📄 ঈসা ইবনু মারয়ামের কয়েকটি নাসিহা
শু'আইব ইবনু সালিহ রহিমাহুল্লাহু বর্ণনা করেন, ইসা আলাইহিস সালাম বলেন, দুনিয়া কারও হৃদয়ে জায়গা করে নিলে সে তিনটি বিপদের সম্মুখীন হয়-
এক. অনিঃশেষ ব্যস্ততা। এই ব্যস্ততা তাকে এতটাই অধীর করে রাখে যে, সে স্থিরচিত্তে একটি সিজদাও আদায় করতে পারে না।
দুই. মনস্তাত্ত্বিক ক্ষুধা ও সীমাহীন দারিদ্র্য। এই ক্ষুধা ও দারিদ্র্য তার মাঝে সম্পদের এমন আসক্তি তৈরি করে যে, কোটি টাকাকেও তখন নস্যি মনে হয়।
তিন. অযাচিত উচ্চাভিলাষ। এই উচ্চাভিলাষ কখনো তাকে দু-দণ্ড স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে দেয় না।
মনে রেখো, কেউ দুনিয়া তালাশ করে; আবার কাউকে দুনিয়া স্বয়ং তালাশ করে। যে আখেরাত তালাশ করে, তাকে দুনিয়া স্বয়ং তালাশ করে এবং তার জীবিকার ব্যবস্থা করে। আর যে দুনিয়া তালাশ করে, আখিরাত তার মৃত্যুর অপেক্ষায় থাকে এবং মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে তার গলা চেপে ধরে। [৮০]
টিকাঃ
[৮০] ইহইয়াউ উলুমুদ্দিন: ৩/২১৭। আল ইতহাফ: ৮/৮২।
📄 দুনিয়া কারও উপকার করে না
সাহাবি মুয়াজ ইবনু জাবাল রাদিয়াল্লাহু বলেন-
প্রিয় বন্ধু, এই ধূসর দুনিয়ার কাছ থেকে তোমরা ভালো কিছু পাবার আশা করো না। কারণ, দুনিয়া সব সময় তোমাদের ক্ষতি করতে চায়; কখনো উপকার করতে চায় না। মহান আল্লাহ যার হৃদয়কে দুনিয়াবিমুখ করেন, সে-ই দুনিয়া ও আখিরাতে সফলকাম। দুনিয়া অতীতে কারও উপকার করেনি। ভবিষ্যতেও করবে না।
আবু জা'ফর রহিমাহুল্লাহু বলেন- আমার দাদার যিয়াদ নামক একজন গোলাম ছিল। সে দাদার পুত্রদেরকে কুরআনুল কারিম ও দ্বীন শিক্ষা দিত। একদিন তার পড়ানোর সময় দাদা তন্দ্রা যান। সে দাদাকে ঘুমন্ত ভেবে ছেলেদের সামনে দুনিয়ার মাহাত্ম্য নিয়ে আলোচনা করে। দাদা তন্দ্রা থেকে উঠে তাকে ডেকে বলেন, 'বেটা, তুমি আমার পুত্রদের সামনে দুনিয়ার মাহাত্ম্য নিয়ে আলোচনা করে তাদের মনে শয়তানের মিনার তৈরি করে দিয়েছ। সুতরাং তুমি এখন তাদেরকে আল্লাহর সিফাত ও তাঁর জিকির শিখিয়ে ওই মিনার ভেঙে দাও।'
📄 দুনিয়া যার কম অর্জন হয়েছে সে সফল
হাসান বসরি রহিমাহুল্লাহু বলেন-
যাকে দুনিয়ার প্রাচুর্য দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে যদি এই অনুভূতি জাগ্রত না-হয় যে, তাকে ক্রমশ ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে; তাহলে বুঝে নিয়ো-তার জ্ঞান-বুদ্ধি কমে গেছে। অপর দিকে যাকে পার্থিব জীবনে অভাব-অনটনে রাখা হয়েছে, সে যদি এই অভাব-অনটনকে নিজের জন্য মঙ্গলজনক মনে না করে; তাহলে বুঝে নিয়ো—তারও বিবেক-বুদ্ধি লোপ পেয়েছে এবং সে সঠিক চিন্তা-চেতনা হারিয়ে ফেলেছে।
হাসান বসরি রহিমাহুল্লাহু বলেন-
যাকে দুনিয়ার প্রাচুর্য দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে যদি এই অনুভূতি জাগ্রত না-হয় যে, তাকে ক্রমশ ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে; তাহলে বুঝে নিয়ো-তার জ্ঞান-বুদ্ধি কমে গেছে। অপর দিকে যাকে পার্থিব জীবনে অভাব-অনটনে রাখা হয়েছে, সে যদি এই অভাব-অনটনকে নিজের জন্য মঙ্গলজনক মনে না করে; তাহলে বুঝে নিয়ো—তারও বিবেক-বুদ্ধি লোপ পেয়েছে এবং সে সঠিক চিন্তা-চেতনা হারিয়ে ফেলেছে।
📄 সাথিদের প্রতি সালাফদের নাসিহা
ইয়াযিদ আল আ'রাজ রহিমাহুল্লাহু তার সাথিদেরকে প্রায়ই বলতেন— দুনিয়া ক্ষণস্থায়ী আর আখিরাত চিরস্থায়ী হওয়াই তোমার শিক্ষা গ্রহণের জন্য যথেষ্ট। দুনিয়াতে তুমি যে-আমল করবে আখিরাতে ঠিক সেরকমই প্রতিদান দেওয়া হবে। সুতরাং দুনিয়াকে ত্যাগ করে নেক আমল করে যেতে পারলে আখিরাতে উত্তম প্রতিদান পাবে।
উমর ইবনু আবদুল আজিজ রহিমাহুল্লাহু একটি খুতবায় বলেন— সাবধান! দুনিয়া যেন তোমাদের ধোঁকায় না ফেলে। কারণ, অচিরেই দুনিয়া ছেড়ে ওপারে চলে যেতে হবে। ফিরে আসার কোনো সুযোগ থাকবে না। কাজেই এখনই বিদায়ের প্রস্তুতি নাও। পাথেয় সংগ্রহে নেমে পড়ো। দুনিয়ার ব্যাপারে উচ্চাশা ত্যাগ করো। কারণ, দুনিয়ার উচ্চাশা মানুষের হৃদয়কে কঠিন করে দেয়। তখন সেখানে আল্লাহর ভয় প্রবেশ করতে পারে না...' এ কথা বলে তিনি মিম্বর থেকে নেমে আসেন। তার দুচোখ বেয়ে ফোঁটা ফোঁটা অশ্রু পড়তে থাকে।[৮১]
টিকাঃ
[৮১] সনদ যয়ীফ।
ইয়াযিদ আল আ'রাজ রহিমাহুল্লাহু তার সাথিদেরকে প্রায়ই বলতেন— দুনিয়া ক্ষণস্থায়ী আর আখিরাত চিরস্থায়ী হওয়াই তোমার শিক্ষা গ্রহণের জন্য যথেষ্ট। দুনিয়াতে তুমি যে-আমল করবে আখিরাতে ঠিক সেরকমই প্রতিদান দেওয়া হবে। সুতরাং দুনিয়াকে ত্যাগ করে নেক আমল করে যেতে পারলে আখিরাতে উত্তম প্রতিদান পাবে।
উমর ইবনু আবদুল আজিজ রহিমাহুল্লাহু একটি খুতবায় বলেন— সাবধান! দুনিয়া যেন তোমাদের ধোঁকায় না ফেলে। কারণ, অচিরেই দুনিয়া ছেড়ে ওপারে চলে যেতে হবে। ফিরে আসার কোনো সুযোগ থাকবে না। কাজেই এখনই বিদায়ের প্রস্তুতি নাও। পাথেয় সংগ্রহে নেমে পড়ো। দুনিয়ার ব্যাপারে উচ্চাশা ত্যাগ করো। কারণ, দুনিয়ার উচ্চাশা মানুষের হৃদয়কে কঠিন করে দেয়। তখন সেখানে আল্লাহর ভয় প্রবেশ করতে পারে না...' এ কথা বলে তিনি মিম্বর থেকে নেমে আসেন। তার দুচোখ বেয়ে ফোঁটা ফোঁটা অশ্রু পড়তে থাকে।[৮১]
টিকাঃ
[৮১] সনদ যয়ীফ।