📄 সংক্ষিপ্ত দুটি নাসিহা
একবার কয়েকজন ভদ্রলোক আলি ইবনু তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহুকে অনুরোধ করে বললেন-
'আমিরুল মুমিনিন, আপনি আমাদেরকে দুনিয়ার ব্যাপারে উপদেশ দিন।'
'সংক্ষিপ্তাকারে? নাকি বিশদভাবে?
'সংক্ষিপ্তাকারে।'
'দুনিয়ার বৈধ উপকরণ গ্রহণ করলে, কিয়ামতের দিন হিসাব দিতে হবে। আর অবৈধ উপকরণ গ্রহণ করলে, জাহান্নামে দগ্ধ হতে হবে।[৭৭]
টিকাঃ
[৭৭] কানযুল উম্মাল: ৮৫৬৬।
📄 দুনিয়া ও আখিরাত দুই সতিনের মতো
ওয়াহহাব ইবনু মুনাব্বিহ রহিমাহুল্লাহু দুনিয়ার ব্যাপারে বলেন- দুনিয়া আর আখিরাত দুই সতীনের মতো। তাদের একজন যে-পরিমাণ খুশি হবে; অপর জন ঠিক সে-পরিমাণ কষ্ট পাবে।[৭৮]
টিকাঃ
[৭৮] ইহইয়াউ উলুমুদ্দিন: ৩/২২৪।
📄 দুনিয়া তাদেরকে দিয়ে দাও
ইবনু উয়াইনাহ রহিমাহুল্লাহু বর্ণনা করেন, ইসা ইবনু মারয়াম আলাইহিমাস সালাম বলেন-
দুনিয়ায় তোমাদের প্রতিপক্ষ হচ্ছে শাসক ও নারী। তবে শাসকদের চেয়ে নারীরা বেশি বিপজ্জনক। কারণ, শাসকদেরকে দুনিয়া নিয়ে মেতে থাকতে দিলে তারা তোমাদের বিরোধিতা করবে না। কোনো ক্ষতিও করবে না। কিন্তু নারীদেরকে সামর্থ্যের সবটুকু দিলেও তারা তোমাদের বিচ্যুতির কারণ হতে পারে। কাজেই সালাত ও সিয়ামের মাধ্যমে তাদের থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করবে।[৭৯]
টিকাঃ
[৭৯] ইহইয়াউ উলুমুদ্দিন: ৩/২১৭। আল ইতহাফ: ৮/৮২।
📄 ঈসা ইবনু মারয়ামের কয়েকটি নাসিহা
শু'আইব ইবনু সালিহ রহিমাহুল্লাহু বর্ণনা করেন, ইসা আলাইহিস সালাম বলেন, দুনিয়া কারও হৃদয়ে জায়গা করে নিলে সে তিনটি বিপদের সম্মুখীন হয়-
এক. অনিঃশেষ ব্যস্ততা। এই ব্যস্ততা তাকে এতটাই অধীর করে রাখে যে, সে স্থিরচিত্তে একটি সিজদাও আদায় করতে পারে না।
দুই. মনস্তাত্ত্বিক ক্ষুধা ও সীমাহীন দারিদ্র্য। এই ক্ষুধা ও দারিদ্র্য তার মাঝে সম্পদের এমন আসক্তি তৈরি করে যে, কোটি টাকাকেও তখন নস্যি মনে হয়।
তিন. অযাচিত উচ্চাভিলাষ। এই উচ্চাভিলাষ কখনো তাকে দু-দণ্ড স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে দেয় না।
মনে রেখো, কেউ দুনিয়া তালাশ করে; আবার কাউকে দুনিয়া স্বয়ং তালাশ করে। যে আখেরাত তালাশ করে, তাকে দুনিয়া স্বয়ং তালাশ করে এবং তার জীবিকার ব্যবস্থা করে। আর যে দুনিয়া তালাশ করে, আখিরাত তার মৃত্যুর অপেক্ষায় থাকে এবং মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে তার গলা চেপে ধরে। [৮০]
টিকাঃ
[৮০] ইহইয়াউ উলুমুদ্দিন: ৩/২১৭। আল ইতহাফ: ৮/৮২।