📄 দুনিয়া কারও উপকার করে না
সাহাবি মুয়াজ ইবনু জাবাল রাদিয়াল্লাহু বলেন-
প্রিয় বন্ধু, এই ধূসর দুনিয়ার কাছ থেকে তোমরা ভালো কিছু পাবার আশা করো না। কারণ, দুনিয়া সব সময় তোমাদের ক্ষতি করতে চায়; কখনো উপকার করতে চায় না। মহান আল্লাহ যার হৃদয়কে দুনিয়াবিমুখ করেন, সে-ই দুনিয়া ও আখিরাতে সফলকাম। দুনিয়া অতীতে কারও উপকার করেনি। ভবিষ্যতেও করবে না।
আবু জা'ফর রহিমাহুল্লাহু বলেন- আমার দাদার যিয়াদ নামক একজন গোলাম ছিল। সে দাদার পুত্রদেরকে কুরআনুল কারিম ও দ্বীন শিক্ষা দিত। একদিন তার পড়ানোর সময় দাদা তন্দ্রা যান। সে দাদাকে ঘুমন্ত ভেবে ছেলেদের সামনে দুনিয়ার মাহাত্ম্য নিয়ে আলোচনা করে। দাদা তন্দ্রা থেকে উঠে তাকে ডেকে বলেন, 'বেটা, তুমি আমার পুত্রদের সামনে দুনিয়ার মাহাত্ম্য নিয়ে আলোচনা করে তাদের মনে শয়তানের মিনার তৈরি করে দিয়েছ। সুতরাং তুমি এখন তাদেরকে আল্লাহর সিফাত ও তাঁর জিকির শিখিয়ে ওই মিনার ভেঙে দাও।'
📄 দুনিয়া যার কম অর্জন হয়েছে সে সফল
হাসান বসরি রহিমাহুল্লাহু বলেন-
যাকে দুনিয়ার প্রাচুর্য দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে যদি এই অনুভূতি জাগ্রত না-হয় যে, তাকে ক্রমশ ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে; তাহলে বুঝে নিয়ো-তার জ্ঞান-বুদ্ধি কমে গেছে। অপর দিকে যাকে পার্থিব জীবনে অভাব-অনটনে রাখা হয়েছে, সে যদি এই অভাব-অনটনকে নিজের জন্য মঙ্গলজনক মনে না করে; তাহলে বুঝে নিয়ো—তারও বিবেক-বুদ্ধি লোপ পেয়েছে এবং সে সঠিক চিন্তা-চেতনা হারিয়ে ফেলেছে।
হাসান বসরি রহিমাহুল্লাহু বলেন-
যাকে দুনিয়ার প্রাচুর্য দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে যদি এই অনুভূতি জাগ্রত না-হয় যে, তাকে ক্রমশ ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে; তাহলে বুঝে নিয়ো-তার জ্ঞান-বুদ্ধি কমে গেছে। অপর দিকে যাকে পার্থিব জীবনে অভাব-অনটনে রাখা হয়েছে, সে যদি এই অভাব-অনটনকে নিজের জন্য মঙ্গলজনক মনে না করে; তাহলে বুঝে নিয়ো—তারও বিবেক-বুদ্ধি লোপ পেয়েছে এবং সে সঠিক চিন্তা-চেতনা হারিয়ে ফেলেছে।
📄 সাথিদের প্রতি সালাফদের নাসিহা
ইয়াযিদ আল আ'রাজ রহিমাহুল্লাহু তার সাথিদেরকে প্রায়ই বলতেন— দুনিয়া ক্ষণস্থায়ী আর আখিরাত চিরস্থায়ী হওয়াই তোমার শিক্ষা গ্রহণের জন্য যথেষ্ট। দুনিয়াতে তুমি যে-আমল করবে আখিরাতে ঠিক সেরকমই প্রতিদান দেওয়া হবে। সুতরাং দুনিয়াকে ত্যাগ করে নেক আমল করে যেতে পারলে আখিরাতে উত্তম প্রতিদান পাবে।
উমর ইবনু আবদুল আজিজ রহিমাহুল্লাহু একটি খুতবায় বলেন— সাবধান! দুনিয়া যেন তোমাদের ধোঁকায় না ফেলে। কারণ, অচিরেই দুনিয়া ছেড়ে ওপারে চলে যেতে হবে। ফিরে আসার কোনো সুযোগ থাকবে না। কাজেই এখনই বিদায়ের প্রস্তুতি নাও। পাথেয় সংগ্রহে নেমে পড়ো। দুনিয়ার ব্যাপারে উচ্চাশা ত্যাগ করো। কারণ, দুনিয়ার উচ্চাশা মানুষের হৃদয়কে কঠিন করে দেয়। তখন সেখানে আল্লাহর ভয় প্রবেশ করতে পারে না...' এ কথা বলে তিনি মিম্বর থেকে নেমে আসেন। তার দুচোখ বেয়ে ফোঁটা ফোঁটা অশ্রু পড়তে থাকে।[৮১]
টিকাঃ
[৮১] সনদ যয়ীফ।
ইয়াযিদ আল আ'রাজ রহিমাহুল্লাহু তার সাথিদেরকে প্রায়ই বলতেন— দুনিয়া ক্ষণস্থায়ী আর আখিরাত চিরস্থায়ী হওয়াই তোমার শিক্ষা গ্রহণের জন্য যথেষ্ট। দুনিয়াতে তুমি যে-আমল করবে আখিরাতে ঠিক সেরকমই প্রতিদান দেওয়া হবে। সুতরাং দুনিয়াকে ত্যাগ করে নেক আমল করে যেতে পারলে আখিরাতে উত্তম প্রতিদান পাবে।
উমর ইবনু আবদুল আজিজ রহিমাহুল্লাহু একটি খুতবায় বলেন— সাবধান! দুনিয়া যেন তোমাদের ধোঁকায় না ফেলে। কারণ, অচিরেই দুনিয়া ছেড়ে ওপারে চলে যেতে হবে। ফিরে আসার কোনো সুযোগ থাকবে না। কাজেই এখনই বিদায়ের প্রস্তুতি নাও। পাথেয় সংগ্রহে নেমে পড়ো। দুনিয়ার ব্যাপারে উচ্চাশা ত্যাগ করো। কারণ, দুনিয়ার উচ্চাশা মানুষের হৃদয়কে কঠিন করে দেয়। তখন সেখানে আল্লাহর ভয় প্রবেশ করতে পারে না...' এ কথা বলে তিনি মিম্বর থেকে নেমে আসেন। তার দুচোখ বেয়ে ফোঁটা ফোঁটা অশ্রু পড়তে থাকে।[৮১]
টিকাঃ
[৮১] সনদ যয়ীফ।
📄 ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর নাসিহা
আবদুর রহমান ইবনু হুযাইরা রহিমাহুল্লাহু বলেন, আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর সাথিদেরকে উপদেশ দিতে গিয়ে বলতেন— 'তোমরা খুব অল্প সময়ের জন্য দুনিয়ায় এসেছ। রাত-দিনের পালাবদলে হঠাৎ করেই একদিন মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে আসবে। তবে ভয়ের কথা হলো, দুনিয়ায় যাপিত প্রতিটি মুহূর্ত হিসাব করে রাখা হচ্ছে। আখিরাতে এর জন্য পুরস্কার বা শাস্তির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। মনে রেখো, দুনিয়া আখিরাতের পাথেয় সংগ্রহের উর্বর ক্ষেত্র। এখানে চাষাবাদ করেই তোমাকে আখিরাতের শস্য ঘরে তুলতে হবে। কাজেই এখানে যদি ভালো ফসল ফলাতে পারো, তাহলে আখিরাতে পুরস্কার পাবে। অনন্তকাল সুখে থাকবে। আর যদি এখানে মন্দ ফসল ফলাও তাহলে আখিরাতে শাস্তির সম্মুখীন হবে। অনন্তকাল কষ্টে থাকবে।
তাই কখনো দুনিয়ার মায়ায় জড়াবে না। সব সময় নেক আমলের চেষ্টা করবে। কারণ, আখিরাতে মুক্তি পেতে হলে নেক আমলের কোনো বিকল্প নেই। সেখানে ধন-দৌলত ও বংশ-কৌলিন্য কোনো কাজে আসবে না।
মনে রাখবে, জীবনে যা-কিছু ভালো, তা আল্লাহ দান করেন। আর যা-কিছু মন্দ তাও তিনিই দূর করেন। মুত্তাকিরা দ্বীনের সর্দার ও অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব। তাই যথাসম্ভব তাঁদের সংস্পর্শে থাকার চেষ্টা করবে।
আবদুর রহমান ইবনু হুযাইরা রহিমাহুল্লাহু বলেন, আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর সাথিদেরকে উপদেশ দিতে গিয়ে বলতেন— 'তোমরা খুব অল্প সময়ের জন্য দুনিয়ায় এসেছ। রাত-দিনের পালাবদলে হঠাৎ করেই একদিন মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে আসবে। তবে ভয়ের কথা হলো, দুনিয়ায় যাপিত প্রতিটি মুহূর্ত হিসাব করে রাখা হচ্ছে। আখিরাতে এর জন্য পুরস্কার বা শাস্তির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। মনে রেখো, দুনিয়া আখিরাতের পাথেয় সংগ্রহের উর্বর ক্ষেত্র। এখানে চাষাবাদ করেই তোমাকে আখিরাতের শস্য ঘরে তুলতে হবে। কাজেই এখানে যদি ভালো ফসল ফলাতে পারো, তাহলে আখিরাতে পুরস্কার পাবে। অনন্তকাল সুখে থাকবে। আর যদি এখানে মন্দ ফসল ফলাও তাহলে আখিরাতে শাস্তির সম্মুখীন হবে। অনন্তকাল কষ্টে থাকবে।
তাই কখনো দুনিয়ার মায়ায় জড়াবে না। সব সময় নেক আমলের চেষ্টা করবে। কারণ, আখিরাতে মুক্তি পেতে হলে নেক আমলের কোনো বিকল্প নেই। সেখানে ধন-দৌলত ও বংশ-কৌলিন্য কোনো কাজে আসবে না।
মনে রাখবে, জীবনে যা-কিছু ভালো, তা আল্লাহ দান করেন। আর যা-কিছু মন্দ তাও তিনিই দূর করেন। মুত্তাকিরা দ্বীনের সর্দার ও অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব। তাই যথাসম্ভব তাঁদের সংস্পর্শে থাকার চেষ্টা করবে।