📄 দুনিয়ালোভীরা পিপাসার্ত ব্যক্তির মতো
আবু আবদুল্লাহ রহিমাহুল্লাহু বলেন, হজরত ঈসা আলাইহিস সালাম বলেছেন—
طَالِبُ الدُّنْيَا مِثْلُ شَارِبِ مَاءِ الْبَحْرِ، كُلَّمَا ازْدَادَ شُرْبًا ازْدَادَ عَطَشًا حَتَّى يَقْتُلَهُ .
'দুনিয়ালোভীরা সমুদ্রে ভেসে চলা কাফেলার মতো—যাদের মিঠা পানির মজুদ শেষ হয়ে গেছে। ফলে বাধ্য হয়ে সমুদ্রের লোনা পানি দিয়ে তৃষ্ণা নিবারণের চেষ্টা করছে। কিন্তু এই পানি তাদের তৃষ্ণা আরও বাড়াচ্ছে এবং ক্রমশ তাদেরকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। [৭৪]
আবুল মুগিরা রহিমাহুল্লাহু বলেন—
কোনো বান্দা যদি নিছক শ্বাস-প্রশ্বাসের বিনিময়েও সমগ্র দুনিয়া পেয়ে যায়, তবুও সে কিয়ামতের দিন ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
টিকাঃ
[৭৪] তারিখে দিমাশক: ২০/১২০।
📄 দুনিয়ালোভীরা ধর্মের সওদা করে
আবদুল্লাহ রহিমাহুল্লাহু বলেন, একবার আবু সাইদ মাদানি রহিমাহুল্লাহু আমাকে আবদুল্লাহ ইবনু উরওয়াহ রহিমাহুল্লাহুর একটি কবিতা আবৃত্তি করে শুনান। কবিতাটির সারমর্ম হচ্ছে-
'দুনিয়ালোভীরা দ্বীনের সওদা করে বেড়ায়। দ্বীনের বিনিময়ে দুনিয়া ক্রয়ের জন্য উদভ্রান্তের ন্যায় ছুটে বেড়ায়। সবাই আজকে এই রোগে আক্রান্ত। দ্বীনের মাধ্যমে দুনিয়া শিকারে ব্যস্ত। দুনিয়া নিয়ে তারা এতই ব্যস্ত ও মত্ত যে, আখিরাত নিয়ে ভাবার ফুরসতটুকুও তাদের নেই। সকলের লক্ষ্য দুনিয়া অর্জন। এক্ষেত্রে অনুজ-অগ্রজ এবং কর্তা ও অনুসারীর মাঝে কোনো প্রভেদ নেই। ফলে গোটা সমাজই আজ আদর্শ ও লক্ষ্যচ্যুত হয়ে পড়ছে। দ্বীনের সরল পথ থেকে বহুদূরে ছিটকে পড়ছে।'
📄 দুনিয়ালোভীরা দুর্ভাগা
আবদুর রহমান ইবনু যায়েদ রহিমাহুল্লাহু বলেন- 'যারা আখিরাতকে উজাড় করে দুনিয়াকে সমৃদ্ধ করে, তারা বড় দুর্ভাগা। অনুরূপ যারা দ্বীনের ক্ষতি করে ধনসম্পদ জোগাড় করে, তারা বড় ক্ষতিগ্রস্ত। এরপর তিনি নিচের আয়াতটি তিলাওয়াত করেন-
إِنَّ الَّذِينَ لَا يَرْجُونَ لِقَاءَنَا وَرَضُوا بِالْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَاطْمَأَنُّوا بِهَا .
'নিশ্চয় যারা আমার সাক্ষাতের আশা পোষণ করে না এবং পার্থিব জীবনেই সন্তুষ্ট ও পরিতৃপ্ত এবং যারা আমার নিদর্শনাবলি সম্পর্কে গাফিল, তাদের ঠিকানা হবে জাহান্নাম। [সুরা ইউনুস: ৭-৮]
📄 দুনিয়ালোভীরা জাহান্নামে যাবে
আনাস ইবনু মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবি কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-
"إِذَا كَانَ يَوْمُ الْقِيَامَةِ صَارَتْ أُمَّتِي ثَلَاثَ فِرَقٍ: فِرْقَةً يَعْبُدُونَ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ لِلدُّنْيَا، وَفِرْقَةً يَعْبُدُونَهُ رِيَاءً وَسُمْعَةً، وَفِرْقَةٌ يَعْبُدُونَهُ لِوَجْهِهِ وَلِدَارِهِ، فَيَقُولُ لِلَّذِينَ كَانُوا يَعْبُدُونَهُ لِلدُّنْيَا بِعِزَّتِي وَجَلَالِي وَمَكَانِي مَا أَرَدْتُمْ بِعِبَادَتِي؟ فَيَقُولُونَ: بِعِزَّتِكَ وَجَلَالِكَ وَمَكَانِكَ رِيَاءٌ وَسُمْعَةٌ قَالَ: فَإِنِّي لَمْ أَقْبَلْ مِنْ ذَلِكَ شَيْئًا، اذْهَبُوا بِهِمْ إِلَى النَّارِ. قَالَ: وَيَقُولُ لِلَّذِينَ كَانُوا يَعْبُدُونَهُ لِوَجْهِهِ وَلِدَارِهِ: بِعِزَّتِي وَجَلَالِي وَمَكَانِي مَا أَرَدْتُمْ بِعِبَادَتِي؟ فَيَقُولُونَ: بِعِزَّتِكَ وَجَلَالِكَ وَمَكَانِكَ لِوَجْهِكَ وَلِدَارِكَ، فَيَقُولُ: صَدَقْتُمْ، اذْهَبُوا بِهِمْ إِلَى الْجَنَّةِ " .
'কিয়ামতের দিন আমার উম্মত তিনটি দলে বিভক্ত হবে। প্রথম দল যারা দুনিয়া অর্জনের জন্য আল্লাহ তাআলার ইবাদাত করত। দ্বিতীয় দল যারা সুনাম-সুখ্যাতির জন্য আল্লাহ তাআলার ইবাদাত করত। তৃতীয় দল-যারা একমাত্র আল্লাহ এবং জান্নাতের আশায় ইবাদাত করত। যারা দুনিয়া অর্জনের জন্য ইবাদাত করত আল্লাহ তাআলা তাদের ডেকে বলবেন, 'আমার সম্মান, বড়ত্ব ও মর্যাদার শপথ! বলো, তোমরা দুনিয়ায় কেন আমার ইবাদাত করতে?' তারা বলবে, 'আপনার সম্মান, বড়ত্ব ও মর্যাদার শপথ, আমরা দুনিয়া অর্জনের জন্য ইবাদাত করতাম।' তখন আল্লাহ তাআলা ফেরেশতাদের লক্ষ্য করে বলবেন, 'তোমরা তাদেরকে জাহান্নামে নিয়ে যাও। আমি তাদের কোনো ইবাদাত কবুল করিনি।'
এরপর যারা সুনাম-সুখ্যাতি অর্জনের জন্য ইবাদাত করত আল্লাহ তাআলা তাদেরকে ডেকে বলবেন, 'আমার সম্মান, বড়ত্ব ও মর্যাদার শপথ! বলো, তোমরা দুনিয়ায় কেন আমার ইবাদাত করতে?' তারা বলবে, 'আপনার সম্মান, বড়ত্ব ও মর্যাদার শপথ, আমরা সুনাম-সুখ্যাতি অর্জনের জন্য ইবাদাত করতাম।' তখন আল্লাহ তাআলা ফেরেশতাদের লক্ষ্য করে বলবেন, 'তোমরা তাদেরকে জাহান্নামে নিয়ে যাও। আমি তাদের কোনো ইবাদাত কবুল করিনি।'
অতঃপর যারা আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি ও জান্নাতের আশায় ইবাদাত করত, আল্লাহ তাআলা তাদেরকে ডেকে বলবেন, 'আমার সম্মান, বড়ত্ব ও মর্যাদার শপথ! বলো, তোমরা কেন আমার ইবাদাত করতে?' তারা বলবে, 'আপনার সম্মান, বড়ত্ব ও মর্যাদার শপথ, আমরা আপনার সন্তুষ্টি ও জান্নাতের আশায় ইবাদাত করতাম।' তখন আল্লাহ তাআলা তাদেরকে বলবেন, 'তোমরা সত্য বলেছ। এরপর ফেরেশতাদেরকে বলবেন এদেরকে জান্নাতে নিয়ে যাও।'[৭৫]
টিকাঃ
[৭৫] ইমাম বুখারি রহিমাহুল্লাহু বলেন, এই হাদিসটি মুনকার। ইবনু মাইন রহিমাহুল্লাহু বলেন, হাদিস মাজহুল। [মিযানুল ইতেদাল: ২/৬৭৮]