাপার, তোমরা প্রভুর স্মরণের মাধ্যমে হৃদয়কে উজ্জীবিত ও প্রাণবন্ত রাখবে। যারা গভীর রাতে অশ্রুসজল চোখে প্রভুর পায়ে মাথা ঠুকে, তাদেরকে অনুসরণ করবে। যারা সীমাহীন আশা ও ভয় নিয়ে মহান রবকে ডাকে, তাদের সান্নিধ্য গ্রহণ করবে।
আর মনে রাখবে, রাতের শেষ প্রহরে যারা মহান রবকে ডাকে, আল্লাহ তাদের ডাকে সাড়া দেন। সৃষ্টিকুলের গভীর ঘুমের মুহূর্তে যারা রবের পদরেখায় এসে দাঁড়ায়, তাদের ওপর রহমতের শিশির বর্ষণ করেন। তা ছাড়া যারা রাতগুলো হেলায় নষ্ট করে কিংবা ঘুমে বিভোর থাকে, আখিরাতে অনুতাপ তাদেরকে ঘিরে ধরবে। কিন্তু সেদিন কারও কোনো আক্ষেপ বা অনুতাপ কোনো কাজে আসবে না। আল্লাহ তোমাদের ওপর রহম করুন।'
বাকর আল আবেদ রহিমাহুল্লাহু বলতেন— 'জীবনের প্রতিটি দিনকে এক একটি যুগ মনে করবে। একটি দিন চলে গেলে, একযুগ নষ্ট হওয়ার সমান দুঃখবোধ করবে।'
আবু হাযেম রহিমাহুল্লাহু বলেন- 'দুনিয়ার কোনো কিছু তোমাকে সীমাহীন আনন্দিত করলে, মনে করবে, এর পেছনে কষ্টের বীজ লুকিয়ে আছে।' [৮৩]
টিকাঃ
[৮৩] হিলইয়াতুল আওলিয়া: ১/২৩৯।
📄 দুনিয়া যেন হৃদয়কে ব্যস্ত না রাখে
মুহাম্মাদ ইবনু নাজর আল হারেসি রহিমাহুল্লাহু বলেন, নবি কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন- لَا تَشْغَلُوا قُلُوبَكُمْ بِذِكْرِ الدُّنْيَا . 'হৃদয়ে দুনিয়ার আলোচনা ঠাঁই দিয়ো না।' [৮৪]
টিকাঃ
[৮৪] বাইহাকি: ৭/৩৬১।
মুহাম্মাদ ইবনু নাজর আল হারেসি রহিমাহুল্লাহু বলেন, নবি কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন- لَا تَشْغَلُوا قُلُوبَكُمْ بِذِكْرِ الدُّنْيَا . 'হৃদয়ে দুনিয়ার আলোচনা ঠাঁই দিয়ো না।' [৮৪]
টিকাঃ
[৮৪] বাইহাকি: ৭/৩৬১।